ঈদে মিলাদুন্নবী নামে ইসলামে নতুন ঈদের আবিষ্কারঃ বেরলভী মতবাদের ভিত্তিহীন আকীদা

Author Topic: ঈদে মিলাদুন্নবী নামে ইসলামে নতুন ঈদের আবিষ্কারঃ বেরলভী মতবাদের ভিত্তিহীন আকীদা  (Read 674 times)

Offline mushfiq.swe

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 109
    • View Profile
বেরলভী মতবাদ : ভিত্তিহীন আকীদা ও ভ্রান্ত ধ্যানধারণা

বেরলভী[1]জামাত যাদেরকে রেজাখানী বা রেজভীও বলা হয়, যারা নিজেদেরকে সুন্নী বা আহলে সুন্নাত বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তাদের অনেক ভিত্তিহীন আকীদা, ভ্রান্ত ধ্যানধারণা ও মনগড়া রসম-রেওয়ায রয়েছে। খুব সংক্ষেপে তার একটি তালিকা এখানে তুলে ধরা হল।
 
ভিত্তিহীন আকীদা
১. গায়রুল্লাহর জন্য ইলমে গায়েবের আকীদা
২. হাযির-নাযির শীর্ষক আকীদা
৩. মোখতারে কুল শীর্ষক আকীদা
৪. নূর-বাশার শীর্ষক আকীদা
৫. কবর পূজা ও অন্যান্য র্শিক

ভ্রান্ত ধ্যানধারণা ও বিদআত ও কুসংস্কারের পক্ষপাত
১. ঈদে মিলাদুন্নবী নামে ইসলামে নতুন ঈদের আবিষ্কার।
২. রসমী মিলাদকেই দ্বীন মনে করা।
৩. উরস করা।
৪. মাজার পাকা করা ও তার উপর গম্বুজ নির্মাণ করা।
৫. কবরে বাতি জ্বালানো।
৬. কবরের উপর চাদর বিছানো ও ফুল ছড়ানো।
৭. মাযারে এক ধরনের মু‘তাকিফ বনে থাকা।
৮. জানাযার পরে দুআর রসম।
৯. কবরের উপরে আযান দেওয়ার রসম।
১০. আযান ও ইকামতে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ বলার সময় বৃদ্ধাঙ্গুল চুম্বন করে উভয় চোখে লাগানো।
১১. ঈসালে সাওয়াবের জন্য কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করে বিনিময় গ্রহণ করাকে বৈধ মনে করা।
১২. খাবার সামনে নিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ফাতেহা পড়ার রসম।
১৩. আযানের পূর্বে দুরূদ ও সালামের রসম।

বেরলভী উলামা ও মাশায়েখের কিতাবাদী উল্লেখিত বেদআতসমূহের পক্ষপাতপূর্ণ। এর অধিকাংশ বিষয়ের উল্লেখ তো তাদের প্রসিদ্ধ বই ‘জা-আল হকে’ রয়েছে। এ ছাড়াও মৌলভী আব্দুস সামী‘ সাহেবের লেখা ‘আনওয়ারে সাতেআ’ও দেখা যেতে পারে। আর ঐ সমস্ত বিষয় বিদআত হওয়ার প্রমাণাদী জানতে চাইলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কিতাবাদী দেখুন। উদাহরণস্বরূপ:
১. আল জুন্নাহ্ লি আহলিস সুন্নাহ, মুফতী আব্দুল গণি, সাবেক ছদরে মুদাররিস, মাদারাসায়ে আমিনীয়া দিল্লী।
২. বারাহীনে কাতিআহ, মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারানপুরী।
৩. ইসলাহুর রুসূম, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী।
৪. রাহে সুন্নাত, মাওলানা সরফরায খান।
৫. ইখতেলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীম, মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানবী।

এ সংক্ষিপ্ত তালিকায় কয়েকটি মাত্র বিষয়ের উল্লেখ করা হল। বেরলভী মতবাদ সম্পর্কে আরো অধিক জানতে হলে পড়তে পারেন ডা. খালেদ মাহমুদ লিখিত ‘মুতালাআয়ে বেরলভিয়্যাত’ যা অনেক আগেই ছেপে এসেছে। এ গ্রন্থটি বেরলভী মতবাদ সম্পর্কে একটি বিশ্বকোষ যা ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণ সমৃদ্ধ।
আর زلزله বইয়ের মিথ্যা অপবাদসমূহের স্বরূপ জানার জন্য পড়ুন : মাওলানা মুহাম্মাদ আরেফ সাম্ভলী নদভী কৃত
 بريلوي فتنہ كا نيا روپ

উল্লেখ্য, বেরলভী ঘরানার কোনো কোনো আলেম এসব শিরক ও বিদআতের অনেক কিছুরই প্রতিবাদ করেছেন।[2] কিন্তু বেরলভী জনসাধারণের উপর তাদের বিশেষ কোনো প্রভাব লক্ষ করা যায় না। কত ভালো হত যদি অন্যান্য বেরলভী আলেমগণও এ আলেমগণের সমর্থন করতেন এবং তাদের চিন্তাগুলো প্রচার করার চেষ্টা করতেন। এ প্রসঙ্গে আমরা পাকিস্তানের বেরলভী ঘরানার প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম নাঈমিয়া করাচীর শাইখুল হাদীস আল্লামা গোলাম রাসূল সাঈদীর কথা উল্লেখ করতে পারি। তার কিতাব শরহে সহীহ মুসলিম সাত খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি ‘ইলমে গাইব’, ‘নূর ও বাশার’, ‘গায়রুল্লাহর জন্য মান্নত’ ইত্যাদি বিষয়ে বেরলভীদের মাঝে প্রচলিত ধ্যানধারণার বিপরীত মতামতকেই দলীলসহ সমর্থন করেছেন।

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক
___
[1] ইমাম মুজাহিদ হযরত মাওলানা সায়্যেদ আহমাদ শহীদ বেরলভী (জন্ম ১২০১ হি.- শাহাদত ১২৪৬ হি.) রায়বেরেলীর অধিবাসী ছিলেন। এজন্য তিনিও ‘বেরলভী’বলে প্রসিদ্ধ। কিন্তু আহমদ রেযা খান সাহেব (জন্ম: ১২৭২ হি. মোতাবেক ১৮৫৬ খৃ. মৃত্যু: ১৩৪০ হি. মোতাবেক ১৯২১ খৃ.) রায়বেরেলীর নয় বরং ‘বেরেলীর’অধিবাসী ছিলেন। তাকে বেরলভী বলা হয় বেরেলী এলাকার হিসেবে। বেরলভী জামাত তারই অনুসারী। (আবদুল মালেক)

[2] গায়রুল্লাহর জন্য ‘সিজদায়ে তাহিয়্যা’ বা সম্মানের সেজদা হারাম হওয়ার বিষয়ে আহমদ রেযা খান সাহেবের স্বতন্ত্র পুস্তিকা রয়েছে। যার নাম الزبدة الزكية لتحريم سجود التحية কিন্তু এ পুস্তিকার কোনো প্রভাব মাযারপন্থী বেরলভীদের মাঝে পরিলক্ষিত হয় না।
(বহুল সংক্ষেপিত)

বিস্তারিত দেখুনঃ

http://www.alkawsar.com/article/1847
« Last Edit: November 27, 2017, 11:10:02 AM by mushfiq.swe »
Muhammad Mushfiqur Rahman
Lecturer, Dept. of SWE,
FSIT, DIU.