একজন সফল গার্ডিয়ানের গুণাবলি

Author Topic: একজন সফল গার্ডিয়ানের গুণাবলি  (Read 693 times)

Offline BRE SALAM SONY

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 827
  • Alhamdulliha Allah Can makes Me A Muslim
    • View Profile
    • Special Discount For hajj and Umrah Guest


পরিবারের নেতৃত্ব দেন একজন পুরুষ। আল কুরআন পুরুষের ঘাড়েই গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্বভার অর্পণ করেছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে পুরুষের নেতৃত্ব আদিকাল থেকে চলে-আসা একটি কালচার, যা প্রাকৃতিক কারণেই ঘটে থাকে। পুরুষের মনোগঠন, সপ্রতিভ আচরণ, দৃঢ়চিত্ততা, সাহসিকতা, প্রতিকূল পরিবেশে - আবেগ নয়- বরং বুদ্ধিচালিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা, অধিকন্তু শীত-বর্ষা-হেমন্ত-বসন্ত রোদ-বৃষ্টি, আলো-অন্ধকার সকল পরিস্থিতিতে দেহ সঞ্চালিত করে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করার শারীরিক ক্ষমতা পুরুষকে সমাসীন করেছে নেতৃত্বের আসনে। তাই পুরুষকেই পালন করতে হবে একটি পরিবারের মূল গার্ডিয়ানের ভূমিকা।
বর্তমান বিশ্বে হাতে-গোণা কয়েকটি দেশ ব্যতীত, সকল দেশেই নারীসমাজ ভোগ করছে, অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে, পুরুষের মতোই সমান সুযোগ-সুবিধা। তবু সাধারণ ব্যাকরণ ও তিক্ত-সত্য হল, সকল সমাজেই, এখনো, পুরুষরা পালন করে যাচ্ছে নেতৃত্ব প্রদানের মূল ভূমিকা। প্রত্যন্ত গ্রামের মাতব্বর-প্রধানদের থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিস্তীর্ণ ময়দানে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণদের অধিকাংশই পুরুষ। পৃথিবীর যেকোনো দেশে মন্ত্রীপরিষদ অথবা পার্লামেন্ট মেম্বারদের অধিকাংশই পুরুষ। পুরুষের জেনেটিক অবগঠন নেতৃত্বানুকুল। সে হিসেবে বর্তমান নারীবাদীদের কেউ কেউ মাতৃগর্ভে থাকাকালীন নারী-এব্রয়ও-তে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে পুরুষের সাথে সমতা আনার দাবি উত্থাপন করেছেন, সেটা যদি করাও হয় তাহলেও তা হবে ঐশী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ, প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বিপরীতে অবস্থান যা কখনো মানবতার জন্য কল্যাণকর হবে না, হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এর বড় প্রমাণ মানুষ প্রকৃতিগত বিধানের বিরুদ্ধে যেখানে যা করেছে তার সবগুলোই মানবতা, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য অকল্যাণকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্য কোনো সুযোগে করা যাবে। এখানে যা বলতে চাচ্ছি তা হল, একটি পরিবারের মূল গার্ডিয়ানশিপ পুরুষের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। আর সে ক্ষেত্রে পুরুষকে অর্জন করতে হবে বেশ কিছু যোগ্যতা, যা সুচারুরূপে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা দেবে।
নবী-রাসূলগণ ছিলেন ইনসানে কামেল, মানবিক গুণাবলির পূর্ণাঙ্গতম প্রতিফলন যাদের জীবনে ঘটেছে। নবী-রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনাপ্রাপ্ত, তাই তারা ছিলেন নির্ভুল, আদর্শিক উচ্চতার শীর্ষচূড়ায় অধিষ্ঠিত। সাধারণ মানুষের পক্ষে নবী-রাসূলগণের মতো ইনসানে কামেল হওয়া দু:সাধ্য হলেও আমল-আখলাক-চরিত্র-আদর্শ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নবীদের উসওয়া বা আদর্শ সামনে রেখে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেয়া সম্ভব। অন্যথায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমাদের জন্য উসওয়া বা আদর্শ হিসেবে পেশ করা হত না। ইরশাদ হয়েছে: {অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে}[ সূরা আল আহযাব:২১ ]
