• Welcome to Daffodil International University.
 

News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

Jhenidah, a prosperous District of Khulna Division---At a Glance

Started by Shamim Ansary, October 02, 2012, 09:18:51 AM

Previous topic - Next topic

Shamim Ansary

ঝিনুক থেকে ঝিনাইদহ ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক জনপদ


ইতিহাস ঐতিহ্য ও অফুরান সম্পদে সমৃদ্ধ জেলা ঝিনাইদহ। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন সংগ্রামের দ্যুতিতে বর্ণময় এ জেলা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের এই জনপদটি অনেক আগেই ছিল সমৃদ্ধ।
এককালে এ অঞ্চলটি সুন্দরবনের বর্ধিত অংশ হিসাবে গন্য হতো।
আবার কোন কোন ইতিহাসবিদ এ অঞ্চলকে সূর্যদ্বীপ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এ এলাকাটি বনজঙ্গলে ঘেরা এবং কেয়ার বাগানে আচ্ছাদিত ছিল বলে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও এ অঞ্চলের ইতিহাস থেকে জানা যায়।
ঝিনাইদহের নামকরণ নিয়ে নানা কিংবদন্তী আছে। সুূদুর অতীতে দলে দলে লোক ঝিনুক কুড়াতে এখানে আসত। ঝিনুক থেকে চুন ও বোতাম তৈরী হতো। ঝিনুক কুড়ানো শ্রমিকরা এ স্থানকে ‘ঝিনুকদহ’ বা ঝিনেইদহ বলতো, যা পরবর্তীতে রূপান্তরিত হয়ে আজকের ঝিনাইদহ হয়েছে।
নামকরনের আরেকটি কিংবদন্তি আছে। এক ইংরেজ নদী পার হওয়ার সময় স্থানটির নাম জিজ্ঞাসা করেন। ঝিনুক কুড়ানীরা সাহেবের কথা বুঝতে না পেরে বলে ‘ঝিনেই’। সাহেব মনে করেন স্থানটির নাম ‘ঝেনি’। পরে এ শব্দটি ইংরেজীতে ঝেনিদা হিসাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। কিন্তু ঝিনুক থেকে ঝিনাইদহ নামকরনের কথা জেলার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। টলেমীর মানচিত্রে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের দক্ষিণ অঞ্চলের নদীনালা বেষ্টিত যে ভু-ভাগের অস্তিত্ব বর্ণনা করা হয়েছে সেখানে ঝিনাইদহের আদি জনবসতি গড়ে ওঠে। প্রাচীনকালে ঝিনাইদহ বিভিন্ন শাসক শাসন করে। ১২০ খৃষ্টাব্দে বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের পর বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। তবে সাথে সাথেই মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। সুলতান মুগিস উদ্দিন তুগরিলের আমলে ঝিনাইদহে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে হুসাইন শাহী আমলে প্রশাসনিক কাঠামোতে ঝিনাইদহের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। সুলতানি আমলের অনেক প্রতÅ"তাত্বিক নিদর্শন এ জেলায় বিদ্যমান। ভারত বর্ষে মোঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ৩৬ বছর পর এ অঞ্চল মোঘল শাসনের অধীনে আসে। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে বাংলার
বার ভুঁইয়াদের অন্যতম ছিলেন যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য। মোঘল সেনাপতি ইসলাম খাঁর সাথে যুদ্ধে রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয়ের পর ঝিনাইদহ মোঘল শাসনাধীনে আসে। সম্রাট শাহজাহানের সময় যশোরে একটি পৃথক ফৌজদারি প্রতিষ্ঠা হলে ঝিনাইদহ ওই ফৌজদারির অধীনে ন্যস্ত হয়।
