News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

চাকরির ইন্টারভিউয়ের শেষে আপনি করুন এই ৮টি প্রশ্ন

Started by anowar.bba, August 09, 2018, 02:43:36 PM

Previous topic - Next topic

anowar.bba

অনেক সময় নিয়ে প্রস্তুত হলেও চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেলে সবাই কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েন। একনাগাড়ে অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এ সব প্রশ্নই আপনাকে পরীক্ষা করতে তৈরি করা। কিন্তু ইন্টারভিউয়ের সময়ে শুধু প্রশ্নের উত্তর নয়, আপনারও কিছু প্রশ্ন করা উচিৎ। অনেক ইন্টারভিউয়ের শেষে চাকরিপ্রার্থীকে জিজ্ঞেস করা হয় তার নিজের কোনো প্রশ্ন আছে কিনা। এ সময়ে আপনি কী প্রশ্ন করছেন, তার ওপরেও আপনার চাকরির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। দেখে নিন ইন্টারভিউয়ের শেষে কী কী প্রশ্ন করতে পারেন আপনি-

১) আপনারা আমার রেজুমিটি কেন বেছে নিলেন?

চাকরির জন্য শত শত এমনকি কয়েক হাজার রেজুমি জমা হতে পারে। তার মধ্য থেকে কী কারণে আপনার রেজুমিটি বেছে নেওয়া হয়েছে? কেন আপনাকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছে? সাধারণত চাকরিপ্রার্থীকেই প্রশ্ন করা হয় তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কেন কাজ করতে চান। সেখানে চাকরিপ্রার্থী এই প্রশ্নটি করলে সন্তুষ্ট হবেন ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকা ব্যক্তিবর্গ।

২) আপনাদের কোম্পানি/ডিপার্টমেন্টের জন্য আজ সবচেয়ে কঠিন কাজটি কী ছিল?

এ প্রশ্নটি করার অর্থ হলো, তাদের প্রতিষ্ঠানে কী ধরণের কর্মী দরকার তার ব্যাপারে খোঁজখবর করছেন আপনি। তারা কী বিশেষ কোনো দক্ষতার চাকরিপ্রার্থী খুঁজছেন, নাকি বর্তমান কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সাধারণ একজন প্রার্থী খুঁজছেন, তা বোঝা যাবে এর উত্তর থেকে। উত্তর থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন এই চাকরিটি আপনার জন্য ভালো হবে না খারাপ।

৩) অন্য প্রতিষ্ঠানের থেকে আপনার প্রতিষ্ঠানটি আলাদা কেন?

একটি ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক প্রতিযোগী কোম্পানি থাকে। তাদের মাঝে এই প্রতিষ্ঠানটি আলাদা কেন? আসলেই কি তারা অন্যদের তুলনায় আলাদা নাকি অন্যদের মতোই গতানুগতিক একটি প্রতিষ্ঠান? এ প্রশ্নটি করলে ইন্টারভিউ বোর্ড বুঝতে পারবে আপনি ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে চান এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ থেকেই এমন প্রশ্ন করেছেন।

৪) কোম্পানি ভ্যালুর ব্যাপারে প্রশ্ন করুন

ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে কোম্পানি ভ্যালু বা নীতির ব্যাপারে জেনে নিন এবং ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করুন যে তারা আসলেই এসব নীতির বাস্তবিক প্রয়োগ করেন কিনা। তারা যদি এ প্রশ্নে আকাশ থেকে পড়ে তাহলে বুঝবেন এসব নীতি কেবল কাগজে কলমেই আছে, বাস্তবে নেই। তারা যদি সততার সাথে প্রশ্নের জবাব দেয় তাহলে বুঝবেন নীতি বাস্তবায়নে চেষ্টা করছে তারা।

৫) আপনাদের ট্রেইনিং প্রোগ্রাম কেমন?

ভালো একটি প্রতিষ্ঠান অবশ্যই নতুন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেবার জন্য কিছু সময় ব্যয় করবে। অন্যদিকে ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে যদি বলা হয় কোনো ট্রেনিং প্রোগ্রাম নেই অথবা খুব কম সময়, তাহলে হয়তো সেখানে কাজ করতে গেলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন।

৬) এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে কেন পছন্দ করেন আপনি?

ইন্টারভিউ বোর্ডে ওই প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মীরাই থাকেন। তারা যদি এ প্রশ্নের জবাব দিতে না পারেন, তারমানে হয়তো কোনো ঘাপলা আছে। হয়তো প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের জন্য খুব একটা ভালো নয়। এছাড়া এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যদের নিজস্ব মতামত জানার একটি সুযোগ পেতে পারেন আপনি।

৭) এ প্রতিষ্ঠানে সেরা কর্মী হতে হলে কী করতে হবে?

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই এমন কিছু কর্মী থাকেন যারা অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো পারফর্মেন্স দেখান। এই প্রতিষ্ঠানেও নিঃসন্দেহে তেমন কিছু কর্মী রয়েছেন। অন্য কর্মীদের সাথে তাদের কী পার্থক্য, এমন প্রশ্ন করতে পারেন আপনি। এতে ইন্টারভিউ বোর্ড বুঝতে পারে আপনিও সেরা কর্মী হবার প্রত্যয় নিয়েই চাকরি শুরু করতে চান। শুধু তাই নয়, সেরা কর্মীদের থেকে প্রতিষ্ঠানটি কী আশা করছে, সেটাও বুঝতে পারবেন এই প্রশ্নের উত্তর থেকে।

৮) ইন্টারভিউ শেষ হবার আগে আমাকে অফিসটা ঘুরিয়ে দেখানো যাবে?

ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকা কর্তাস্থানীয় ব্যক্তিরা নিঃসন্দেহেই গম্ভীর আচরণ করেন। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীকে অফিস ঘুরিয়ে দেখানোর সময়ে অন্যান্য কর্মীদের সাথে কথা বলতে হয় তাদেরকে। তা থেকেই বোঝা যায় তিনি আসলে কর্মকর্তা হিসেবে কেমন। এ থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন তার অধীনে কাজ করা ঠিক হবে কিনা।

আরও কিছু টিপস-

হ্যাঁ/না প্রশ্ন করবেন না: যে প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দেওয়া যায়, এমন প্রশ্ন করবেন না। তাতে আপনার প্রশ্নটিকে জবাবদিহিতা মনে হতে পারে। এমন প্রশ্ন করুন যার উত্তর বেশ লম্বা করে দেওয়া সম্ভব।

অহেতুক প্রশ্ন করবেন না: যে প্রশ্নের উত্তর একেবারেই সহজ বা সবাই জানে, এমন প্রশ্ন করবেন না। তাহলে ইন্টারভিউ বোর্ড বুঝে যাবে আপনি প্রশ্ন করতে হবে বলেই করছেন, এর পেছনে কোনো চিন্তাবভাবনা নেই।

সময়ের খেয়াল রাখুন: ইন্টারভিউ বোর্ডে কারোই অসীম সময় নেই। তাই একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকবেন না। ইন্টারভিউ শেষে দুই বা তিনটি জরুরী প্রশ্ন করুন। এমনকি আপনার ইন্টারভিউয়ের মাঝেই এসব প্রশ্ন করে নিতে পারেন।