শৈশবেই রাজা হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন যারা

Author Topic: শৈশবেই রাজা হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন যারা  (Read 312 times)

Offline Faruq Hushain

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 83
  • Test
    • View Profile
সম্রাট বা রাজার মতো পদগুলো আমাদের কাছে এমন ঠেকে যে, এই পদের অধিকারী যিনি হবেন, তিনি হবেন সাধারণত মধ্যবয়সী, তার চেহারার মাঝে বুদ্ধিদীপ্ততা ও পরিপক্বতার ছাপ থাকবে, কথাবার্তায় ফুটে উঠবে জ্ঞানের ছাপ, পোশাকে দেখা যাবে আভিজাত্যের ছোঁয়া ইত্যাদি। কিন্তু, ইতিহাস বলে, মানবজাতির ইতিহাসে এমনও অনেকে রাজা কিংবা সম্রাট হয়েছেন, যাদের দাঁতও তখনও গজায়নি, এমনকি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে কেবলমাত্র পৃথিবীর আলো দেখা মানুষের নামও রয়েছে এই তালিকায়। তেমনই কিছু বাচ্চা-রাজার সাথেই পরিচিত হবো আমরা আজ।

ওয়ো
রাজ্য: তোরো
বয়স: সাড়ে ৩ বছর

শিরোনামে রাজার নাম মাত্র এক অক্ষরের দেখালেও পুরো নাম উচ্চারণ করতে গেলে দাত ভেঙে যাবার দশা হবে। চতুর্থ রুকিরাবাসাইজা ওয়ো নয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি- এটার হলো তোরোর রাজা ওয়োর পুরো নাম! ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল রাজা তৃতীয় প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো ওলিমি এবং রানী বেস্ট কেমিগিসা কাবোয়োর ঘর আলো করে জন্ম নেন ওয়ো।
১৯৯৫ সালে যখন তিনি তোরো রাজ্যের সিংহাসনে বসেন, তখন তার বয়স মাত্র সাড়ে ৩ বছর! রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের সময় বাচ্চা রাজা বারবার সিংহাসন থেকে পিছে নেমে যাচ্ছিলেন। এত মানুষ দেখে ভয়ে দৌড় দিয়ে মায়ের কোলে আশ্রয় খুঁজছিলেন!
সে যা-ই হোক, সেদিনের সেই বাচ্চা ওয়ো কিন্তু আজও আছেন ১৮০ বছরের পুরনো তোরোর রাজা হয়েই। রাজ্যটির দ্বাদশ এ রাজার আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে এর ২০ লক্ষাধিক জনতা।

পুয়ি
দেশ: চীন
বয়স: ২ বছর

আজকের বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী রাষ্ট্র চীনের সর্বশেষ এ সম্রাট বয়সের দিক থেকেও ছিলেন অনেক ছোট। ১৯০৮ সালে যখন দেশটির শাসনভার তার হাতে ন্যস্ত হয়, তখন তার বয়স মাত্র ২ বছর! রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের সময় তার বাবাই কোলে করে তাকে সিংহাসনের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাচ্চা সম্রাট ভয় পেয়ে এলোপাথাড়ি লাথি-ঘুষি আর কান্নাকাটি করেই কাটিয়ে দেয় পুরোটা সময়। তার বয়স যখন মাত্র ছ’বছর, তখনই বিদ্রোহের কবলে পড়ে দেশটি, অবসান ঘটে রাজতন্ত্রের, প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রিপাবলিক অফ চায়না’। ফলে ক্ষমতার স্বাদ পাবার আগেই, সম্রাট হবার মাহাত্ম্য বোঝার আগেই তাকে সবকিছু ত্যাগ করতে হয়।

তৃতীয় পোমার
দেশ: তাহিতি
বয়স: ১৭ মাস

রাজা তৃতীয় তেরি’ইতারি’আ পোমার যখন তার বাবা রাজা দ্বিতীয় পোমারের মৃত্যুর পর তাহিতির সিংহাসনে বসেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৭ মাস!

