Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Abu Tareque

Pages: [1]
1
Psychological Support / Hypochondriasis
« on: September 28, 2021, 02:37:22 PM »
                                                                                                  Hypochondriasis

                                                                                   
Hypochondriasis is a disorder in which  people strongly believe that they have a serious or life-threatening illness despite having no, or mild, or few symptoms. They are excessively and unduly worried about having a serious illness. Actually it is a disorder of "perception and cognition. In the DSM-5, it is diagnosed as illness anxiety disorder. For example, a person who has a minor cough may think that he/she has tuberculosis or some other disease.

 People with hypochondriasis have: 1. Preoccupation with fears of having, or the idea that one has, a serious disease based on the person's misinterpretation of bodily symptoms. Physical symptoms are not present or if present, only mild, 2. The preoccupation persists despite appropriate medical evaluation and reassurance, 3. Constantly talking and checking about their health and possible illnesses, 4. Frequently searching the internet for causes of symptoms or possible illnesses.5. The preoccupation causes clinically significant distress or impairment in social, occupational, or other important areas of functioning for at least 6 months.

People with hypochondriasis may have had a serious illness in the past that could lead them to misinterpret that all body sensations are serious, so they search for evidence to confirm that they have a serious disease or if they had parents who worried too much about their own health or their child’s health. People who excessively use the internet to search for health information and who have a tendency toward being a worrier / who have major life stress are at risk of hypochondriasis.

To prevent hypochondriasis one can learn how to recognize stressor when they're stressed and how this affects the body and they can regularly practice stress management and relaxation techniques. One can stick with their treatment plan to relapses or worsening of symptoms of hypochondriasis.
Most research indicates that cognitive behavioral therapy (CBT) is an effective treatment for hypochondriasis. If you have hypochondriasis, you can seek professional advice as soon as possible. Hopefully you will get rid of hypochondriasis soon.


Written by: Md. Abu Tareque, Psychologist, Daffodil International University

2
                                                   যে মানসিক রোগের লক্ষণগুলো ভৌতিক বলে মনে হয়
                                   

এলাকায় হঠাৎ একদিন সাড়া  পরে গেল যে সালেহি কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।  কেউ বলল সে  হয়তো কোথাও বেড়াতে গেছে,  কেউ বলল  সে গুম  হয়েছে, কেউ বলল জিনেরা তাকে তাদের দেশে নিয়ে গেছে, কেউ বলল সে হয়তো রাগ করে বাড়ি থেকে চলে গেছে। তার পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজা খুজির পর এলাকায় মাইকিং করার ব্যবস্থা করলেন ।  তাতেও কোন লাভ হল না ।  পরে এই নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকা পর্যন্ত গড়াল, তাতেও কোন  সাড়া পাওয়া গেলনা।  একদিন সালেহির এক আত্মীয় তার মা কে বলল যে একজন কবিরাজের কাছে যেতে, যাতে সে সালেহির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন।  তিনি তাই করলেন।  কবিরাজ প্রায় ৩০ মিনিট পর সালেহির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তার মাকে জানালেন। পরে সেই স্থানে সালেহিরকে না পাওয়া গেলে সালেহির মা আবারও  কবিরাজের কাছে গেলেন।  সে বললেন আপনারা ওই স্থানে পৌঁছানোর কিছু আগে জিনেরা তাকে অন্য স্থানে নিয়ে গেছেন। এভাবে কবিরাজের দেওয়া তথ্যমতে কয়েকবার সালেহির অনুসন্ধানেই পর তার পরিবারের মানুষের ভুল ভাঙলো। 

এর প্রায় ২মাস পর একদিন সন্ধ্যায়  সালেহি বাড়ি ফিরে আসলেন। পরিবারের সদস্যরা খুব আনন্দিত হলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকলেন যে সে এতদিন কোথায় ছিল? তাকে গুম  করা হয়েছিল কিনা? কেন সে এতদিন বাড়ির বাহিরে থাকল? ইত্যাদি প্রশ্ন।  এতদিন সালেহি কোথায় ছিল, কি খেয়েছিলো, কোথায় গিয়েছিলো এসব তথ্যের  কোন কিছু সে মনে করতে পারল না। যারা বলেছিলো সালেহিকে জিনেরা নিয়ে গেছে  তাদের ধারণা আরোও পোক্ত হল, কবিরাজের কথার সাথেও মিল পাওয়া গেল। ফলে সবাই মোটামোটি বিশ্বাস করে নিল যে জিনেরা সালেহীকে তাদের দেশে নিয়ে গিয়েছিল এবং অনুমান করা হল যে, সালেহি যাতে জিনের দেশের অবস্থান কোন মানুষ কে না বলতে পারে তাই তারা তার মস্তিষ্ক থেকে সেই স্মৃতি মুছে দিয়েছে। 
এতদিনে সালেহির শারীরিক স্বাস্থ্যের কিছুটা অবনতি দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে একটা হাসপাতালে নিয়ে গেলন। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সালেহিকে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে বললেন।  প্রথমে কেউ  সালেহিকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিতে না চাইলেও সালেহীর বড় ভাইয়ের অনুরোধে তাকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। ডাক্তার সালেহির এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রায় এক ঘন্টা কথা বলার পর তাদেরকে জানালেন যে সালেহি বিচ্ছিন্নতামূলক স্মৃতি ভ্ৰংশ বা ডিসোসিয়েটিভে এমনেশিয়া (According to DSM-5: Dissociative Amnesia; with dissociative fugue) নামক একটি মানসিক রোগে ভুগছেন।  এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি একটি পীড়নমূলক পরিস্থিতির পর থেকে হঠাৎ করেই তার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য স্মরণ করতে পারে না। 
তিনি আরো বললেন যে, বিচ্ছিন্নতামূলক স্মৃতি ভ্রংশ প্রায় সব ক্ষেত্রেই পীড়নমূলক অভিজ্ঞতার পর সৃষ্টি হয় যেমন;দাম্পত্য কলহ, ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়া, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা, অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি।  সালেহির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাবার মৃত্যু পীড়নমূলক অভিজ্ঞতা হিসাবে কাজ করেছে। বিচ্ছিন্নতামূলক স্মৃতি ভ্ৰংশে ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের তথ্যগুলো  চিরতরে হারিয়ে যায় না, শুধু বিস্মৃতির পর্যায়ে যখন চলতে থাকে তখন সে তথ্যগুলো দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি ভান্ডার থেকে পুনরুদ্ধার করতে পারেনা। 
বিস্মৃতির ফলে ব্যক্তির আচরণে  বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। যেমন: সে স্থান-কাল-পাত্র সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে , উদ্দেশ্য বিহীন ভাবে ঘোরাফেরা করতে পারে।  অথবা ব্যক্তি সম্পূর্ণভাবে তার অতীত জীবনের ঘটনাবলী ভুলে যেতে পারে  এবং সে হঠাৎ করে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যেতে পারে  এবং অন্য কোন স্থানে গিয়ে একটি নতুন পরিচয়ে কাজকর্ম করতে শুরু করতে পারে।  এ ছাড়া অন্যান্য সব  আচরণে কোন বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায় না।  সামগ্রিক স্মৃতিভ্রংশ দেখা দিলে, রোগী তার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবকে চিনতে পারে না, কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে কথাবার্তা বলতে পারে, বই পড়তে পারে যুক্তিপূর্ণভাবে চিন্তা করতে পারে, এবং পূর্বে যেসব দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করেছিল সে অনুযায়ী কাজ করতে পারে। বিস্মৃতির উপাখ্যানটি কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই স্মৃতিভ্রংশ  থেকে মুক্ত হতে কতদিন লাগবে তা বলা যায় না।  যদিও  একদিন ব্যক্তির স্মৃতি সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসে, কিন্তু তার পলাতক জীবনের ঘটনাগুলো বিস্মৃতির গর্ভে হারিয়ে যায়।
বিচ্ছিন্নতামূলক স্মৃতি ভ্ৰংশ রোগের চিকিৎসার জন্য কবিরাজের কাছে না গিয়ে একজন মেন্টাল হেলথ প্রফেশনাল এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।


লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

3
                             দুঃসময়ে করি সন্ধান, আছে কি বিকল্প সমাধান!

                                 
সামি (ছদ্ম নাম) ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ছাত্র।  স্কুল কলেজে ভাল ফলাফল করার পর সে এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে  পড়ছে। বাবা-মার কড়া শাসনের মধ্যদিয়ে  বড় হওয়া সামি  বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম  নিজের মতো করে চলার সুযোগ পেয়েছিল । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের  শুরুর দিকে  তার সাথে তার ক্লাসের এক মেয়ের ভাল বুন্ধত্ব হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়।  প্রথম দিকে এই সম্পর্ক খুব ভাল  চললেও পরে নানা কারণে তাদের মধ্যে ঝামেলা হতে থাকে । সামি তার সঙ্গীর ওপর অনেক দিক থেকে নির্ভরশীল থাকলেও মাঝে মাঝে  তার সাথে কয়েকদিনের জন্য কথা বলা বন্ধ রাখত।  একদিন  এরকম একটি বিরতীর পর কথা বলার জন্য সামি তার সঙ্গীকে  কল  দিলে  তার ফোন নাম্বার বন্ধ পায়।  পরে সে জানতে পারে যে তার সঙ্গীকে তার পরিবারের সদস্যগণ জোড়পূর্বক অন্য একটি ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছে ।  এই সংবাদটি জানার পর সামি প্রথমে তার সংজ্ঞা  হারান এবং পরে কষ্ট ভুলে থাকার জন্য ঘুমের ঔষধ সেবন করা শুরু করেন  ।  এভাবে চলতে চলতে সে একদিন  আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।  বিষয়টি তার বাবা-মা জানতে পারলে সামিকে তার নিজ গ্রামে নিয়ে যান এবং সবসময় তাকে তাদের নজরে রাখেন। বাবা-মার সেবা এবং সহানুভূতিশীল ব্যবহারে সামি খুব কম সময়ে মধ্যে অনেকটা স্বাভাবিক হতে পেরেছিলেন। এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষবর্ষে  পড়ছেন। আর এখনো সামি সেই কষ্টকর অভিজ্ঞতাটি ভুলে যায়নি , কিন্তু ঘটনাটি এখন তার  মনের ওপর তেমন কোন নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। 
মানুষ হিসাব আমাদের জীবনে যেমন সফলতা আছে তেমনি আমাদের জীবনে বিফলতাও আছে।  কোন কোন বিফলতা থেকে বের হয়ে আসা  আমাদের জন্য সহজ হয় আবার কোন কোন বিফলতা থেকে বের হয়ে আসা  আমাদের জন্য অনেক কঠিন হয়। একজন মানুষ জীবনের সবক্ষেত্রেই  যে  সফল হবেন তা বলা যাবেনা।  অনেকবার বিফলতার পরও সফলতার আলো দেখা যেতে পারে । বিফলতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে  তা নিয়ে চিন্তার মধ্যে ডুবে থাকলে আমাদের চিত্ত অস্থির হয়ে ওঠে।  তখন আমরা মানসিক ভাবে হতাশ, বিষন্ন, উদ্বিগ্ন , অসহায় হয়ে পড়ি। শুধুমাত্র বিফলাতার পরে যে আমরা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরিনা তা না তাছাড়া বিভিন্ন ঘটনার পরও  আমরা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরতে  পারি। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমাদের সামনে যেমন অনেকগুলি কার্যকর পথ খোলা থাকে ঠিক তেমনি কিছু অকার্যকর পথও খোলা থাকে। গল্পের সামির সামনেও অনেকগুলি পথ খোলা ছিল  যেমন : ১। ড্রাগ নেওয়া, ২।  আত্মহত্যা করা , ৩। অন্য একটা সম্পর্কে গিয়ে সঙ্গীর ক্ষতি করা  ৪।  কষ্টের কথা বন্ধুদের সাথে বা বাবা-মার সাথে শেয়ার করা ৫। নতুন সম্পর্কে যাওয়া ৬। নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া  ৭। এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে সুন্দর লক্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়া  ৮। প্রতিযোগিতামূলক চাকরীর পড়ালেখা করা ৯। পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়া , এরকম অনেক পথ। এই পথগুলির মধ্যে কিছু পথ  তার জন্য নেতিবাচক আবার কিছু পথ ইতিবাচক। নেতিবাচক পথ হোক  বা ইতিবাচক পথ হোক এখানে তার সম্পূর্ণ  স্বাধীনতা রয়েছে যে, সে কোন পথ তার নিজের জন্য বেছে নিবে। গল্পের সামি,  নেতিবাচক পথ বেছে নিয়েছিল ইচ্ছা করলে সে ইতিবাচক পথেও যেতে পারত।
যে কোনো বিপদ মোকাবিলা করতে প্রথমে আপনাকে আপনার  নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। মানুষ হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের মাঝে কিছু না কিছু ইতিবাচক গুণাবলী আছে। বিপদে সেগুলি কাজে লাগাতে হবে।  খুঁজে বের করতে হবে বিপদের সময় আপনি কার কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারেন ।  চিন্তা করে বের করতে হবে কোন কোন বিকল্প পথ আপনার জন্য খোলা আছে । তাছাড়া  বিপদে আপনি আপনার অতীত অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে পারেন। লক্ষ্য করলে দেখবেন আমাদের আশেপাশে পরিচিত অনেকেই আছেন, যাদের কাছ থেকে আমরা বিপদের সময়  সাহায্য পেতে  বা নিতে পারি। এই সাহায্য এমন হতে পারে যে, কেউ আপনার  কথা খুব মন দিয়ে শোনে আপনি তার কাছে আপনার কষ্টের কথা শেয়ার করতে পারেন, যে  আপনাকে  তথ্য  দিতে পারবে বলে মনে করছেন, তার কাছ থেকে আপনি  তথ্য নিতে পারেন , আবার কেউ আপনাকে ভাল পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে পারে, কেউ আপনাকে অর্থ দিয়ে বা পরিশ্রম দিয়ে সাহায্য করতে পারে, আপনি তাদের কাছ থেকে সেই সাহায্য গুলি নিতে পারেন।  আবার কোন কোন ঘটনার জন্য আমাদের ভাগ্য দায়ী থাকে। সেক্ষেত্রে হয়তো আমাদের কিছুই  করার  থাকেনা, ঘটনাটা মেনে নেওয়া ছাড়া। যে ঘটনাটি আর কোনোভাবেই পরিবর্তন করা সম্ভব না তা মেনে নিয়ে চলাটা  আমাদের জন্য ইতিবাচক।