সে হিসেবে একজন মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল আদর্শ আপন করে নিয়ে তার প্রয়োগ ঘটাতে চেষ্টা-সাধনা করে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ সামনে রেখে নিজেকে সবসময় বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে কোন দিকটায় ত্রুটি রয়েছে, কোন দিনটা আরো উন্নত, সুস্মিত করতে হবে। জীবনপর্যায়ের কতটুকু অংশে উসওয়ায়ে রাসূল স্থান করে নিতে পেরেছে। উসওয়ায়ে রাসূলের চাঁচে ফেলে নিজেকে উন্নত করার, পরিমার্জিত করার এক নিরবচ্ছিন্ন মেহনতে-শ্রমে নিজেকে নিক্ষেপ করতে হবে।
উসওয়ায়ে রাসূলের যথার্থ অনুসরণ একজন মানুষকে যোগ্য গার্ডিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে, পরিবারের দেখভাল, সন্তান লালনের দায়িত্ব যথার্থরূপে পালনের জন্য চারিত্রিক ও আদর্শিক যোগ্যতা দান করবে।
এটা হল একটা জেনারেল কথা যা কেবল গার্ডিয়ানশিপ নয় বরং জীবনের সকল ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক বলে মনি করি। আর আমরা যেহেতু গার্ডিয়ানশিপ নিয়ে আলোচনায় বসেছি তাই এ ক্ষেত্রে নবীর উসওয়া-আদর্শ কী তা জ্বলজ্বলে করে বলা আবশ্যক বলে মনে করি।
এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে একজন সফল গার্ডিয়ানকে নিম্নবর্ণিত গুণসমূহ অর্জন করে সফল গার্ডিয়ানশিপ নিশ্চিত করতে হবে।
এক. আদর্শের অনুবর্তিতা
একজন গার্ডিয়ান তার পরিবার ও ছেলেমেয়ের তালিম-তরবিয়ত ও আখলাক চরিত্রের প্রহরী। আর যিনি প্রহরী তিনি নিজেই যদি আদর্শচ্যুত হন তবে অন্যদেরকে শেখাবেন কী। আপনি যদি নিজে সিগারেট পান করায় অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে উপদেশ দেন, তোমরা সিগারেট পান করো না; কেননা তা ক্ষতিকর, তাহলে আপনার উপদেশ ধূম্রের মতো বাতাসে উড়ে যাবে। যাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন তাদের মাঝে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না। সে হিসেবে একজন গার্ডিয়ানের জন্য আদর্শের অনুবর্তিতা একটি অপরিহার্য গুণ, যার অনুপস্থিতি গার্ডিয়ানশিপের গোটা প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করে দেবে, দেওয়া স্বাভাবিক।
দুই. সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা
গার্ডিয়ানকে বিবেচক হতে হবে। আবেগের মাথায় হুট্ করে একটা কিছু করে ফেললেই হবে না। সে হিসেবে তাকে যথেষ্ট পরিমাণ সহিষ্ণু হতে হবে। ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় গুণ, হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক সাহাবিকে বলেছেন :’তোমার মধ্যে এ দুটি গুণ রয়েছে যা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়, সহিষ্ণুতা, ও ধীরস্থিরতা। [ মুসলিম:হাদিস নং ১৭]
সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা দাবি হল, আপনি যখন আপনার ছেলেমেয়েকে কোনো অন্যায় করতে দেখবেন, তখন রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে সাথে সাথে মারধর করতে যাবেন না, এ ক্ষেত্রে আপনাকে বরং নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। শুরুতে আপনি তাকে জিজ্ঞাসা করবেন কেন এমনটি করল, তারপর তাকে এ ব্যাপারে যা সঠিক তা বাতলে দেবেন। সে যে অন্যায় করেছে তা ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝাবেন। সাথে সাথে তাকে একটু আদরও করে দেবেন। হতে পারে সে সংশোধিত হয়ে যাবে। রাফে ইবনে আমর আল-গিফারি হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: বাল্যকালে আমি আনসারদের খেজুর গাছে ঢিল ছুড়তাম, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বলা হল, ‘ একটি বালক আমাদের খেজুর গাছে ঢিল ছুড়ছে’। এরপর আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: হে বালক খেজুর গাছে তোমার ঢিল ছোড়ার কারণ কী? আমি বললাম: (খেজুর) খাই। তিনি বললেন : খেজুর গাছে ঢিল মেরো না। গাছের নিচে যা এমনিতেই পড়ে তা খাও। অতঃপর তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনি এর উদর পরিতৃপ্ত করুন। [ইমাম তিরমিযি হাদিসটি বিশুদ্ধ বলেছেন]
সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতার আরেকটি দাবি হল বাচ্ছাদেরকে প্রহার না করা। আমরা অনেকেই মনে করি যে মারধর না করলে ছেলেসন্তান মানুষ করা যাবে না। এ কথা ভুল। বরং হেকমত ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে বাচ্চাদের ভুলত্রুটি শুদ্ধ করা জরুরি। আবু উমামা (রাযি:) হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি বালক নিয়ে এলেন, তাদের একজনকে আলী (রাযি:) কে দিয়ে দিলেন এবং বললেন, একে মেরো না, কেননা নামাজ আদায়কারীকে মারার ব্যাপারে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। [ আলবানি: সহিহু আদাবিল মুফরাদ]
ইসলামে শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্য ইসলাহ ও সংশোধন, প্রতিশোধ ও মনের ঝাল মেটানো নয়। এ কারণে শিশুকে শাস্তি দেয়ার পূর্বে তার মেজাজ-প্রকৃতি বুঝতে হবে। ভুল সম্পর্কে শিশুকে বারবার বলে বুঝাতে হবে। ইবনে খালদুন রা. বলেন, ‘ যে ব্যক্তি শিক্ষার্থী ও খাদেমদেরকে মারধর ও মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে শিক্ষা দিতে যাবে, এমতাবস্থায় এ বলপ্রয়োগই অধিপতি হয়ে বসবে, বলপ্রয়োগকৃত ব্যক্তির হৃদয়ে সংকীর্ণতা আগমন করবে। উদ্যম-উৎসাহ বিদায় নেবে। অলসতা জায়গা করে নেবে। এ কাজ তাকে মিথ্যা ও খারাবির দিকে ধাবিত করবে; সে এরূপ করবে এই ভয়ে যে অন্যথায় দমনপীড়নের খড়্গ তার উপর নেমে আসবে। দমনপীড়ন তাকে ধোঁকা ও ছলচাতুরি শেখাবে। পরবর্তীতে এরূপ করা তার অভ্যাসে পরিণত হবে। মানবতা, যা তাকে শেখানোর উদ্দেশ্য ছিল তা বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়বে।
অভিজ্ঞতার সাক্ষী এই যে মারধর কোনো ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে না। অধিকাংশ সময় মারধর বরং বিপরীত ফলাফল বয়ে আনে। মারধর শিশুর ইচ্ছা শক্তিকে দুর্বল করে দেয়, চেতনার শাণিতভাব বিলুপ্ত করে দেয়, উদ্যম উৎসাহে ব্যত্যয় ঘটায়। সন্তান যদি তার পাশে এমন ব্যক্তিকে পায় যে সবসময় তাকে হেকমত ও সুন্দর ভাষায় তার দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বোঝাবে, কাজ করার প্রতি উৎসাহী করে তুলবে। তা হলে কঠিন শাস্তির কোনো প্রয়োজন হবে মনে হয় না।
হ্যাঁ, মারধর করার একান্তর প্রয়োজন হলে তা হতে হবে হালকাভাবে, অর্থাৎ তা হতে হবে এমনভাবে যে মারের আঘাত গায়ের চামড়া ভেদ করে কখনো যেন মাংস পর্যন্ত গিয়ে না পৌঁছায়। শিশুর বয়স দশ বছরের কম হলে হালকাভাবে একসাথে তিন প্রহারের অধিক করা যাবে না। উমর ইবনে আব্দুল আযীয রা. বিভিন্ন এলাকায় এই বলে চিঠি লিখে পাঠাতেন যে , শিক্ষক যেন একসাথে তিন প্রহারের অধিক না দেয়; কেননা এতটুকু শিশুকে ভয় দেখানোর জন্য যথেষ্ট। শিশু দশ বছর বয়সে উপনীত হলে তাকে নামাজ পড়তে বাধ্য করার প্রয়োজনে মারধরের অনুমতি রয়েছে, তবে এক্ষেত্রেও শুধু গাত্রের চামড়ার উপর দিয়ে হালকাভাবে বেশির বেশি দশ প্রহার পর্যন্ত যাওয়া যাবে, এর অধিক নয়। হাদিসে এসেছে: হদ(শরিয়ত নির্ধারিত শাস্তি) ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্র দশপ্রহারের অধিক প্রয়োগ করা হবে না। [বুখারি:৬৩৪২]
হালকাভাবে কেবল গাত্রের চামড়া স্পর্শ করে এমনভাবে প্রহার করতে হবে এই জন্য বললাম যে কুরআনের ব্যাখ্যাকারগণ ব্যভিচারকারীর উপর শাস্তি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা যে শব্দটি প্রয়োগ করেছেন তা হল {فاجلدوا } মুফাসসিরগণ বলেছেন যে এর অর্থ এমনভাবে প্রহার করা যা চামড়া অতিক্রম করে না। যদি চামড়া অতিক্রম করে মাংস পর্যন্ত চলে যায় তাহলে সেটা হবে ইসলামের আদর্শবহির্ভূত অযাচিত একটি কর্ম।
