গাছ লাগানো সদাক্বা !

Author Topic: গাছ লাগানো সদাক্বা !  (Read 296 times)

Offline Mrs.Anjuara Khanom

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 241
  • Test
    • View Profile
গাছ লাগানো সদাক্বা !
« on: June 06, 2018, 12:09:04 PM »
বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ এবং পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর কাজ গুলোর মধ্যে একটা হল বৃক্ষরোপণ। বন জঙ্গল কেটে যত বেশি বসতি বা কারখানা তৈরি হচ্ছে ততই বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাছ যত কমবে সমস্যা ততই বাড়বে। সেটা দুষিত বায়ুর সমস্যা হোক কিংবা মেঘ-বৃষ্টি না হওয়ার সমস্যা। সরকার এবং সমাজসেবামুলক সংগঠন গুলো এব্যাপারে খুবই সচেতন। সরকারীভাবে বারবার বৃক্ষরোপণ প্রকল্প নেওয়া হয়। গাছ লাগাতে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে প্রচারনাও চালানো হয়। যখন কোন ব্যক্তি বা সংস্থা জনকল্যাণের জন্য গাছ লাগায় তখন মিডিয়া, সরকার বা জনগণ তাকে/তাদের বাহবাহ দেয়। অনেক সময় পুরুস্কৃতও করে। মোট কথা গাছ লাগানো বর্তমান সময়ে খুবই ভালো একটা কাজ। এবং এই কাজের মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং পৃথিবীর অনেক মঙ্গল।
ইসলামে গাছ লাগানো খুব ভালো একটা কাজ। এব্যাপারে অনেকগুলো হাদিস আছে। আমি মাত্র কয়েকটি হাদিস শেয়ার করছি আপনাদের সাথে।
✿ আনাস বিন মালেক (রা) কর্তৃক বর্ণিত, নবী কারীম (সা) বলেছেন, ‘কিয়ামাত কায়েম হয়ে গেলেও তোমাদের কারো হাতে যদি কোন গাছের চারা থাকে এবং সে তা এর আগেই রোপন করতে সক্ষম হয়, তবে যেন তা রোপন করে ফেলে’। (আহমাদ/১২৯৮১, বুখারীর আদাব/৪৭৯, সহীহুল জামে’/১৪২৪)
✿ জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘যে কোন মুসলিম যখন কোন গাছ লাগায় অতঃপর তা হতে যা (পাখী, মানুষ অথবা পশু দ্বারা তার ফল ইত্যাদি) খাওয়া হয়, তা তার জন্য সদকাহ স্বরুপ হয়। যা চুরি হয়ে যায়, তাও তার জন্য সদকাহ স্বরুপ হয় এবং যে কেউ তা (ব্যবহার) দ্বারা উপকৃত হয়, তাও তার জন্য কিয়ামাত অবধি সদকাহ স্বরুপ হয়’। (মুসলিম/৪০৫০; গায়াতুল মারাম/১৫৮)
✿ আব্দুল্লাহ বিন হুবশী (রা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুল (সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি (খামোখা) কোন কুল গাছ কেটে ফেলবে (যে গাছের নিচে মুসাফির বা পশু-পক্ষী ছায়া গ্রহণ করত), সে ব্যক্তির মাথাকে আল্লাহ সোজা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন’। (আবু দাউদ/৫২৪১)
উপরের হাদিস তিনটিতে একটু খেয়াল করুন। প্রথম হাদিসে বলা হচ্ছে কিয়ামাতের সময়েও যদি কারো কাছে চারা গাছ থাকে সম্ভব হলে সে যেন তা রোপণ করে। আমরা সকলেই কম বেশি জানি কিয়ামাত কত ভয়ংকর সময়। কিন্তু গাছ লাগানোটা এত জরুরি যে সেই ভয়ংকর সময়তেও গাছ লাগাতে বলা হয়েছে। চোখ বন্ধ করে একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন গাছ লাগানোর মহাত্ম্য। দ্বিতীয় হাদিসে গাছ লাগানোর উপকারিতা বলা হয়েছে। কেউ একটা গাছ লাগালো, সেই গাছ থেকে যত মানুষ, পশু পাখী যে কোন ভাবে উপকৃত হল তার নেকি গাছ রোপণকারী ব্যক্তি পাবে। এমনকি মৃত্যুর পরেও সেই গাছ থেকে সে নেকি পেতে থাকবে। তৃতীয় হাদিসে, কুল গাছের মতো সাধারণ গাছ অকারণে কাটার শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের কথা বলা হয়েছে।
দুটি পয়েন্ট পরিস্কার হল। এক, বর্তমান বিশ্বে গাছ লাগানো সবথেকে কল্যানকর কাজ গুলোর একটি। দুই, আজ থেকে সারে চৌদ্দশ বছর আগে ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে গাছ লাগানোর এবং গাছ না কাটার।
এবার আরো একটি ব্যাপারে আলোচনা করা যাক। আমাদের বুঝতে হবে, ইসলামে ‘ধর্ম এবং দুনিয়া’ আলাদা নয়। ইসলামে ধর্ম এবং দুনিয়া একই। তাই ইসলামকে দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা বলা হয়। আর ইসলাম শুধু (প্রচলিত) ইবাদত বা উপাসনাকেন্দ্রিক ধর্মও নয়। ইসলামে আদেশকৃত প্রত্যেকটা কাজ করাই ইবাদত এবং নিষেধকৃত প্রত্যেকটা কাজ না করাও ইবাদত। কিন্তু আফসোস বেশিরভাগ মুসলিমরা ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতকেই বোঝে্ন।
গাছ লাগানোর এত এত উপকার এবং ইসলামী নির্দেশ থাকা সত্ত্যেও কি কখনও দেখেছেন বা শুনেছেন ইমাম, উলেমা কিংবা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অথবা কোন মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে ইসলামের নামে বৃক্ষোরোপণ প্রকল্প বা প্রচারনা করতে? পশ্চিমবঙ্গে এটা অল্পনীয় ব্যাপার। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা বা মুসলিম সংগঠনের অভাব নাই। অভাব আছে ‘ইসলামের সৌন্দর্য্য ও বৈশিষ্ট্য’ প্রচারকারী ব্যক্তি বা সংগঠনের। ইসলাম প্রতিষ্ঠা শুধু ইসলামের দাওয়াত দিয়েই হয়নি। হয়েছিল সমাজ সংস্কার এবং সমাজের জন্য কল্যানকর কাজ করার মাধ্যমেও। আমরা যারা ইসলামের জন্য কিছু করতে চাই, আমাদের উচিত ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামে সমাজ সংস্কার এবং সমাজের জন্য কল্যানকর যে সব নির্দেশ ইসলামে দেওয়া হয়েছে সে গুলোকে বাস্তবায়িত করা। আল্লাহ আমাদের ভালো কাজ করার এবং ইসলাম মেনে চলতে সাহায্য করুন। আমীন!

Source:https://islameraalo.wordpress.com/
Mrs, Anjuara Khanom
Assistant Officer, Information Desk
Daffodil International University
Main Campus
9138234-5