Suicide Prevention (কোন লক্ষণ প্রকাশ না করেই কি কেউ আত্মহত্যা করতে পার?)

Author Topic: Suicide Prevention (কোন লক্ষণ প্রকাশ না করেই কি কেউ আত্মহত্যা করতে পার?)  (Read 514 times)

Offline Abu Tareque

  • Newbie
  • *
  • Posts: 15
    • View Profile
                             কোন লক্ষণ প্রকাশ না করেই কি কেউ  আত্মহত্যা করতে পারে?
                                                                         

আত্মহত্যা - একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এই ঘটনা আমাদের আশেপাশের মানুষের মধ্যেই ঘটে। কেউ আত্মহত্যা করে এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাক এটি আমারা কেউ চাইনা। বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর ৭,০০,০০০ এর বেশি মানুষ আত্মহত্যার কারণে মারা যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে দশ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বিবিএস ঘোষণা করেছিল যে দেশে আত্মহত্যার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা করোনাভাইরাসে  মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুযায়ী, কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮,৪৬২ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। অপরদিকে আঁচল ফাউন্ডেশন কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য থেকে জানা যায় যে ঐ একই সময়ে ১৪,৪৩৬ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে।  করোনা মহামারীর প্রভাবে এই সংখ্যা যে আরো বেড়েছে তা যেকেউ খুব সহজে অনুমান করতে পারেন। অলাভজনক একটি বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে ২০২১ সালে ১০১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। ২০২০ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৭৯ জন।  আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা না থাকলে আমাদের আসে পাশের কে আত্মহত্যা করতে পারে,  আমরা কিভাবে আত্মহত্যা প্রবন ব্যক্তিকে সাহায্য করতে পারি অথবা আমাদের নিজেদের মনে যদি আত্মহত্যার চিন্তা  আসে তাহলে আমাদের করণীয় কি? এসব বিষয়ে যদি আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকে  তাহলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা আমাদের জন্য অনেকটাই সহজ হত। আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জনসচেতনতা। আত্মহত্যা প্রতিরোধে  আমাদেরকে যেসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে, নিম্নে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
 
১. আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাগুলো কি কি ?
আত্মহত্যা বিষয়ে জন সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রথমেই আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করা দরকার। এ বিষয়ে  জনসাধারণের মনে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।  আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাগুলো হলো:
a. আত্মহত্যা সম্পর্কে কথা বললে বা কাউকে জিজ্ঞাসা করলে তারা আত্মহত্যা করতে উৎসাহিত হয়।
b. যারা আত্মহত্যার কথা বলে তারা কখনও আত্মহত্যার চেষ্টা করে না।
c. আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টা কোন সতর্কতা ছাড়াই ঘটে।
d. যদি একজন ব্যক্তি একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে বেঁচে থাকে, তবে সে আর কখনও আত্মহত্যার করবে না।
e. একজন ব্যক্তি একবার আত্মহত্যা করার ইচ্ছা পোষণ করলে তাকে আর থামানোর কোনো উপায় থাকে না।
f. যারা আত্মহত্যার হুমকি দেয় তারা শুধু অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করে, আত্মহত্যা করে না। তাই তাদের হুমকি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া         উচিত নয়।
g. যাদের মনে আত্মহত্যার চিন্তা আসে তারা সকলেই হতাশাগ্রস্ত।
h. আত্মহত্যার কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তি আসলে পাগল বা মানসিকভাবে অসুস্থ।
i. যারা আত্মহত্যা করে তারা স্বার্থপর, কাপুরুষ বা দুর্বল।
j. আত্মহত্যার ক্ষেত্রে  সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং  কাজ করে না।
k. আত্মহত্যা বংশগত। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ আত্মহত্যা করে ।
l. আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য নয় ।
m.আত্মহত্যাকারী স্পষ্টতই মরতে চায়।
উপরে উল্লেখিত সবগুলো বাক্য আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা।

