হে তরুণ যাচ্ছ কোথায়? ফিরে এসো!

Author Topic: হে তরুণ যাচ্ছ কোথায়? ফিরে এসো!  (Read 259 times)

Offline faruque

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 655
    • View Profile
হে তরুণ যাচ্ছ কোথায়? ফিরে এসো!

বিজ্ঞ মনীষীদের দৃষ্টিতে মানুষের হায়াত তিন ভাগে বিভক্ত। এক. শৈশবকাল দুই. যৌবনকাল তিন. বার্ধক্যকাল। শৈশবকালে মাঠে-ঘাটে, মনের আনন্দে, গল্প-গুজবে দিবানিশি পার হয়ে যায়। জীবনটা ফুলের মতো পবিত্র, স্বচ্ছ কাচের মতো পরিষ্কার থাকে। শিশুর মুখের নিষ্পাপ হাসি, ঘরের প্রতিটি সদস্যের মনে স্নেহের ঢেউ তোলে। আদর আর সোহাগে শিশুকে কোলে তুলে নেয়। প্রতিটি দায়িত্ববান পিতা-মাতা সন্তানকে আদর্শবান করে গড়ে তোলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। শহরে-বন্দরে প্রায়ই দেখা যায় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিশিরে ভেজা কনকনে শীতের প্রভাতে শিশুকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে বিদ্যালয়ে নিয়ে যায়। বিদ্যালয় থেকে আবার সময়মতো নিয়ে আসে। খারাপ পরিবেশে যেতে বারণ করে। খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করে। কারণ শৈশবকালে কোমলমতি শিশুদের দিল-দেমাগ আয়নার মতো স্বচ্ছ থাকে। এই স্বচ্ছ দিলে যা প্রবেশ করাবে তাই সারা জীবন দিলের কুঠুরিতে অঙ্কিত হয়ে থাকবে। মেশকাত শরিফে বাবুল ইমান বিল কদরের ১২ নম্বর হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, প্রতিটি শিশু দুনিয়ায় আগমন করে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করার যোগ্যতা নিয়ে কিন্তু তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, নাসারা এবং অগি্নপূজারী বানায়। বস্তুত পরিবেশের কারণে একটি শিশুর চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র হয় কিংবা কেন্দাফলের মতো দুর্গন্ধ হয়। চরিত্রবান শিশুদের জন্য আদর্শ নায়ক হলেন শিশু মুহাম্মদ (সা.)-এর শৈশবকাল। তিনি কীভাবে চলেছেন, চরিত্র গঠন করেছেন। প্রতিটি দায়িত্ববান পিতা-মাতার উচিত নিজেরা অধ্যয়ন করে তদনুযায়ী নিজের শিশুর জীবন গঠন করা। শৈশবের পূর্ণাঙ্গ প্রভাব পড়ে কৈশোর ও যৌবনকালে। মানুষের পূর্ণাঙ্গ হায়াতের মধ্যে যৌবনকালই হলো গুরুত্বপূর্ণ। পরকালে তার হিসাবও বেশি।


হে যুবক! তোমাকে মনে রাখতে হবে, তুমি তো মুসা, খালেদ, তারেক এবং মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্তরসূরি। তারা এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অকাতরে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। আর আল্লাহপাক তাদের যেমন দিয়েছিলেন মেধা, স্মৃতিশক্তি, তেমনি দিয়েছিলেন রণকৌশল। এককথায় তারা ছিলেন আত্দশুদ্ধির জগতে পরিশুদ্ধ এক সিপাহসালার। প্রতিটি মুহূর্ত মহা মূল্যবান মনে করেছেন। কাজে লাগিয়েছেন। হেলায় খেলায় অতি মূল্যবান সময় নষ্ট করেননি। হে যুবক! তোমার হাতে কেন থাকবে মদ আর সর্বনাশা নেশাজাতীয় দ্রব্য? তুমি কি কখনো চিন্তা করেছ, তুমি কে? তোমার পরিচয় কী? তোমার পূর্বসূরিদের মধ্যে কারও কি এমন সর্বনাশা নেশার অভ্যাস ছিল? যদি না থাকে তাহলে তুমি কেন এই ধ্বংসাত্দক পথে পা বাড়াচ্ছ? সাবধান! সাবধান!! এখনো সময় আছে, ফিরে এসো, তোমার হাতে থাকবে দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনার রেজিস্টার। মাথায় থাকবে দেশ ও দশের সেবা করার কলাকৌশল।

