Entertainment & Discussions > Story, Article & Poetry

History of Muslim'S

<< < (2/3) > >>

Md. Zakaria Khan:
অহংকারের নিদর্শন সমূহ...
 অহংকারের নিদর্শন সমূহ (১০টি)
(১) দম্ভভরে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা : এটাই হ’ল প্রধান নিদর্শন।  এটি করা হয়ে থাকে মূলতঃ দুনিয়াবী স্বার্থের নিরিখে। কখনো পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে, কখনো ব্যক্তিগত, সামাজিক বা রাজনৈতিক স্বার্থের দোহাই দিয়ে বা অন্য কোন কারণে।
(২) নিজেকে সর্বদা অন্যের চাইতে বড় মনে করা : যেমন ইবলীস আদমের চাইতে নিজেকে বড় মনে করেছিল এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল। সে যুক্তি দিয়েছিল, أَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِينًا‘আমি কি তাকে সিজদা করব, যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? (ইসরা ১৭/৬১)। এই যুক্তি ও অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাকে বলেন, فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ ‘বের হয়ে যাও এখান থেকে। কেননা তুমি অভিশপ্ত’ (ছোয়াদ ৩৮/৭৬)। মানব সমাজেও যারা অনুরূপ অবাধ্য ও শয়তানী চরিত্রের অধিকারী, তারা সমাজে ও সংগঠনে এভাবেই ধিকৃত ও বহিষ্কৃত হয়। তবে যারা আল্লাহর জন্য বিতাড়িত ও নির্যাতিত হন, তারা ইহকালে ও পরকালে পুরস্কৃত হন।
(৩) অন্যের আনুগত্য ও সেবা করাকে নিজের জন্য অপমানজনক মনে করা : এই প্রকৃতির লোকেরা সাধারণতঃ উদ্ধত হয়ে থাকে। এরা মনে করে সবাই আমার আনুগত্য ও সেবা করবে, আমি কারু আনুগত্য করব না। এরা ইহকালে অপদস্থ হয় এবং পরকালে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয়। আল্লাহ বলেন,تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِيْنَ لاَ يُرِيْدُوْنَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلاَ فَسَادًا- ‘পরকালের ঐ গৃহ আমরা তৈরী করেছি ঐসব লোকদের জন্য, যারা এ দুনিয়াতে উদ্ধত হয় না ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করে না’ (ক্বাছাছ ২৮/৮৩)।উম্মুল হুছায়েন (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,إِنْ أُمِّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ مُجَدَّعٌ أَسْوَدُ يَقُودُكُمْ بِكِتَابِ اللهِ تَعَالَى فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا ‘যদি তোমাদের উপর একজন নাক-কান কাটা হাবশী ক্রীতদাসও আমীর নিযুক্ত হন, যিনি তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পরিচালনা করেন, তোমরা তার কথা শোন ও তার আনুগত্য কর’।[1] আল্লাহকে খুশি করার নিয়তে যিনি যত বিনয়ী ও আনুগত্যশীল হন, তিনি তত সম্মানিত হন এবং আখেরাতে পুরস্কৃত হন।
(৪) নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করা : শক্তিশালী ব্যক্তি, সমাজনেতা, রাষ্ট্রনেতা কিংবা যেকোন পর্যায়ের পদাধিকারী ব্যক্তি বা কর্মকর্তা ও ধনিক শ্রেণীর কেউ কেউ অনেক সময় নিজেকে এরূপ ধারণা করে থাকেন। তিনি ভাবতেই পারেন না যে, আল্লাহ যেকোন সময় তার কাছ থেকে উক্ত নে‘মত ছিনিয়ে নিতে পারেন। আবু জাহল এরূপ অহংকার করেছিল। সে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে তার অভিজ্ঞ পারিষদবর্গ ও শক্তিশালী জনবলের ভয় দেখিয়েছিল। জবাবে আল্লাহ বলেছিলেন, فَلْيَدْعُ نَادِيَهُ، سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ- ‘ডাকুক সে তার পারিষদবর্গকে’। ‘অচিরেই আমরা ডাকব আযাবের ফেরেশতাদেরকে’ (‘আলাক্ব ৯৬/১৭-১৮)। পরিণতি কি হয়েছিল, সবার জানা। উক্ত প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, كَلاَّ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى، أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى ‘কখনই না। মানুষ অবশ্যই সীমালংঘন করে’। ‘কারণ সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে’ (‘আলাক্ব ৯৬/৬-৭)। আল্লাহ একেক জনকে একেক মেধা, প্রতিভা ও যোগ্যতা দিয়ে দুনিয়াতে সৃষ্টি করেছেন। ফলে প্রত্যেক মানুষই পরস্পরের মুখাপেক্ষী। কেউ অভাবমুক্ত নয়। তাই মানুষের জন্য অহংকার শোভা পায় না। আল্লাহ কেবল ‘মুতাকাবিবর’ (অহংকারী)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন আল্লাহ বলেন, الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِيْ ‘অহংকার’ আমার চাদর এবং ‘বড়ত্ব’ আমার পায়জামা। অতএব যে ব্যক্তি ঐ দু’টির কোন একটি আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য টানাটানি করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব’।[2] অতএব সকল প্রকার অহঙ্কার ও শ্রেষ্ঠত্বের মালিক তিনি। তাই অহংকার কেবল তাঁরই জন্য শোভা পায়।