২. আত্মহত্যার করার আগে ব্যক্তি কি কি লক্ষণ প্রকাশ করে?
সাধারণত প্রতিটি মানুষ আত্মহত্যা করার আগে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ করে।  আমরা যদি সেসব লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হই তাহলে, লক্ষণ গুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হব। মনে রাখবেন আমাদেরকে আত্মহত্যার প্রতিটি হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।  আত্মহত্যা করার আগে মানুষ সাধারণত যেসব লক্ষণ প্রকাশ করে:
a. আত্মহত্যা সম্পর্কে আলোচনায  করা অথবা লিখিতভাবে আত্মহত্যার কথা তুলে ধরা। যেমন: আমার বেঁচে থাকার কোন কারণ নেই,আমাকে ছাড়া সবাই ভালো থাকবে,  আমি চেষ্টা করে ক্লান্ত হয়েছি , আমি যদি মরে যেতাম, আমি আত্মহত্যা করব ,  আমার আপন বলতে কেউ নাই  ইত্যাদি ।
b. আত্মহত্যার সংকেত দিয়ে কোন নোট লিখা। অথবা  আত্মহত্যার ইঙ্গিত বহন করে এমন কোন কিছু সোশ্যাল মিডিয়া তে পোস্ট করা। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা। যেমন: আমার জীবন ব্যর্থতায় ভরপুর , জীবন  অর্থহীন, আমি খুব অসহায়, আমি গুরুত্বহীন, আমি অন্যের কাছে বোঝা হয়ে বেঁচে আছি।
c. আত্মহত্যা করার উপায় খোঁজা। ঝুঁকিপূর্ণ বা আত্ম-ধ্বংসাত্মক কাজ করা।  যেমন:  অ্যালকোহল বা ড্রাগের ব্যবহার বৃদ্ধি বা বেপরোয়াভাবে      গাড়ি চালানো, আগ্নেয়াস্ত্র কেনা, দড়ি খোঁজা, কোন ক্ষতিকর ড্রাগ কেনা ইত্যাদি।
d. ব্যক্তির খাওয়া বা ঘুমের ধরন সহ স্বাভাবিক রুটিন পরিবর্তন  হওয়া। সে আগে যা করত না তেমন কিছু করা। অর্থাৎ হঠাৎ করে ব্যক্তির আচরণ এবং মেজাজে বড় পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়া।
e. বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে  বিদায় জানান, যেন তাদের সাথে আর দেখা হবে না।
f.  দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ-কষ্টের কথা শেয়ার করা।  বুঝানো যে সে খুব কষ্টে আছে। ভবিষ্যত সম্পর্কে গভীর নিরাশার অনুভূতি প্রকাশ করা।
g. হঠাৎ করে শান্ত হয়ে যাওয়া। ব্যক্তি হতাশা বা অন্য কোন নেতিবাচক আবেগের পর হঠাৎ করে শান্ত হয়ে যেতে পারে ।  এর কারণ হতে পারে যে ব্যক্তি তার জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
h. একা থাকতে চাওয়া । বন্ধু, পরিবার,  সমাজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে দূরে রাখা। 
i. যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে তার প্রশংসার করা। আত্মহত্যার প্রচেষ্টায় সফল হওয়ার জন্য ব্যক্তিটিকে "সাহসী" হিসাবে বর্ণনা করা।
j. হটাৎ ব্যক্তিগত সম্পত্তি উইল করা, ব্যক্তির প্রিয়  অথবা  মূল্যবান কোন জিনিস দান করা।


৩. কারা  আত্মহত্যার রিক্স ফ্যাক্টরে আছেন?
আত্মহত্যার রিক্স ফ্যাক্টর গুলো জানা থাকলে যেসব ব্যক্তি আত্মহত্যার রিক্স ফ্যাক্টরে আছেন, তাদের প্রতি আমরা বিশেষ নজর রাখা সম্ভব।  তখন তারা যদি  আত্মহত্যার কোন লক্ষণ প্রকাশ করে তাহলে সাথে সাথে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। যেসব ব্যক্তি আত্মহত্যার রিক্স ফ্যাক্টরে আছেন :
a. যেসব ব্যক্তি সাম্প্রতিক ট্রমা বা জীবন সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। জীবন সংকটের মধ্যে রয়েছে প্রিয়জনের  মৃত্যু, সম্পর্কের অবসান, ডিভোর্স, চাকরি হারানো বা গুরুতর আর্থিক সমস্যা, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা,  ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সাম্প্রতিক আত্মহত্যা ইত্যাদি।
b. যাদের চিকিৎসা না করা মানসিক অসুস্থতা আছে।  যেমন: বিষন্নতা , সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিসঅর্ডার অথবা উদ্বেগজনিত রোগ(Anxiety Disorder) ইত্যাদি।
c. যাদের দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক রোগ আছে। যেমন:  ক্যান্সার, এইচআইভি ইত্যাদি ।  দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সাথে মানিয়ে নিতে অক্ষমতা, ব্যক্তিকে হতাশার অনুভূতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফলে কেউ কেউ  আত্মহত্যাকে তাদের যন্ত্রণা মোকাবেলার সেরা বিকল্প হিসেবে দেখতে পারে।   
d. যাদের আত্মহত্যার পারিবারিক ইতিহাস আছে।
e. অতীতের যাদের আত্মহত্যার প্রচেষ্টার  ইতিহাস আছে।
f.  যাদেরকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। যারা সমাজের সমর্থন হারিয়েছে  অথবা হয়রানির শিকার হয়েছে।
g. যাদের আগ্নেয়াস্ত্র বা ক্ষতিকর ড্রাগের সহজ প্রাপ্যতা রয়েছে।
h. যাদের জীবনে শৈশব নির্যাতন, ট্রমা অথবা  ক্রমাগত নির্যাতিত হওয়ার ইতিহাস আছে।
i. যারা পরীক্ষায় অনাকাঙ্খিত ফলাফল পেয়েছেন।
j. এবং যারা মাদকাসক্ত ব্যক্তি ।

