খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘজীবিতা এবং OMAD

Author Topic: খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘজীবিতা এবং OMAD  (Read 615 times)

Offline rima.eee

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 123
    • View Profile
আধুনিক লজিক অনুযায়ী আপনি যত বেশি পুষ্টি গ্রহন করবেন  তত বেশি সুস্থ  থাকবেন, তত বেশি বাচবেন। কিন্তু হায়! পুষ্টির ভারে আজ জাতি ভারাক্রান্ত।   খাদ্যের আধুনিক নীতি মানতে গিয়ে আমরা আজ নিজেদের নামের পাশে মটু/মুটকি  উপাধি যুক্ত করে ফেলেছি। মানুষ এখন বেশি না কম খেতে চায়। কারন টা কি? তাহলে  কি আমাদের ছোটবেলা থেকেই ভুল শিখানো হয়েছে?
দীর্ঘায়ুতার সাথে  খাদ্যের কি সম্পর্ক আছে? অনেকেই বলবেন মহান আল্লাহপাক যে হায়াত দিয়েছেন, তত  দিন ই বাচব। সেটা পুরাপুরি সত্যি। কিন্তু বিজ্ঞান তো বলে,  হায়াতের  পাশাপাশি আপনার খাদ্যাভাসেরও ভূমিকা আছে। ঈস্ট কোষ, ইদুর,  বানরের উপর  গবেষণা করে দেখা গিয়েছে যে ৩০% কম ক্যালরি খেতে দিলে তাদের আয়ু ৩০% বেড়ে  যায়। শুধু গবেষণা হয় নাই মানুষের উপর।
আমরা কি তাইলে কম খাব? কিভাবে  কম খাব? আমাদের তো তিনবেলা সুষম  খাবার খেতে হবে। কোথা থেকে আসল এই ৩ বেলা  খাবারের নিয়ম? মার্কিন লেখিকা আবিগ্যাইল ক্যারল তার বই "Three squares:  Invention of the American Meal" বইতে লিখেছেন, ইউরোপিয়ানরা (বৃটিশ) যখন  আমেরিকা আসে তখন তারা দেখল যে,  আমেরিকানদের খাবারের বেলা নির্দিষ্ট নাই।  সহজ করে বললে, দিনে ২/৩/৪ বার খেতে হবে এমন কোন সিস্টেম নাই। তখন বৃটিশরা  নিজেদের অধিক সভ্য প্রমান করার জন্য ৩ বেলা খাবারের প্রচলন করল। আমরা  বাংগালীরা তো বৃটিশদের থেকেই শিখেছি।
আজকের যুগেও কিন্তু আহার  সংখ্যার তারতম্য রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। যেমন, আফ্রিকার অনেক দেশে দিনে  একবার/দুইবার খায়। যদিও তারা দারিদ্র্যের জন্য কম খায় কিন্তু দিনশেষে  দেখবেন তাদের ডায়েবেটিস এবং প্রেশারের মত ভয়ানক রোগের পরিমান দুনিয়ার বেশি  খাদক সকল দেশ থেকে কম। ড্যানিয়েল এভার্ট নামক একজন ডাঃ আমাজনের "পিরাহা"  জনগোষ্ঠীর সাথে দীর্ঘদিন থেকে এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন যেখানে উনি  বলেছেন, পিরাহা লোকেদের খাবারে কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম নাই। তারা যখন ক্ষুধা  লাগে তখন ই খায়, মাঝে মাঝে ১/২ দিন উপোস ও থাকে। তাদের গড় আয়ু ৭০ এর উপরে।
 অনেকে আমাকে নাস্তিক ভাবা শুরু করে দিয়েছে অলরেডি।  আসেন হিসাব মিলাই  এবার। আমাদের প্রিয়নবী রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা খাবার সময় পাকস্থলীর এক  তৃতীয়াংশ (৩৩%) খাবার দিয়ে পুর্ণ কর, আরেক তৃতীয়াংশ (৩৩%) পানি দিয়ে পূর্ণ  কর, বাকি তৃতীয়াংশ(৩৩%) খালি রাখ।
 কি বুঝলেন ভায়া? ১০০ ভাগের মধ্যে উনি  মাত্র ৩৩% খেতে বলেছেন বাকী ৬৬% পানি/ফাকা রাখতে বলেছেন। তাহলে আল্লাহর  সেরা বান্দা কি আমাদের কম খেতে বলে যান নাই?
  আমাদের চেহারায় যে  বয়সের ছাপ পড়ে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারন হল ক্রমান্বয়ে ডিএনএর ক্ষতিসাধন।  বয়স বেশি দেখানো বয়স বাড়ার পাশাপাশি আমাদের জেনেটিক্স এবং খাদ্যাভাসের উপর  নির্ভর করে। এজন্যই আমরা সমাজে অনেককেই দেখতে পাই যাদের বয়স বেশি কিন্তু  দেখতে ইয়াং লাগে। ড. ডেভিড সিনক্লেয়ারের মতে, কম খাওয়া    "sirtuin"   নামক  প্রোটিনকে স্টিমুলেট করে যা কিনা ডিএনএ রিপেয়ার করে তারুণ্যকে ধরে রাখে।  যেহেতু আমরা নিজের জেনেটিক্স কে পরিবর্তন করতে পারব না, তাই খাদ্যাভ্যাস  পরিবর্তন করে  চেহারায় তারুণ্যের ভাব ধরে রাখতে চেষ্টা করা যেতেই পারে।