১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের পর বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়। ১৭৮১ সালে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী যশোরের মুড়লীতে একটি অফিস বা কোর্ট স্থাপন করে। নতুন জেলার প্রথম জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন ট্রিলম্যান হেংকেল। ইংরেজ শাসনের শুরু হলে ঝিনাইদহ অঞ্চলে নীলকর সাহেবদের আগমন ঘটে। তারা জবরদস্তিমূলকভাবে চাষীদের নীল চাষে বাধ্য করে। নীলকর সাহেবদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয়। কৃষক বিদ্রোহ দমনে ১৮৬১ সালে ঝিনাইদহে মহাকুমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর আগে অবশ্য ১৭৯৩ সালে এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। মহাকুমা স্থাপনের পর নবগঙ্গা তীরের দক্ষিণ পাশে জঙ্গল পরিষ্কার করে শহর গড়ে উঠতে থাকে। কোর্টকাচারী ও এসডিও সাহেব-ম্যাজিষ্ট্রেটদের থাকার জন্য বাংলো বাড়ি নির্মাণ করা হয়। ব্রিটিশ নিদর্শনের চিহ্নগুলো শহর থেকে ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু ভগ্নপ্রায় ট্রেজারি ও মুনসেফ আদালত ভবন আছে। আর আছে দেবদারু গাছের সারি।
মহকুমা স্থাপনের ১ শত ২৩ বছর পর ১৯৮৪ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারী ঝিনাইদহ জেলায় উন্নীত হয়। দীর্ঘকাল পরিক্রমায় শহরের কলেবর বেড়েছে। নির্মিত হয়েছে নতুন পরিকাঠামো। বর্তমানে জেলার আয়তন ১৯শ’ ৪১ দশমিক ৩৬ বর্গ কিলোমিটার এবং বর্তমানে লোক ১৮ লাখের উপর। এ জেলাতে ব্রিটিশ আমলে ১৮৬৯ সালে মহেশপুর এবং ১৮৮৪ সালে কোটচাঁদপুর পৌরসভা স্থাপিত হয়।
কোটচাঁদপুর অনেক পুরানো শহর। ১৬১০ সালে এখানে একটি কোর্ট বা প্রাচীর নির্মাণ করেন সুবাদার ইসলাম খাঁ। শহর রক্ষার জন্য ১৭৯৪ সালে যশোরের কালেক্টর কপোতাক্ষ নদের তীরে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন। ১৮৩০ সালে ঐ বাাঁধটি ভেঙ্গে যায়। কোটচাঁদপুর তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে এখন ছোট্ট উপজেলা শহর। বর্তমানে শৈলকুপা, কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডুতেও পৌরসভা স্থাপন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ পৌরসভা হয় ১৯৫৮ সালে। মহেশপুর এক গ্রামবহুল পৌরসভা। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে কালীগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বেশী শ্রীবৃদ্ধি ঘটে।
জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। অধিকাংশ হাট-বাজার, গ্রোথ সেন্টারের সাথে পাকা সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। এ সকল সড়কে বাস, ট্রাক ও টেম্পুসহ হাজার হাজার মাইক্রোবাস চলাচল করে। তবে জে-জে রেলওয়ে এখন ইতিহাসের পাকায় স্থান পেয়েছে। ১৯১৩ সালে খাজুরা গ্রামের জনৈক মন্মখ নাথ যশোর-ঝিনাইদহ রেল কোম্পানি গঠন করে রেলপথ নির্মাণ করেন। ২৮ মাইলের এ রেলপথে দিনে আপ-ডাউন আটটি ট্রেন চলাচল করত। সে সময় মাইল প্রতি ভাড়া এক পয়সা। তবে কালের পরিক্রমায় বাসের সাথে প্রতিযোগিতায় ট্রেন কোম্পানি পিছিয়ে পড়ে। ফলে ১৯৩৫-৩৬ সালের দিকে রেলগাড়ি উঠে যায়। সব মিলিয়ে ঝিনাইদহ অতীত থেকেই সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
"Many thanks to Allah who gave us life after having given us death and (our) final return (on the Day of Qiyaamah (Judgement)) is to Him"

Muntachir Razzaque

Muntachir Razzaque
Senior Assistant Director (IT)