insistence took me here

Author Topic: insistence took me here  (Read 357 times)

Offline Md. Khairul Bashar

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 203
  • Test
    • View Profile
insistence took me here
« on: December 12, 2012, 10:16:42 AM »
 অভিষেকের পর ঝড়ের বেগেই চলে গেল সময়। এখন কি বুঝতে পারছেন, কী করে ফেলেছেন আপনি?
সোহাগ গাজী: দেশের হয়ে খেলা স্বপ্নপূরণের মতো। ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এখন সবাই যখন বলছে, অভিনন্দন জানাচ্ছে, বুঝতে পারছি দারুণ কিছু করেছি।
 ঢুকেই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠলেন। অবিশ্বাস্য লাগছে না?
সোহাগ: আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। দলে ডাক পাওয়ার পরই ঠিক করেছিলাম, খেলার সুযোগ পেলে কাজে লাগাব। সেই সুযোগটা যখন এল, চেষ্টা করেছি ভালো খেলার। আগেও বেশ কবার বলেছি, আমার পরিকল্পনা ছিল জাতীয় লিগে যেভাবে বোলিং করে সফল হয়েছি, সেভাবেই বোলিং করা।
 আসলেই কি এতটা সোজা? জাতীয় লিগের মতো বোলিং করলেই হয়ে গেল!
সোহাগ: ভালো বল কিন্তু সবার জন্যই ভালো বল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অবশ্যই অনেক কঠিন। তবে চাপের ম্যাচ আগেও খেলেছি। আমাদের জাতীয় লিগে হয়তো তেমন বেশি চাপ নেই, কিন্তু ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে অনেক চাপ। জাতীয় দলের হয়েও আমি চেষ্টা করেছি চাপে ভেঙে না পড়তে। আসলে প্রতিপক্ষ বা আমার অভিষেক—এসব নিয়ে ভাবিনি। ভাবলে হয়তো চাপে পড়ে যেতাম।
 কিন্তু স্ট্রাইকে যদি গেইলের মতো কেউ থাকে, তা হলেও কি না ভেবে থাকা যায়?
সোহাগ: প্রথম বলে ছয়, প্রথম ওভারটা অমন হওয়ার পরও মুশফিক ভাইসহ দলের সবাই সাহস দিয়েছেন। সাকলায়েন ভাই অনেক সাহায্য করেছেন। ম্যাচের আগে বারবার বলেছেন, ‘ওরা পেশাদার ক্রিকেটার, তুমিও। তুমি নতুন বলে পিছিয়ে আছ, এমন ভাববে না।’ এটা আমার মধ্যে খুব কাজ করেছে। গেইলের বিপক্ষে বোলিং করা, সেটাও প্রথম ওভারেই। অনেক চাপ হওয়ার কথা। কিন্তু ভাবলেই না চাপ হবে! আমি ওসব ভাবিইনি।
 এই আত্মবিশ্বাস কীভাবে এল?
সোহাগ: জেদ থেকে এসেছে। আগে জাতীয় দলের খেলা দেখতে বসলেই প্রচণ্ড জেদ হতো। সাকিব ভাই, তামিম ভাইয়েরা এত ভালো খেলছে...ওরা তো আমার মতোই মানুষ। তাহলে আমি কেন পারব না! আরেকটা ব্যাপার ছিল, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আমাকে কেন জানি সব সময় স্ট্যান্ডবাই রাখা হতো। নয় বছর ধরে প্রায় সব সময় শুধু স্ট্যান্ডবাই-ই ছিলাম। একসময় মনে হয়েছিল, সব ছেড়েছুড়ে দিই। পরে ভেবেছি, এর শেষ দেখে ছাড়ব। এই জেদই আমাকে এই পর্যায়ে এনেছে।

