• Welcome to Daffodil International University.
 

News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

বার্নাব্যুর মঞ্চ দখল করে নিলেন মেসি

Started by Md. Alamgir Hossan, April 24, 2017, 09:24:05 AM

Previous topic - Next topic

Md. Alamgir Hossan

লিগ টেবিলের সুবিধাজনক জায়গায় দাঁড়িয়েই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আট থেকে বিদায় হয়ে যাওয়া মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বার্সার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে জয়ই জিনেদিন জিদানের দলকে নিয়ে যেতে পারত শিরোপার দোরগোড়ায়। কিন্তু সেটি হয়নি, হতে দেননি লিওনেল মেসি। তাঁর জোড়া গোলে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ৩-২ গোলে রিয়ালকে হারিয়ে স্প্যানিশ লিগের শিরোপার লড়াইটা উন্মুক্ত করে দিয়েছে বার্সেলোনা।

'এল ক্লাসিকো' নামটা যেন সার্থক আজকের এই ম্যাচে। কী ছিল না এতে! আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণ, গোল-পাল্টা গোল। খেলোয়াড়দের মেজাজ হারানো, নাটকীয়তা, সবকিছু যেন পসরা সাজিয়ে বসেছিল রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। প্রথমে কাসেমিরোর গোলে রিয়ালের এগিয়ে যাওয়া, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই লিওনেল মেসির গোলে বার্সেলোনার ম্যাচে ফিরে আসা! ইভান রাকিতিচের গোলে বার্সেলোনা আবার এগিয়ে গিয়ে ম্যাচটা যখন প্রায় নিজেদের করে এনেছে, ঠিক সে সময়ই 'সুপার-সাব' হামেজ রদ্রিগেজের জাদু। তবে সবচেয়ে বড় চমকটা ফুটলপ্রেমীদের জন্য শেষ মুহূর্তের জন্যই তুলে রেখেছিলেন সার্জি রবার্তো-মারিও গোমেজ-জর্ডি আলবা আর মেসি। এই ত্রয়ীর মিলিত এক দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় ড্র'য়ের স্বস্তি নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়া হয়নি রিয়াল সমর্থকদের।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে সার্জি রবার্তো নিজেদের সীমানা থেকে বল নিয়ে প্রায় একক প্রচেষ্টায় রিয়ালের সীমানায় এসে বল বাড়ান আন্দ্রে গোমেজের কাছে। গোমেজ বলটি ডান দিকে ঠেলে দেন জর্ডি আলবার কাছে। আলবা চমৎকার এক পাসে বক্সের মধ্যে ঠিকই খুঁজে নেন দলের সেরা তারকা মেসিকে। আর্জেন্টাইন তারকা বল ধরেই রিয়াল গোলকিপার কেইলর নাভাসকে ফাঁকি দিয়ে বল ঠেলে দেন জালে। গোলটির পর কেমন যেন আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলেন মেসি। স্বভাববিরুদ্ধ এক আচরণ করে বসলেন। জার্সি খুলে সেটি মেলে ধরলেন গ্যালারির দিকে। কী বোঝাতে চাইলেন তিনি! মেসির আবেগ তো আর ফুটবলের আইন বোঝে না। ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে এসে হলুদ কার্ডই দেখতে হলো তাঁকে।

ম্যাচের গোললাইন যেন গোটা ম্যাচের চিত্রটাই তুলে ধরছে। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ। একবার রিয়াল আক্রমণে ওঠে তো পরক্ষণেই বার্সা। এক প্রান্তে রিয়াল ফরোয়ার্ডরা গোলের সুযোগ তৈরি করেন তো পরের মুহূর্তেই সুয়ারেজ-রাকিতিচরা জ্বলে ওঠেন। ম্যাচের মেজাজের সঙ্গে অবশ্য আজ তাল মেলাতে পারেননি রিয়ালের বিপদের ত্রাতা হিসেবে পরিচিত অধিনায়ক সার্জিও রামোস। দ্বিতীয়ার্ধে মেসিকে অযথা বাজে এক ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন তিনি। অধিনায়কের লাল কার্ডে দশজনের দল হয়ে পড়ার পরেও রিয়াল দাঁতে দাঁত চেপেই লড়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষে যে ছিলেন মেসি নামের এক জাদুকর!

রিয়াল-বার্সা দ্বৈরথ মানেই তো মেসির সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর লড়াই। সে লড়াইয়ে আজ মেসি বিপুল ব্যবধানেই হারিয়েছেন রোনালদোকে। ম্যাচের প্রথম আক্রমণটা তিনি করলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে মার্কো এসেনসিও প্রায় ফাঁকায় তাঁকে বল ঠেলে দিলেও সে সুযোগ তিনি নষ্ট করেন। পুরো ম্যাচে কয়েকটি শট নেওয়া ছাড়া বলার মতো আর কিছুই করতে পারেননি কিছুদিন আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের দ্বিতীয় লেগে হ্যাটট্রিক করে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে রিয়ালকে দারুণ এক জয় এনে দেওয়া রোনালদো।

আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের এই ম্যাচে গোলের সুযোগ তৈরি করেছে দুই দলই। ২৮ মিনিটে রিয়াল এগিয়ে যায় কাসেমিরোর গোলে। গোলের উৎসে ছিল টনি ক্রুসের কর্নার আর মার্সেলোর দারুণ এক মাপা পাস। ক্রুসের কর্নার থেকে বল পেয়ে মার্সেলো বলটি ফেলেন একেবারে বার্সেলোনার গোলমুখে। সেখানে রামোসের শট পোস্টে লেগে ফাঁকায় পেয়ে যান কাসেমিরো। সেখান থেকে জালে বল ঠেলতে কোনো অসুবিধা হয়নি কাসেমিরোর।

এক গোলে পিছিয়ে হতোদ্যম হয়ে পড়লেও দলকে জাগিয়ে তোলেন মেসি। ৩৩ মিনিটে সার্জিও বুসকেটস আর ইভান রাকিতিচের যুগলবন্দী রিয়ালের বক্সে পেয়ে যান মেসি। গোলকিপার নাভাসের পাশ দিয়ে সমতা ফেরান দারুণ এক প্লেসিং শটে।

৩৬ মিনিটে লুকা মডরিচের দারুণ এক শট গোলকিপার আন্দ্রে টের স্টেগান কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। ৪০ মিনিটে সুয়ারেজের পাস থেকে বল ধরে মেসি শট নিয়েছিলেন, কিন্তু সেটি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৪৩ মিনিটে জর্ডি আলবা সুয়ারেজের পাস থেকে সুবিধাজনক জায়গায় দাঁড়িয়ে সহজ এক গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথমার্ধের একেবারে যোগ করা সময়ে মেসি একটি সুযোগ নষ্ট করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা রিয়াল দারুণভাবেই করে। ৫২ মিনিটে মার্সেলোর ক্রস থেকে করিম বেনজেমার হেড কীভাবে যেন ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলকিপার স্টেগেন। টেলিভিশন ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন 'হ্যান্ডবল' গোলকিপারের মতো সেভ ছিল ওটা। ৫৫ মিনিটে রাকিতিচের পাস থেকে পাকো আলকাসার আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।

সুয়ারেজ একটি গোল পেতে পারতেন। যদি ৫৭ মিনিটে মেসির থ্রো ঠিকমতো ধরতে পারতেন। ৬৬ ও ৬৭ মিনিটে রোনালদো পরপর দুটি সুযোগ নষ্ট করেন। এর মধ্যে ৬৭ মিনিটে এসেনসিওর পাস থেকে রোনালদো যে মিসটি করেন, সেটি হয়ত তিনি খুব শিগগিরই ভুলে যেতে চাইবেন।

সুয়ারেজ পরের মিনিটেই দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন। তবে নাভাসের সেভটি ছিল আরও আসাধারণ। ৭১ মিনিটে এসেনসিও নিজের 'ক্লাস' আবার প্রমাণ করেন দুর্দান্ত এক শটে। গ্যারেথ বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এসেননিও গোটা ম্যাচেই এমন করেই বার্সার রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিয়েছেন।

৭২ মিনিটে দারুণ এক গোলে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন রাকিতিচ। বক্সের বাইরে প্রথমে বল নিয়ে ডান পায়ের ঝটকায় বোকা বানান ক্রুসকে। এরপর বাম পায়ের শটে দুর্দান্ত গোলটি করেন এই ক্রোয়াট ফুটবলার।

পিছিয়ে পড়ে মাথা গরম করেই ৭৭ মিনিটে লালকার্ড দেখেন রামোস। সাইড লাইনের অনেকটা কাছে মেসিকে অহেতুক জোড়া পায়ে ট্যাকল করেন রিয়াল অধিনায়ক। তাঁকে লাল কার্ড দেখানো ছাড়া রেফারির আর কোনোই উপায় ছিল না।

৭৯ মিনিটেই খেলাটা ' শেষ ' করে দিতে পারত বার্সেলোনা। আন্দ্রে গোমেজের কর্নার থেকে জেরার্ড পিকের দারুণ এক হেড দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন নাভাস।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট দারুণ খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কোচ জিদান বেনজেমার জায়গায় হামেস রদ্রিগেজকে নামালে দারুণ গতি পায় গোটা দল। ৮৬ মিনিটে পুরো ম্যাচেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলা মার্সেলোর ক্রস থেকে জাদুকরি ছোঁয়ায় বার্সেলোনা গোলকিপার টের স্টেগেনকে বোকা বানান রদ্রিগেজ। পরাজয় থেকে রক্ষা পাওয়ার স্বস্তি যখন গোটা বার্নাব্যুতে ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই সার্জি রবার্তোর সেই দুর্দান্ত দৌড়। গোমেজ-আলবার বল চালাচালি, সেখান থেকে মেসির পা ঘুরে বল রিয়ালের জালে।

রিয়ালের সমর্থকদের চোখে তখন একরাশ অবিশ্বাস। বার্নাব্যুর ছোট্ট একটি জায়গায় বসা বার্সেলোনা সমর্থকদের চিৎকার তখন যেন পৌঁছে গেছে মাদ্রিদ থেকে বার্সেলোনা।

Anuz

Anuz Kumar Chakrabarty
Assistant Professor
Department of General Educational Development
Faculty of Science and Information Technology
Daffodil International University

sisyphus

Mr. Rafi Al Mahmud
Sr. Lecturer
Department of Development Studies
Daffodil International University