(৫) লোকদের কাছে বড়ত্ব যাহির করা ও নিজের ত্রুটি ঢেকে রাখা : মূসা (আঃ) যখন ফেরাঊনকে লাঠি ও প্রদীপ্ত হস্ততালুর নিদর্শন দেখালেন, তখন ফেরাঊন ভীত হ’ল। কিন্তু নিজের দুর্বলতা ঢেকে রেখে সে তার লোকদের জমা করল। অতঃপর তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বলল,أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى- فَأَخَذَهُ اللهُ نَكَالَ الْآخِرَةِ وَالْأُولَى- ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ পালনকর্তা’। ‘ফলে আল্লাহ তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলেন’ (নাযে‘আত ৭৯/২৩-২৪)।বস্ত্ততঃ ফেরাঊনী চরিত্রের লোকের কোন অভাব সমাজে নেই। সমাজ দুষণের জন্য প্রধানতঃ এসব লোকেরাই দায়ী।একবার হযরত উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর পিছে পিছে একদল লোককে চলতে দেখে খলীফা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) তাঁর প্রতি চাবুক উঁচু করলেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তাঁকে মারলেন। তখন তিনি এর কারণ জিজ্ঞেস করলে খলীফা বললেন, هَذَا ذِلَّةٌ لِلتَّابِعِ وَفِتْنَةٌ لِلْمَتْبُوْعِ ‘এটা অনুসরণকারীর জন্য লাঞ্ছনাকর এবং অনুসৃত ব্যক্তিকে ফিৎনায় নিক্ষেপকারী’।[3] প্রখ্যাত তাবেঈ সাঈদ বিন জুবায়ের (৪৬-৯৫ হিঃ) তাঁর অনুগমনকারীদের প্রতি অনুরূপ বক্তব্য রেখেছিলেন।[4] এখানে ‘ফিৎনা’ অর্থ অহংকার। অথচ উবাই বিন কা‘ব (রাঃ)-এর ন্যায় বিখ্যাত ছাহাবীর জন্য এরূপ ফিৎনায় পড়ার কোন অবকাশ ছিল না। কিন্তু খলীফা ওমর (রাঃ) চেয়েছিলেন উবাইয়ের মনের মধ্যে যেন কণা পরিমাণ অহংকারের উদয় না হয়। তিনি চেয়েছিলেন যেন তার এক ভাই অহেতুক অহংকারের দোষে দোষী হয়ে জাহান্নামে পতিত না হয়। এটাই হ’ল পরস্পরের প্রতি ইসলামী ভালোবাসার সর্বোত্তম নমুনা। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী।উল্লেখ্য যে, উবাই বিন কা‘ব (রাঃ) ছিলেন রাসূল (ছাঃ)-এর জীবদ্দশায় কুরআন সংকলনকারী চারজন ছাহাবীর অন্যতম এবং যার সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেছিলেন, তোমরা চারজনের নিকট থেকে কুরআন পাঠ শিখে নাও, তাদের একজন ছিলেন উবাই।[5]শুধু তাই নয়, একদিন রাসূল (ছাঃ) তাকে ডেকে বলেন, আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমার উপর সূরা বাইয়েনাহ পাঠ করি। উবাই বললেন, আল্লাহ আপনার নিকট আমার নাম বলেছেন? রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তখন উবাই (খুশীতে) কাঁদতে লাগলেন’।[6]এরূপ দৃষ্টান্ত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকেও এসেছে। তিনি তাঁর পিছনে অনুসরণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন,لَوْ تَعْلَمُونَ ذُنُوبِي مَا وَطِئَ عَقِبِي رَجُلاَنِ وَلَحَثَيْتُمْ عَلَى رَأْسِي التُّرَابَ، وَلَوَدِدْتُ أَنَّ اللهَ غَفَرَ لِي ذَنْبًا مِنْ ذُنُوبِي-‘আমার যে কত পাপ রয়েছে তা যদি তোমরা জানতে, তাহ’লে দু’জন লোকও আমার পিছনে হাঁটতে না এবং অবশ্যই তোমরা আমার মাথায় মাটি ছুঁড়ে মারতে। আমি চাই আল্লাহ আমার গোনাহসমূহ মাফ করুন’।[7]
(৬) অন্যকে নিজের তুলনায় ছোট মনে করা : মূসা ও হারূণ (আঃ) ফেরাঊনের কাছে তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে গেলে তারা বলেছিল, فَقَالُوا أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُونَ ‘আমরা কি এমন দু’ব্যক্তির উপরে বিশ্বাস স্থাপন করব যারা আমাদেরই মত মানুষ এবং তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করে’? (মুমিনূন ২৩/৪৭)।মক্কার কাফের নেতারাও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট থেকে বেলাল, খোবায়েব, ছুহায়েব, ইবনু মাসঊদ প্রমুখ দুর্বল শ্রেণীর লোকদের সরিয়ে দিতে বলেছিল, যাতে তারা তাঁর সঙ্গে বসে পৃথকভাবে কথা বলতে পারেন। তখন আয়াত নাযিল হয়,وَلاَ تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ - (الأنعام ৫২)-‘যেসব লোক সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালকের ইবাদত করে এবং এর মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে তুমি দূরে সরিয়ে দিয়ো না। তাদের কোন আমলের হিসাব তোমার দায়িত্বে নেই এবং তোমার কোন আমলের হিসাব তাদের দায়িত্বে নেই। এরপরেও যদি তুমি তাদের সরিয়ে দাও, তাহ’লে তুমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’ (আন‘আম ৬/৫২)।ধনে-জনে ও পদমর্যাদায় নিম্নস্তরের লোকদের প্রতি মনের মধ্যে কোন তুচ্ছভাব উদ্রেক হওয়াটা অহংকারের লক্ষণ। অতএব এই স্বভাবগত রোগ কঠিনভাবে দমন করা অবশ্য কর্তব্য।