 গেইল বা অন্যরা আপনাকে স্লেজিং করেনি বা কথা শোনায়নি?
সোহাগ: নাহ্, আমিও কোনো কথা বলিনি। তবে তামিম ভাইকে গেইল অনেক স্লেজিং করত। তামিম ভাইও আবার গেইলকে বলতেন, ‘ওই যে সোহাগ আসছে।’ আর গেইল শুধু আমার দিকে তাকিয়ে হাসত, আমিও হাসতাম। পরে তো স্ট্রাইকও নিতে চায়নি আমার বলে। এটাও বড় একটা প্রাপ্তি।
 আপনার বোলিংয়ে শক্তির জায়গা কোনটা?
সোহাগ: আর্ম বল আমার মূল অস্ত্র। তবে বেশির ভাগ ম্যাচে টার্নিং উইকেট ছিল বলে আর্ম বল বেশি করার প্রয়োজন হয়নি। আর সাকলায়েন ভাই দুসরা, ক্যারম বলও কীভাবে করতে হয়, দেখিয়ে দিয়েছেন।
 সাকলায়েনের কথা বারবার বলছেন। আপনার সাফল্যে তাঁর ভূমিকা কতটুকু?
সোহাগ: জাতীয় দলে ঢোকার আগে আমি সপ্তাহ দুয়েক কাজ করেছি সাকলায়েন ভাইয়ের সঙ্গে। তবে জাতীয় দলে আসার পরই বেশি শিখেছি। শুধু আমি নই; রিয়াদ ভাই, রাজ ভাই সবাই। ফিল্ডিং বা পরিস্থিতি অনুয়ায়ী বোলিং করা, নতুন ব্যাটসম্যান ও সেট ব্যাটসম্যানকে কীভাবে বোলিং করতে হয়, মুভমেন্ট দেখে কীভাবে ব্যাটসম্যানকে পড়ে ফেলা যায়... এসব। প্রথম টেস্টে পাওয়েল সেঞ্চুরি করল। চা-বিরতির সময় সাকলায়েন ভাই বললেন লেগ-মিডলে একটু টেনে বোলিং করতে। বিরতির পর প্রথম বলেই ওটা করে ওকে বোল্ড করলাম।
 আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই সাকলায়েনকে কোচ হিসেবে পাওয়া তো ভাগ্যেরও ব্যাপার...
সোহাগ: অবশ্যই। সাকলায়েন ভাইয়ের ক্ষেত্রে আরেকটা ব্যাপার হলো, শুধু ভালো কোচই নন, অসাধারণ একজন মানুষও। আমাদের সঙ্গে দ্রুত মিশতে পেরেছেন, আমরাও দ্রুত শিখতে পেরেছি। উনি চলে যাচ্ছেন, আশা করি আবার আমরা পাব ওনাকে।
 ভারতের শাফি দারাশাহ টুর্নামেন্টে আপনার আর্ম ডেলিভারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আম্পায়ার...
সোহাগ: আমার মনে হয় ওটা ভারতীয় দলগুলোর একটা চাল ছিল। না হলে ম্যাচের মধ্যেই কেন আম্পায়ার বলবে আমার আর্ম ডেলিভারি নিয়ে সন্দেহ আছে! ওসব তো পরে রিপোর্ট করার কথা। আগের ম্যাচে ১১ উইকেট পেয়েছিলাম, এ জন্যই ওরা আমাকে থামাতে চাইছিল। দেশে ফেরার পর একাডেমির কোচ রস টার্নার বললেন, কোনো সমস্যা নেই। এত এত জায়গায় খেললাম, কোথাও তো প্রশ্ন ওঠেনি। এখন তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ওঠেনি।
 দুটি সেঞ্চুরি আছে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। আগেও একবার বলেছিলেন পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হতে চান...
সোহাগ: বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাটিংই ভালো করতাম, পাশাপাশি পেসার ছিলাম। এখনো ব্যাটিংটা আমার এমনিতেই চলে আসে। বোলিংটা আগে, তবে ব্যাট হাতেও দলকে কিছু দিতে চাই।
 শুরুটা দারুণ হলো, কত দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন?
সোহাগ: খেলা শুরু করার সময় থেকে স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলে খেলা। জানি, কঠিন সময় আসছে সামনে। আরও অনেক কিছু শিখতে হবে। স্বপ্ন...বিশ্বসেরাদের একজন হওয়া, সেরা তিন-চারজনের মধ্যে থাকা। তবে এত দূর ভাবছি না এখন, একটু একটু করে এগোতে চাই।
 মাঠের বাইরের সোহাগ কেমন?
সোহাগ: আমি অনেক মজা করতে ভালোবাসি। বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম এ জন্যই আমার খুব ভালো লেগেছে। মাশরাফি ভাই, মুশফিক ভাইয়েরা কিন্তু ড্রেসিং রুমে অনেক মজা করেন। মাঠে নামলে আবার সবাই অন্যরকম। অনেক জেদ, অনেক আবেগ। আমার তো বাংলাদেশের জার্সি পরলেই মনে হয় সত্যিকারের টাইগার হয়ে গেছি।



Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-12-12/news/312585