পরনিন্দা থেকে দূরে থাকতে হবে

Author Topic: পরনিন্দা থেকে দূরে থাকতে হবে  (Read 767 times)

Offline faruque

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 655
    • View Profile
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকতে হবে

পবিত্র কোরআন ও রসুলে (সা.)-এর হাদিসে পরস্পরের মধ্যে যারা ঝগড়া বা বিরোধ সৃষ্টির উদ্দেশে কথা চালাচালি করে সে সব লোকের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। যারা এ ধরনের অপতৎপরতায় লিপ্ত তাদের পরিণাম সম্পর্কে একাধিক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষের পরস্পরের মধ্যে বিরোধ-বিসম্বাদ বাধানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগানোই হচ্ছে নামীমা বা দ্বিমুখী আচরণ কিংবা পশ্চাতে পরনিন্দা। এ ব্যাপারে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেন, এটা হারাম-নিষিদ্ধ। আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, '(হে রসুল!) আপনি তার আনুগত্য করবেন না, যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, যে পশ্চাতে নিন্দা করে, যে একের কথা অপরের কাছে লাগায়।' -সূরা আল-কালাম ১০, ১১।

বোখারি, মুসলিম, তিরমিজী ও আবু দাউদে আছে, রসুল (সা.) বলেছেন : 'পরনিন্দা চর্চাকারীরা বেহেশতে যাবে না।' অর্থাৎ যারা মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক নষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত পরকালে অনন্ত জীবনে তাদের দোজখে কঠিন সাজা ভোগ করতে হবে।

এক হাদিসে আছে- রসুল (সা.) একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, 'এ কবরবাসীদ্বয় শাস্তি ভোগ করছে। তবে তারা কোনো বড় রকমের পাপের জন্য শাস্তি পাচ্ছে না। তাদের একজন প্রস্রাব থেকে পুরোপুরি পরিষ্কার হতো না। আরেকজন পরনিন্দা চর্চা করে বেড়াত।' অনন্তর রসুল (সা.) খেজুরের দুটি ডালা নিয়ে একটি করে উভয়ের কবরে পুঁতে দিলেন এবং বললেন : 'এ দুটো শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত ওদের শাস্তি হয়তো কিছুটা কম হবে।'

-ইবনে খুজায়মাসহ সবাই এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

এখানে 'তারা কোনো বড় রকমের কাজের জন্য শাস্তি পাচ্ছে না' কথার অর্থ- তারা মনে করত, তাদের এ অপরাধ অর্থাৎ প্রস্রাব থেকে ভালোভাবে পরিষ্কার না হওয়া এবং পরনিন্দা করা তেমন কোনো গুরুতর বিষয় নয়, আসলে কিন্তু বিষয়টি গুরুতর। এ জন্য (কোনো কোনো বর্ণনায় আছে) রসুল (সা.) বলেছেন : 'তবে অবশ্যই তা ছিল গুরুতর অপরাধ।' আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) বলেছেন : 'তোমরা সবচেয়ে নীচ প্রকৃতির লোক দেখতে পাবে সে ব্যক্তিকে, যে এক-একজনের কাছে গিয়ে একেক রকমভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে। আর পার্থিব জীবনে যে দুমুখো ব্যবহার করবে, মহান আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে দুই অগি্ন জিহ্বাবিশিষ্ট করবেন।' 'দুমুখো ব্যবহার' বলতে বোঝায়- একই ব্যাপারে দুজনের কাছে দুরকম কথা বলা। নামীমা বা দ্বিমুখী আচরণ সমাজের শান্তি-শৃৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের লোকজন সামাজিক ঐক্যেরও অন্তরায় হয়ে বিরাজ করে। যে কারণে ইসলামে পরনিন্দা চর্চা বা দ্বিমুখী আচরণ কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ আমাদের চোগলখোরীসহ সব ধরনের হীনম্মন্যতা থেকে দূরে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : খতিব, আল আমিন জামে মসজিদ, খুলনা।

- See more at: http://www.bd-pratidin.com/islam/2014/11/08/42074#sthash.k2rkLedk.dpuf