মর্মান্তিক অবহেলা : বড় বড় সুন্নত পরিত্যক্ত, এরপরও ঈমান ও মুহববতের দাবি!

Author Topic: মর্মান্তিক অবহেলা : বড় বড় সুন্নত পরিত্যক্ত, এরপরও ঈমান ও মুহববতের দাবি!  (Read 470 times)

Offline mushfiq.swe

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 109
    • View Profile
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ঈমান আনার অর্থই হল, তাঁর নীতি ও সুন্নাহকে আমরা নিজেদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করছি। আল্লাহ তাআলা এজন্যই রাসূল প্রেরণ করেছেন যে, আল্লাহর আদেশে তাঁর অনুসরণ করা হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
وما ارسلنا من رسول الا ليطاع باذن الله
 (তরজমা) আমি রাসূল এই উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করেছি যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তার আনুগত্য করা হবে।-সূরা নিসা (৪) : ৬৪

আল্লাহ তাআলার নিকট বান্দা তখনই মুমিন সাব্যস্ত হয় যখন সে রাসূলকে নিজের সকল বিষয়ের সিদ্ধান্তদাতা (হাকাম) বলে স্বীকার করে এবং তাঁর সকল সিদ্ধান্ত মনেপ্রাণে মেনে নেয়। সকল দ্বিধা ও সংশয় ত্যাগ করে তাঁর ফয়সালার সামনে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পিত করে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم، ثم لا يجدوا فى انفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما.
   (তরজমা) কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসংবাদের বিচারভার আপনার উপর অর্পণ না করে; অতপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয়।-সূরা নিসা (৪) : ৬৫

মুমিনকে আল্লাহ তাআলা একটি ব্যবস্থাই দিয়েছেন, যাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে আল্লাহর নিকট কোনো কিছু আশা করার পূর্বশর্ত। আর তা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত ব্যবস্থা ও তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة لمن كان يرجو الله واليوم الآخر وذكر الله كثيرا.
 (তরজমা) তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।-সূরা আহযাব (৩৩) : ২১

এই উত্তম আদর্শ দ্বারা ঐ জীবনাদর্শই উদ্দেশ্য, যা সূরায়ে জাসিয়ায় এভাবে বলা হয়েছে-
ثم جلعنك على شريعة من الامر فاتبعها ولا تتبع اهواء الذين لا يعلمون. انهم لن يغنوا عنك من الله شيئا وان الظلمين بعضهم اولياء لبعض والله ولى المتقين هذا بصائر للناس وهدى ورحمة لقوم يوقنون.
 (তরজমা)  এরপর আমি আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ বিধানের উপর। সুতরাং আপনি তা অনুসরণ করুন। অজ্ঞদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না।
আল্লাহর মুকাবিলায় তারা আপনার কোনো উপকার করতে পারবে না। যালিমরা একে অপরের বন্ধু আর আল্লাহ তো মুত্তাকীদের বন্ধু।
এই কুরআন মানবজাতির জন্য সুস্পষ্ট দলিল এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী জাতির জন্য পথনির্দেশ ও রহমত।-সূরা জাসিয়াহ (৪৫) : ১৮-২০

কালিমায়ে তাওহীদ ও কালিমায়ে শাহাদতে আমরা এই শরীয়ত ও এই আদর্শকে সত্যতা ও যথার্থতার স্বাক্ষ্য দেই এবং মনেপ্রাণে তা কবুল করার ঘোষণা দান করি। এজন্য আমাদের উপর ফরয, এই আদর্শের আলোকে  আমাদের পুরো জীবন, জীবনের প্রতিটি অঙ্গনকে যাচাই করা। অতপর যেখানেই ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা দেখা যায় সংশোধনের চেষ্টা করা।
আজ সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এই যে, আমরা প্রত্যেকে এবং সমাজের প্রতিটি শ্রেণী নিজের জীবন ও কর্মকে সেই ‘উসওয়ায়ে হাসানা’র মাপকাঠিতে যাচাই করব ও নিজেকে সংশোধন করব। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সীরাতের চর্চা সেভাবেই করব যেভাবে সাহাবায়ে কেরাম করতেন।

সীরাতে নববিয়্যাহ সম্পর্কে আমাদের অবস্থা সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা থেকে ভিন্ন থেকে ভিন্নতর হতে চলেছে। বিশেষত নিম্নের বিষয়গুলোতে -
১. সঠিক জ্ঞান
২. ঈমান ও নির্ভরতা
৩. শ্রদ্ধা ও ভালবাসা
৪. নিজ জীবনে প্রয়োগ
৫. সুন্নতকে জীবিত করা ও বিদআতকে ঘৃণা করা
৬. নিজ সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের জন্য তা-ই পছন্দ করা
৭. শুধু একটিমাত্র মাপকাঠি
৮. সুন্নাহর ভিন্নতা কিংবা ইজতিহাদের ভিন্নতায় অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা
৯. ঐক্য ও প্রাধান্যের ক্ষেত্রে ধর্মীয় দূরদর্শিতার ব্যবহার
১০. পূর্ণ নির্ভরতা ও তাৎক্ষণিক আমল

এখানে পূর্ণ ঘটনা ও দৃষ্টান্ত উল্লেখ না করেই অতি সংক্ষেপে শুধু দশটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হল। উদ্দেশ্য নিজেকে ও পাঠকবৃন্দকে স্মরণ করানো।
আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিলে এই বিষয়ে দলিল-প্রমাণ ও ঘটনা-বর্ণনার আলোকে আলাদা নিবন্ধ লিখার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ।

(বহুল সংক্ষেপিত)

বিস্তারিত দেখুনঃ
http://www.alkawsar.com/article/571
« Last Edit: November 27, 2017, 11:10:22 AM by mushfiq.swe »
Muhammad Mushfiqur Rahman
Lecturer, Dept. of SWE,
FSIT, DIU.