শিশুর অটিজম, কীভাবে বুঝবেন?

Author Topic: শিশুর অটিজম, কীভাবে বুঝবেন?  (Read 421 times)

Offline taslima

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 506
    • View Profile
অটিজম শিশুদের ক্ষেত্রে প্রচলিত একটি সমস্যা। অটিজম প্রতিরোধে চাই পরিবারের সহযোগিতা। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৩০৪তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. আনিসা জাহান। তিনি আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ডা. আনিসা জাহান
প্রশ্ন : অটিজম বলতে আমরা কী বুঝি?

উত্তর : শিশুদের অটিজম বলতে যেটা বোঝায়, একটি শিশুর কথা দেরি করে আসার সাথে সাথে তার কিছু আচরণগত সমস্যা। সে সামাজিকভাবে মেলামেশা করতে পারে না। শুধু কথা যদি না বলে এটি  অটিজমের মধ্যে পড়ে না। তার সাথে তার সামাজিকতা, অন্য একজন মানুষের সাথে বা তার সমবয়সী মানুষের সাথে মেশার বিষয়টিও বোঝাবে। সেটার মধ্যে গলদ থাকলেই বুঝতে হবে অটিজম আছে।

তারপরে আসে কথার বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে কথা বলতেও পারে। আবার একদম কথা নাও বলতে পারে। কথা বললেও হয়তো গুছিয়ে বলতে পারে না। আবার আমরা যেভাবে কথা বলি, সেটার মতনও এই কথাটা নাও হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, ‘আমি ভাত খাব’। হয়তো সে বলবে ‘আমি ভাত খাবে’।  এর মানে কথা সে বলতে পারে। তবে গুছিয়ে বলতে পারে না।

প্রশ্ন : এটা তো সাধারণভাবেই অনেক শিশু বলতে পারে।

উত্তর : হ্যাঁ, তবে এটা খুব কম। শুধু কথাটাই এখানে জরুরি নয়। সামাজিকতাটাও এখানে জরুরি। তার আরো কিছু বিষয় রয়েছে। ওরা একই আচরণ বারবার করে। হয়তো দৌড়াচ্ছে, হয়তো মুখে শব্দ করছে। হয়তো ঝাপাচ্ছে, হাতে কিছু নিয়ে আছে, গাড়ির চাকা ঘোরাচ্ছে।

প্রশ্ন: যদি আচরণগত কোনো সমস্যা না থাকে, কিন্তু কথা একটু দেরিতে বলছে—এক্ষেত্রে কি উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ রয়েছে?

উত্তর : আসলে আমার মনে হয়, সারা বিশ্বেই এখন অটিজমের যুগ চলছে। গত ১৫ বছর ধরে আমাদের দেশেও কিন্তু আমরা বিষয়টি নিয়ে অনেক জড়িত। আজকাল তো এমন সমস্যা অনেক শিশুর মধ্যেই পাওয়া যায়। বাইরের দেশে তো এটা প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর ধরেই আছে।

কাজেই আমি সব সময় বলি, কোনো বাচ্চা যদি কথা না বলে, অবশ্যই অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। কারণ, বিশেষজ্ঞই বলতে পারবেন শিশুর আচরগত সমস্যা আছে কি না।  এটা সাধারণত তিন বছরের মধ্যে হতে হবে। যখন শিশুর কথা বলার সময়।

বেশির ভাগ বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজন বলেন, বাচ্চা তো দেরি করে কথা বলতেই পারে। আগে আমরা এটি বলতাম। তবে এখন আর বলি না। কারণ বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজনরা কিন্তু ওর আচরণকে খেয়াল করে না। সে হয়তো একা খেলছে, আপন মনে। বাবা-মা ভাবছে খেলছে। কিন্তু এই শিশুটিকে যদি আরেকটি বাচ্চার সাথে খেলতে দিয়ে দেন। বা আপনার সাথে খেলতে বলেন, সে কিন্তু আসবেই না। ওর নাম ধরে ডাকলে হয়তো জবাব দেবে না। অভিভাবকরা ভাবে সে হয়তো খেলার মধ্যে ব্যস্ত আছে। চোখে চোখে তাকাবে না। এটি খুব প্রচলিত একটি জিনিস। অথবা তাকালেও খুব ক্ষণিকের জন্য তাকিয়ে চোখ সরিয়ে ফেলবে। অথচ সামাজিকতার প্রথম জিনিসই হলো আমি চোখে চোখে তাকাব। কারণ, আমি যখন একটি তিন মাসের বাচ্চার সাথেও হাসি, তখন কিন্তু সে হাসে।

এই বিষয়গুলোকে অনুসরণ করতে হবে। তিন বছরের মধ্যে একটি শিশুর যেভাবে মেশার কথা, আচরণ করার কথা, সেটি করে না। এসব বাচ্চারা একই খেলনা একইভাবে খেলতে থাকে। ওরা আবার একই খেলনা একইভাবে খেলে। যেমন আপনি যদি গাড়ি দেন, গাড়িকে ওভাবেই চালাবে বারবার। কিন্তু আপনি যদি বলেন, ঠিক আছে চলো আমরা অ্যাকসিডেন্ট অ্যাকসিডেন্ট খেলি, অথবা চলো গাড়ি ধুই—এটি করবে না। তারা নিজে যে জিনিসটা করতে পছন্দ করে, তার বাইরে যায় না। অনেক সময় বাবা-মায়েরা খুব দ্বিধান্বিত হয়ে যান। অনেক সময় শিক্ষিত মা-বাবাও বুঝতে পারেন না।