অন্যকে হেয় গণ্যকারী ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন উঠাবেন এমন অবস্থায় যে, তারা ঐসব দুর্বল শ্রেণীর লোকদের পায়ের নীচে থাকবে। এটি হবে তাদেরকে দুনিয়ায় হেয় জ্ঞান করার বদলা স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِى صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَيُسَاقُونَ إِلَى سِجْنٍ فِى جَهَنَّمَ يُسَمَّى بُولَسَ تَعْلُوهُمْ نَارُ الأَنْيَارِ يُسْقَوْنَ مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ طِينَةِ الْخَبَالِ-‘অহংকারী ব্যক্তিরা কিয়ামতের দিন উঠবে মানুষের চেহারা নিয়ে পিঁপড়া সদৃশ। সর্বত্র লাঞ্ছনা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। অতঃপর তাদের ‘বূলাস’ নামক জাহান্নামের এক কারাগারের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যেখানে লেলিহান অগ্নি তাদেরকে ঢেকে ফেলবে। সেখানে তারা জাহান্নামীদের পোড়া দেহের গলিত পুঁজ-রক্তে পূর্ণ ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ নামক নদী থেকে পান করবে।[8]একদিন ছাহাবী আবু যর গিফারী (রাঃ) নিগ্রো মুক্তদাস বেলাল (রাঃ)-কে তার কালো মায়ের দিকে সম্বন্ধ করে কিছু বললে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁকে ধমক দিয়ে বলেন, يَا أَبَا ذَرٍّ أَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ ‘হে আবু যর! তুমি তাকে তার মায়ের নামে তাচ্ছিল্য করলে? তোমার মধ্যে জাহেলিয়াত রয়েছে’।[9] আবু যর গিফারীর ন্যায় একজন নিরহংকার বিনয়ী ছাহাবীর একদিনের একটি সাময়িক অহংকারকেও আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বরদাশত করেননি।
(৭) মানুষের সাথে অসদ্ব্যবহার করা ও তাদের প্রতি কঠোর হওয়া : এটি অহংকারের অন্যতম লক্ষণ। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাক্ষাৎপ্রার্থী হ’ল। তিনি বললেন, তোমরা ওকে অনুমতি দাও। সে তার গোত্রের কতই না মন্দ ভাই ও কতই না মন্দ পুত্র! অতঃপর যখন লোকটি প্রবেশ করল, তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার সাথে অতীব নম্রভাবে কথা বললেন। পরে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি লোকটি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করলেন। আবার সুন্দর আচরণ করলেন, ব্যাপারটা কি? জবাবে তিনি বললেন, হে আয়েশা! إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ فُحْشِهِ ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি যাকে লোকেরা পরিত্যাগ করে ও ছেড়ে যায় তার ফাহেশা কথার ভয়ে’।[10]
(৮) শক্তি বা বুদ্ধির জোরে অন্যের হক নষ্ট করা : এটি অহংকারের একটি বড় নিদর্শন। আল্লাহ কাউকে বড় করলে সে উদ্ধত হয়ে পড়ে এবং যার মাধ্যমে তিনি বড় হয়েছেন ও যিনি তাকে বড় করেছেন সেই বান্দা ও আল্লাহকে সে ভুলে যায়। সে এই কথা ভেবে অহংকারী হয় যে, আমি আমার যোগ্যতা বলেই বড় হয়েছি। ফলে সে আর অন্যকে সম্মান করে না। সে তখন শক্তির জোরে বা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অন্যের হক নষ্ট করে। এই হক সম্মানের হতে পারে বা মাল-সম্পদের হতে পারে। অন্যায়ভাবে কারু সম্মানের হানি করলে ক্বিয়ামতের দিন অহংকারী ব্যক্তিকে পিঁপড়া সদৃশ করে লাঞ্ছনাকর অবস্থায় হাঁটানো হবে।[11] অথবা তাকে ঐ মাল-সম্পদ ও মাটির বিশাল বোঝা মাথায় বহন করে হাঁটতে বাধ্য করা হবে।[12]
(৯) অধীনস্তদের প্রতি দুর্ব্যবহার করা ও তাদেরকে নিকৃষ্টভাবে খাটানো : অহংকারী মালিকেরা তাদের অধীনস্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রতি এরূপ আচরণ করে থাকে। যা তাদের জাহান্নামী হবার বাস্তব নিদর্শন। এই স্বভাবের লোকেরা এভাবে প্রতিনিয়ত ‘হাক্কুল ইবাদ’ নষ্ট করে থাকে। অতঃপর তাদের হক পূরণ না করে নিজেরা ঘন ঘন হজ্জ ও ওমরায় যায়। আর ভাবে যে, সদ্য ভূমিষ্ট সন্তানের ন্যায় তারা পাপমুক্ত হয়ে ফিরে এল। আদৌ নয়। আল্লাহর হক আদায়ের মাধ্যমে কখনোই বান্দার হক বিনষ্টের কাফফারা আদায় হয় না। বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, اتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ ‘তুমি মযলূমের দো‘আ থেকে বেঁচে থাক। কেননা মযলূমের দো‘আ ও আল্লাহর মধ্যে কোন পর্দা নেই (অর্থাৎ সাথে সাথে কবুল হয়ে যায়)।[13] الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যুলুম কিয়ামতের দিন ঘন অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে’।