এক্সপেরিয়েন্স শেয়ারিং, (১ম দিন) ন্যাশনাল হ্যাকাথন, ২০১৬

Author Topic: এক্সপেরিয়েন্স শেয়ারিং, (১ম দিন) ন্যাশনাল হ্যাকাথন, ২০১৬  (Read 66 times)

Offline sanzid.swe

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 53
  • Hi, this is Sanzid, learning to learn!
    • View Profile
    • Sanzid's Cloud
কনফারেন্স হলে ঢুকেই ডিটারমিনেটেড হতে বেশ সময় লাগল, আজকের ইভেন্টে ভলুন্টিয়ার হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হব, নাকি পার্টিসিপেন্ট হয়ে ইতিহাসের অংশ হব? কেননা দুইটাতেই আমি রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম এবং ভলুন্টিয়ার ও টিম লিডার হিসেবে দুইটাতেই কনফার্মেশন পেয়েছিলাম। সবশেষ “ইনভায়ার্নমেন্ট ইন সিটি” নামক প্রবলেমের সলভ করতে পার্টিসিপেন্টই হয়ে গেলাম। বেছে নিলাম “ওয়াটার লগিং প্রবলেম সলিউশন” মানে ঢাকা শহরের ড্রেইনেজ সমস্যা নিয়ে কিছু করার জন্য।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোটামুটি সিনিয়র ডেভেলপার আর মেনটরসদের বানী আর কিভাবে কি করতে হবে এগুলা শুনতেই গেল। এর মধ্যেই টেবিলে চিকেন স্যান্ডুইচ আর আপেল চলে আসছে ব্রেকফাস্ট হিসেবে, দেন লাঞ্চে ছিল কাচ্চি। লাঞ্চটা দেরিতে আসলেও ভাল ছিল..

দুপুরবেলার পর থেকে শুরু হল কোডিং এর ম্যারাথন মানে হ্যাকাথনের মূল পর্ব। আমরা আসলে তেমন কোন আইডিয়া নিয়ে যাইনি যা গিয়েই ইমপ্লিমেন্টেশন শুরু করব। লিডার হিসেবে আমি আরও বেশী চিন্তিত ছিলাম! এরপর মোটামুটি ওয়ার্কপ্ল্যান আর ডেফিনিশন গুলো করে ফেললাম। বিকেলের দিকে ফ্রি হয়ে এবার অন্যান্য টিমের আইডিয়া সম্পর্কে আমার নিজে থেকে ধারনা নেয়ার পালা। মূলত এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার বলতে এগুলোই..



১। আমাদের দুইটা টেবিল পরের একটা টিম।

– আপনারা কি নিয়ে কাজ করছেন ভাইয়া?

— গেম বানাচ্ছি ভাইয়া।

– সিটিজ ইনভায়ার্নমেন্ট প্রবলেম সলিউশনে গেম? বুঝলাম না ভাইয়া..

— আমরা আসলে একটা এওয়ারনেস গেম বানাতে চাচ্ছি। যার মাধ্যমে বাচ্চারা এই গেম খেললে সঠিক সিটি স্ট্রাকচার এবং ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জানতে পারবে। এই গেমের মাধ্যমে পদে পদে শহরের নিয়মকানুন সম্পর্কে গেমারদের জানানো হবে।

– ইউনিটি টুল দিয়ে গেম বানাচ্ছে, তাও আবার থ্রি ডায়মেনশনাল! পোলাপাইন পারেও.. ( মনে মনে)

— ভাইয়া আপনারা কি নিয়ে কাজ করছেন, কতদূর হয়েছে কাজ?

– আমি আমাদের প্ল্যান সম্পর্কে বললাম। আর বললাম আমরা আসলে হ্যাকাথনে একদমই নভিস, তেমন কিছু করতে পারিনি, পারবও না মনে হয়!

— আমরাও প্রথম ভাইয়া।

– কোথা থেকে আসছেন আপনারা?

— আমি আইডিয়াল স্কুল(!) থেকে, আর ওরা দুজন রাজউক কলেজ(!)। (কোথায় পড়ি, কোথা থেকে আসছি এগুলা সম্পর্কে আর আলোচনে না করে সানজিদের প্রস্থান!)

২। আমাদের একটা টেবিল পাশের একটা টিম।

– ভাইয়া এইটা কি গেম?

