• Welcome to Daffodil International University.
 

News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

পাপ থেকে কেউ যদি দূরে থাকতে চায়...

Started by Nazia Nishat, July 24, 2015, 07:56:34 PM

Previous topic - Next topic

Nazia Nishat

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
           আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
পাপ থেকে কেউ যদি দূরে থাকতে চায়...ইব্রাহিম(আলাইহিসসালাম)এটার সমাধান পাঁচটি বিষয় ধরে দিয়েছেন।  তোমার যদি পাঁচটা বিষয়ের অভ্যাস করার ক্ষমতা থাকে তবে তোমার মধ্যে আর কোনদিন পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দুশ্চিন্তা থাকবেনা!!!
একটা লোক ইব্রাহিম ইবনে আদম (রাহমাতুল্লাহ) এর কাছে আসলো, যিনি ছিলেন অন্যতম বিদ্বান ব্যক্তি যার বাণী ছিল হৃদয়ের অন্তর্নিহিত আরোগ্য লাভের মাধ্যম, লোকটা বললঃ-
ني مسرف على نفسي فاعرض على ما يكون زاجرا لها
"আমি বার বার পাপ করে সীমা লঙ্ঘন করেছি; আমাকে এমন একটা কিছু দেন যা আমাকে এভাবে বারবার পাপ কাজ চালিয়ে যাওয়া থেকে দমন করবে... "
তখন ইব্রাহিম (রাঃ) বললেনঃ-
"যদি তোমার পাঁচটি বিষয় অভ্যাস করার ক্ষমতা থাকে তোমার আর কোনদিনই পাপী দের দলভুক্ত হওয়ার দুশ্চিন্তা থাকবেনা।"
লোকটি এই বিশেষ উপদেশ শোনার জন্য গভীর আগ্রহ দেখাল এবং বললঃ-
"হে ইব্রাহিম আমাকে ঐ পাঁচটি জিনিষ দেন! "
তখন তিনি বললেনঃ-
"প্রথমতঃ তুমি যদি আল্লাহ্‌র অবাধ্য হতে চাও,...
তখন...
আল্লাহ মানুষের জন্য যে যে খাবারের সুন্দর বন্দোবস্ত করে রেখেছেন তা থেকে খাবেনা।"
লোকটি এই কথা শুনে বিস্মিত হল এবং প্রশ্ন করলোঃ-
"হে ইব্রাহিম এটা আপনি কিভাবে বলছেন যখন সমস্ত বন্দোবস্ত তো আল্লাহ্‌ই করে রেখেছেন? !"
তখন ইব্রাহিম(রাঃ) বললেনঃ-
"বেশ যদি তুমি এটা জানো তখন কিভাবে তোমার আস্পর্ধা হবে যে তুমি তাঁর বন্দোবস্ত করা খাবার খেয়ে তাঁর প্রতি অবাধ্য হও?!!"
তখন লোকটি বললঃ-
"না, আপনি ঠিক বলেছেন, আমাদের আস্পর্ধা থাকবেনা! আমাকে দ্বিতীয়টি বলুন!"
তখন ইব্রাহিম(রাঃ) বললেন...
"দ্বিতীয়তঃ যদি তুমি আল্লাহ্‌র অবাধ্য হতে চাও তাহলে...এই পৃথিবীতে জীবন যাপন করোনা...!"
লোকটি এটা শুনে অবাক হয়ে বললঃ-
"হে ইব্রাহিম আপনি এটা কিভাবে বলতে পারেন যখন সমস্ত জগত ই তো আল্লাহ্‌র সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত?!"
তখন ইব্রাহিম(রাঃ) বললেনঃ-
"বেশ যদি তুমি এটা জানো তখন কিভাবে তোমার আস্পর্ধা হবে যে তুমি তাঁর সৃষ্ট   জগতে বসবাস তাঁর প্রতি অবাধ্য হও? ! ! " 
তখন লোকটি বললঃ-
"না, আপনি ঠিক বলেছেন, আমাদের আস্পর্ধা থাকবেনা! আমাকে তৃতীয়টি বলুন!"
তখন ইব্রাহিম(রাঃ) বললেন...
"তৃতীয়তঃ যদি তুমি আল্লাহ্‌র অবাধ্য হতে চাও তবে...একটা জায়গা খোঁজো যে জায়গায় থাকলে তিনি তোমাকে দেখতে পাবেন না...! "
তখন লোকটি বললঃ-
"হে ইব্রাহিম আপনি এটা কিভাবে বলছেন, আল্লাহ্‌ তো হৃদয়ের গোপন কথা জানেন আর জানেন যা কিছু লুকানো আছে?!
তিনি রাতের আধারে মসৃণ নুড়ি পাথরের উপর পিঁপড়ার হামাগুড়ির শব্দও শুনতে পান! "
তখন ইব্রাহিম(রাঃ) বললেনঃ-
"বেশ যদি তুমি এটা জানো তখন কিভাবে তোমার আস্পর্ধা হবে যে তুমি তাঁর প্রতি অবাধ্য হও?!"
তখন লোকটি বললঃ-
"না, আপনি ঠিক বলেছেন, আমাদের আস্পর্ধা থাকবেনা! আমাকে চতুর্থটি বলুন!"
তখন ইব্রাহিম(রাঃ) বললেন...
"চতুর্থটি হচ্ছেঃযদি জান কবজ কারী ফেরেশতা তোমার জান কবজ করতে আসে তখন তাকে বলঃ-
আমার জান নেয়ার জন্য পরবর্তী সময়ের অপেক্ষা কর!"
তখন লোকটি বললঃ-
"হে ইব্রাহিম আপনি এটা কিভাবে বলছেন, যখন আল্লাহ্‌ বলেনঃ
فإذا جاء أجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون
যখন তাদের জন্য নির্ধারিত সময় চলে আসবে সে সময়কে বিলম্বিত করা যাবেনা অথবা তরান্বিত ও করা যাবেনা "
(উৎসঃ- 'কুরআন'~ সূরা 'আল আরাফ'~ #৭~ আয়াত # ৩৪)
তখন ইব্রাহিম(রাঃ) বললেনঃ-
"বেশ যদি তুমি এটা জানো,তবে যখন তুমি আল্লাহ্‌র প্রতি অবাধ্য হও তখন কিভাবে তুমি আশা কর যে তুমি তোমার মৃত্যুর সময় সফলকাম হবে? !  " 
তখন লোকটি বললঃ-
"হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন, আমাকে পঞ্চমটি বলুন! "
তখন ইব্রাহিম(রাঃ) বললেন...
"পঞ্চমটি হচ্ছেঃ যখন জাবানিয়াহ [অর্থাৎ যে ফেরেশতা দোজখের আগুন পাহারা দেয়] তোমাকে দোজখের আগুনের দিকে নিয়ে যায়, তখন তাদের সাথে যেওনা! "
লোকটি আর এই পঞ্চম বিষয়টি সামলাতে পারলনা এবং কাঁদতে কাঁদতে বললঃ-
"যথেষ্ট হয়েছে হে ইব্রাহিম! যথেষ্ট হয়েছে! আমি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাঁর দয়া কামনা করবো এবং অনুতপ্ত হয়ে তাঁর সম্মুখে যাবো!!! "
......লোকটি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অবিচল ভাবে আল্লাহ্‌র বাধ্য থাকলো...!
উৎসঃ এই বর্ণনাটি আবু নুয়াইম আল আসবাহানি (রাহমাতুল্লাহ) এর হিলায়াতুল আওলিয়া বই থেকে নেয়া