বিপদের সময়  অস্থির থাকলে আমরা আমাদের ইতিবাচক গুলাবলি, আমাদের সক্ষমতা  অথবা আমরা  যাদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারি তাদের সম্পর্কে সাচেতন থাকতে পারি না।  আমাদের মনে তখন শুধু নেতিবাচক  চিন্তা চলতে থাকে। গল্পের সামির মতো হঠাৎ কোন নেতিবাচক পথে আমাদের পা চলে যেতে পারে। মনের অস্থিরতা কমানোর জন্য আমরা ডিপ ব্রিদিং রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ করতে পারি। এটা  আমাদের মনের অস্থরিতা দূর করতে সাহায্য করবে।  এছাড়া বিপদে সময়  কোন প্রতিক্রিয়া করার আগে আমরা নিজেদেরকে একটা সময় বেঁধে দিতে পারি যে, এই সময়ের আগে আমি কোন প্রতিক্রিয়া করব না।  তবে এটা সঙ্কটকালের  ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এছাড়া কখনো যদি আপনি আপনার বিপদ সামাল দিতে মানসিকভাবে নিজেকে অসামর্থক মনে করেন  তবে  আপনি একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নিতে পারেন , তিনি আপনাকে আপনার  ইস্যু থেকে বের হয়ে আসতে সহায়তা  করবেন।

 
লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

4
Psychological Support / Re: Lifestyle That Boost Your Mental Well-being
« on: August 05, 2021, 01:38:50 PM »
Thanks  :)

5
Psychological Support / Lifestyle That Boost Your Mental Well-being
« on: August 05, 2021, 01:22:31 PM »
                                                            Lifestyle That Boost Your Mental Well-being

                                           

If you are dissatisfied with your present lifestyle and you want to change this, then this article will help you. To lead a healthy and productive life, you have to  reschedule your daily activities. First,  you have to change your sleeping and eating time. Sleeping time should be  at night, not in the morning or daylight. Second, you have to continue physical exercise everyday. Third, you have to reduce your unnecessary screen time. Fourth, everyday you have to  practice, perceiving the positive side of a negative event . And fifth,  you can create a preferable daily activities schedule by including all these together. Let's see the psychology behind these .
 
1. Healthy Sleep
Many of us have changed our lifestyle to keep pace with the times. It is found more in the students' life. They informed me that they go to bed at 1 am to 3am and wake up at 10am to 11pm . Due to class, sometimes  they wake up at 7am or 8am. They can not maintain the daily routine properly. On that day they can't pay their attention in class. They can't eat properly due to breaking their time schedule .Their moods become irritated easily . As they can't eat, they become tired. This  has an impact on their digestive system, liver functioning and so on. Studies have shown that one can change one's body clock by eating at the same time every day.
People who work at night and sleep during the day, and who sleep at night and work during the day, get a total of 24 hours time to work. The only difference between them is that they actually follow the same schedule of the average person in a different time zone. But the one who sleeps at night, is working according to his body clock. Nature also supports this rule. If you follow these, you can see the positive effect on your mental health and productivity. Otherwise you reduce your lifetime.

2. Physical Exercise
It is quite impossible to do physical exercise in the morning for  maximum students, because they sleep late at night. But if they try, they can change it. There are lots of neurotransmitters in our blood which are called hormone or chemical messengers. Some neurotransmitters are responsible for negative feelings . When we are in negative events, the neurotransmitter is found as an imbalance in our body. We can balance the neurotransmitter by physical exercise. Our heartbeat, respiratory system, blood flow become increased during physical exercise. As a result, germs flush out through our breath. This makes our lungs and heart stronger . Studies have shown that our immunity is increased by physical exercise .

3. Need Reduce Your Unnecessary Screen Time
Many students notice that unconsciously they spend lots of time on Facebook or YouTube. They don't know when they go online. They can't control their internet browsing. As a result, when a person is in a little discomfort situation, he/she enters these social media from his/her unconscious mind. It's ok to use the internet but when it is unnecessary, it becomes unproductive. To get rid of it, one can make an important activity list and then they can divide it into different small parts. To complete these important activities, they make a “to-do list” everyday.  After completing their task, they  can praise themselves. So that they feel motivated. Or they can put their device somewhere far away from them so that it is not easily accessible. And they can start doing things again that they previously enjoyed.

4. Practice Perceiving The Positive Side of a Negative Events  at Everyday
We may face lots of negative events in our life. If we perceive an event positively, then it makes us feel good. For example: If I get hurt by someone's behavior, I may think that he/she didn't really want to hurt me. Maybe he/she can’t understand the behavior. Maybe he/she is going through a negative event. He/she may be upset about something so he has treated me like that. Or my understanding may be wrong. Later I can ask him/her to find out the real facts. He always treated me well. Thus  one can keep  positive perceptions towards any negative event.


5. Preferable Daily Activities Schedule
Some students notice that they can't follow their daily routine. They were motivated enough when they created their new routine. But they couldn't follow this. They made this routine “I have to follow this routine”. In their daily life many unfavorable events happened . For that reason they can't follow their daily routine and become frustrated . If they create or make their routine as “I like to follow this routine” or “I prefer to follow this routine” then if they fail to follow the routine they can say to themselves it's ok to fail. As it is my favorite activity schedule. I can go back again. When he/she can complete their task they can give themselves some rewards or reinforcement with something and congratulate their effort. It can play as a motivator for them.
You can learn a lot, but it is up to you to decide whether you apply that knowledge in real life.