— দেখেন ভাইয়া.. (একটা সিপিইউ এর সাথে দুইটা মনিটর সেট করা ডেক্সটপ পিসি থেকে আমাকে গেমের সবকিছু কিভাবে কাজ করে তা দেখালেন)

– এর আগের আপনাদের কোন কাজ আছে ভাইয়া?

— হুম, গত ব্রাকাথনে আমরা চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। সেখানে ব্রাক ইউনিভার্সিটি আমাদের দুই লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার ফান্ডিং প্রোভাইড করেছে, আমরা ঐটা নিয়ে এখনো কাজ করছি। +কোথা থেকে এসেছেন ভাইয়া?

– ভাইয়া আমি এসএসসি(!) দিলাম… (সানজিদের পূর্বের কাজের পুনরাবৃত্তি)

৩। মেনটরস এসে টিমটার শর্ট প্রেজেন্টেশন নিচ্ছে, আমি গিয়ে এমনিতেই পাশে দাড়ালাম। শেষে-

– আপনারা এই রোড এক্সিডেন্টের প্রোজেক্টে কি কি সেন্সর, নাকি রে ইউজ করেছেন?

— আমাকে বিস্তর বলল.. (অসাধারন একটা প্রজেক্ট, ইমপ্লিমেন্টেশন করতে পারলে সিরিয়াসলি রোড এক্সিডেন্ট কমে যাবে)

– ভাইয়া কোডিং করেছেন কোন ল্যংগুয়েজ দিয়ে?

— আমরা আসলে তেমন কোডিং পারিনা, এমনিই কয়েকটা সেন্সর আর খেলনা গাড়ীর যন্ত্রাংশ ইউজ করেছি। আমরা মাত্র ক্লাস নাইনে(!) পড়ি তো, আর এত টাকাও ম্যানেজ করতে পারি না! ভাইয়া কোডিং কিভাবে শুরু করবো? আমাকে প্রশ্ন.. (আমি সুবিন ভাইয়ের বইটা প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড দিতে বলে, টেকশপ থেকে যন্ত্রাংশ না কেনার পরামর্শ দিয়ে নিঃশব্দে চলে আসলাম)

এরপর নামাজের পর ডিনারে চিকেন বিরিয়ানি, ভেজিটেবল। তারপর সুলায়মান শুখন ভাইয়ের ব্রিফিং (অলওয়েজ জোস)। এরপর আমার লিখতে বসা..

আসলে নিজের অবস্থান আর নলেজ সম্পর্কে জানার এতবড় আসর আমার লাইফে এই প্রথম। অনেক পিছিয়ে আছি, প্রায় দশ বছর। কেননা ঐ রোড এক্সিডেন্ট নিয়ে কাজ করা টিমের জিনিয়াস দুইটা ক্লাস ফোর থেকে এগুলা কাজ করে!! এই মুহুর্তে আমি পুরস্কার বা ফান্ডিং এর আশা করছিনা। কেননা আমার কাছে পুরস্কার হল আমার মেন্টাল সেটিসফেকশন। কেননা আমি জানি কতটা অর্জন হয়েছে আমার এখানে এসে, আর সে অনুযায়ী আমি সেটিসফাইয়েড..

এই নোট লেখার সময় অডিটোরিয়ামের মধ্যে রাত ১২.৩০ মিনিটে সঙ্গীতানুষ্ঠান চলে, আর আমি অডিটোরিয়ামের বাইরের মাঠে ঘাসের উপর শুয়ে। যদিও গত ৪১ ঘন্টায় ঘুম আমার মাত্র ১.৩০ ঘন্টা, এরপরেও আমি এনার্জিয়াস, কিউরিয়াস, উৎফুল্ল! জানছি, শিখছি,দেখছি..

সবশেষে শুখন ভাইয়ের একটি কথা, “আমরা যে গুগল থেকে তথ্য সংগ্রহ করি, অন্য দেশ থেকে অন্যরা সার্স দিলেও ঠিক একই তথ্য পেয়ে থাকে, তাহলে কেন আমরা পিছিয়ে?” চলবে জ্যামিং… (smile emoticon)

(বিঃদ্রঃ দ্বিতীয় দিনের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করার ইচ্ছা থাকলেও না করি… ?)

আমার ব্লগের মূল পোস্টঃ https://bit.ly/2HAO1Fk
_________
Md. Sanzidul Islam
Lecturer, Dept. of SWE
Daffodil International University
Cell: +880 1864007005
Portfolio: https://sanzidscloud.com
102, Shukrabad, Mirpur Road
Dhanmondi, Dhaka- 1207