নারী-পুরুষ সম্পর্ক, অবাধ মেলামেশা, পর্দা ইত্যাদি কিছু ব্যাপারে…

Author Topic: নারী-পুরুষ সম্পর্ক, অবাধ মেলামেশা, পর্দা ইত্যাদি কিছু ব্যাপারে…  (Read 1232 times)

Offline najnin

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 134
  • Test
    • View Profile
আজকাল সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশেও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতেও বাড়বে।পরিবারের গন্ডির ভিতরে তো বটেই, বিশেষ করে কলেজ পর্যায় থেকে সহশিক্ষা ব্যবস্থার কারণে এই মেলামেশার সুযোগ আরো বেশী বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুনেছি আগে নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেরা মেয়েরা কেউ কারো সাথে কথা বলতে চাইলে শিক্ষকের অনুমতি নিতে হত। এখন তো সে অবস্থা নেই-ই, বরঞ্চ প্রতিনিয়তই ছেলে-মেয়েতে দু’জনা বা বহুজনা গ্রুপিং বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে।

ছেলে-মেয়েরা একসাথে পড়াশোনা করার বেশকিছু সুবিধা আছে। ছেলেদের যেহেতু মেয়েদের তুলনায় ঘরের বাইরে চলাফেরা করার সুযোগ বেশী, তাই তাদের জানার পরিধিও বেশী। ফলে তাদের সাথে বিভিন্ন গল্পগুজব, আড্ডা ইত্যাদির মাধ্যমে মেয়েরা অনেক রকমের তথ্য জানতে পারে। বিভিন্ন সচেতনমুলক, সেবামূলক কাজে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও অংশগ্রহণ করতে পারছে, যেটা শুধু মেয়েদের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক সীমিত।

কিন্তু অসুবিধা হলো অবাধ মেলামেশার ফলে অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে বা নিজেদের সম্মতিতে অনেক কিছু ছেলে-মেয়েরা নিজেরাই করে। বন্ধুত্ব বা প্রেমের সূত্র ধরে হাত ধরা থেকে শুরু করে চরম পর্যায়ের প্রাক বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্কও গড়ে উঠে। কোন এক কবির ভাষায়, “A look, then a smile, then a nod of the head, Then a talk, then a promise, then the warmth of a bed.”

অনেকেই হয়তো বলবেন নিজেদের সম্মতিতে যা হয়, তাতে আপত্তি কেন? আমি বলবো, হ্যাঁ, আপত্তি আছে। কারণ, এ ধরণের অবাধ সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত সামাজিক অস্থিরতা তৈরী করে, এটা নৈতিক অবক্ষয়ও বটে, ধর্মীয়ভাবে তো পুরোপুরিই নিষিদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে দেখা যায় পরবর্তীতে ঐ প্রেমিক ছেলেটিই আর সেই মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজী হয় না, অবিশ্বাস করে। এতে করে অবশেষে মেয়েটিই শারীরিকভাবে ,মানসিকভাবে, সামাজিকভাবে চরম অপমান আর যন্ত্রণার শিকার হয়। অথচ এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ছেলেটি অনায়াসেই পার পেয়ে যায়। আর যদি তাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়ও, তবুও ধর্মীয় দিক থেকে এ ধরণের প্রাক বিবাহপূর্বক সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাশহরগুলোতে স্কুল-পালানো জুটির সংখ্যাও বিভিন্ন পার্ক, লেকের পাড়, ফাস্টফুডের দোকানগুলোতে আশংকাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

কেউ কেউ উচ্চতর পর্যায়ে ছেলেদের-মেয়েদের আলাদা ক্যাম্পাসের কথা বলেন। কিন্তু আমার মতো সাধারণের কাছে এ মতটি গ্রহণযোগ্য মনে হয় না। ১৮ বছর বয়সী একটি ছেলে বা মেয়েকে এতোটা অনির্ভরযোগ্য মনে করা বোধ হয় সঠিক নয়। কারণ, এদের কিছুটা ম্যাচিউরিটি থাকে। এ সময়টা ব্যাক্তিত্ব গড়ে ওঠার বয়স। আর নারী-পুরুষের পরস্পরের আচরণ, মনস্তত্ব, প্রকৃতি ইত্যাদি বোঝা দরকার উভয়কেই এবং সে সুযোগটাও থাকে। তার চেয়ে আমরা তাদের বিবেককে জাগ্রত করতে পারি, সচেতন করতে পারি। কিছু নিয়ম-কানুন, বিধি-নিষেধ মেনে চলতে উৎসাহিত করতে পারি।

প্রথমেই ৮৫% ভাগ মুসলিমের এ দেশে যে কথাটি আসে সেটি হলো পর্দা। পর্দা বা হিজাবের কথা মনে হলেই আমাদের চোখে যে চিত্রটি ভেসে উঠে সেটা হলো বোরকা-নেকাব পরা নারী। আসলে যাঁরা যুগ যুগ ধরে ধর্ম প্রচার করেছে, তাঁরা বেশীর ভাগই পুরুষ ছিলেন, আছেন। যত ধর্মীয় বই লেখা হয়েছে, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, ওয়াজ-মাহফিল হয়েছে বেশীর ভাগই পরিচালনা করেছেন পুরুষেরা। তাই নারীর পর্দা নিয়ে যত বেশী আলোচনা হয়েছে, সে তুলনায় পুরুষের পর্দা নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুব কমই।

পর্দা সাধারণতঃ তিন রকম— চোখের পর্দা, দেহের পর্দা ও মনের পর্দা।

পবিত্র কুরআন শরীফে পর্দা প্রসঙ্গে প্রথমেই চোখের পর্দার কথা বলা হয়েছে এবং পুরুষদের ব্যাপারেই আগে বলা হয়েছে (২৪-৩০) । এরপর লজ্জাস্থান হেফাজতের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) আলী (রাঃ)কে বলেছিলেনঃ “Ali, do not let a second look follow the first. The first look is allowed to you but not the second.”(Reported by Ahmad, Abu Daoud, and al-Tirmidhi.)