Writer: Md. Abu Tareque, Psychologist, Daffodil International University






References:

Sara G. Miller .2017. When You Eat Can 'Reset' Your Biological Clock, Live Science, June 02,   
         2017.

Alex Therrien .2018). Late risers at increased risk of early death, study finds, BBC News, April     
       12, 2018.


6
মানসিক রোগীকে বিয়ে দিলে, মানসিক রোগ যাবে গঙ্গার জলে !



একজন মা তার সন্তানের মানসিক অসুস্থতা নিয়ে খুব চিন্তিত। ছেলে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে। ছেলের মুখে বড় বড় স্বপ্নের কথা শুনে তিনিও ছেলেকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেন। ছেলের পড়ালেখা নিয়ে বাবার কোন মাথা ব্যথা নেই।  যত স্বপ্ন তা শুধু মার চোখেই। এই করোনা কালে স্বামীর ব্যবসায় ধস নামে। ছেলের পড়ালেখার খরচ জোগাড় করতে মা নিজেই ব্যবসা শুরু করেন। মা বিশ্বাস করেন যে তার ছেলের এই রোগ একসময় ভাল হবে।  তাই তিনি ঢাকার খুব নামকরা একজন মানসিক ডাক্তারের কাছে ছেলেকে নিয়ে গেলেন।  ডাক্তারকে অনেক কথা  বলার ছিল কিন্তু সময় সল্পতার কারণে তা বলা সম্ভব হয়নি।  ডাক্তার বলেন তার ছেলের বাইপোলার ডিসঅর্ডার (Bipolar Disorder) নামক একটি মানসিক রোগ হয়েছে । বড় বড় স্বপ্ন দেখা এ রোগের একটি লক্ষণ । একথা শুনে মায়ের মন খুব খারাপ হয়। তাহলে কি তার ছেলে এসব স্বপ্ন ওই রোগের কারণে দেখে ! আবার মাঝে মাঝে ছেলে খুব বিষন্ন মনে বসে থাকে। নিজেকে অপদার্থ ভাবে।  মার মধ্যে তখন অপরাধ বোধ কাজ করে এই ভেবে যে, তিনি যদি তার ছেলের সেই  সুন্দর  স্বপ্নগুলোর রসদ কিনে দিতে পারতেন তাহলে তার ছেলে এতদিনে  ভাল কিছু একটা করতে পারত। 

এখন আর ছেলে ভালোভাবে পড়া-লেখাও করতে পারেনা।  মাঝে মাঝে খুব আনন্দিত থাকে আবার মাঝে  মাঝে খুব বিষন্ন। ছেলে মাকে জানিয়ে দিয়েছেন তার কোন মানসিক রোগ নেই। তাই সে আর এসব ঔষধ খাবে না।  রোগের লক্ষণ আরও বেড়ে গেল। চোখের সামনে ছেলের এই অবনতি মায়ের মনকে অস্থির করে তোলে। আত্মীয়-স্বজনরা অনেকেই মাকে পরামর্শ দিলেন যে, তিনি যেন ছেলেকে বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ে দিয়ে এসব মানসিক রোগ ভাল হয়ে যাবে।  বিয়ের পর মানসিক রোগ ভাল হয়েছে, একজন তো এমন  দুই-তিনটি  উদহারণ পেশ করলেন। পরামর্শটা তার ভাল লাগলো না। ছেলের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে তিনি খুব চিন্তা করে নিয়ে থাকেন।পরে তিনি ছেলেকে নিয়ে আবার সেই ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তারকে রোগের বর্তমান অবস্থা জানানোর পর তিনি জানতে চাইলেন যে, আমি যদি ছেলেকে বিয়ে দিয়ে দেই তাহলে কি এই রোগ কিছুটা কমে যাবে ? ডাক্তার বললেন যে একটা  গাড়ির ক্ষমতা যত তার থকে বেশি লোড তার উপর দেওয়া হলে সেই গাড়ী কি বেশী দূরের পথ অতিক্রম করতে পারবে? আপনার ছেলের ব্রেইনের মধ্যে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ভারসামহীন অবস্থায় রয়েছে। সেজন্য সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আচরণ করে।  কোন গবেষণায় এখন পর্যন্ত প্রমাণিত  হয়নি যে বিয়ে দিয়ে দিলে মানসিক রোগ ভাল হয়। বরং আপনার ছেলের যে রোগ, তাতে তাকে বিয়ে দিলে খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন তথ্য একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। বিয়ে দিলে তার অসুস্থতা কমবে না বরং বাড়বে। এই রোগে দীর্ঘদিন ঔষধ খেতে হয় এবং কাউন্সেলিং নিতে হয়। যদি আপনি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন তাহলে আশা করা যায়, আপনার ছেলে তুলনামুলুক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। আপনি ধর্য্য ধারণ করে চিকিৎসা করে গেলে একসময় আপনার ছেলে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবে, চাকরী করতে পারবে, বিয়ে করতে পারবে।  তাই আমি আপনাকে মানুষের কথায় কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
মানসিক রোগীকে বিয়ে দিলে তার রোগ ভাল হবে এমন বিশ্বাস আমাদের দেশের অনেকের আছে। মানসিক রোগীকে বিয়ে দেওয়া কোনভাবেই উচিত হবেনা। যেখানে একজন মানসিক রোগী নানান জটিলতার ভিতরে দিয়ে জীবন-যাপন করে, সেখানে তার উপর বিয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া কতটা সঠিক হবে তা কি একবার ভেবে দেখা যায় ?

লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।






Reference:
Sandeep Grover, Ritu Nehra, and Anita Thakur. 2017. Bipolar affective disorder and its impact on
        various aspects of marital relationship. Link

7
"সব রিপোর্ট নরমাল, রোগ ধরা পড়ছে না" এমন কথা কি আপনিও শুনেছেন?




