আল কোরআনে সিজদার আয়াত সমূহ

Author Topic: আল কোরআনে সিজদার আয়াত সমূহ  (Read 78 times)

Offline ashraful.diss

  • Newbie
  • *
  • Posts: 26
  • 'শীঘ্রই রব তোমাকে এত দিবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে'
    • View Profile
আল কোরআনে সিজদার আয়াত সমূহ

পবিত্র কোরআনুল কারিমের মাঝে এমন কিছু আয়াত রয়েছে যেগুলো তেলাওয়াত করলে তেলাওয়াতকারীর ওপর একটি সিজদা ওয়াজিব হয়। সে আয়াতগুলোকে সিজদার আয়াত বলে।
সিজদার আয়াত পবিত্র কোরআন শরিফে মোট চৌদ্দটি। সবকটি সূরার আয়াত, নম্বর ও অর্থ দেয়া হলো।
(১)
‎إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُون
অর্থ : নিশ্চয় যারা তোমার প্রভুর নিকট আছে তারা তার ইবাদতের ব্যাপারে অহঙ্কার করে না এবং তার তাসবিহ পাঠ করে, এবং তার জন্যই সিজদা করে। (সূরা আরাফ, আয়াত নং ২০৬)।
(২)
‎وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ
অর্থ : আর আসমানসমূহ ও জমিনের সবকিছুই আল্লাহর জন্য অনুগত্য ও বাধ্য হয়ে সকাল সন্ধ্যায় সিজদা করে এবং তাদের ছায়াগুলোও। (সূরা রাদ, আয়াত নং ১৫)।
(৩)
‎وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
অর্থ : আর আসমান ও জমিনের যত প্রাণী এবং ফেরেশতা আছে সবাই আল্লাহকেই সিজদা করে, তারা অহঙ্কার করে না। তারা তাদের উপরস্থ রবকে ভয় করে এবং তাদেরকে যা নিদের্শ দেয়া হয়, তারা তা পালন করে। (সূরা নাহল, আয়াত নং ৫০)।
(৪)
‎قُلْ آمِنُوا بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا
অর্থ : (কাফেরদেরকে) বলে দাও, বলুন; তোমরা এতে ঈমান আন বা না-ই আন, যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল, তাদের সামনে যখন (কোরআন) পড়া হয় তখন তারা থুতনি ফেলে সিজদায় পড়ে যায়। আর তারা বলে, আমাদের প্রতিপালক পবিত্র মহান পবিত্র! আমাদের রবের ওয়াদা অবশ্যই কার্যকর হয়ে থাকে। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে থুতনির ওপর (সিজদায়) লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের অন্তরের বিনয় আরও বৃদ্ধি করে। (সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত নং ১০৭-১০৯)।
(৫)
‎أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ مِنْ ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا
অর্থ : এরাই হচ্ছে আদম (আ.) এর সন্তানের মধ্যে থেকে সেসব নবী, আল্লাহ যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং যাদের আমি নুহের সঙ্গে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। আর ইব্রাহিম ও ইসমাইলের বংশোদ্ভূত এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম। যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় লুটিয়ে পড়তো। (সূরা মারইয়াম, আয়াত নং ৫৮)।
(৬)
‎أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ
অর্থ : তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর জন্য সিজদা করে যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু রয়েছে জমিনে, সূর্য ও চাঁদ, নক্ষত্ররাজি, পাহাড়, বৃক্ষ, জীবজন্তু ও মানুষের মধ্যে অনেকে; যাদের প্রতি শাস্তি অবধারিত হয়ে আছে। আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন তার সম্মানদদাতা কেউ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন। (সূরা হজ, আয়াত নং ১৮)।
(৭)
‎وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اسْجُدُوا لِلرَّحْمَنِ قَالُوا وَمَا الرَّحْمَنُ أَنَسْجُدُ لِمَا تَأْمُرُنَا وَزَادَهُمْ نُفُورًا
অর্থ : আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা রহমান (আল্লাহ)-কে সিজদা কর, তখন তারা বলে, রহমান কী? তুমি আমাদেরকে আদেশ করলেই কি আমরা সিজদা করবো? আর এটা তাদের পলায়নপরতাই বৃদ্ধি করে। (সূরা ফুরকান, আয়াত নং ৬০)।
(৮)
‎أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
অর্থ : (সে তাদেরকে নিবৃত্ত রেখেছে), যাতে তারা সিজদা না করে আল্লাহকে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বিষয়াবলি প্রকাশ করেন এবং তোমরা যা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর সবই জানেন। (সূরা নামল, আয়াত নং ২৫-২৬)।
(৯)
‎إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ
অর্থ : আমার আয়াতসমূহ কেবল তারাই বিশ্বাস করে যারা এর দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দেয়া হলে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ করে। আর তারা অহঙ্কার করে না। (সূরা সিজদা, আয়াত নং ১৫)।
(১০)
‎قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَى نِعَاجِهِ وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ وَظَنَّ دَاوُودُ أَنَّمَا فَتَنَّاهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهُ وَخَرَّ رَاكِعًا وَأَنَابَ
অর্থ : তিনি (দাউদ (আ.)) বললেন, তোমরার দুম্বাকে তার ভেড়ির পালের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি করে সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে। আর শরিকদের অনেকেই একে অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন করে থাকে। তবে কেবল তারাই এরূপ করে না যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে। আর এরা সংখ্যায় খুবই  কম। আর দাউদ জানতে পারলো যে, আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। তারপর সে তার রবের কাছে ক্ষমা চাইল, সিজদায় লুটিয়ে পড়লো এবং তার অভিমুখী হলো। (সূরা সোয়াদ, আয়াত নং ২৪-২৫)।
(১১)
‎وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ  فَإِنِ اسْتَكْبَرُوا فَالَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْأَمُونَ
অর্থ : আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, চন্দ্র ও সূর্য। তোমরা না সূর্যকে সিজদা করবে না চন্দ্রকে। আর তোমরা আল্লাকে সিজদা কর যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত কর। অতপর যদি এরা অহঙ্কারও করে তবে (তারা জেনে রাখে) যারা তোমার রবের নিকটে রয়েছে তারা দিনরাত তাঁরই তাসবিহ পাঠ করছে এবং তারা ক্লান্তি বোধ করে না। (সূরা হা-মীম সিজদা, আয়াত নং ৩৭-৩৮)।
(১২)
‎فَاسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا
অর্থ : সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা কর এবং ইবাদত করো। (সূরা নাজম, আয়াত নং ৬২)।
(১৩)
‎وَإِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنُ لَا يَسْجُدُونَ
অর্থ : আর যখন তাদের কাছে কোরআন তেলাওয়াত করা হয় তখন তারা সিজদা করে না। (সূরা ইনশিকাক আয়াত নং ২১)।
(১৪)
‎كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ
অর্থ : কখনও নয়, তুমি আর আনুগত্য করবে না। আর তুমি (তাকেই) সিজদা করো এবং নৈকট্য লাভ করো। (সূরা আলাক, আয়াত নং ১৯)।
এই চৌদ্দটি আয়াত যখন তেলাওয়াত করা হবে তখনই সিজদা করতে হবে। এখন কেউ পড়ে দিতে চাইলেও পারবে।
Mufti. Mohammad Ashraful Islam
Ethics Education Teacher, DISS
Khatib, Central Mosque, Daffodil Smart City
Ashuli , Savar, Dhaka