[14] তিনি একদিন বলেন, তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? সবাই বলল, যার কোন ধন-সম্পদ নেই। তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন ছালাত, ছিয়াম, যাকাত নিয়ে হাযির হবে। অতঃপর লোকেরা এসে অভিযোগ করে বলবে যে, তাকে ঐ ব্যক্তি গালি দিয়েছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, তার মাল গ্রাস করেছে, হত্যা করেছে, প্রহার করেছে। অতঃপর তার নেকী থেকে তাদের একে একে বদলা দেওয়া হবে। এভাবে বদলা দেওয়া শেষ হবার আগেই যখন তার নেকী শেষ হয়ে যাবে, তখন বাদীদের পাপ থেকে নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে ঐ ব্যক্তিকে জাহানণামে নিক্ষেপ করা হবে।[15] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই হকদারকে তার হক আদায় করে দেয়া হবে। এমনকি শিংওয়ালা ছাগল যদি শিংবিহীন ছাগলকে গুঁতো মেরে কষ্ট দিয়ে থাকে, সেটারও বদলা নেওয়া হবে (মানুষকে ন্যায়বিচার দেখানোর জন্য)।[16]তিনি বলেন, ابْغُونِى فِيْ ضُعَفَائِكُمْ فَإِنَّمَا تُرْزَقُونَ وَتُنْصَرُونَ بِضُعَفَائِكُمْ ‘তোমরা আমাকে তোমাদের দুর্বলদের মধ্যে তালাশ কর। কেননা তোমাদেরকে রূযী পৌঁছানো হয় ও সাহায্য করা হয় তোমাদের দুর্বলদের মাধ্যমে।[17] এর অর্থ তোমরা আমার সন্তুষ্টি তালাশ কর দুর্বলদের প্রতি তোমাদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে। তিনি বলেন, যখন খাদেম তোমার খাবার নিয়ে আসে, তখন তাকে খাইয়ে তুমি শুরু কর। অথবা তাকে সাথে বসাও বা তাকে এক লোকমা খাদ্য দাও।[18] আল্লাহ বলেন, তোমরা মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো’ (বাক্বারাহ ২/৮৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যেখানেই তুমি থাক, আল্লাহকে ভয় কর। আর মন্দের পিছে পিছে উত্তম আচরণ কর। তাহ’লে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে’।[19] আল্লাহ বলেন, ভাল ও মন্দ সমান নয়। অতএব তুমি মন্দকে ভাল দ্বারা প্রতিহত কর। তাহলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত হয়ে যাবে’ (হামীম সাজদাহ ৪১/৩৪)।
(১০) মিথ্যা বা ভুলের উপর যিদ করা : এটি অহংকারের অন্যতম নিদর্শন। নবীগণ যখন লোকদেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতেন, তখন তারা বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করত এবং নিজেদের ভুল ও মিথ্যার উপরে যিদ করত। যদিও শয়তান তাদেরকে (এর মাধ্যমে) জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তির দিকে আহবান করে (লোকমান ৩১/২১)।কেবল কাফেরদের মধ্যে নয়, বরং মুসলমানদের মধ্যেও উক্ত দোষ পরিলক্ষিত হয়। যেমন শিরক ও বিদ‘আতে অভ্যস্ত লোকেরা বিভিন্ন অজুহাতে উক্ত পাপের উপর টিকে থাকে। অমনিভাবে বিচারক ও শাসক শ্রেণী তাদের ভুল ‘রায়’ থেকে ফিরে আসেন না। বরং একটি অন্যায় প্রবাদ চালু আছে যে, ‘হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না’। অথচ মানুষের ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। খলীফা ওমর (রাঃ) যখন আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-কে কূফার গভর্ণর করে পাঠান, তখন তাকে লিখে দেন যে, তুমি গতকাল কোন সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকলে সেখান থেকে ফিরে আসতে কোন বস্ত্ত যেন তোমাকে বাধা না দেয়। কেননা الرُّجُوعُ إِلىَ الْحَقِّ خَيْرٌ مِنَ التَّمَادِى فِى الْبَاطِلِ ‘মিথ্যার উপরে টিকে থাকার চাইতে সত্যের দিকে ফিরে আসা অধিক উত্তম’।[20]খলীফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (৯৯-১০১ হিঃ) বলতেন, مَا مِنْ كِتَابٍ أَيْسَرُ عَلَىَّ رَدًّا مِنْ كِتَابٍ قَضَيْتُ بِهِ ثُمَّ أَبْصَرْتُ أَنَّ الْحَقَّ فِى غَيْرِهِ فَفَسَخْتُهُ ‘আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছি এমন কোন বিষয় বাতিল করা আমার নিকটে সবচেয়ে সহজ, যখন আমি দেখি যে তার বিপরীতটাই সত্য।[21]আব্দুর রহমান বিন মাহদী (৩৫-১৯৮ হিঃ) বলেন, আমরা এক জানাযায় ছিলাম। যেখানে ওবায়দুল্লাহ বিন হাসান উপস্থিত ছিলেন, যিনি তখন রাজধানী বাগদাদের বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। আমি তাঁকে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করলে তিনি ভুল উত্তর দেন। তখন আমি বললাম,أصلحك الله، القول في هذه المسألة كذا وكذا ‘আল্লাহ আপনাকে সংশোধন হওয়ার তাওফীক দিন! এ মাসআলার সঠিক উত্তর হ’ল এই, এই। তখন তিনি কিছুক্ষণ দৃষ্টি অবনত রাখেন। অতঃপর মাথা উঁচু করে দু’বার বলেন, إذًا أرجع وأنا صاغر ‘এখন আমি প্রত্যাবর্তন করলাম এবং আমি লজ্জিত’। অতঃপর বললেন, لأن أكون ذنبا في الحق أحب إلي من أن أكون رأسا في الباطل ‘ভুল স্বীকার করে হক-এর লেজ হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় বাতিলের মাথা হওয়ার চাইতে’।[22] অর্থাৎ হক-এর অনুসারী হওয়া বাতিলের নেতা হওয়ার চাইতে অনেক উত্তম।

