পৃথিবীর ৯ জন বিজনেস টাইকুন, যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন নিজ দেশের অর্থনীতি

Author Topic: পৃথিবীর ৯ জন বিজনেস টাইকুন, যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন নিজ দেশের অর্থনীতি  (Read 723 times)

Offline Sahadat

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 305
  • Test
    • View Profile
পৃথিবীর মোট সম্পত্তির একটা বিরাট অংশই কতিপয় মানুষের কাছে আবদ্ধ। এ মানুষগুলোই পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা আজ এমন কিছু মানুষ সম্পর্কে জানবো যারা তাঁদের নিজ নিজ দেশের অর্থনীতিকে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করেন। যোগ্যতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁরা নিজেকে আসীন করেন এমন অবস্থানে, পৃথিবীর বুকে তৈরি করে নিয়েছেন খুব শক্তিশালী ও মূল্যবান একটি জায়গা। আজ আমরা জানব সেই ৯ জন মানুষ সম্পর্কে, যারা খুব বিশেষ একজন।

১। বিডজিনা আইভ্যানিশভিলি
বিডজিনা আইভ্যানিশভিলি’র দেশের নাম জর্জিয়া। তার মোট সম্পত্তির নিট মূল্য ৫.২ বিলিয়ন ডলার। বিডজিনা আইভ্যানিশভিলি’র সম্পত্তির মূল্য তার দেশের মোট জিডিপি’র ৩২%। আইভ্যানিশভিলির জন্ম জর্জিয়ার এক ছোট শহরে। তিনি ছিলেন একটি দরিদ্র পরিবারের সদস্য। তিনি ২০ বছর বয়সে রাশিয়া চলে যান এবং ওখানে গিয়ে কম্পিউটার বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসা থেকে লাভবান হয়ে পরবর্তীতে তিনি একটি ব্যাংক খোলেন। ২০০৩ সালে আইভ্যানিশভিলি দেশে ফেরত আসেন। দেশে ফেরার ৯ বছর পর তিনি জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হোন। (প্রচ্ছদের ছবি)

২। নাজিব ও তাহা মিকাতি
নাজিম ও তাহা মিকাতি লেবাননের অধিবাসী। তাদের মোট সম্পত্তির নিট মূল্য ৬.২ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। নাজিব ও তাহা মিকাতির সম্পত্তি লেবাননের জিডিপি’র ১৪%। তাদের অর্থের উৎস হল টেলিকম ব্যবসা। নাজিব মিকাতি ২০১১ সালে সা’দ হারিরি’র জায়গায় লেবাননের দ্বিতীয় বিলিয়নিয়ার হিসেবে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নাজিব মিকাতি ও তার ভাই তাহা ১৯৭০ সালে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত লেবাননে একটি স্যাটেলাইট ফোন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন লেবাননের পাওয়ার লাইনের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। তাদের এ প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে সিরিয়া ও আফ্রিকাতে ছড়িয়ে গেছে। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা দুইজনে বর্তমানে আলাদা আলাদাভাবে ৩.১ বিলিয়ন ডলার। তারা দুইজনই লেবাননের অর্থনীতিকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করেন।

৩। অ্যালিকো ড্যাঙ্গোট
অ্যালিকো ড্যাঙ্গোট নাইজেরিয়ার নাগরিক। তার মোট সম্পত্তির নিট মূল্য ২৫ বিলিয়ন ডলার। অ্যালিকো ড্যাঙ্গোটের সম্পত্তির মূল্য তার দেশের জিডিপি’র ৯%। তার আয়ের উৎস হল সিমেন্ট, চিনি ও ময়দার ব্যবসা। তিনি আফ্রিকার একমাত্র ব্যাক্তি যে কিনা বিশ্বের সেরা ২০ জন ধনীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ড্যাঙ্গোট নাইজেরিয়ার সব ধরণের ইন্ডাস্ট্রিকে বহুদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তার ‘ড্যাঙ্গোট সিমেন্ট’ নামের সিমেন্ট কারখানাটি নাইজেরিয়ান শেয়ার বাজারের প্রায় ৩০% কে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি শোধনাগারটির মালিকও অ্যালিকো ড্যাঙ্গোট। মার্চ মাসে ড্যাঙ্গোট তার ফাউন্ডেশন ড্যাঙ্গোট ফাউন্ডেশনে ১.২ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। নাইজেরিয়ার অর্থনীতিকে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন এই ধনকুবের।

