News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

জানা গল্পের অজানা অধ্যায়-“বিপদ একার জন্য আসে না”

Started by sarowar.ph, March 29, 2019, 10:44:53 AM

Previous topic - Next topic

sarowar.ph

একটি ইঁদুর এক চাষীর ঘরে গর্ত করে লুকিয়ে থাকতো। একদিন ইঁদুরটি দেখলো চাষী আর তার স্ত্রী থলে থেকে কিছু একটা জিনিস বের করছেন। ইঁদুর ভাবলো থলের ভিতর নিশ্চয়ই কোনো খাবার আছে, তাই সে গুটি গুটি পায়ে এগোলো। এগিয়ে দেখলো সেটা খাওয়ার কিছু নয়, সেটা ছিল একটা ইঁদুর ধরার ফাঁদ।
   
ফাঁদ দেখে ইঁদুর পিছোতে থাকলো। ইঁদুরটি বাড়ির পিছনের এক খোপে থাকা পায়রাকে গিয়ে বলল- জানো আজ বাড়ির মালিক একটা ইঁদুর ধরার ফাঁদ এনেছে। এটা শুনে পায়রা হাসতে থাকলো আর বলল- তাতে আমার কি? আমি কি ওই ফাঁদে পড়তে যাব না কি? নিরাশ হয়ে ইঁদুরটি মুরগীকে গিয়ে এই কথা বলল।
   
মুরগী ইঁদুরকে হেয় করে বলল- যা ভাই এটা আমার সমস্যা নয়। ইঁদুরটি হাঁপাতে হাঁপাতে মাঠে গিয়ে ছাগলকে শোনালো। ছাগল শুনে হেসে লুটোপুটি অার ঘাস খেতে থাকলো। সেই দিন রাত্রে একটি শব্দ হলো যাতে একটি বিষাক্ত সাপ আটকে গিয়েছিল।
অন্ধকারে চাষীর স্ত্রী সাপের লেজকে ইঁদুর ভেবে বের করলো, আর সাপটি তাকে কাঁমড়ে নিল। অবস্থা খারাপ দেখে চাষীটি ওঝাকে ডাকলো। ওঝা তাকে পায়রার জুস খাওয়ানোর পরামর্শ দিল। **পায়রাটি এখন হাঁড়িতে **। চাষীর স্ত্রীর এই সংবাদ শুনে তার বাড়িতে আত্মীয় সজ্জন এসে হাজির হল।
   
তাদের খাওয়ার বন্দোবস্তের জন্য **মুরগীকে যবাই হল। **মুরগীও এখন হাঁড়িতে। দুইদিন পর চাষীর স্ত্রী মারা গেল। আর তার দোয়া অনুষ্ঠানে **ছাগলটিকে যবাই হল। **ছাগলও হাঁড়িতে চলে গেল। ইঁদুর দুরে পালিয়ে গিয়েছিল বহুদূরে।

*** আবারও রাজধানীতে অগ্নিকাণ্ড। বনানীর বহুতল এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত হয়েছেন সাতজন। হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে সবার মতো উদ্বিগ্ন পুরো বাংলাদেশ l

নিমতলী, রানা প্লাজা, চকবাজারের পর আরও একটা বড় দুর্ঘটনা বনানীর এফআর ভবনে। ভবনের নিচে জনতার ভিড়ে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট যেতে পারছে না ঠিক সময়ে। দূর থেকে পানি দিতে হয়েছে। একদিকে আগুনে গ্লাস ভেঙে পড়ছে। ভেতরের মানুষগুলো বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। কেউ কেউ লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছেন ৯-১০-১১ তলা থেকে। আর অন্যদিকে সবাই মোবাইল নিয়ে তৈরি। কে কার চেয়ে ভালো অ্যাঙ্গেলে ফুটেজ নিতে পারে, সেই প্রতিযোগিতা। যেখানে সবার পানি নিয়ে সাহায্য করার কথা, তারা সবাই দাঁড়িয়ে ভিডিও করছে। দায়িত্বটা কি শুধুই প্রশাসন বা দায়িত্বরত বাহিনীর? নাগরিক হিসেবে আমাদের মধ্য থেকে মানবতা কি হারিয়ে যাচ্ছে?

যদি কেউ আপনাকে তার সমস্যার কথা শোনায় আর আপনি ভাবেন যে এটাতো আমার সমস্যা নয়, তবে দাঁড়ান আর একবার ভালো করে চিন্তা করুন। আমরা সবাই বিপদে আছি। সমাজের একটা অংশ, একটি ধাপ-পর্যায়, একজন নাগরিক, যদি বিপদে থাকেন তবে পুরো দেশ বিপদে আছে। নিজের মধ্যে  সীমিত না থেকে সামাজিক হোন আর মানবধর্মের জন্য একত্রিত হোন।

♦ ♦ ♦ Collected ♦ ♦ ♦
Dr. Md. Sarowar Hossain
Assistant Professor
Department of Pharmacy
Faculty of Allied Health Sciences
Daffodil International University
Daffodil Smart City, Dhaka, Bangladesh