শীত মৌসুমের বন্দেগি আল্লাহর কাছে প্রিয়

Author Topic: শীত মৌসুমের বন্দেগি আল্লাহর কাছে প্রিয়  (Read 285 times)

Offline faruque

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 655
    • View Profile
শীত মৌসুমের বন্দেগি আল্লাহর কাছে প্রিয়

শীতকাল আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ইবাদতের এক বিশেষ মৌসুম। এ নেয়ামত একমাত্র তার খাস বান্দারাই উপভোগ করেন। শীতকালকে রসুল (স.) নেক্কারদের বসন্তকাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবু সাঈদ খুদুরি (রা.) থেকে বর্ণিত মহানবী (স.) বলেছেন- 'শীতকাল হচ্ছে মোমিনের বসন্তকাল।' (মুসনাদে আহমাদ)। ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন- 'হে শীতকাল তোমাকে স্বাগতম। শীতকালে বরকত নাজিল হয়। শীতকালে রাত দীর্ঘ হওয়ায় নামাজ আদায় করা যায় এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখা যায়।' আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- 'আমি কি তোমাদের শীতল গনিমত কী সেটা বলে দেব না?' শ্রোতারা বলেন, অবশ্যই। তিনি তখন বললেন- 'সেটা হচ্ছে, শীতকালে রোজা রাখা ও রাতে নামাজ পড়া।' আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- 'নবী (স.) বলেছেন, তীব্র ঠাণ্ডার দিন আল্লাহর কোনো বান্দা যদি বলে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (নেই কোনো সত্য উপাস্য আল্লাহ ছাড়া)। আজকের দিনটি কতই না শীতল। হে আল্লাহ! জাহান্নামের জামহারি থেকে আমাকে মুক্তি দিন। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে বলেন- নিশ্চয়ই আমার এক বান্দা আমার কাছে তোমার জামহারি থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাকে আশ্রয় দিলাম। ইসলাম মানুষের সহজাত ধর্ম বিধায় ইসলামের প্রতিটি বিধিবিধান অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। তাই তো স্থান, কাল ও পাত্রের ভিন্নতার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিধান জারি করেছে। মুসলিমে এসেছে- রসুল (স.) বলেছেন- আমি কি তোমাদের জানাব না কিসে তোমাদের পাপ মোচন করবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন- অবশ্যই, হে আল্লাহর রসুল। তিনি বললেন- কষ্ট সত্ত্বেও ঠিকভাবে অজু করা। (মুসলিম : ২৫১)। কথায় বলে ঋতুর রাজা বসন্ত। কিন্তু মোমিনের জন্য ঋতুর রাজা শীত। সালফে সালেহিনের অনুসরণে আমরা শীতকালকে ইবাদতের ঋতু হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বাড়ানোর মৌসুম হিসেবে কাজে লাগাতে পারি। আর এই শীতের লম্বা রাতের চোখের পানি যারা আল্লাহকে দিতে পেরেছে তারা আল্লাহর অনেক কাছের বান্দা হতে পেরেছে। আর এই দুই ফোঁটা চোখের পানিই হয় তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যাবান সম্পদ। কাগজের লেখা চিঠির ওপর বৃষ্টির পানি পড়লে যেভাবে কাগজের লেখাগুলো মুছে যায়, মানুষ যখন চোখের পানি ফেলে কাঁদে আর চোখের পানি যখন তার গাল বেয়ে পড়তে থাকে তখন সেই পানিটুকু তার আমলনামায় পড়ে কাগজের লেখা চিঠির মতো আমলনামার বদগুলো চিরতরে মুছে যায়।

লেখক : খতিব, হাতিরপুল বায়তুল মোমিন জামে মসজিদ, ধানমন্ডি ঢাকা।

- See more at: http://www.bd-pratidin.com/islam/2014/11/13/43150#sthash.zt3zBXQZ.dpuf