কেস-১: রোগীর বয়স ৩২। মহিলা। সমস্যা সারা শরীর জ্বালা পোড়া করে। বিশেষ করে রান্না করতে গেলে সমস্যা বেড়ে যায়। মাঝে মধ্যে হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এখন আর রান্না করতে পারেন না। তাই বাবার বাড়িতে থাকছেন।  স্বামী মিনি ট্রাক ড্রাইভার। ইতিমধ্যে তিনি তাদের মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য জমানো ২ লক্ষ টাকা চিকিৎসার পিছনে খরচ করেছেন। মেডিসিন, হার্ট এবং চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা এবং  বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট করেছেন। রোগ ধরা পড়েনি। আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য ভারতে চিকিৎসা করতে চাওয়ার ইচ্ছা পূরণ হয়নি । ডাক্তারী চিকিৎসার প্রতি হতাশ হয়ে কবিরাজের কাছেও গিয়েছেন। রোগ ধরা পড়েনি।  সর্বশেষ একজন মেডিসিন ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ঢাকা মেডিকেলের  মানসিক রোগ বিভাগে আসেন।   

কেস-২: ৭ম শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষার আগের রাতে ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার সময় জেসি চেতনা হারিয়ে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার চেতনা ফিরে আসে কিন্তু সে আর কথা বলতে পারেনি । সে অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু তার দ্বারা কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাড়াতাড়ি করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে  নিয়ে আসা হলে অনেকগুলো টেস্ট করা হয়।  এই ক্ষেত্রেও রিপোর্ট নরমাল। পরে তাকে  মানসিক রোগ বিভাগে রেফার করা হয়।

কেস-৩: মেয়ের বয়স ১৪।  খুব মেধাবী ছাত্রী।  সমস্যা হলো বাম হাত-বাম পা প্রায় অনুভূতিহীন। মাথা  বাম দিকে হেলানো।  মায়ের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না। বিভিন্ন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ও টেস্ট এর মোটা ফাইল নিয়ে ঢাকা  মেডিকেলের  মানসিক রোগ বিভাগে আসে। এই ক্ষেত্রেও সব রিপোর্ট নরমাল।

উপরের তিনটি কেসের ক্ষেত্রেই রোগী এবং রোগীর অভিভাবক প্রথমে বিশ্বাস করেননি যে লক্ষণগুলো  মানসিক রোগের। কিন্তু তারপরও মানসিক রোগ বিভাগে আসেন, যদি রোগ ভাল হয় তাই। এরকম অনেক কেস আমাদের আশেপাশে আছে যারা নিউরোলজিস্ট , কার্ডিওলজিস্ট , মেডিসিন ডাক্তারের  চেম্বারে ঘুরতে ঘুরতে বিরক্ত। এক ডাক্তারের কাছে রোগ ধরা না পড়লে অন্য ডাক্তার। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল ঘুরে মোটা একটা ফাইল তৈরী করেন। তবুও রোগ ধরা পড়েনা।

উপরের তিনটি কেসে যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে তার নাম কনভার্সন ডিজঅর্ডার।পূর্বে এই মানসিক রোগ হিস্টেরিয়া  নামে পরিচিত ছিল। DSM-5 অনুসারে এর নাম Conversion Disorder (Functional Neurological Symptom Disorder)। এ রোগের লক্ষণগুলো মূলত শারীরিক বা নিউরোলজিক্যাল লক্ষণ আকারে প্রকাশ পায়।  অর্থাৎ  রোগের লক্ষণগুলো দেখে শারীরিক বা নিউরোলজিক্যাল লক্ষণ মনে হবে  কিন্তু এই রোগের  পিছনে কোন ধরনের শারীরিক কারণ থাকে না। কনভার্সন ডিজঅর্ডার সম্পূর্ণই মানসিক রোগ ।

কনভার্সন ডিজঅর্ডারের সাধারণ লক্ষণগুলো হল: ব্যক্তির শারীরিক দুর্বলতা অথবা  প্যারালাইসিস দেখা দিতে পারে।  কেউ আবার হঠাৎ করে কোন বিশেষ ঘটনার আগে বা পরে  অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। শরীরের কোন অংশে সংবেদনহীনতা অনুভব করতে পারে  বা ব্যথার অনুভূতি অনুপস্থিত থাকতে পারে। ব্যক্তি শরীরের বিভিন্ন অংশে পিন ফুটানোর মত বা সুড়সুড়ির  মত অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে। কেউ কেউ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয় করতে পারে না বা অস্বাভাবিক ভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন করে অথবা  হাঁটতে পারে না। কারো কারো ঢোক গিলতে সমস্যা হয়। কেউ আবার জোরে  কথা বলতে পারে না। কারো ক্ষেত্রে কথা বলা বন্ধ হতে পারে অথবা কেউ  কথা বলতে সমস্যা বোধ করতে পারে। মুখ বাঁকা হয়ে যেতে পারে । ব্যক্তির শরীরে  খিঁচুনি বা কাঁপুনি থাকতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তির  শ্রবণ, দর্শন অথবা  ঘ্রাণ সংবেদন সম্পূর্ণ বা আংশিক  ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দর্শন সংবেদনের ক্ষেত্রে কারো সংকীর্ণ দৃষ্টি দেখা দিতে পারে যেন তারা একটি নলের মধ্য দিয়ে দৃশ্যবস্তুকে দেখছে। এসব লক্ষণের পিছনে কোন শারীরিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেকে মনে করেন যে ব্যক্তি  নিজের  ইচ্ছাই  এসব লক্ষণ সৃষ্টি করছে। যেহেতু কোন মেডিকেল টেস্টে এই রোগ ধরা পড়েনা তাই অনেকেই এটিকে জিন ভুতের প্রভাবে সৃষ্ট রোগ মনে করেন। এই রোগের লক্ষণগুলো আসলে কোন পীড়নমূলুক ঘটনার আগে বা পরে   হঠাৎ করেই শুরু হয়। 

কনভার্সন ডিজঅর্ডার এর লক্ষণ গুলো শারীরিক বা স্নায়ুবিক মনে হলেও আসলে এটি ব্যক্তির মানসিক দ্বন্দ্ব বা মানসিক চাপ থেকে হয়ে থাকে। ব্যক্তি যখন কোন মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে পারেনা অথবা কোন দ্বন্দ্ব নিরসনে ব্যর্থ হয় তখন তার মধ্যে এই রোগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। যার ফলে ব্যক্তি সাময়িক ভাবে মানসিক চাপ বা দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তি পায়। লক্ষগুলো ব্যক্তির অনিচ্ছায় সৃষ্টি হয়, এবং এর পিছে তার করণীয় কিছুই থাকে না।
উল্লেখ্য যে কনভার্সন ডিজঅর্ডার আছে কিনা তা  নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রথমেই একজনের মেডিকেল টেস্ট করা জরুরি। মেডিকেল রিপোর্ট যদি নরমাল আসে এবং রোগের  লক্ষণগুলো যদি ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত এবং সামাজিক জীবনে অসুবিধার সৃষ্টি করে তাহলে যে কেউ একজন পেশাগত সাইকোলজিস্টের কাছ থেকে কাউন্সেলিং সেবা নিতে পারেন। সাইকোলজিস্টরা সাধারণত কনভার্সন ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তির  মানসিক চাপ এবং দ্বন্দ্ব গুলো খুঁজে বের করেন এবং তা  নিরসনে ব্যক্তিকে কাউন্সেলিং এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে সহায়তা করেন। কাউন্সেলিং এবং সাইকোথেরাপির  মাধ্যমে কনভার্সন ডিজঅর্ডার থেকে একজন ব্যক্তি সুম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করতে পারেন। তাই যদি কারো মধ্যে উপরে যে লক্ষণগুলো উল্ল্যেখ করা হয়েছে সেগুলোর কোনটি থাকে এবং বার বার মেডিকেল টেস্টের  রিপোর্ট নরমাল আসে তাহলে রোগটি মানসিক কিনা তা জানার  জন্য কোন মানসিক ডাক্তারের কাছে যাওয়া যেতে পারে।


লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।








References:
Davison, Gerald C., and John M. Neale. 2001. Abnormal psychology. 8th ed. New York: John Wiley &  Sons, Inc.   
        pp: 161-163
American Psychiatric Association. (2013). Diagnostic and statistical manual of mental disorders: DSM-5™ (5th
        ed.). Arlington, VA: Author. pp: 318 -324
অধ্যাপক নীহাররঞ্জন সরকার,ডাঃ তনুজা সরকার (২০১৩),অস্বাভাবিক মনোবিজ্ঞান : মানসিক ব্যাধির লক্ষণ কারণ ও
            আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, তৃতীয় সংস্করণ ,জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, ঢাকা-১১০০, পৃ: ২৭৫-২৭৮

8
মানসিক রোগের ডাক্তার কি একসময় নিজেই মানসিক রোগী হয়?



একথা সত্য যে, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। আবার এদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে এমন পেশাগত জনবলের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এদেশের  জনমানুষের মনে নানা ভ্রান্ত ধারণা থাকাটাই  স্বাভাবিক । তার মধ্যে অন্যতম একটি ভ্রান্ত ধারণা হলো মানসিক রোগের ডাক্তার একসময় নিজেই মানসিক রোগী হয়। অনেক সময় কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে মানসিক রোগের ডাক্তারকেই মানসিক রোগী বলতে দ্বিধা করেননা। তাদের  এ কথা বলার পিছনে বিভিন্ন কারণ আছে। এর প্রধান কারণ হলো মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞানের  অভাব।

আমাদের কাছে যখন কোন প্রকৃত বা সঠিক তথ্য থাকেনা, তখন যদি কোন ভুল তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরা হয় তাহলে তা সঠিক বলে মনে হয়। মানসিক রোগের ডাক্তার একসময় নিজেই মানসিক রোগী হয়ে যায় এমন তথ্য আমরা কোথায় পেলাম? এই প্রশ্নের একটি যুক্তিযুক্ত উত্তর হতে পারে  আমাদের বিনোদন মাধ্যম, বিশেষ করে বাংলা সিনেমা এবং নাটক । বিভিন্ন সময় নাটক, সিনেমা বা উপন্যাসে চিত্রায়িত হয় বা হয়েছে যে, মানসিক রোগের ডাক্তাররা চিকিৎসা করতে করতে একসময় নিজেরাই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এই ধারণা অনেক পুরনো। যেমন ১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সামাজিক-নাট্যধর্মী ভারতীয় চলচিত্র "দীপ জ্বেলে যাই" এ দেখানো  হয় যে, মানসিক রোগের সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি নিজেই একসময় মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। এছাড়া আমাদের দেশের বিভিন্ন লিখাতে, নাটকে বা সিনেমাতেও এধরণের ঘটনার আঁচ পাওয়া যায়। যেহেতু আমরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কম সচেতন তাই বিনোদন মাধ্যম থেকে পাওয়া এসব তথ্য মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে  আমাদের মধ্যে ভ্রান্ত বিশ্বাস স্থাপনের ভূমিকা রাখতে পারে।  বিষয়টি মনোবিজ্ঞানের শিখন তত্ত্ব (Learning Theory) দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।  নতুন কোন কিছু যদি আমাদের সামনে বারবার উপস্থাপন করা হয় তাহলে বিষয়টির শিখন, দ্রুত ও সহজ হয়। আস্তে আস্তে বিষয়টির উপর বিশ্বাস স্থাপন হয় এবং আমরা সেই তথ্য  দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকি।

আর এধরণের মনোভাব / পূর্বধারণার জন্যই,  মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করেন,  মানুষ তাদের আচরণের ভুলভ্রান্তির দিকে একটু বেশিই নজর রাখেন। আর দশজন মানুষের আচার-আচরণের কোন ভ্রান্তি যেখানে লক্ষণীয় নয়, সেখানে ঐ একই আচরণ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা মানুষের ক্ষেত্রে গুরুতর। উপরের এই দুটি লাইন আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে লিখেছি। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিও একজন মানুষ একথা আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবেনা। যে কোন মানুষেরই  শারীরিক এবং মানসিক অসুস্থতা দেখা দিতেই পারে। যারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন সাধারণত তাদের মানসিক অসুস্থতার কারণ জানা থাকে। তারা মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করেন। মানুষের অসুস্থ মনের কার্যাবলী  তাদের জানা থাকে এবং তারা মানসিক রোগের চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন, যার ফলে তাদের নিজেদের জীবনের মানসিক সংকট সমাধান করা তাদের জন্য অনেকটাই সহজ হয়। 

একথা সত্য যে তারা অনেক মানুষের কষ্টের কথা শুনেন,নিজেরাও কষ্ট পান। অসুস্থ মানুষের জটিলতা দেখেন এবং তাদের চিকিৎসা করেন। এসব কাজের মধ্যে তাদেরও খুব ভালো লাগার একটা বিষয় আছে, আর তা হলো রোগীর / ক্লাইন্টের সুস্থতা এবং তাদের দেওয়া ফিডব্যাক। এটা তাদের জন্য একটা অসাধারণ প্রাপ্তি, অনুপ্রেরণার এবং  প্রশান্তির বিষয়। সাধারণ ডাক্তার যেমন শারীরিকভাবে অসুস্থ হতে পারেন তেমনি মানসিক রোগের ডাক্তারেরও মানসিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তবে সমস্যা হ'ল, আমরা যদি তা সব মানসিক ডাক্তারের ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ করে ফেলি। আর সেটা করা আমাদের জন্য কতটা সঠিক হবে তা নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে। সেটা কি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের আগ্রহের ক্ষেত্রে কোন নেতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারে কিনা, সেটাও ভেবে দেখা যেতে পারে। পরিশেষে বলতে চাই মানসিক রোগের ডাক্তার মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে করতে  একসময় নিজেই মানসিক রোগী হয় এই ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে বের হয়ে এসে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমাদের জন্য করণীয় কিছু আছে কিনা তা ভেবে দেখা যেতে পারে। 

লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।









References:

উইকিপিডিয়া,দীপ জ্বেলে যাই
Brenner, A.M., Balon, R., Guerrero, A.P.S. et al. Training as a Psychiatrist When Having
        a Psychiatric Illness. Acad Psychiatry 42, 592–597 (2018).Link
Batya Swift Yasgur.2019.Challenging Stigma: Should Psychiatrists Disclose Their Own
         Mental Illness? Link

9
Positive Self-Talk and Our Body Reaction

                                     

We are the combination of two entities, physical entity and mental entity. It is just like the hardware and the software of a computer. One is valueless without the existence of the other.

When our mind becomes sad for any reason, various neurotransmitters are secreted from our body. The secretion of these neurotransmitters causes various changes in our body. Such as respiratory system, digestive system, nervous system, cardiovascular system, urinary system etc. On the other hand,  if there is an injury in the body, it affects our mind. So we can see, there is a strong relationship between our body and mind. Therefore our thoughts, behavior and productivity depends on the physical and mental condition.
There is a relationship with our personality pattern, problem solving skills, ability to work under  pressure, ability to control emotions to our thought pattern . For example, those who have less ability to work under pressure, he/she may have more negative thoughts. Due to negative thoughts the secretion of  various neurotransmitters are increased. As a result our anxiety, restlessness, and stress increase. After that some changes are found in our behavior. Such as: our morale, confidence, risk-taking behavior, interest in work, etc decrease. So if we think positively about something, then we will have a positive feeling in our mind. As a result our mental energy will increase. On the other hand, if the level of  neurotransmitters changes in our  body due to negative thoughts, it will create negative feelings. As a result our behavior changes and  decreases our productivity. All occur one after another.
We may fall into a bad situation at any time. Sometimes negative events can happen to us just like in the past. It is normal in human life. But we can think positively during unfavorable situations or time so that it is easy for us to be patient at that time and we can do something productively.
We can try to practice positive self-talk. Let's look at some examples of positive thoughts. We can think "one day everything will be fine" instead of  "Nothing is good to me" .We can think "I am worthy  " instead of " I am worthless  ".We can think "This time will pass  " instead of " Time will never change ".We can think " I am strong enough" instead of " I am weak ".We can think " I will not stop trying  "instead of "I will not try again  ".We can think " Best is yet to come  " instead of" Things are never good ".We can think " I can do this  " instead of " I can't do this  ".We can think " I am sufficient " instead of "I am not sufficient  ".We can think " Whoops I made a mistake  "instead of " I am so dumb". We can think " I like me" instead of " No one likes me ". We can think " I did something bad  " instead of " I am a bad person ".We can think " This is really hard, but I am going to keep trying " instead of "I give up. I will never be able to do this  ".We can think " I have not figured it out yet  " instead of "I never get anything right  ". If we think, the positive side of anything from now, we will get the benefit of positive thought. I know, practice makes a man perfect. I believe also, you have the capability to practice positive self-talk.


Writer: Md. Abu Tareque, Psychologist, Daffodil International University.






References:
Arthur E. Jongsma Jr.2006. Adult Psychotherapy Homework Planner: 2nd (second Edition), New
       York: John Wiley & sons, Inc. pp: 119-120
Robert S. Feldman. 2011. Understanding Psychology. 9th Edition. McGraw-Hill Education,pp: 61-78


11
                                                               সাইকোলজিস্টরা যেভাবে মুখ দেখে মনের কথা বলে

       

সাইকোলজিস্টরা যেভাবে মুখ দেখে মনের কথা বলে তা জানার আগে একটি গল্প জানা যাক। আছফিয়া তার বান্ধবীর সাথে সাইকোলজিস্টের চেম্বারের বাহিরে সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করছে। সম্প্রতি তার ছেলেবন্ধু তাদের সম্পর্কের ইতি টেনেছে, যা সে কোনভাবেই মেনে নিতে  পারছে না। তাই তার এখানে আসা। তার বান্ধবীর সাথে কথা বলার সময় সে আছফিয়াকে একটি প্রশ্ন করলো যে, সাইকোলজিস্টরা নাকি মুখ দেখেই মনের কথা বলতে পারে, এ ব্যাপারে তুই কি কিছু জানিস? আছফিয়া বলল সে  নিশ্চিত নয়, তবে এমন কথা সেও শুনেছে।   

আছফিয়ার বান্ধবীর ওই প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই আসে। বিশেষ করে যখন কোন সাইকোলজিস্ট বা সাইকোলজির শিক্ষার্থীর সাথে আমাদের দেখা হয়, তখন তো নিশ্চিতভাবেই আসে।  যাইহোক, সাইকোলজিস্ট যে মুখ দেখে মনের কথা বলতে পারবে, এমন ধারণা নিয়ে আছফিয়া সাইকোলজিস্টের রুমে প্রবেশ করল।  সে তার ঘটনা শেয়ার করার সময় সাইকোলজিস্ট তার কথাগুলো খুব মনোযোগ সহকারে শুনেন। তার প্রতি নন-জাজমেন্টাল বা নিরপেক্ষ থাকেন। তার প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করেন এবং তার সকল কথা শতভাগ গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন যাতে আছফিয়া তার মনের কথা বলার জন্য আদর্শ পরিবেশ পায়। সে যখন তার কষ্টের কথাগুলো শেয়ার করছিল তখন সাইকোলজিস্ট আছফিয়ার মনের মধ্যে যেসব অনুভূতি তৈরী হতে পারে তা প্রকাশ করছিলেন। মাঝে মাঝে ঘটনাগুলোকে খুব সংক্ষেপে বলার পর আছফিয়ার কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে তিনি ঠিক বলেছেন কিনা? আছফিয়া সাইকোলজিস্ট এর সাথে একমত পোষণ করে বলে যে, হ্যাঁ আপনি একদম ঠিক বলেছেন। সত্যিই আপনি আমার মনের কষ্টগুলো বুঝতে পেরেছেন। সত্য কথা বলতে কি, আসলে কেউ আমাকে বোঝে না। আমার কথাগুলি কেউ শুনেনা। সবাই আমাকে দোষারোপ করে বলে সব ভুল নাকি আমার! বলতে বলতে আছফিয়া অনেক কান্না করল। তারপর আরও অনেক কথা শেয়ার হলো। কাউন্সেলিং সেশন শেষ করে আছফিয়া তার বান্ধবীকে বললেন সত্যিই সাইকোলজিস্টরা মুখ দেখে মনের কথা বলতে পারে।  একথা আরও অনেকের কানে পৌঁছে গেল। আপনার কানেও আসলো। এরপর থেকে আপনি সাইকোলজিস্টদেরকে দেখলে আপনার মনের মধ্যে এখন কি কথা চলছে তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করতে ভুলে যান না।

