ত্যাগের আদর্শ চর্চা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করাই কোরবানির উদ্দেশ্য -

Author Topic: ত্যাগের আদর্শ চর্চা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করাই কোরবানির উদ্দেশ্য -  (Read 214 times)

Offline faruque

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 655
    • View Profile
ত্যাগের আদর্শ চর্চা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করাই কোরবানির উদ্দেশ্য

প্রফেসর মাওলানা মো. সালাহ্উদ্দিন (খতিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ)



একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাই কোরবানির উদ্দেশ্য। হজরত ইবরাহীম (আ.) পরিবার ত্যাগের যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, সব কিছুর ঊর্ধ্বে যেভাবে আল্লাহর ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি লাভ করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আমাদেরও আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে কোরবানি করতে হবে। এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনের সব ক্ষেত্রে ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হতে হবে। 'ভোগে নয় ত্যাগেই শান্তি' এ মর্মবাণী আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর জীবনের বদলে দুম্বা পাঠিয়ে আল্লাহতা'আলা মানুষের বদলে পশু কোরবানি আমাদের ওপর ওয়াজিব করেছেন। এ পশু কোরবানির মাধ্যমে আমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পশুত্বকেও কোরবানি দিতে হবে। লোক দেখানো এবং শুধু গোশত খাওয়ার জন্য যেন কোরবানি না দেওয়া হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। কোরবানির মাধ্যমে তাকওয়া হাসিলই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। আল্লাহতা'আলা বলেন, 'আল্লাহতা'আলার কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া' (সুরা হজ : ২২:৩৭)।

জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ এই তিন দিন কোরবানি দেওয়া যায়। এ সময় নিসাব পরিমাণ মালের মালিক যিনি হবেন তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। বকরি ও দুম্বা হলে একজনে একটি কোরবানি দিতে হবে। আর গরু, মহিষ, উট হলে ৭ জন একসঙ্গে কোরবানি দিতে পারবে। হজরত জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) হতে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (স.)-কে সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসুল! এসব কোরবানি কি? তিনি বললেন, এটা হলো তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নত। তারা আরজ করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ। এতে আমাদের জন্য কি পুণ্য রয়েছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে নেক ও ছওয়াব পাওয়া যাবে। তারা বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! ভেড়ার বেলায়ও? তিনি বললেন, ভেড়ারও প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হবে (ইবনে মাজাহ)। জিলহজ মাসের ৯ তারিখের ফজর থেকে ১৩ তারিখের আসর পর্যন্ত আইয়্যামে তাশরিকের তাকবির দেওয়া ওয়াজিব।

এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোরবানি করার পর বর্জ্যসমূহ যথাযথভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কোরবানির পশুর রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য গর্ত করে মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে এবং শহরে হলে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে এবং জবেহ করার পর রক্ত ধুয়ে ফেলতে হবে। আল্লাহতা'আলা আমাদের ইখলাসের সঙ্গে কোরবানি করার তৌফিক দিন।

- See more at: http://www.bd-pratidin.com/2014/09/27/33218#sthash.uiNBpM2G.dpuf