Md. Zakaria Khan:
ফেরাউন কন্যার চুল আঁচড়ানোর কাজে নিয়োজিত ছিল একজন মহিলা। কোনো একদিন ফেরাউন কন্যার চুল আঁচড়ানোর সময় সহসা চিরুণি তার হাত থেকে মাটিতে পড়ে গেল। তা ওঠাতে গিয়ে আনমনে তার মুখ থেকে বের হয়ে পড়ল,বিসমিল্লাহ্।আল্লাহু আকবর।
এ কথায় ফেরাউনের কন্যার সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করল, ফেরাউন ছাড়াও কি তোমার কোনো আল্লাহ আছে নাকি? দাসী জবাবে বলল,
"আমার আল্লাহ সেই যে ফেরাউনেরও আল্লাহ।
শুধু ফেরাউন নয় সে আকাশ জমিনেরও আল্লাহ। তিনি একক তাঁর কোনো শরীক নেই।
একথা শুনে রাগে ফেরাউনের কন্যা অগ্নিশর্মা হয়ে পিতার কাছে গিয়ে বলল, আব্বা আমার চুল বিন্যাসকারিণী বলে কি, আমার আল্লাহ সেই যে ফেরাউনেরও আল্লাহ, আসমান জমিনেরও আল্লাহ। তার কোনো শরীক নেই।
ফেরাউন বলল, এক্ষুণি তাকে হাজির কর'।
সাথে সাথে তাকে হাজির করা হলো।
সেও নির্ভয়ে হাজির হলো।
আজ তার আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার ঈমানী পরীক্ষার দিন। এতে প্রাণ দিতে হলে দেবে। তারই ভালোবাসায় যদি জীবন দেওয়া যায় তবেই তো ধন্য।
ফেরাউন জিজ্ঞেস করল, তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত কর?
তিনি বললেন, "হ্যাঁ"।
ফেরাউন বলল, সে আল্লাহকে ছেড়ে এখনই আমার সামনে আমার আল্লাহয়ী স্বীকার কর'।
তিনি বললেন, "না কিয়ামত পর্যন্তও তা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না"।
নির্দেশ দেওয়া হলো তাকে সিকল দিয়ে বেধে ফেলার। তৎক্ষণাৎ তাকে শুইয়ে তার হাতে ও পায়ে সিকল বাধা হলো। তারপর আল্লাহ ওয়ালাদেরকে কষ্ট দেওয়ার জন্য যে বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছু রাখা হতো তাও এনে তার উপর ছেড়ে দেওয়া হলো।
বলা হলো, এখনো সময় আছে তোমার আল্লাহকে ছাড় নতুবা তোমাকে লাগাতার এ শাস্তি দেওয়া হবে'।তিনি বললেন, "তুমি আমাকে যত পার শাস্তি দিয়ে দেখ আল্লাহ্ প্রতি ভালোবাসা এক বিন্দুও কমবে না, বরং বাড়বে"।
ঈমানের অবস্থা এই রকম যে, যখন তার স্বাদ কোনো অন্তরে প্রবেশ করে তখন তা আর বের হয়না। হে ফেরাউন শুনে রাখ, তুমি যদি বছরের পর বছর আমাকে শাস্তি দিতে থাক তবুও আমি আমার মহান প্রভুকে পরিহার করব না।
এ নেক মহিলার পাচটি সন্তান ছিল একটি ছিল দুগ্ধপোষ্য। ফেরাউন তাকে উচিত শিক্ষা দিতে সন্তানদেরকে তার মায়ের সামনে এনে।প্রথমে বড় সন্তানকে গরম তেল এর পাতিলে ফেলে দেয়।
তারপর বলল, 'এখনও সুযোগ আছে নতুবা সব সন্তানকে হারাবে। তোমার দুগ্ধপোষ্য এ শিশুটিকেও হত্যা করা হবে। তিনি বললেন, "যদি তুমি যাই কর, তবুও আমি আমার আল্লাহকে ছাড়ব না।
একথা শুনে হুকুম দেওয়া হলো পর পর চারটি শিশুকে গরম তেল এ ফেলে দেওয়া হল।আর কিছুক্ষণ পরেই ভেসে উঠছিল তাদের হাড়গুলো। দুদ্ধপুষ্ট শিশু সন্তানটি মায়ের বুকের উপর চড়ে দুধ পান করছিল তাকেও টেনে হিছড়ে নিয়ে যেতে ধরল।এ অবস্থা দেখে মায়ের চোখে পানি আর ধরছিল না।
৬ মাসের এ শিশুর মুখ থেকে কথা বের হলো, বলল, মা কেন কাঁদ?
জান্নাত তোমার জন্য সুসজ্জিত করা হচ্ছে। মা জান্নাতে পৌঁছে আল্লাহর দীদার হাসিল হবে"।এখনো কথা বলতে পারে না এমন শিশুর মুখ থেকে একথা শুনে মা অবাক হলেন। ঈমান আরও মজবুত হলো।
জালিমরা শিশুটিকে হত্যা করল। এরপর তাকেও গরম তেল এ ফেলা হল।মা প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে চির জান্নাত বাসিনী হলেন। তাফসিরে দুররে মানসুরে আছে, রাসুল (সাঃ) যখন মেরাজে যাচ্ছিলেন, বোরাক মিসরের কাছাকাছি এক ময়দানে পৌঁছল,তখন জান্নাতের খুশবু তিনি অনুভব করলেন।
বললেন, "খুব সুন্দর সুঘ্রাণ পাচ্ছি, মনে হয় এটা জান্নাতের সুঘ্রাণ।" জিবরাইল (আঃ) বললেন, জান্নাত তো অনেক দূরে, মনে হয়,ফেরাউন কন্যার কেশ বিন্যাসকারিণী মহিলার কবর থেকে এ সুঘ্রাণ আসছে। সুবহানাল্লাহ।