এখানে কিন্তু একটি প্রতিরোধের বিষয় রয়েছে। আমি মনে করি, চাইলেই অটিজম প্রতিরোধ করা যায়। এটি মস্তিষ্কের সমস্যা যদিও।

এটা আসতে গেলে তিন বা সাড়ে তিনের মধ্যে আসবে। এরপর আসবে না। অনেকে বলে শিশুটি হয়তো কিছু কথা বলত, ‘আয় আয় চাঁদ মামা’ বা ‘বাবা’ বা ‘টাটা’। হয়তো কোনো শকের কারণে তার আচরণটা বদলে গেছে। আপনাকে কিন্তু সব সময় খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চার যে আচরণ ছিল সেটা ঠিকঠাক চলছে কি না। যদি চলে, তাহলে ভালো। তাহলে কথা দেরি করে বললেও কোনো সমস্যা নেই। যতক্ষণ আপনার আচরণ স্বাভাবিক মনে হবে। কিন্তু আপনি যদি দেখেন আচরণে সমস্যা আছে, ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না, আপন মনে থাকে, একটি জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকে, অন্যদিকে আনা যায় না কিছুতেই, তাহলে আমার মনে হয়, এই সময় সতর্ক হতে হবে।

শিশুকে ভালো রাখার জন্য টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল বা ল্যাপটপে গান শোনান অনেকে। তখন ওরা খুব খুশি থাকে। কিন্তু আসলে এটি একমুখী পথ। সামাজিকতা মানে কিন্তু দ্বিমুখী পথ। দুই পক্ষ থেকেই আসতে হবে। আমরা যখন কথা বলি, আমরা সামাজিক বলেই কথা বলি। এই জিনিসটি বাচ্চাদের কোনো অসুবিধা করে না। ওটা দেখেও কিন্তু একজন মানুষ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে আপনি কতক্ষণ সময় ওখানে রাখছেন, কতক্ষণ ধরে শিশু ওটার মধ্যে ব্যস্ত থাকছে—এর ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। এ থেকে কিন্তু আস্তে আস্তে অটিজমের চরিত্র চলে আসে। তখন যারা এসব নিয়ে কাজ করে তাদের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। শিশু বিকাশ আছে সব জায়গাতেই, তাদের পরামর্শ নিতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলবে, আপনি শিশুর সাথে খেলা করেন। বসে বসে তার সাথে কথা আদান-প্রদান করেন।

প্রশ্ন : এগুলো যখন করতে থাকবে তখন কি শিশুটির স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

উত্তর : ১০০ ভাগ হয়তো হবে না। তবে ভালো শতাংশই হবে। আগে বলা হতো অটিজম নিয়ে সারা জীবন থাকবে। কেন ভালো হবে না? ভালো হবে। তবে এটি নির্ভর করে আপনার বয়স কত, আপনার পরিবেশটি কী রকম সবাই আসলে কীভাবে সাহায্য করছে—এসবের ওপর। বাচ্চাকে খেলার মানুষ তো দিতে হবে।

এ বিষয়ে হতাশ হওয়া যাবে না। আপনি যদি হতাশ হন, এতে আক্রান্ত হয়ে যাবেন। ধৈর্যের খুব প্রয়োজন এখানে। বাবা-মা যেভাবে খাটতে পারে, যারা বয়স্ক মানুষ তারা তো সেভাবে খাটতে পারে না।

প্রশ্ন : শিশুদের অটিজম বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণ কী?

উত্তর : আসলে আমরা এখন অনেক বেশি কাজে ব্যস্ত থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, বাবা-মা দুজনেই বাইরে থাকেন। তখন শিশুটি হয়তো কাজের মানুষের কাছে থাকে। অথবা ভাগ্যবান হলে হয়তো দাদি-নাদির কাছে থাকে। তবে তাঁরাও কিন্তু বাচ্চাকে শান্ত করার জন্য হয়তো টিভির সামনে বসিয়ে দিয়ে চলে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এটা করে। এটা ঠিক নয়। শিশুর সাথে একটু ছড়া বলা, তাকে নিয়ে খেলা করা উচিত। নয়তো অটিজম হতে পারে।

দেখবেন, প্রথমেই চিকিৎসকরা বলেন শিশুদের টিভি দেখাবেন না। আসলে এর উদ্দেশ্য হলো, ওর সাথে খেলা করতে হবে। আমাদের এখন ভাইবোন বেশি নাই। তাই মা-বাবার এই বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে।
http://www.ntvbd.com/health/39614/%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8
Taslima Akter
Sr. Accounts Officer (F&A)
Daffodil International University
Email: taslima_diu@daffodilvarsity.edu.bd