 ফাস্টিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের সমাধান অনেক শতাব্দী আগে থেকেই প্রচলন  আছে। ১৬০০ শতাব্দীতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় (মানসিক রোগ) ফাস্টিং এর  প্রচলন ছিল। আধুনিক শতাব্দীতে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি  যে ফাস্টিং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের  নিউরোসায়েন্সের প্রফেসর ড. মার্ক ম্যাটসনের মতে, ফাস্টিং পার্কিনসনিজম এবং  আলঝেইমার রোগের মত জটিল রোগ প্রতিরোধ করে। আপটন সিনক্লেয়ার নামে ৯০ বছর  বয়স্ক একজন লোক "The fasting cure" নামে একটি বই লিখেছেন যেখানে ফাস্টিং এর  মাধ্যমে কিভাবে ২৫০ জন মানুষের বিভিন্ন রোগ নিরাময় করা হয়েছে তার বর্ণনা  রয়েছে। চাইলে গুগল সার্চ করে বইটি নামিয়ে পড়ে নিতে পারেন। তাই কম খান ভাল  থাকেন।
এই কম খাবার হিসেব থেকেই জন্ম ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এর।  কিছুদিন আগে দেখলাম কেউ কেউ বলেছেন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এ মাসল লস হয়।  আমি বলেছিলাম মাসল লস হয় না। আমার কথা কেন বিশ্বাস করবেন? দেখে নিন ৪  মিনিটের ভিডিওটি যেখানে ডাঃ এরিক বার্গ  বইয়ের পেইজ খুলে দেখিয়ে বলছেন  কেন+কিভাবে মাসল লস হয় না। লিংক প্রথম কমেন্টে।
আসি OMAD প্রসংগে।  অনেকেই এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন।  OMAD মানে One Meal A Day. এই সিস্টেমে  দিনে মাত্র ১ বেলা খাবেন, বাকি ২ বেলা কোন খাবার নাই। সোজা বাংলায় বললে ২৩  ঘন্টা না খেয়ে থাকবেন। বাকি ১ ঘন্টা খাওয়া দাওয়া করবেন। শুনেই ভয় লাগছে তাই  না। অনেকেই এই গ্রুপে OMAD করছেন। অনেকের ই ইতিমধ্যে ওজন কমা শুরু হয়ে  গিয়েছে। প্রথম প্রথম ভাবতে খারাপ লাগলেও আসলে এতটা কঠিন না। আমি OMAD করে ৩  মাসে ২০ কেজি ওজন কমিয়েছিলাম।
কি খাবেন একবেলা (১ ঘন্টা)?
 - যা  মনে চায়, যত মনে চায়। আমি বলব জাংক ফুড না খেয়ে আপনারা পুষ্টিকর খাবার  খান। ★কেউ কেউ বলে বেশি খাইলে কেমনে শুকাবে? আরে ১ ঘন্টায় অনেক বেশি  ক্যালরি (৩০০০/৪০০০) খাওয়া কি এত সহজ? আর কয়েকদিন OMAD করলে মুখের রুচি কমে  যায়, ফলে চাইলেও পারবেননা জোর করে খেতে। সুতরাং বি প্র্যাকটিক্যাল।
বাকি ২৩ ঘন্টা কি কি খেতে পারবেন?
 - পানি, স্যালাইন, শসা, চিনি ছাড়া চা/কফি, ইসবগুল, তোকমা, হলুদ পানি, ডাবের পানি, সর্বোচ্চ ১ গ্লাস ফ্যাটবিহীন দুধ ইত্যাদি।
 কতদিন করবেন?
  -যতদিন ইচ্ছা ততদিন। আয়নার সামনে যেদিন দাঁড়িয়ে মনে হবে যথেষ্ট হয়েছে,   সেদিন বাদ দিয়া দিবেন। তবে  OMAD শুরু করার পর যদি মনে হয় আপনি আর কোনভাবেই  পারছেন না তাহলে সাথে সাথে বন্ধ করে দিবেন।
 কারা করবেন না?
 -যে কোন প্রকার রোগী ডাঃ এর সাথে কথা না বলে করবেন না।
 -গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আছে এমন কেউ।
 -গর্ভবতী/স্তন্যদানকারী মহিলা।
 -১৮ বয়সের নিচে এবং ৫০ এর উপর কেউ করবেন না।
কারা করার কথা ভাবতে পারেন?
 - দ্রুত ওজন কমাতে চান যারা।
 -ওজন আটকে আছে আর কমছে না এমন লোক।
 -ব্যায়াম করতে চান না/টাইম নাই/আইলসা পাবলিক।
 OMAD এর সুবিধা হল আপনার ওজন ব্যায়াম ছাড়াই কমবে। খুব দ্রুত কমবে। তবে  চাইলে আপনি ব্যায়াম করতে পারেন। নিজের সুবিধা অনুসারে ব্যায়াম করবেন। আর  অসুবিধা হল গ্যাস্ট্রিক হতে পারে যদি পেট খালি রাখেন (পানি, শসা এসব খেয়ে  সমস্যার সমাধান করতে পারবেন), কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে (ইসবগুল খাইলে  অনেকখানি কমে যাবে), দুর্বলতা থাকে ২/১ দিন এরপর তা ঠিক হয়ে যাবে। একজন  সিনিয়র আপু বলেছেন, মহিলাদের যৌন স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে যা কিনা আমি  কোন ব্লগ, বই ঘেটে এখন ও পাই নাই। পড়াশোনা চলছে। আমি পাইলেই আপনাদের  বিস্তারিত জানিয়ে দেব। কানাডার  Dr. Jason Fung,  MD, FCPS (medicine),  FCPS (urology) এই সিস্টেমকে জনপ্রিয় করেছেন। যারা OMAD নিয়ে আপডেটেড থাকতে  চান তারা উনার বইগুলা পড়ে দেখতে পারেন, ইউটিউবে উনার লেকচার গুলা পাবেন।
Afsana