৪. আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে কীভাবে সাহায্য করা যেতে পারে?
কেউ যদি সরাসরি আত্মহত্যার কথা বলে অথবা যদি কারো কথা, কাজ বা আচরণে  আত্মহত্যার অভ্যাস পাওয়া যায় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। কারণ আত্মহত্যার পিছনে যে কোন একটি নেতিবাচক আবেগ থাকে, যা ওই ব্যক্তির কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে।  এই অবস্থায় ওই ব্যক্তির যদি তার কোন শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে মনের কষ্টগুলো শেয়ার করার সুযোগ হয় তাহলে সেটি  তার নেতিবাচক আবেগের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করবে। যেটাকে সাইকোলজিতে মানসিক নিরাময় (Mental Healing) বলা হয়। এই জন্য আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তির সাথে যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ করতে হবে।    আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে যেভাবে সাহায্য করা যেতে পারে :
a. ব্যক্তির মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা আসছে কিনা অথবা তার আত্মহত্যা করার কোন পরিকল্পনা করছে কিনা তা নিয়ে  সরাসরি কথা বলুন।
b. তার সাথে কথা বলার সময়  শান্ত থাকুন এবং আশ্বস্ত স্বরে কথা বলুন। আগ্রহ সহকারে নিরপেক্ষ মনে তার কথা শুনুন।
c. ব্যক্তিকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। তার প্রতি সহানুভূতিশীল এবং নিরেপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন। সে যে আবেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার স্বীকৃতি প্রদান করুন যেমন:  আপনি বলতে পারেন ‘আমি বুঝতে পারছি আপনি খুব কষ্টকর একটি অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতে যে কারো খুব কষ্টকর অনুভূতি হওয়াটাই স্বাভাবিক’।
d. তাকে সাহায্য করতে আপনি যে আগ্রহী, তা প্রকাশ করুন।
e. তাকে আশ্বস্থ করতে পারেন যে আত্মহত্যার অনুভতি অস্থায়ী এবং  চিকিৎসার মাধ্যমে তারা ভালো বোধ করতে পারেন। ব্যাক্তির আবেগীয় অবস্থার উন্নতি হলে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিতে উৎসাহ প্রদান করতে পারেন। অথবা আপনি নিজেই কোন সাইকোলজিস্ট অথবা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে তাকে নিয়ে যেতে পারেন।
f.  ব্যক্তির কাছ থেকে যেকোন ক্ষতিকর জিনিস যা দিয়ে সে আত্মহত্যা করতে পারে যেমন:  বন্দুক, ছুরি, ড্রাগ ইত্যাদি সরিয়ে ফেলুন।
g. তার পরিবারের সদস্যের সাথে অথবা তার পরিচিত কোন ব্যক্তির সাথে কথা বলুন।
h. যে ব্যক্তি আত্মহত্যার ঝুঁকির মধ্যে আছেন তার, তার পরিবারের সদস্যদের, তার প্রতিবেশীর এবং নিকটস্থ থানার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাখুন। যাতে যে কোন জরুরী পরিস্থিতে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 
i. জরুরী  সাহায্য পেতে  ৯৯৯ নম্বরে কল করুন। যে কোন সাহায্য না আসা পর্যন্ত ব্যক্তির সাথে থাকুন অথবা তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা অব্যহত রাখুন। 

