কোন বয়সে কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত ?

Author Topic: কোন বয়সে কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত ?  (Read 287 times)

Offline Md. Alamgir Hossan

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 934
  • Test
    • View Profile
মানুষ তার জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময়ই ঘুমিয়ে কাটায়। কিন্তু বর্তমানে যান্ত্রিক জীবনে হয়তো এই সত্যটাও মিথ্যে হতে বসেছে। মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাব, ল্যাপটপ, টিভিসহ নানান যান্ত্রিকতায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে আমরা আমাদের শরীরের জন্যে প্রয়োজনীয় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছি। আহার, নিদ্রা, বিশ্রাম, মনের শান্তি এসব সুস্থতার জন্য দরকার। আর একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্য দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুম দরকার এটা নিয়ে নানা মত রয়েছে। মানুষের শরীরটাই চলে এক বিশাল কম্পিউটারের মতো। মানব শরীরে হার্ট, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ব্রেইন এর কর্মক্ষমতা যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় তাহলে দেখা যাবে একটি সুক্ষ্ম অত্যাধুনিক সফটওয়ারের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানব শরীরের এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চলছে বিরামহীনভাবে।

তাই মানব শরীরকে যথাযথভাবে ফাংশন করতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত বিশ্রাম, ঘুম। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আর পরিমিত ঘুম হলে শরীর, মন, মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়। ফলে কাজের পারফরম্যান্স বা আউটপুট ভালো হয়।

এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিমিত ঘুমের পাশাপাশি প্রত্যুষে ঘুম থেকে ওঠেন, জগিং করেন, প্রার্থনা করেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা কম হয়, কাজের গতি বাড়ে ও আউটপুট ভালো হয়। তাই দৈনিক অন্তত: ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমাতে চেষ্টা করুন। সুস্থ থাকুন।
জেনে নিন কোন বয়সে কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

০ থেকে ৩ মাস— নবজাতকদের ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। ঘুমের সময় তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ হয়।

৪ থেকে ১১ মাস— চার মাস বয়স পেরোলেই বাচ্চাদের ঘুমের পরিমাণ একটু কমে যায়। তখন তারা জেগে খেলা করে। বা পরিজনদের চেনার চেষ্টা করে। তবে এই বয়সি বাচ্চাদের ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা ঘুম জরুরি।

১ থেকে ২ বছর— এই বয়সি বাচ্চাদের দিনে ঘুমনোর প্রবণতা কমে যায়। রাতেই মূলত ঘুমোয়। দিনে ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুম না হলেই নয়।

৩ থেকে ৫ বছর— বাচ্চারা স্কুলে ভর্তি হলে ঘুমের সময় কম পায়। তার ওপর সকালে ওঠার ঝামেলা থাকে। এসবের পরেও ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা ঘুম জরুরি।

৬ থেকে ১৩ বছর— এই বয়সে পড়াশোনার চাপ বাড়তে থাকে। সঙ্গে যোগ হয় নাচ, গান বা আঁকা শেখা। ফলে চাপও বাড়ে। কিন্তু বাচ্চাদের ঘুমের ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলে চলবে না। ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। প্রতিদিন ঠিক সময় ঘুমোতে যাওয়াটাও দরকার। নয়তো ঠাপ পড়ে শরীরে।

১৪ থেকে ১৭ বছর— এ সময় পড়াশোনার চাপ আরও বাড়ে। কিশোর–কিশোরীদের অনেকেই রাত জেগে পড়াশোনা করে। এর ফলে নানারকম শারীরিক-মানসিক সমস্যাও দেখা দেয়। কিন্তু যত চাপই থাকুক, ৮ ঘণ্টা অন্তত ঘুমাতেই হবে।

১৮ থেকে ২৫— স্কুল ছেড়ে কলেজে ভর্তি। তার পর কর্মজীবন। জীবনে এতগুলো পরিবর্তন। তাই বিশ্রামটাও বেশি জরুরি। অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমাতে চেষ্টা করুন।

