• Welcome to Daffodil International University.
 

News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

ইনফ্লুয়েঞ্জা

Started by snlatif, November 22, 2013, 01:12:43 PM

Previous topic - Next topic

snlatif

ইনফ্লুয়েঞ্জা নাক, গলা ও ফুসফুসের একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। শীতকালে এ রোগের প্রকোপ বেশি হলেও বছরের অন্যান্য সময়ও এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। গ্রিক বিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস প্রথম ২৪,০০ বছর আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণ লিপিবদ্ধ করেন।

বিশ্বব্যাপি ইনফ্লুয়েঞ্জা ঘটিত নানা মহামারী ঘটার প্রমান রয়েছে। সবচাইতে ভয়ঙ্কর মহামারী হয়েছিল ১৯১৮-১৯১৯ সালের দিকে। তখন বিশ্বব্যাপি সংঘটিত এই মহামারীর নাম দেওয়া হয় "স্প্যানিশ ফ্লু"। এই একবছরে প্রায় ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটে। এর জন্য দায়ী ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের টাইপ এ। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা ১৯৫৭-১৯৫৮ এর দিকে এশিয়াতে একটি মহামারীতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ মানুষ মারা যায়। এই মহামারীর নাম ছিল "এশিয়ান ফ্লু"। ১৯৬৮-১৯৬৯ এ H3N2 ঘটিত মহামারিতে ৭.৫ থেকে ১০ লক্ষের মত মানুষ মারা যায়।

লক্ষণসমূহঃ
ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, দেখা যায় কাঁপুনী, মাথা ব্যাথা ও শুকনো কফ শুরু হয়। এর ফলশ্রুতিতে উচ্চ জ্বর, পেশিতে ব্যথা, খারাপ লাগা, অস্থির লাগা এগুলো শুরু হয়। প্রায় ৩ দিন ধরে জ্বর থাকে, শ্বসননালীর সমস্যাগুলো প্রায় সপ্তাহ ব্যাপি থাকে। ব্যক্তি ভেদে ১ থেকে ৩ সপ্তাহ ধরে দূর্বল লাগতে পারে। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই একই সমস্যা দেখা যায়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি জ্বর ও বমি থাকতে পারে। প্রায় ১২% শিশুর কানে ব্যথা হয়।

দ্বিতীয়ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা নিউমোনিয়া পর্যায়ে গড়াতে পারে। সাধারণত যাদের অনেকদিন ধরে কোন রোগ আছে বা গর্ভবতী মহিলারা অধিক আক্রান্ত হয়। অনেকক্ষেত্রেই ভাইরাল নিউমোনিয়ার সাথে সাথে ব্যাক্টেরিয়াল নিউমোনিয়াও হতে পারে।

অর্থাৎ হঠাৎ জ্বর, শুকনো কাশি, সর্দি, মাথাব্যথা, মাংসপেশি ও গিঁটে ব্যথা। যদিও এই লক্ষণসমূহ এক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়, তবুও মাঝেমধ্যে যারা এই রোগের ঝুঁকিতে থাকে, বিশেষ করে শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়; এমনকি তাদের মৃত্যুও হতে পারে।

কারা ঝুঁকিতে আছে?
* পাঁচ বছর বয়সের কম শিশু।
* ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বৃদ্ধ।
* অন্যান্য বয়সী যাদের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি, লিভারের সমস্যা আছে।
* যাদের হাঁপানি ও ডায়াবেটিস আছে।
* যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম।

কীভাবে ছড়ায়?
যখন একজন এ রোগে আক্রান্ত হয়, তার হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অন্যদের শরীরে এ রোগের জীবাণু ছড়ায়। হাতের মাধ্যমেও এই রোগজীবাণু ছড়াতে পারে।
সাধারণত যেখানে জনসমাগম বেশি, যেমন—নার্সারি, স্কুল, হাটবাজার, মসজিদ ইত্যাদি স্থানে একজনের কাছ থেকে অনেক মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়।

ভাইরাস সনাক্তকরণঃ
রোগীর দেহে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্তকরণের জন্য প্রথমত দেহে ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির উপস্থিতি দেখা হয়। এটা সাধারণত এলাইসা (ELISA/ Enzyme Linked Immunosorbant Serologic Assay) পদ্ধতিতে।

বর্তমানে রোগীর দেহের ভাইরাসের উপস্থিতি ও সংখ্যাও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে রিয়েল টাইম পিসিআর (Real Time Polymerase Chain Reaction) এর মাধ্যমে। এক্ষেত্রে প্রথমে রোগীর কফ বা এই জাতীয় শ্বসনতন্ত্রের তরল সংগ্রহ করা হয়। তারপর সেগুলো হতে ভাইরাসের আরএনএ সংগ্রহ (RNA Extraction) করা হয়। তারপর রিভারস ট্রান্সক্রিপসনের দ্বারা আরএনএকে ডিএনএতে (DNA) রুপান্তরিত করে রিয়েল টাইম পিসিআর(Real time PCR) করা হয়। যদি স্যাম্পলে ভাইরাস থেকে থাকে তবে তার উপস্থিতি ও সংখ্যা পাওয়া যায়। পুরো কাজটই একদিনের মাঝেই করা সম্ভব।

প্রতিরোধঃ
ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগ প্রতিরোধের জন্য যেমন অ্যান্টিবায়োটিক আছে সেইরকম কোন অ্যান্টিভাইরাস ভাইরাস জনিত রোগের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। অল্প কিছু ঔষুধ আছে যারা ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে লড়তে শরীরকে সাহায্য করতে পারে। যেমন, ওসেলটামিভির ও যানামিভির।

ওসেলটামিভির (Oseltamivir): ওসেলটামিভির একটি নিউরামিনিডেজ ইনহিভিটর। এটি নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসকে পোষক কোষ হতে বের হতে দেয় না।
যানামিভির (Zanamivir): ওসেলটামিভিরের মত যানামিভিরও একটি নিউরামিনিডেজ ইনহিভিটর

শিশু ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে মা-বাবার উচিত হবে তাকে স্কুলে না পাঠানো। বড়দের হলেও যেখানে জনসমাগম হয়, সেখানে যাওয়া থেকে তারা বিরত থাকবেন। আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে হাত মেলাবেন না, অথবা সঙ্গে সঙ্গে হাত ধুয়ে ফেলবেন। আক্রান্ত রোগী কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় টিস্যু পেপার দিয়ে নাক, মুখ ঢেকে নেবেন এবং বারবার হাত ধোবেন।
এ ছাড়া এই রোগটি টিকা দেওয়ার মাধ্যমেও প্রতিরোধ করা যায়। এই টিকা আমাদের দেশে পাওয়া যায়। টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং অত্যন্ত কার্যকরী। যেসব শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি ঝুঁকিতে আছেন, তাঁরা টিকা নিতে পারেন।

চিকিৎসাঃ
জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল দেবেন। বারবার শরীর স্পঞ্জ করে দেবেন। বেশি করে পানি, শরবত, ফলের রস খেতে দেবেন।
যদি নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।


সূত্রঃ:দেহ:: জীবনের ঠিকানা।