News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

তাকওয়ার আলোকে গড়ে উঠুক জীবন

Started by Mrs.Anjuara Khanom, November 16, 2023, 12:52:10 PM

Previous topic - Next topic

Mrs.Anjuara Khanom

মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস। এটি পবিত্রতার চাদরে ঢাকা মাস। সৃষ্টি জগতের অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে এ মাসে। সবারই জানা, আরব ভূখণ্ডে সভ্যতার বিস্তার ঘটে কয়েক হাজার বছর আগে। তারপরও ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরবে সমষ্টিগতভাবে কোনো তারিখ বা সন গণনা করা হতো না। সে সময় আরবরা প্রসিদ্ধ ঘটনা অবলম্বনে বছর, মাস গণনা করত।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর বংশধররা রাজা নমরুদ কর্তৃক তাঁর আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ঘটনা অবলম্বন করে সাল গণনা করত। কাবাঘর নির্মাণের পর এ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাল নির্ধারণ হয়। পরে হস্তিবর্ষকে কেন্দ্র করে সময় গণনা শুরু হয়। হিজরি সনের শুরু রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের সময়। হিজরি সন কবে চালু হয় তা নিয়ে অবশ্য মতভিন্নতা আছে। একটি মত হলো-রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় আগমন করেন রবিউল আউয়ালে। ওই সময় তারিখ গণনা শুরু হয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই তারিখ গণনার নির্দেশ দেন।
ইমাম জুহরির এমন একটি বর্ণনা মুহাদ্দিস হাকিম তার ইকলিল নামের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভাষ্য হলো-দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফত আমলে হিজরি সনের তারিখ গণনা শুরু হয়। একদা হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) হজরত ওমর (রা.)-কে পত্র লিখে বলেন, 'আপনার নির্দেশগুলো আমাদের কাছে এসে পৌঁছলেও এতে তারিখ উল্লেখ নেই।'

হজরত ওমর (রা.) ১৭ হিজরিতে তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরামের সহযোগিতা চান। এ সম্পর্কে আয়োজিত সভায় সাহাবায়ে কিরামের কেউ কেউ নবুয়তের সূচনা থেকে তারিখ গণনার প্রস্তাব দেন। কেউ প্রস্তাব দেন হিজরত থেকে আবার কেউ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের দিন থেকে। সাহাবায়ে কিরামের এসব প্রস্তাব শোনার পর হজরত ওমর (রা.) হিজরতের দিন থেকে হিজরি তারিখ গণনার পক্ষে বলেন।

তিনি যুক্তি দেখান, হিজরতের মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সূচিত হয়। সাহাবায়ে কিরাম এ প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেন। হিজরতের সময়কে হিজরি সন গণনার সূচনাকাল ধরা হলেও মহররমকে প্রথম মাস হিসেবে ধরা হয়। কারণ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়ালে হিজরত করলেও মক্কা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মহররমে। মহররমকে হিজরি সনের প্রথম মাস নির্ধারণের পেছনে আল কোরআনের একটি নির্দেশনা গুরুত্ব পেয়েছে।

আল কোরআনে চারটি মাসকে সম্মানিত বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ চারটি মাস হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। মহররমে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের ইচ্ছা ঘোষণা করায় এবং এ চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম হওয়ায় তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

হিজরি ১৪৪৫ হাজির হয়েছে মুমিনদের মাঝে। নতুন সনে পুরনো বছরের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাকওয়ার ভিত্তিতে জীবন গড়ার শপথ নিতে হবে নতুন হিজরি বছরে। আল্লাহ আমাদের সবার জীবনকে নতুন বছরে আগের চেয়ে আরও সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার তৌফিক দিন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
Mrs, Anjuara Khanom
Library Assistant Officer,
Daffodil International University
DSC Campus
02224441833/34