স্রষ্টার নিদর্শন যমযম কূপ !

Author Topic: স্রষ্টার নিদর্শন যমযম কূপ !  (Read 559 times)

Offline Faruq Hushain

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 83
  • Test
    • View Profile
বিশ্ব জগতে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার স্বীয় অস্তিত্বের প্রমাণ স্বরূপ অনেক নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে প্রেরিত তার নবী ও রসূলদের দ্বারা তিনি এই নিদর্শন সমূহের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এই সকল অলৌকিক নিদর্শন ও বিস্ময়কর সৃষ্টিগুলো দ্বারা বিশ্বাসীরা আরও বেশী আস্তিক হয় এবং নাস্তিকেরা সুপথের সন্ধান লাভ করে। মহান স্রষ্টার এই সকল নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যমযম কুপ। যে কুপের পানি সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যেও নিঃশেষ হয় নি বা শুকিয়ে যায় নি।
যমযম কূপ বিশ্বের এক অনন্য নিদর্শন। সৌদি আরবের মক্কা কাবা শরীফ থেকে ২০ মিটার বা ৬৬ ফুট পশ্চিমে মসজিদুল হারামের ভিতরে এই কূপের অবস্থান। মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি পবিত্র স্থান। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, যমযম কূপের সুপেয় পানি মহান আল্লাহর দান। যেটির সূচনা হয়েছিল কয়েক হাজার বছর পূর্বে হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সময়ে। হজ্জ্ব ও ওমরাহ পালনের সময় সহ বছরের বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি মুসলমান এই কূপটি দর্শনে আসে এবং ইহার পানি পান করে তৃপ্তি সহকারে। এখানে যারা আসে তারা কূপের পানি সংগ্রহ করে স্ব স্ব দেশে নিয়ে যায় এবং পরিবারবর্গদের মাঝে বণ্টন করে থাকে। বিশ্বের সকল পানি বসে পান করা সুন্নত তবে একমাত্র ব্যতিক্রম যমযমের পানি। কারণ, যমযমের পানি দাড়িয়ে পান করা সুন্নত।
যমযম (Zamzam) শব্দটি ঐতিহ্যগতভাবে শব্দ সমষ্টি Zomë Zomë  থেকে এসেছে। যার শাব্দিক অর্থ থামা। এই কূপের গা ঘেঁষে হযরত ইবরাহীম (আঃ) পুনরায় বায়তুল্লাহ নির্মাণ করেন। হিব্রু ভাষায় যাকে বলা হয় ব্যাথেল। বায়তুল্লাহ বা ব্যাথেল সর্বপ্রথম নির্মাণ করেন বিশ্বের প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ)। এই গৃহের বর্তমান নাম ‘কাবা’। যেদিকে মুখ করে মুসলমানরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে।
যমযম কূপটি ৩০ মিটার বা ৯৮ ফুট গভীর, যার ব্যাস ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি থেকে ৮ ফুট ৯ ইঞ্চি। প্রথম দিকে এই কূপ থেকে পানি তোলা হতো দড়ি বা বালতীর

সাহায্যে। বর্তমানে এই কূপের একটি নিজস্ব ঘর আছে সেখান থেকে বৈদ্যুতিক পাম্পের সাহায্যে কূপ থেকে পানি তুলে মসজিদ আল হারামের তাওয়াফ করার সমগ্র এলাকায় বিতরণ করা হয়। কূপের উপরের অর্ধেক উপত্যকার পলল বালুকাময়, সর্ব উপরের ১ মিটার কংক্রিটের এবং নিচের অংশ জমাট শিলা দ্বারা তৈরি। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই কুপে পানি এসে থাকে ওয়াদি ইব্রাহিমে বৃষ্টিপাত শোষণের মাধ্যমে। তবে শুষ্ক মরু সৌদি আরবে এত পানি প্রকৃতই কিভাবে আসে সেটা আল্লাহর এক নিদর্শন। কারণ, সমগ্র আরব শুকিয়ে গেলেও যমযম কুপ সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যেও এর পানি নিঃশেষ হয় নি বা শুকিয়ে যায় নি। । সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বোর্ডের যমযম কূপের উপর একটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। তারা যমযম কূপে পানির স্তর, তাপমাত্রা এবং অন্যান্য উপাদান পরীক্ষা করে থাকে এবং নিয়মিত ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য পরিবেশন করে থাকে। যমযম কূপের তলে পানির স্তর ১০.৬ ফুট। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার পানি পাম্প করে উঠিয়ে নিয়ে পানির স্তর ৪৩.৯ ফুট পূর্ণ করলেও পাম্প থামানোর ১১ মিনিটের মধ্যে এটি আবার তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।

যমযম কূপের পানির কোনও রং বা গন্ধ নেই, তবে এর বিশেষ একটি স্বাদ রয়েছে। কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয় যমযম কূপের পানি পরীক্ষা করেছে এবং তারা এর পুষ্টি গুন ও উপাদান সমূহ নির্ণয় করেছে। যমযম পানির উপাদান সমূহ: সোডিয়াম-১৩৩ মিলি, ক্যালসিয়াম-৯৬ মিলি, ম্যাগনেসিয়াম-৩৮.৮৮ মিলি, পটাশিয়াম-৪৩.৩ মিলি, বিকারবোনেট-১৯৫.৪ মিলি, ক্লোরাইড-১৬৩.৩ মিলি, ফ্লোরাইড-০.৭২ মিলি, নাইট্রেট-১২৪.৮ মিলি, সালফেট-১২৪ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে।
২০১১ সালের মে মাসে বিবিসি লন্ডন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যমযম পানিতে প্রচুর পরিমাণে আর্সেনিক রয়েছে। এই পানি খাওয়া মানুষের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘ দিন এই পানি কেউ পান করলে খুব দ্রুতই সে ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র সূত্র মতে মানুষের শরীরের জন্য যে পরিমাণ আর্সেনিক ক্ষতিকর যমযমের পানিতে তার চেয়ে অনেক কম পরিমাণ আর্সেনিক রয়েছে। আর এই পরিমাণ আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য কোনও ক্ষতিকর নয়। তাই মানুষ এই পানি নিশ্চিন্তে পান করতে পারে।

যমযমের পানি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে একটি পবিত্র পানি। মুসলমানরা এই পানি ভক্তিভরে পান করে থাকে। রসূল মোহাম্মদ (সাঃ) নিজেও এই পানি পান করেছিলেন। সুতরাং একথা নিশ্চিন্তে বলা যায় যে, যমযমের পানি পান করা বরকতময়।সুত্র:অনলাইন