Md. Zakaria Khan:
ফাতিমা (রা) ছিলেন রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কলিজার টুকরো। ভালবাসার আতিশয্যে, খুশির তীব্রতায় রাসুল দাঁড়িয়ে যেতেন যখন ফাতিমা (রা) হাজির হতেন তাঁর সামনে। নিজে আরাম আয়েশে থাকতেন না, খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটিয়েছেন, কিন্তু নিজের মেয়ের জন্য তিনি চাইলে একটি আরামের জিন্দেগির ব্যবস্থা খুব সহজেই করতে পারতেন।

অথচ বিয়ে দিয়েছিলেন তাঁকে সেই সময়ের সবচেয়ে গরিব সাহাবীদের একজন, আলী (রা) এর সাথে। কিন্তু রাসুলের ভাষায়, তিনি ছিলেন সর্বোত্তম পাত্রের একজন। গায়ে দেয়ার মত জামাটুকু যার ছিল না। একবার রাস্তায় পরে থাকা একটি চামড়ার টুকরোকে গলার কাছ দিয়ে ছিদ্র করে গায়ে জড়িয়েছিলেন, এরপর বের হতে হয়েছিল খাবারের তালাশে।

ঘরের সব কাজ একাই করতে হত ফাতিমা (রা) কে। সমস্ত বিশ্বের জন্য যাকে রাসুল হিসেবে পাঠানো হয়েছে, তার মেয়ে হয়ে ঘর ঝাড়ু দিতেন তিনি, যাতা পিষতেন তিনি। পিষতে পিষতে ফোষ্কা পড়ে যেত তার মুবারক হাতে।