২৬ থেকে ৬৪— এই বয়সে নিউরনের একটি অংশ (‌ভেন্ট্রোল্যাটেরাল প্রিঅপটিক নিউক্লিয়াস)‌ নষ্ট হতে থাকে। ফলে ঘুম কমে যায়। দিনে তবু ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম কিন্তু জরুরি।

৬৫–এর বেশি— বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম আরও কমে যায়। ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের দিনে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমাতেই হয়। তবে অনেকের ৫ ঘণ্টারও কম ঘুম হয়।

Screenshot_99পরিমান মত ঘুম আপনার জীবনে যা নিয়ে আসে

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে

জেগে থাকা অবস্থায় আমরা যা শিখি সেটাকে ভালো করে মনে রাখার জন্য প্রয়োজন ঘুম। NYU Langone Medical Center এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডঃ র্যাখপোপোর্টের মতে যে কোনও কিছু শেখার জন্য একাধিক বার সেটা চর্চা করা দরকার। সেই চর্চা করার পরিস্থিতিটাই ঘটে ঘুমানোর সময়। সহজ কথায় বলতে গেলে বলা যায় যে আপনি যদি নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে থাকেন তাহলে নিয়মিত পরিমিত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। তাহলে নতুন শেখা বিষয় গুলো সহজেই মনে থাকবে।

দীর্ঘ জীবন

অতিরিক্ত ঘুম কিংবা ঘুমের স্বল্পতা আয়ু কমিয়ে দেয়। ৫০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী নারীদের উপর করা ২০১০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে যারা ৫ ঘন্টার কম ঘুমাতো তাদের মৃত্যুহার অন্যদের তুলনায় বেশি। পরিমিত ঘুম হলে বিভিন্ন অসুখ বিসুখের থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ফলে সুস্থ জীবন যাপন করা যায় এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি পায়।

সৃজনশীলতা

ঘুম কম হলে মস্তিষ্ক সহজে কাজ করে না। ফলে মানুষের সৃজনশীলতা কমে যায়। পরিমিত ঘুম হলে মস্তিষ্ক সচল থাকে এবং নতুন নতুন চিন্তা ও বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে সৃজনশীলতা বাড়ানো যায়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বোস্টন কলেজের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী যাদের ঘুম কম হয়েছে তাদের সৃজনশীলতা অন্যদের তুলনায় কম। যারা পরিমিত ঘুমিয়েছে তাদের সৃজনশীলতা বেশি ছিলো গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী।

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল

‘স্লিপ’ জার্নালের ২০১০ সালের জরিপ অনুসারে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী যেসব শিশুর পরিমিত ঘুম হয় না তাঁরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে মনোযোগের অভাবে ভোগে। এছাড়াও তাদের পরীক্ষার ফলাফল অন্যদের তুলনায় খারাপ হয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। যাদের ঘুম পর্যাপ্ত পরিমাণে হয় না তাঁরা পরীক্ষাতেও অন্যদের তুলনায় খারাপ ফলাফল করে।

ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকে

যারা ওজনাধিক্যে ভুগছেন তাদের এই সমস্যার জন্য একটি ভালো সমাধান হলো পরিমিত ঘুম। ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর গবেষকরা একটি গবেষণায় দেখেছেন যে ওজন কমানোর জন্য যারা ডায়েট করছে তাদের মধ্যে যারা পরিমিত ঘুমাতো তাঁরা বেশ সহজে ও দ্রুত ওজন কমিয়ে ফেলতে পেরেছে অন্যদের তুলনায়। গবেষকদের মতে না ঘুমালে বেশি ক্ষুধা লাগে। অধিক ক্যালরী গ্রহনের ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রতিদিন পরিমিত ঘুম প্রয়োজন।

মনে রাখবেন ঘুম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুতেই ভূমিকা রাখতে পারে। সুস্থ-সবলভাবে বেঁচে থাকার জন্যে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার আছে। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে পরবর্তী দিনের জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করার জন্যে ঘুমের প্রয়োজন।

Offline sisyphus

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 424
  • RAM
    • View Profile
অন্তত ৭ ঘণ্টা  ;D
Mr. Rafi Al Mahmud
Sr. Lecturer
Department of Development Studies
Daffodil International University