News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

মৃতদের জন্য জীবিতদের করণীয়

Started by rumman, December 27, 2013, 11:31:57 AM

Previous topic - Next topic

rumman

সবাইকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। মৃত্যু থেকে কেউই রেহাই পাবে না। মানুষ মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। তাই পরকালে শান্তিময় জীবন লাভ করতে চাইলে অবশ্যই দুনিয়াতে তাকে ভালো আমল করে যেতে হবে। আমাদের সমাজের লোকেরা তাদের পরলোকগত বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনের জন্য বিভিন্ন রকমের আমল করে থাকে। কিন্তু তাদের বেশির ভাগ সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে এ ক্ষেত্রে ভুল করে থাকে। তাই আমাদের জেনে রাখা উচিত, কোন কোন আমল দিয়ে আমাদের মৃত পিতা-মাতা ও আত্মীয়ের উপকার হতে পারে। মৃত্যুর সময় থেকে মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে মৃত ব্যক্তির বিদেহী আত্মার রূহের মাগফিরাতের জন্য জীবিতরা কী কী করতে পারে এবং তাতে মৃত ব্যক্তির কতটুকু উপকার হয় তা আমাদের জানা উচিত।
সহিহ হাদিস দিয়ে প্রমাণিত যে, মানুষ মৃত্যুর পরও তার আমলনামায় দুই ধরনের আমল অব্যাহত থাকে। (ক) মৃতের এমন আমল যা তার জন্য সদকায়ে জারিয়া হতে পারে। (খ) এমন আমল যা মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতরা করে থাকে। যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতরা দোয়া মাগফিরাত করে থাকে। তার মাগফিরাতের জন্য দান-সদকা করে থাকে। কিংবা তার জন্য নফল হজ ও ওমরাহ করে থাকে। 
সদকায়ে জারিয়ার বর্ণনা : মানুষ মৃত্যুর পরও জীবিত অবস্থায় তার কৃত আমলের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম সা: থেকে বর্ণনা করেন, নবী করিম সা: বলেন, মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। (১) সদকায়ে জারিয়া, (২) যদি কেউ এমন সন্তান রেখে যায়, যে সন্তান মা-বাবার জন্য দোয়া করবে, (৩) এমন দ্বীনি শিক্ষা রেখে যায়, যা দিয়ে মানুষ উপকৃত হতে থাকে (মুসলিম শরিফ)। যেমনÑ মসজিদ, মাদরাসা বা কোনো দ্বীনি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে যাওয়া। অথবা জনকল্যাণমূলক কোনো কাজ করে যাওয়া, যার উপকার মানুষ তার মৃত্যুর পরও ভোগ করতে পারে অথবা এমন সন্তান তৈরি করে যাওয়া, যারা মৃত্যুর পরও তাদের বাবা-মা, আত্মীয়ের জন্য দোয়া করতে থাকে। কিংবা সে নেক আমল করতে থাকে, যার সওয়াব মৃত ব্যক্তি পেতে থাকবে। অথবা এমন ছাত্র তৈরি করে যাওয়া, যারা শিক্ষাবিস্তারে রত থাকে, এতে ওস্তাদ তার সওয়াব পেতে থাকে। কিংবা এমন কোনো দ্বীনি কিতাবাদি রচনা করে যাওয়া, যা পড়ে মানুষ উপকৃত হতে থাকে।
মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের করা আমলের বর্ণনা : দ্বিতীয় প্রকার এমন আমল, যা মৃত ব্যক্তি নিজে করে যায়নি বা সে ওই আমলের জন্য কারণ বা অছিলা ছিল না। কিন্তু তার পরও সে ওই আমলের সওয়াব পেতে থাকে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।
মৃত ব্যক্তির জন্য মুসলমানদের মাগফিরাতের দোয়া করা : কুরআন ও হাদিসের একাধিক জায়গায় মা-বাবার সাথে সব মুমিনের জন্য ও দোয়া করার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। কুরআনে পাকে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে ও আমাদের আগে যারা ঈমান এনেছেন, তাদের ক্ষমা করো। আর ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রেখো না' (সূরা হাশর : ১০)। অন্য আয়াতে আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'হে আমার প্রভু! রোজ কিয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সব মুমিনকে ক্ষমা করে দিন' (সূরা ইবরাহিম : ৪১)। অন্য আয়াতে আরো আছে, 'হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছে' (সূরা বনি ইসরাইল : ২৪)।
তা ছাড়া রাসূল সা: সাহাবায়ে কেরামকে ও মৃতদের জন্য দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিস শরিফে আছে, 'হজরত উসমান বিন আফ্ফান রা: বলেন, নবী করিম সা: মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, 'তোমরা তোমাদের ভাইদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করো এবং তার জন্য ঈমানের ওপর অবিচল ও দৃঢ় থাকার দোয়া কামনা করো, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।' মৃত ব্যক্তির জন্য যে জানাজার নামাজ পড়া হয়, সেটি তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যেই পড়া হয়। তা ছাড়া রাসূল সা: একাধিক হাদিসে কবর জিয়ারত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব কিছু প্রমাণ করে, মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের পাঠানো দোয়া ও ইস্তিগফার তার কাছে পৌঁছে এবং এর মাধ্যমে তিনি উপকৃত হন। অন্যথায় তার জন্য জানাজার নামাজ পড়া তার কবর জিয়ারত করার কোনো অর্থ থাকে না।
মৃত ব্যক্তির জন্য সাধারণ দান সদকা করা : হাদিস শরিফে আছে, 'হজরত আয়েশা রা: বলেন, জনৈক সাহাবি রাসূল সা: কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মা হঠাৎ মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি কোনো ওসিয়ত করে যেতে পারেননি। আমর ধারণা, তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন, তাহলে দান সদকা করতেন। আমি তার পক্ষ থেকে দান সদকা করলে কি তিনি এর সওয়াব পাবেন? নবী করিম সা: বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন' (বুখারি ও মুসলিম)। এই হাদিস দিয়ে এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কেউ যদি দান সদকা করে তাহলে সে তার সওয়াব পাবেন। এবং এর মাধ্যমে তিনি উপকৃত হবেন।
মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

Md. Abdur Rumman Khan
Senior Assistant Registrar

Farhana Israt Jahan

Farhana Israt Jahan
Assistant Professor
Dept. of Pharmacy


yousuf miah