হে তরুণ! তুমি তোমার জীবনকে মূল্য দিতে শিখ। তোমার সুন্দর ও আদর্শ জীবনের দিকে যেমনি তাকিয়ে আছে তোমার পিতা-মাতা, তেমনি তাকিয়ে আছে দেশ ও লাখো মানুষ। তুমি কেন সময়ের মূল্য দিচ্ছ না, কেনইবা অযথা সময় নষ্ট করছ? পাড়ায়, মহল্লায় এবং বেহুদা আড্ডায় সময় পার করছ। আল্লাহর দেওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, দিল-দেমাগ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় কর। আল্লাহও তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। ফলে তোমরা পাবে সময়, হায়াতে ও রিজিকে বরকত।

হে তরুণ! তুমি কি কখনো খবরের কাগজ খুলে দেখেছ? নিশ্চয় দেখেছ, তবে ভেবে দেখনি, এমন সংবাদ কেন প্রত্যহ ছাপা হচ্ছে, যা দেখে মানবাত্দা কেঁপে ওঠে। ব্যথায় চক্ষুযুগল ভারী হয়ে যায়। ভবিষ্যতের কাণ্ডারি ১৪ থেকে ১৫ বছরের যুবক বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে, মাত্রারিক্ত নেশাদ্রব্য পানাহারের কারণে কিংবা ইয়ারফোন কানে পুরে রাখার কারণে এঙ্েিডন্ট হয়ে মারা যাচ্ছে। হে তরুণ! যৌবনকালে শরীরে থাকে শক্তি, মনে আছে হিম্মত ও সাহস, নির্দ্বিধায় চলে রাস্তা, নেশা করে পথ চলে, আল্লাহর দেওয়া অনুধাবন করার শক্তিগুলোকে বন্ধ রাখে। যৌন সুড়সুড়ি দেয় এমন অবৈধ গান-বাজনায় নিজেকে মাতাল করে রাখে। যানবাহনের নিচে পড়ে, রেলের নিচে পড়ে, শত শত প্রাণ অকালে ঝরে যায়। নিঃসন্দেহে মোবাইল অতি প্রয়োজনীয় যোগাযোগ মাধ্যম। বর্তমান আধুনিক যুগে মোবাইলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় যন্ত্রে অত্যন্ত কৌশলে চরিত্র বিধ্বংসী ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সর্বনাশা ভাইরাসের কবলে পড়ে কোমলমতি শিশুরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হচ্ছে। তরুণরা চরিত্রহীন হচ্ছে। সমাজে বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনার সয়লাব ঘটছে। শিশু ও তরুণ যাদের হাতে থাকার কথা ছিল খাতা, কলম কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্তমানে তাদের হাতে আছে মানব বিধ্বংসী হাতিয়ার। এখনো সময় আছে, সমাজের প্রতিটি বিবেকবান, বিচক্ষণ ও সমাজপতিরা যদি এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য করে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা না করেন। পরিণামে এক সময় দেখা যাবে সুনামি ও সিডরের মতো ঝড় হাওয়ায় মানুষের চরিত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। চরিত্র বলতে কিছুই থাকবে না। মানুষের মাঝে পশুত্বের স্বভাব চলে আসবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আদর্শবান মানুষ হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন

লেখক : খতিব, বারিধারা, নতুনবাজার জামে মসজিদ, ঢাকা।