অপচয় কমাতে নতুন পদ্ধতি

Author Topic: অপচয় কমাতে নতুন পদ্ধতি  (Read 186 times)

Offline Shakil Ahmad

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 374
  • Test
    • View Profile
অপচয় কমাতে নতুন পদ্ধতি
« on: March 24, 2019, 02:59:47 PM »
আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একক বাজেট পদ্ধতি চালু হচ্ছে। একক বাজেট পদ্ধতিতে দুই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করে এ পদ্ধতি অনুসরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আগামী বাজেট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে একক বাজেট পদ্ধতিতে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে এবং অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতা ও দ্বৈততাও দূর হবে এ পদ্ধতির মাধ্যমে।

Eprothom Alo
একক বাজেট পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, প্রণয়ন, যাচাই, অনুমোদন, সংশোধন, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন–সংক্রান্ত একটি বিধিমালাও প্রণয়ন করেছে অর্থ বিভাগ। বলা হয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী দপ্তর বা সংস্থা আগে খসড়া প্রকল্প তৈরি করবে। এরপর তা পাঠাবে সমন্বয় ইউনিটে। খসড়া প্রকল্প পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করবে ওই ইউনিট।

এ ছাড়া প্রকল্প যাচাইয়ে দুটি কমিটি রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো কর্মসূচির আওতায় ব্যয় ১০০ কোটি টাকার বেশি হলেই তা যাচাই করবে অর্থসচিবের নেতৃত্বাধীন একটি প্রকল্প যাচাই কমিটি। আর ব্যয়ের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার মধ্যে হলে তা যাচাই করবে অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বাধীন অন্য একটি প্রকল্প যাচাই কমিটি। উভয় ক্ষেত্রেই এগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, সাধারণভাবে প্রকল্পের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা থাকবে না। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা হবে সাধারণত পাঁচ বছর। আর প্রকল্প এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই এর বাস্তবায়ন শেষ করা যায়।

বলা হয়েছে, প্রকল্প ব্যয় ১০০ কোটি টাকার বেশি হলে প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। যৌক্তিক ক্ষেত্রে প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক নিয়োগ করা যাবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও সেবা নেওয়া যাবে। তবে প্রকল্পের আওতায় যানবাহন কেনা যাবে না।

আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তর বা সংস্থার প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিটি কর্মসূচিতে একটি ‘বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বাজেট ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরীক্ষা করবে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে তা ‘বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির’ বৈঠকেও উপস্থাপন করবে ওই অনুবিভাগ। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক একটি সমাপ্তি প্রতিবেদন তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে পাঠাবেন। ওই মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তা চূড়ান্ত করে পাঠাবে অর্থ বিভাগ এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের নেতিবাচক উদাহরণ সামনে রেখে পরীক্ষামূলকভাবে একক বাজেট পদ্ধতির দিকে যাওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক চর্চা মাথায় রাখা হচ্ছে।

উদাহরণ দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, দেখা গেল, একটি প্রকল্পের আওতায় একটি বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো। প্রকল্প শেষ, কিন্তু জনবল রাজস্ব খাতে গেল না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পাঁচ বছরেও চালু করা গেল না। বিষয়টি সবদিক থেকেই ক্ষতিকর। নতুন পদ্ধতির ফলে যেটা হবে তা হলো, কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যাবে, আর বাকি খরচ অর্থাৎ মূলধনি খরচ যাবে রাজস্ব বাজেট থেকে এবং তা হবে প্রকল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই।

পরীক্ষামূলক পদ্ধতি সফল হলে উন্নয়ন বাজেট আলাদা করার দরকার পড়বে না বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বে এখন অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন নামে আলাদা বাজেটের রেওয়াজ নেই। দাতা বা উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শে একসময় বাংলাদেশে অনুন্নয়ন (রাজস্ব) ও উন্নয়ন বাজেট আলাদা করার যে ধারা চলে আসছে, তা এখন বন্ধ করার সময় এসেছে। সেই চিন্তা থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে দুটি মন্ত্রণালয় বেছে নেওয়া হয়েছে।