ভাইরাসের সংক্রমণজনিত কাশি

Author Topic: ভাইরাসের সংক্রমণজনিত কাশি  (Read 41 times)

Offline Sahadat Hossain

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 267
  • Test
    • View Profile
ঋতুর পরিবর্তন ঘটছে। এ সময় প্রতিবছরই সর্দি–কাশির প্রকোপ বাড়ে। এবার তার সঙ্গে তো বিশ্বজুড়ে চলমান করোনাভাইরাসের মহামারি রয়েছেই। এ ভাইরাসের সংক্রমণেরও প্রধান উপসর্গ কাশি। তাই এ সময় কাশি হলে সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ছেন, করোনা হলো না তো, নাকি সাধারণ অ্যালার্জি বা ফ্লু? কাশি কমাতেই–বা কী করবেন?

শ্বাসনালিতে ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে কাশি হয়। সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশিও তীব্র হয়। এই কাশি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়। কিন্তু অনেক সময় কাশি কয়েক মাসও স্থায়ী হতে পারে। কারণ, ভাইরাসের কারণে শ্বাসনালি ফুলে ও অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। ফলে কাশির স্থায়িত্বকাল বাড়ে। এমনকি সংক্রমণমুক্ত হওয়ার পরও কাশি থাকতে পারে।

মনে রাখতে হবে, ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না; বরং অনাবশ্যক অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগের ফলে শরীর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়। কাজেই সাধারণ ভাইরাসজনিত কাশিতে বা মৌসুমি জ্বর–কাশি হলে চট করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া চলবে না।

অনেকে কাশি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে কফ-সিরাপ কিনে খাওয়া শুরু করে দেন। এটিও কোনো সমাধান নয়। এতে যে কেবল বেশি ঘুম পায়, তা নয়; বাজারে চলতি কফ-সিরাপগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেক সময় খিঁচুনি, ঝিমুনি, অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন, কিডনি, যকৃতের সমস্যাসহ নানা ক্ষতি হতে পারে।

কাশির সিরাপে হাইড্রোকার্বন থাকে। মূলত বুকব্যথা ও কাশি দমনে এটা ব্যবহৃত হয়। হাইড্রোকার্বন একধরনের মাদক, যা ক্ষতিকর। এটা ছাড়াও কাশির সিরাপে অনেক উপাদান থাকে, যেগুলোর কারণে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, ঝিমুনি আসে, ঘুম ঘুম ভাব হয়। সিরাপের মরফিন স্নায়ু ও পেশিকে শিথিল করে দেয়। এফিড্রিনের কারণে শ্লেষ্মা শুকিয়ে যায়। কাজেই কাশি বা মৌসুমি সর্দি–জ্বর হলেই ওষুধের দোকানে ছোটা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রকার ওষুধ সেবন চলবে না।

কিছু উপদেশ মেনে চললে মৌসুমি কাশিতে আরাম পাওয়া যেতে পারে:

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এতে কফ পাতলা হবে।

গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। এতেও কফ পাতলা হবে। তবে করোনাভাইরাসসহ অন্যান্য ভাইরাস এতে মরে না। গরম পানির ভাপ নিলে গলায় খুশখুশ কমে, আরাম পাওয়া যায়।

শুকনা কাশি থাকলে ও গলা খুশখুশ করলে হালকা গরম পানিতে একটু লবণ দিয়ে কুলকুচি বা গার্গল করুন। মুখে কোনো লজেন্স, লবঙ্গ বা আদা রাখলেও আরাম পাবেন।

হাঁপানি ও অ্যালার্জির রোগীরা এই সময় সাবধান থাকুন। কারণ, এখন ধুলাবালু ও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের সময়। এ সময়ই হাঁপানির জটিলতা বাড়ে। প্রয়োজনে ইনহেলার ব্যবহার করুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন যখন

কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে, রক্ত এলে, কাশতে কাশতে শরীর নীল হয়ে গেলে বা প্রচণ্ড জ্বর থাকলে, কথা বলতে কষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যেকোনো কাশি দুই বা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকলে অবশ্যই বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান: বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A3%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF
Md.Sahadat Hossain
Asst. Administrative Officer
Office of the Director Administration
Daffodil Tower(DT)- 4
102/1, Shukrabad, Mirpur Road, Dhanmondi.
Email: da-office@daffodilvarsity.edu.bd
Cell & WhatsApp: 01847027549