৫. আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে কোন কাজগুলো করা যাবে না?
আত্মহত্যা কোন সমাধান নয় , আত্মহত্যা মহা পাপ , আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি জাহান্নামে/নরকে যাবেন। আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে মানুষ সাধারণত এই বাক্যগুলো  বলে থাকেন। আত্মহত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এমন ব্যক্তি কি উল্লেখিত বাক্যগুলো জীবনে এই প্রথম শুনছেন ? এমন প্রশ্ন আপনাকে করা হলে আপনার উত্তর হবে "না"। তাহলে তারা কি জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ? আসলে আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তির মনের তীব্র নেতিবাচক আবেগের কারণে সাময়িকভাবে তার যৌক্তিক চিন্তাভাবনা ঐ নেতিবাচক আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়।  ফলে সে তখন আর কোন যৌক্তিক কথা পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেন না। আবার কোন সময় তা ব্যক্তির মনে অন্য কোন নেতিবাচক আবেগ (যেমন: রাগ , বিরক্ত ইত্যাদি) সৃষ্টি করতে পারে। তাই আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে সাহায্য করার সময়  এমন কিছু করা যাবেনা যা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এমন কিছু কাজ হলো :
a. আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তির সাথে তর্ক না করা । 
b. তার সাথে এমন ভাবে কথা না বলা যেন  আপনি হতবাক হয়েছেন। যেমন:  আপনার মতো মানুষ আত্মহত্যা করবে এটা ভাবতেই আমার অবাক লাগছে !
c. তাকে কোনভাবেই  বিচার না করা। যেমন: আপনি কি কাপুরুষ! তাই আত্মহত্যা করবেন?
d. আত্মহত্যা সম্পর্কিত কোন কথার গোপনীয়তার রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি না দেওয়া।
e. তার সামনে ধর্মীয় প্রবাদ, উপদেশ বাণী  বা জীবনের মূল্য সম্পর্কে বক্তৃতা না দেওয়া ।

৬. নিজেদের মনে যদি আত্মহত্যার চিন্তা  আসে তাহলে করণীয় কি?
বিভিন্ন কারণে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে।  তখন হয়তো আপনার মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে।  যদি এমনটা হয়  তাহলে
a. প্রথমে নিজেকে বলুন যে আমি আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করছি, এখন আমি  কিছু করবনা।  আমি ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করব অথবা এক সপ্তাহ অন্য কোন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।
b. এসময় একজন সাইকোলজিস্ট অথবা কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে থেকে সাহায্য নিতে পারেন ।
c. আত্মহত্যার চিন্তা বিশ্বস্থ কোন ব্যক্তির  সাথে শেয়ার করতে পারেন। এটি হতে পারে আপনার পরিবারের সদস্য, বন্ধু, থেরাপিস্ট, শিক্ষক, পারিবারিক ডাক্তার, অথবা প্রশিক্ষক।
d. আপনার মনে যদি আত্মহত্যার চিন্তা  আসে তাহলে আপনার বাসায় একটা নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করুন। আপনি নিজেকে আঘাত করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন এমন জিনিসগুলো বাসা থেকে সরে রাখতে পারেন।  যেমন: ঔষধ, ছুরি, রেজার বা আগ্নেয়াস্ত্র ইত্যাদি। আপনি যদি তা করতে না পারেন  তবে আপনি এমন কোন জায়গায় যেতে পারেন যেখানে আপনি নিরাপদ বোধ করেন। আপনি যদি ঔষধের ওভারডোজ নেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে আপনার ওষুধ, এমন কাউকে দিন যিনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনাকে ওষুধ দিতে পারেন। এসময় প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে পারেন ।
e.নিজের মনে  আশা জাগাতে পারেন যে আমি এক নয় আমার মতো অনেকেই  এই আবেগের মধ্য দিয়ে যায়। এমনকি যারা আমার  মতো খারাপ বোধ করছেন তারা এখন শিখেছেন যে কিভাবে নেতিবাচক আবেগ মোকাবেলা করতে হয় অথবা নিয়ে নেতিবাচক আবেগ পথ চলতে হয়। 
f. ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ এবং রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ আপনাকে আপনার নেতিবাচক আবেগ মোকাবেলা করতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

আত্মহত্যা যদি সমস্যা হয় তাহলে এটার একটা সমাধানও আছে। উপরে উল্লেখিত উপায়গুলো সেই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।


লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।





References:
1. পার্থ শঙ্কর সাহা, এক বছরে ১০১ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, দৈনিক প্রথম আলো ২৯ জানুয়ারি ২০২২.
2. নাগিব বাহার, আত্মহত্যা: বাংলাদেশে ২০২১ সালে ১০১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিজের হাতেই নিজের জীবন নিয়েছেন, বলছে গবেষণা, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
           ২৯ জানুয়ারি ২০২২.
3. WHO,Suicide, 17 June 2021.
4. Wikipedia, Suicide in Bangladesh
5. Kamrul Hasan & Arifur Rahman Rabbi, Examining the alarming suicide trends in Bangladesh,Dhaka Tribune, May 8th, 2018.

« Last Edit: February 07, 2022, 01:48:46 PM by Abu Tareque »
Psychologist