যেসব ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের উপর হদ প্রয়োগের কথা আছে সেখানেও প্রহার করার মাধ্যম - বেত ইত্যাদি- কর্কশ বা গিটযুক্ত হওয়া নিষেধ। যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি ব্যভিচার করেছে বলে স্বীকার করে নেয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাস্তি প্রয়োগের জন্য একটি বেত আনতে বললেন, অতঃপর একটি ভাঙ্গা বেত আনা হল। তিনি বললেন, এর চেয়ে ভাল। অতঃপর একটি নতুন বেত নিয়ে আসা হল যার গিটগুলো তখনো অকর্তিত। তিনি বললেন, এর চেয়ে নিচে। এরপর একটি বেত নিয়ে আসা হল যার গিটগুলো কর্তিত এবং বেতটিও নরম। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং তাকে জিদল (প্রহার) করা হল। [মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক, কিতাবুল হুদুদ:২১৯৯]
প্রহারকারীর ক্ষেত্রে উমর (রাযি:) এর নির্দেশ হল হাত এমনভাবে না উঠানো যাতে বগলের নীচ প্রকাশ পেয়ে যায়।[ ইবনে আব্দুল বারর, আত্তামহিদ: খণ্ড :৫, পৃষ্ঠা ৩৩৪] অর্থাৎ প্রহার যেন শক্ত ও কঠিনভাবে না হয়।
প্রহারকালীন কোনো শিশু যদি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে সাথে সাথে প্রহার বন্ধ করে দেয়া জরুরি। হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে আশ্রয় প্রার্থনা করল, তাকে আশ্রয় দাও। এবং আল্লাহর নামে যে চাইল তাকে দাও। [ সহিহুল জামে:৬০২১]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো শিশুকে কোনো দিন মারধর করেন নি। বেশির বেশি তিনি হালকাভাবে কান ডলা দিয়ে দিতেন। এমনকী জেহাদের ময়দান ব্যতীত তিনি তার নিজ হাতে কাউকে প্রহার করেন নি। হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রাযি:) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত দিয়ে কাউকে কখনো প্রহার করেন নি। না কোনো নারীকে, না খাদেমকে, হ্যাঁ, যদি তিনি আল্লাহর রাস্তায় জেহাদে থাকতেন, (তবে ভিন্ন কথা)।[মুসলিম : ৪২৬৯]
অতএব এ ক্ষেত্রে খোলাসা কথা হল, শিশুকে আদব শেখানো প্রহারের আশ্রয় ব্যতীতই সম্পন্ন হওয়া উচিত। হিকমত-প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, পরিণতি-চিন্তা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে শিশুকে আদব শেখানোর উত্তম পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। দশ বছরের নিচে যার বয়স এমন শিশুকে প্রহার করার ক্ষেত্রে হালকাভাবে একত্রে তিন প্রহারের ঊর্ধ্বে যাওয়া যাবে না। দশ বছরের ঊর্ধ্বে হলে হালকাভাবে দশ প্রহার পর্যন্ত যাওয়া যাবে, এর বেশি নয়।

তিন. দয়া ও কোমলতা প্রদর্শন এবং হিংস্রতা থেকে দূরে থাকা
আয়েশা (রাযি:) থেকে এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ দয়ালু, তিনি কোমলতাকে পছন্দ করেন। তিনি কোমলতার বিপরীতে দেন যা তিনি সহিংসতার বিপরীতে দেন না, কোমলতা ব্যতীত অন্য কিছুর বিপরীতে দেন না। [মুসলিম]
আয়েশা (রাযি:) থেকে আরেকটি হাদিসে এসেছে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ কোমলতাপূর্ণ, তিনি সকল বিষয়ে কোমলতাকে পছন্দ করেন’। [ বুখারি ও মুসলিম]
জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি:) থেকে এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যাকে কোমলতা থেকে বঞ্চিত করা হল তাকে সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত করা হল’। [মুসলিম]
ইমাম আহমদ আয়েশা (রাযি:) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাকে খেতাব করে বলেছেন, হে আয়েশা! তুমি কোমলতা অবলম্বন করো; কেননা আল্লাহ তাআলা যখন কোনো পরিবারের কল্যাণ চান তখন তাদেরকে কোমলতার পথ দেখান, - অন্য এক বর্ণনা মতে- আল্লাহ যখন কোনো পরিবারের কল্যাণ চান, তিনি তাদের মধ্যে কোমলতার প্রবেশ ঘটান’। [আহমদ]
শিশুদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শনের একটি অতি উজ্জ্বল উদাহরণ হল, নামাজরত অ
আল্লাহর রহমতে প্রতি বছর হজে যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে।এভাবেই হাজীদের খেদমত করে যেতে চাই।
01711165606

আমার প্রতিষ্ঠান www.zilhajjgroup.com
www.corporatetourbd.com