৪। রিন্যাত অ্যাখমেতভ
রিন্যাত অ্যাখমেতভ ইউক্রেনের অধিবাসী। তার মোট সম্পত্তির নিট মূল্য ১২.৫ বিলিয়ন ডলার। তার সম্পত্তির মূল্য ইক্রেনের মোট জিডিপি’র ৭%। তার অর্থের মূল উৎস হল স্টিল ও কয়লার ব্যবসা। রিন্যাত অ্যাখমেতভ ইউক্রেনের একটি বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হলেও ইউক্রেনের বর্তমান সংকট নিয়ে তাকে খুব বেশি কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না। তার বহুদিনের বন্ধু ছিলেন ইউক্রেনের সদ্য-পদচ্যুত প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ। বিগত বছর প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ সাথে তার সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায় এবং তিনি পার্লামেন্টের সদস্যপদ হারান। যদিও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইউক্রেন সংকট নিয়ে তিনি প্রথমে মাথা ঘামান নি তবে বর্তমানে তিনি এ সমস্যার জন্য কথা বলা শুরু করেছেন।

৫। স্টিফান পারসন
স্টিফান পারসন সুইডেনের অধিবাসী। তার মোট সম্পত্তির নিট মূল্য ৩৪.৪ বিলিয়ন ডলার। তার মোট সম্পত্তির মূল্য দেশটির জিডিপি’র ৬%। তার সম্পত্তির উৎস হল এইচ এন্ড এম নামের একটি ফ্যাশন হাউজ। তিনিও তার দেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।

৬। বিনোদ চৌধারি
বিনোদ চৌধারি নেপালের অধিবাসী। তার সম্পত্তির নিট মূল্য ১.১ বিলিয়ন ডলার। তার সম্পত্তির মূল্য দেশটির জিডিপি’র ৬%। তার আয়ের সুনির্দিষ্ট কোন উৎস নেই। তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে আয় করে থাকেন। বিনোদ চৌধারি নেপালের একমাত্র বিলিয়নিয়ার। তিনি নেপালের নাবিল ব্যাংকের মালিক। এশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চল এবং উগান্ডা ও রোয়ান্ডাতে তার বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। যদিও তিনি কোনদিন কলেজে যান নি, তবে পারিবারিক সূত্রেই তিনি বিরাট ধনসম্পত্তির অধিকর্তা হোন।

৭। কার্লোস স্লিম ও তার পরিবার
কার্লোস স্লিম মেক্সিকো’র অধিবাসী। তার সম্পদের নিট মূল্য ৭২ বিলিয়ন ডলার। তার সম্পত্তির মেক্সিকো’র জিডিপি’র ৬%। তার আয়ের মূল উৎস হল টেলিকম ব্যবসা। তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর বিশ্বের সেরা ধনী ছিলেন। মেক্সিকোতে একটি ফোন কোম্পানির মাধ্যমে কার্লোস স্লিমের ভাগ্য পরিবর্তিত হয়। তবে তিনি পৃথিবীর সেরা ধনীদের তালিকায় আসেন পুরো ল্যাটিন আমেরিকাতে তার টেলিকম ব্যবসাকে প্রসারিত করার মাধ্যমে। মেক্সিকোর অর্থনীতিতে তিনি একজন শক্তিশালী ব্যাক্তি।

৮। সুয়াত গানসেল
সুয়াত গানসেল সাইপ্রাসের অধিবাসী। তার সম্পদের নিট মূল্য ১.২ বিলিয়ন ডলার। তার সম্পত্তির মূল্য দেশটির মোট জিডিপি’র ৬%। তিনি রিয়েল ইস্টেট ও শিক্ষা খাত থেকে এ সম্পদ তৈরি করেছেন। সুয়াত গানসেল দক্ষিন সাইপ্রাসের সবচেয়ে বড় কলেজ ‘ইয়াকিনডগু বিশ্ববিদ্যালয়’ এর মালিক। এছাড়াও ব্যাংক, হাসপাতাল, তেল, ক্যাবল কোম্পানি ইত্যাদি খাতে তার বিনিয়োগ রয়েছে। সাইপ্রাসের অর্থনীতিকে তিনি ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

৯। পিটর কেলনার
পিটর কেলনার চেক প্রজাতন্ত্রের অধিবাসী। তার মোট সম্পদের নিট মূল্য ১১ বিলিয়ন ডলার। তার সম্পত্তির মূল্য দেশটির জিডিপি’র ৬%। তার আয়ের মূল উৎস হল ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স খাত। একটি অফিস সাপ্লাই কোম্পানির মাধ্যমে তার ব্যবসায়িক জীবনের সূচনা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি ইনস্যুরেন্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানির শেয়ার তিনি ইতালির এক বিখ্যাত ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেন। এভাবেই পিটর কেলনার চেক প্রজাতন্ত্রের বিজনেস টাইকুনে রূপ নেন।
Sahadat