হা, প্রতিদিন সকালে নাস্তার জন্য দুই প্রকারের ফ্রেশ ভাজি আর তরকারী রাধতে হতো না তাঁকে। একদম চুলা থেকে নামানো এখনি সেঁকা গরম গরম রুটি, ফলোড বাই টাটকা বানানো চাও সার্ভ করতে হত না। এসব বড়লোকি খাবার যে জুটতোই না তাদের।

একজন কাজের বুয়া চাইতে গিয়েছিলেন তিনি একবার রাসুলের কাছে। প্রচুর গনিমতের মাল এসেছিল তখন। কিন্তু লজ্জার কারনে চাইতে পারেন নি। পরবর্তীতে আলী (রা) তার পক্ষ থেকে অনুরোধ করলেন। ঘরের কাজ একা করতে ফাতিমা রা এর কষ্ট হচ্ছে, বললেন রাসুলকে। কিন্তু রাসুল তাকে মেইড দেন নি। বরং বলেছেন, এর থেকে উত্তম কিছু আমি দিলে, নিবে? রাতে শোয়ার পূর্বে ৩৩বার সুবহানাল্লাহ,৩৩বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবর পড়বে।

নিজেকে একবার ফাতিমা (রা) স্থানে বসিয়ে চিন্তা করি। আমি হলে কী উত্তর দিতাম? খুশি হতাম না রাগ হতাম? আর তাঁর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল!

হা, ফাতিমা (রা) এর নাম স্কলার সাহাবীদের তালিকায় নেই, কিন্তু তিনি হবেন সমস্ত জান্নাতি নারীদের (সায়্যিদাহ) প্রধান। হা, তাঁর নাম বিদ্বান সাহাবীদের তালিকায় নেই, কিন্তু তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ চারজন মহিলাদের একজন।

আল্লাহর কাছে মান সম্মানের ভিত্তি তাক্ব্বওয়া। রাসুলের কলিজার টুকরো ছিলেন সেই সম্মানেই সম্মানিত।

সায়্যিদাতু নিসা-য়ি আহলিল জান্নাহ, ফাত্বিমাহ রদ্বিআল্লাহু আনহা।

Md. Zakaria Khan:
কে উত্তম ?
“(তোমার দেবতাগণ ভালো) নাকি যিনি দুর্দশাগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন তিনি?” (২৭-সূরা আন নামল: আয়াত-৬২)
কার কাছে দুর্বল ও অত্যাচারিতরা বিজয় কামনা করে?
কার নিকট সকলে আকুল আবেদন করে? তিনি আল্লাহ। তিনি ছাড়া অন্য কারও উপাস্য হওয়ার অধিকার নেই।
অতএব, আমার ও আপনার কর্তব্য হল স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল উভয় অবস্থায়ই তাকে আহবান করা, তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, দুঃসময়ে তার কাছে আশ্রয় চাওয়া, অনুতপ্ত হয়ে কেঁদে কেটে তার দরবারে আরাধনা করা; তাহলেই তার সাহায্য দ্রুত আসবে।
“(তোমার দেবতাগণ ভালো) না কি যিনি দুর্দশাগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন তিনি?” (২৭-সূরা আন নামল: আয়াত-৬২)
তিনি ডুবন্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করেন, মজলুমকে বিজয় দান করেন, পথহারাকে পথ দেখান, অসুস্থকে সুস্থ করেন, আর দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য যোগান।
“যখন তারা জল জাহাজে (নৌযানে) চড়ে তখন তারা (আল্লাহর) দ্বীনের (ধর্মের) একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে তাকে (আল্লাহকে) বিনীতভাবে ডাকে।" (২৯-সূরা আল আনকাবূতঃ আয়াত-৬৫)
মানুষেরা দুর্দশা দূর করার জন্য যেসব আবেদন করে থাকে, আমি আপনাকে তার জন্য সুন্নাহের কিতাবের কথা বলছি। সে সব কিতাবে আপনি নবী প্রদত্ত দোয়া (প্রার্থনা) দেখতে পাবেন (ও শিখে নিবেন), তা দিয়ে আপনি আল্লাহ্‌কে ডাকতে পারবেন, তাঁর নিকট আকুল আবেদন জানাতে পারবেন এবং তার সাহায্য চাইতে পারবেন এবং যদি আপনি তার প্রতি আপনার ঈমান (বিশ্বাস) হারিয়ে ফেলেন তবে আপনি সব কিছু হারালেন। তার নিকট আকুল আবেদন করে আপনি সর্বোচ্চ ইবাদত করছেন। আপনি নিয়মিতভাবে, বিরতিহীনভাবে ও একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করেন তবে আপনি দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা থেকে মুক্তি লাভ করবেন। তারটা ছাড়া সব রশিই কাটা, তারটা ব্যতীত সকল দ্বারই রুদ্ধ। তিনি নিকটবর্তী, তিনি সবকিছুই শুনতে পান ও যারা তার নিকট আকুল আবেদন করে তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেন।
ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
“তোমরা আমাকে ডাক (আমার নিকট আকুল আবেদন কর) তাহলেই আমি তোমাদের আবেদনে সাড়া দিব।" (৪০-সূরা আল মু'মিন: আয়াত-৬০)
যদি আপনি দুঃখ-বেদনা নিয়ে বেঁচে থাকেন তবে আল্লাহকে স্মরণ করুন, তার তাসবীহ পাঠ করুন ও তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন। সত্যিকার মুক্তি পাওয়ার জন্য সেজদাহ করে তাঁর প্রশংসা জ্ঞাপন করুন। দু'হাত তুলে নাছোড় বান্দা হয়ে তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন। তার দরজায় ধরনা ধরুন, তার সম্বন্ধে সুধারণা রাখুন এবং তার সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করুন তাহলেই আপনি সত্যিকার সুখ ও সাফল্য লাভ করবেন।
গ্রন্থঃ লা-তাহযান [হতাশ হবেন না] | রচনা/অনুবাদ/সংকলনঃ ড. আয়িদ আল করনী

