News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

কোরআনের বয়ানে নবীজির মর্যাদা

Started by Mrs.Anjuara Khanom, November 23, 2019, 12:23:38 PM

Previous topic - Next topic

Mrs.Anjuara Khanom

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হচ্ছে হিকমতি দুনিয়া ও কুদরতি বেহেশতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ- গুরুত্বপূর্ণ দিন।

নবী রাসূলদের জন্য আল্লাহপাকের রহমত-বরকত-শান্তি সার্বক্ষণিক। আল্লাহপাক নবী রাসূলদের জন্ম-মৃত্যু দিনে বিশেষভাবে শান্তি বর্ষণ করেন কোরআনের আয়াত থেকে তা সুস্পষ্ট। কোরআনের আয়াত থেকে বোঝা যাচ্ছে জন্মদিনে যেভাবে শান্তি বর্ষিত হয়- মৃত্যুদিনেও সেভাবে শান্তি বর্ষিত হয়।

নবীজির জন্ম-মৃত্যু একই দিনে হলেও একইভাবে শান্তি নাজিল হয়। আল্লাহপাক নবী রাসূলদের জন্ম-মৃত্যু দিনে শান্তি বর্ষণ করেন। রাসূল পাকের উম্মত হিসেবে আল্লাহর বান্দা হিসেবে আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হওয়ার জন্য আমাদের রাসূল পাকের প্রতি দরুদ-সালাম পাঠাতে হবে। সাধ্যমতো গরিব মিসকিন খাওয়াতে হবে। কোরআনের আয়াতে (১০৭:৩), (৩৩:৫৩) এসব বলা হয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী সাধ্যমতো উদযাপন করলে আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর রহমত-বরকত-শান্তি পাওয়া যাবে।

সূরা মারইয়াম : তোমাকে ইয়াহইয়া নামের পুত্রের সুসংবাদ দিতেছি, (১৫) তার ওপর শান্তি জন্মের দিনে, মৃত্যুর দিনে এবং পুনরুত্থানের দিনে। (৩৩) আর আমার প্রতি শান্তি আমার জন্মদিনে, মৃত্যুদিনে এবং জীবিত পুনরুত্থিত হওয়ার দিন। (৩৪) এ হল ঈসা ইবনে মারইয়ামের কথা।

সূরা আলে ইমরান : ১৬৯ আয়াতে রয়েছে, যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের আপনি কখনও মৃত বলে ধারণা করবেন না। বরং তারা জীবিত, তারা তাদের রবের থেকে রিজিকপ্রাপ্ত হন।

সূরা আল বাক্বারাহ : ১৫৪। আর যারা আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে তাদের তোমরা মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত অবশ্য তোমরা তা বুঝ না।

হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন : তোমরা জুমার দিন আমার প্রতি অধিক দরুদ পাঠ করবে। কেননা তা আমার কাছে পৌঁছান হয়, ফিরিশতারা তা পৌঁছিয়ে দেন। যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরুদ পাঠ করে, তা থেকে সে বিরত না হওয়া পর্যন্ত তা আমার কাছে পেশ হতে থাকে। রাবি বলেন, আমি বললাম : ইন্তেকালের পরেও? তিনি (সা.) বললেন : হ্যাঁ, ইন্তেকালের পরও।

কোরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, নবী রাসূলরা ও আল্লাহর পথে যারা নিহত হন তাদের মৃত ভাবা যাবে না বরং তারা জীবিত এবং আল্লাহর রিজিকপ্রাপ্ত।

নবী রাসূল ও শহীদানদের জন্ম-মৃত্যু দিবসে গরিব মিসকিন খাওয়ানো আল্লাহপ্রদত্ত রিজিককে স্মরণ করা হয়, আল্লাহ ও রাসূল পাক সন্তুষ্ট হন।

সূরা আলমুমতাহিনা : ১৩ আয়াতে বলা হয়েছে। হে মুমিনরা যাদের ওপর আল্লাহতায়ালা অসন্তুষ্ট তোমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করো না। তারা অবশ্যই পরকাল সম্পর্কে তেমনি নিরাশ হয়েছে, যেমনি কাফেররা কবরস্থ লোকদের সম্পর্কে নিরাশ হয়েছে।

যাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাসূল পাকের ওপর দরুদ সালাম পাঠানো হবে ও গরিব মিসকিনকে খাদ্যদান করা হবে সেই কবরবাসী ও আয়োজকদের ওপর আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর রহমত-বরকত-শান্তি বর্ষিত হবে। জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার মধ্যে এটাই প্রমাণ করে যে জীবিতরা কবরস্থ লোকদের সম্পর্কে ও পরকাল সম্পর্কে নিরাশ নয় বরং আল্লাহ ও রাসূলের রহমত বরকত করুণা শান্তির ওপর নির্ভরশীল।

সূরা মাউন : (১ আয়াতে বলা হয়েছে) আপনি কি দেখেছেন, সেই ব্যক্তিকে যে দ্বীনকে মিথ্যা মনে করে? (২) সে তো ওই ব্যক্তি যে, এতিমকে ধাক্কা দেয়। (৩) এবং মিসকিনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করে না।

সূরা মাউনে দেখা যাচ্ছে মিসকিনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত না করলে ধর্মকে অস্বীকারকারী হতে হবে। শুধু নামাজ-রোজা নয় গোটা ধর্মকে অস্বীকার করা হবে। কোনো রকমের ছলচাতুরী করা যাবে না। মসজিদ-মাদ্রাসা এমনকি বেহেশত নির্মাণের দোহাই দিয়েও গরিব-মিসকিনকে খাদ্যদানে নিরুৎসাহিত করা যাবে না।

সূরা আল এনশেরাহ : (৪ আয়াতে বলা হয়েছে) আমি তোমার স্মরণকে সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছি।

এই আয়াতে বুঝা যাচ্ছে রাসূল পাকের স্মরণকেই আল্লাহপাক সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন।

সূরা আল আহজাব : (৫৩) বলছে হে মু'মিনরা! তোমরা নবীর ঘরে তার অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করো না, খাবার জন্য তা পাকানোর অপেক্ষায় বসে থেক না। কিন্তু তোমাদের যখন ডাকা হয় তখন প্রবেশ কর। এরপর তোমরা যখন খানা খেয়ে ফেলবে তখন বের হয়ে পড়।

আয়াতে দেখা যাচ্ছে রাসূল পাক মানুষকে খাওয়াতেন গরিব মিসকিন ধনী নির্বিশেষে। মানুষকে খানা খাওয়ানো জরুরি। ঈদে মিলাদুন্নবীসহ জন্ম-মৃত্যু দিনে মানুষকে খাদ্যদান মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর শান্তি বর্ষণের সহায়ক।

সূরা আল আহজাব : (৬ আয়াত বলছে) আর নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ, এসব আয়াত থেকে মুমিনকে বুঝে নিতে হবে, রাসূল পাক আমার ওপর আমার নিজের চেয়েও অধিক কর্তৃত্বশীল, রাসূল পাক আমার পিতা মাতা স্ত্রী পুত্র পরিবার ও সহায় সম্পত্তির এমনকি আমার নিজের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ।

লেখক : প্রাবন্ধিক, টোপেরবাড়ী দরবার শরিফ

Mrs, Anjuara Khanom
Library Assistant Officer,
Daffodil International University
DSC Campus
02224441833/34