একই ভাবে পরবর্তী আয়াতে নারীর চোখের পর্দা, লজ্জাস্থান হেফাজতের কথা, তারপর পোশাকের ব্যাপারে বলা হয়েছে(২৪-৩১)। নারীর হিজাব যে শুধু বোরকাই হতে হবে তা নয়, যে কোন বড় চাদর বা ওড়না দিয়েও তা হতে পারে। আর আমাদের দেশের পোশাক এক্ষেত্রে অনেক বেশী উপযোগী।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখি অনেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন, সবগুলো রোযা রাখেন, নফল ইবাদতও অনেক করেন, কিন্তু পর্দা (মাথা ও বুক ঢাকা) এটাও যে অন্য ফরযগুলোর মতোই ফরয, তা বুঝতে পারেন না। কোরআনের কোন আয়াতই অপর কোন আয়াত থেকে শ্রেষ্ঠ নয়, সব আয়াতের সমান মর্যাদা, অবশ্য পালনীয়। এছাড়া এটা মুসলিম মেয়েদের আইডেন্টিটি (৩৩-৫৯)। মেয়েদের গলার স্বরের ব্যাপারেও কোরআনে নির্দেশ দেয়া আছে (৩৩-৩২) [যদিও এটি নবীপত্নীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা, তবে এটা অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে]।

এরপর আসে মনের পর্দা, যেটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয় চোখ এবং দেহের পর্দা দিয়ে। তবুও আমাদের নফস্‌কে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যেটা তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত।

প্রয়োজনসাপেক্ষে ছেলে-মেয়েতে কথা হবে, তথ্য আদান-প্রদান হবে, আলোচনা হবে, এতে কোন বাধা নেই। কিন্তু নিজের ব্যাক্তিত্ব, আত্মমর্যাদাকে দূরে রেখে নয়। আর সঠিক পর্দা নারী-পুরুষ উভয়কেই সম্মানিত করে, মর্যাদাবান করে।

আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে সঠিকভাবে বোঝার ক্ষমতা দিক।

*** পুরুষদের সতরের ব্যাপারে কোন হাদীস আমি খুঁজে পাচ্ছি না, মনে হয় সেটা ইজমা, কিয়াস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। আমার ভুলও হতে পারে। দয়া করে কেউ যদি এই ব্যাপারে বলেন, কৃতজ্ঞ থাকবো।

*** আমাদের দেশে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও আছেন। সব ধর্মেই বিভিন্ন বিধি-নিষেধ আছে। তারা তাদেরগুলো মেনে চলতে পারেন। এ ব্যাপারে আমার তেমন কোন পড়াশোনা নেই। তবে আমাদের সমাজ সাধারণভাবেই কিছুটা রক্ষণশীল, তা সে যে ধর্মই হোক।

তথ্যসূত্রঃ

আয়াতঃ
১। Tell the believing men that they should lower their gazes and guard their sexual organs; that is purer for them. Indeed, Allah is well-acquainted with what they do. And tell the believing women that they should lower their gazes and guard their sexual organs, and not display their adornment, except that which is apparent of it; and that they should draw their head-coverings over their bosoms, and not display their adornment except to their husbands or their fathers or their husbands’ fathers, or their sons or their husbands’ sons, or their brothers or their brothers’ sons or their sisters’ sons, or their women, or those whom their right hands possess, or male servants who lack sexual desire, or children who are not aware of women’s nakedness; and that they should not strike their feet in order to make known what they hide of their adornment…. (24:30-31)

২। …Then do not be too pleasant of speech, lest one in whose heart there is a disease should feel desire (for you)…. (33:32)

৩। O Prophet! Tell thy wives and daughters and the believing women that they should put on their outer garments (jalabeebihinna); (That is, whenever they are outside the home or inside it when non-mahrem men are present. (Trans.)) that is most convenient in order that they may be recognized (as Muslims) and not be molested…. (33:59)

হাদীসঃ
১। A man should not look at the ‘awrah of another man, nor a woman of a woman, nor should a man go under one cloth with another man, nor a woman with another woman. (Reported by Muslim, Abu Daoud, and al-Tirmidhi. Scholars have inferred from this that two men, or two women, should not lie under the same covering so that parts of their bodies touch)

২। “The eyes also commit zina, and their zina is the lustful look.” (Reported by al-Bukhari and others.)

৩। Whoever believes in Allah and the Last Day must never be in privacy with woman without there being a mahrem (of hers) with her, for otherwise Satan will be the third person (with them). (Reported by Ahmad on the authority of ‘Amir ibn Rabi’ah.)

৪। It is better for one of you to be pricked in the head with an iron pick than to touch a woman whom it is unlawful to touch (Al-Mondhari says, “It (this hadith) is reported by al-Tabarani and al-Bayhaqi, and al-Tabarani’s transmitters are authentic and sound.)

বইঃ

১। The Lawful and Prohibited in Islam, By Yusuf Al-Karadawi