Md. Zakaria Khan:
#জাযাকাল্লাহু খাইরান এর অর্থ কি???
==========================
আপনি যখন কাউকে ভাল, সুন্দর বা তাঁর পছন্দসই কোন কাজ উপহার দেন তখন অধিকাংশ মানুষই আপনাকে বলে থাকেন, "জাযাকাল্লাহু খাইরান"।
প্রশ্ন হল, এই বাক্যটির অর্থ কি? আসুন জেনে নেই বাক্যটির অর্থ।
এর বেশ সুন্দর কয়েকটি অর্থ রয়েছে।
১। ﺧﻴﺮ ( খাইর) শব্দটি সে সমস্ত বিষয় বুঝায় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তাই "খাইর" শব্দের মাধ্যমে আপনার জন্য সবরকমের কল্যাণ কামনা করা হল।
২। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে জান্নাত এবং জান্নাতে তাঁর দিদার দ্বারা সৌভাগ্যবান করুন।
৩। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে কাফিরদের স্থান জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন।
৪। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে সিরাতে মুস্তাক্বিম তথা সরল পথে পরিচালিত করেন।
৫। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার উপর কোন অভিশপ্ত শয়তানকে চাপিয়ে না দেন।
৬। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার রিজিকের মধ্যে বরকত দান করেন।
৭। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ শেষ দিবস পর্যন্ত আল্লাহ যেন আপনাকে মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করেন।
৮। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী করেন।
৯। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে নেক সন্তান দান করুন।
১০। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" আল্লাহ আপনাকে সবরকম কল্যাণ দান করুন।
এর আরো অসংখ্য অর্থ রয়েছে। কেননা খাইর ( ﺧﻴﺮ ) আল্লাহর নিকট অগুনিত। যা গণনা করা অসম্ভব। তবে আমরা বাক্যটির শাব্দিক অর্থ করি, "আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন" বলে।
ﻋﻦ ﺃﺳﺎﻣﺔ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﻣَﻦْ ﺻُﻨِﻊَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣَﻌْﺮُﻭﻑٌ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻔَﺎﻋِﻠِﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ . ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ ) .
ﺭﻭﺍﻩ " ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ " ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻓﻲ " ﺍﻟﺴﻨﻦ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ "
অর্থঃ হযরত উসামা বিন যায়েদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো প্রতি কৃতজ্ঞতার আচরণ করা হলো তাই সে ব্যক্তি আচরণকারীকে "জাযাকাল্লাহু খাইরান" বলল, তাহলে সে তার যথাযোগ্য প্রশংসা করল।
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ " ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ "
অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন তার ভাইকে বলে, "জাযাকাল্লাহু খাইরান" তাহলে সে তার ভূয়সী প্রশংসা করল।
ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﻟَﻮْ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﻗَﻮْﻟِﻪِ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻟَﺄَﻛْﺜَﺮَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﻟِﺒَﻌْﺾٍ . ( ﺍﻟﻤﺼﻨﻒ ﻻﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ )
হযরত ঊমর (রাযি.) বলেন, তোমাদের কারো যদি জানা থাকত যে, তার অপর ভাইকে "জাযাকাল্লাহু খাইরান" বলার মধ্যে তার জন্য কি রয়েছে! তাহলে তোমরা একে অপরের জন্য তা বেশি করে বলতে।

জাযাকাল্লাহু খাইরান
জবাব এটা দিবেন~ ওয়া আনতুম ফা-জাযাকুমু-আল্লাহু খাইরন (وَأَنْتُمْ فَجَزَاكُمُ اللَّهُ خَيْرًا)”।

আসুন Thank's, Thank You ইত্যাদির পরিবর্তে আমরা পরস্পরে "জাযাকাল্লাহু খাইরান"-এর বিনিময় করি।

Navigation

[0] Message Index

[#] Next page

[*] Previous page

Go to full version