পোমারের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ব্রিটিশ মিশনারি হেনরি নট। রাজাকে কোলে করে পাথরের ভিত্তিমূলের উপর গদিমোড়ানো চেয়ারে বসানো হয়। তার সামনে একটি টেবিলে রাজমুকুট, বাইবেল এবং তাহিতির আইন সম্বলিত একটি বই রাখা ছিলো। পোমারের পক্ষে শপথ নেন সিনিয়র মিশনারি ডেভিস।রাজা তৃতীয় পোমার একেবারেই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার রিজেন্ট তথা রাজপ্রতিভূ হিসেবে ছিলেন তার মা রানী তেরি’ইতো’ওতেয়ারি তেরে-মো-মো, খালা এবং সৎমা তেরি’ইতারি’আ আরি’ইপায়িআভাহিন।
অবশ্য খুব বেশিদিন রাজার আসনে থাকবার সৌভাগ্য জোটেনি পোমারের। মাত্র ছ’বছর বয়সে আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ষষ্ঠ হেনরি
দেশ: ইংল্যান্ড
বয়স: ৯ মাস

১৪২২ সালে হেনরি যখন ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসেন, তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ন’মাস। যখন তিনি শাসনক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নেন, ততদিনে দুটো ক্ষমতাধর পরিবারের মাঝে সিংহাসনের দখল নিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গিয়েছে: ল্যাঙ্কাস্টার (এটা ছিলো হেনরির পরিবার) এবং ইয়র্ক। এ যুদ্ধটি ওয়্যার অফ রোজেস নামে পরিচিতি লাভ করে। শেষপর্যন্ত ষষ্ঠ হেনরির পক্ষ অবশ্য পরাজয় বরণে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে তাকে বন্দী করা হয়। টাওয়ার অফ লন্ডনে ৫০ বছর বয়সে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় সভুজা
দেশ: সোয়াজিল্যান্ড
বয়স: ৪ মাস

নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখার আগেই একটি রাজ্যের দায়িত্ব চেপে বসেছিলো রাজা দ্বিতীয় সভুজার কাঁধে। কারণ, মাত্র ৪ মাস বয়সেই সোয়াজিল্যান্ডের রাজা হয়েছিলেন তিনি। অবশ্য, চীনের শিশুরাজা পুয়ির মতো তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়নি। বরং পরবর্তী ৮২ বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে নিজের উপর শৈশবে অর্পিত এ দায়িত্বটি পালন করে গেছেন তিনি।দ্বিতীয় সভুজার শাসনামলেই ১৯৬৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে সোয়াজিল্যান্ড। ঐ একই বছর তার তত্ত্বাবধানেই সোয়াজিল্যান্ডের জন্য একটি সংবিধান রচনা করা হয়।
দ্য গ্রেট মাউন্টেন, দ্য বুল, দ্য সান অফ দ্য শি-এলিফ্যান্ট, দ্য ইনএক্সপ্লিকেবল এবং দ্য লায়নের মতো নানাবিধ উপাধিতে ভূষিত এ মানুষটির মৃত্যুর সময় কতজন স্ত্রী ছিল অনুমান করতে পারবেন? প্রায় ১০০ জন!

শাং অফ হান
দেশ: চীন
বয়স: বড়জোর ১০০ দিন

চীনের মতো বিশাল বড় একটি দেশের ক্ষমতার সিংহাসনে আরোহণের সময় শাং অফ হানের বয়স ছিল খুব বেশি হলে ১০০ দিন! অর্থাৎ নিজের দাঁত ঠিকমতো গজাবার আগেই লাখ লাখ মানুষের অন্ন সংস্থানের দায়িত্ব এসে পড়েছিল এই বাচ্চা ছেলের কাঁধে!
সেই যা-ই হোক, শাং অফ হানের শাসনকাল কিন্তু খুব বেশিদিন স্থায়ী ছিলো না। মাত্র ১ বছর রাজত্ব করার পরই তার ১২ বছর বয়সী কাজিন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিংহাসনে বসে।