এবার জানা যাক সাইকোলজিস্টরা কিভাবে মুখ দেখে মনের কথা বলেন? আসলে যারা সাইকোলজিস্ট হিসেবে কাজ করেন, তাদের সাইকোলজির কোন ফলিত শাখায় একটি ডিগ্রী এবং বাস্তবিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকে। তাদের চেম্বারে যাতে যে কেউ মন খুলে কথা বলতে পারে এমন একটি পরিবেশ থাকে। তারা সেবা গ্রহীতাদের সাথে প্রথমেই তাদের পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন করেন। সাইকোলজিস্টরা সাধারণত সেবা গ্রহীতার ফোন কল থেকে শুরু করে কাউন্সেলিং সেশন পর্যন্ত  কাউন্সেলিং সেবার স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ের দিকে সচেতন নজর রাখেন। কাউন্সেলিং সেশনেও তারা সেবা গ্রহীতাদের বিভিন্ন বিষয়ে নজর রাখেন। যেমন- সেবা গ্রহীতার বয়স, লিঙ্গ, জাতি, শারীরিক গঠন ও দেহ ভঙ্গিমা,চোখের যোগাযোগ, পোশাক, সাজসজ্জা, ম্যানার, মনোযোগ, ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, অস্বাভাবিক গতিবিধি, কথার হার ও ছন্দ, কণ্ঠস্বর, কথার স্বতঃস্ফূর্ততা, আবেগের স্থায়িত্ব, আবেগের যথাযোগ্যতা  এবং তীব্রতা। চিন্তার বিষয়বস্তুর মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা, মৃত্যু কামনা, হতাশাবোধ, সন্দেহ প্রবণতা, হ্যালুসিনেশন, যুক্তি ইত্যাদি। এছাড়া সেবা গ্রহীতার নিজের অসুস্থতা, স্থান, কাল এবং  পাত্র বিষয়ে সচেতনতার উপস্থিতি সহ  বিভিন্ন বিষয়ের দিকে তারা নজর রাখেন।

তারা সেবা গ্রহীতার প্রধান প্রধান অসুবিধার কথা, ডেভলপমেন্টাল তথ্য, পারিবারিক তথ্য, পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক, অতীত শারীরিক ও মানসিক রোগের ইতিহাস সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে থাকেন। যা একজন সেবা গ্রহীতার মনের অবস্থা বোঝার জন্য সম্পূরক উপাদান হিসাবে কাজ করে। এই তথ্যগুলো থেকে সাইকোলজিস্ট একজন  ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে থাকেন। যে সেবা গ্রহণ করতে আসেন সে তার ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে বলতে থাকেন কিন্তু তার মনের অনুভূতি সাধারণত কম প্রকাশ করেন। সেবা গ্রহীতা যখন তার কষ্টের কথা শেয়ার করেন তখন  সাইকোলজিস্ট সেবা গ্রহীতার মনের প্রকৃত অনুভূতি কেমন হতে পারে তা জানার জন্য প্রথমে নিজেকে তার স্থানে বসিয়ে তার মতো করে অনুভব করার চেষ্টা করেন। পরে সেবা গ্রহীতার কাছে সেই অনুভূতি  প্রকাশ করেন যাতে সে তার মনের অনুভূতি বুঝতে পারেন। সেবা গ্রহীতা তখন সাইকোলজিস্টের সাথে একত্ব বোধ করেন এবং  বলে থাকেন যে আপনি সত্যিই আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরেছেন। আর এসব করতে সাইকোলজিস্টরা তাদের প্রশিক্ষণ কাজে লাগানো ব্যতীত কোন মেকি আচরণের আশ্রয় গ্রহণ করেননা।

সাইকোলজিস্ট আপনার মুখ দেখে মনের কথা না বরং আপনাকে দেখে তাদের পেশাগত দক্ষতা দিয়ে আপনার মনের আবেগীয় অবস্থা বলতে পারেন।

লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।











Reference:
Hill, C. E. (2009). Helping skills: Facilitating, exploration, insight, and action.(3rd ed.). American
       Psychological Association, pp: 77-184

12
                                                                    তোমার মনে বসত করে কয় জনা ?
                                         

লাবিবা যথারীতি তার দৈনন্দিনের কাজ শেষ করে ঘুমিয়ে পড়েছে। সকালে সে ঘুম থেকে উঠে দেখে যে, কে যেন তাদের কিচেনে প্রবেশ করে সেখানে কফি পান করেছে এবং কোন কিছু রান্না করে খেয়েছে । সেদিন লাবিবার বাবা তার ব্যবসার জরুরী কাজে বিদেশে অবস্থান করেছিলেন। এবং তার মা পাশের রুমে ঘুমিয়েছিলেন। বাসার প্রধান দরজা ভিতর থেকে লক করা ছিল। সকালে তার মাকে জিজ্ঞাসা করলে তার মা কিচেন রুমের ঘটনার কোন ব্যাখ্যা দিতে পারলেন না । লাবিবার দুশ্চিন্তা বেড়ে যেতে শুরু করল। তার মাথায় বারবার কয়েকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল। যেমন- কে বাসায় প্রবেশ করেছিল? কিভাবে প্রবেশ করেছিল? কী উদ্দেশ্য নিয়ে বাসায় প্রবেশ করেছিল? এটা কিভাবে সম্ভব যখন বাসার দরজা ভিতর থেকে লক করা! তাহলে কি ঘটনাটি অতিপ্রাকৃতিক কিছু? মা ঘুমের ঔষধ খেয়ে সাড়া রাত ঘুমিয়ে থাকেন তার দ্বারা এমন কাজ সম্ভব না! আর আমি তো ভুলেও কফি পান করিনা ! তাহলে.....?
যখন ঘটনাটির  কোন কূলকিনারা পাওয়া যাচ্ছিলনা, তখন লাবিবার মাথায় একটি সমাধান এল। সে তাদের বাসার সিসিটিভির ফুটেজ রিভিউ করল। সে যা দেখতে পেল, তাতে সহজে সে বিশ্বাস করতে পারল না।  ফুটেজে সে দেখতে পেল যে,   রাত তিনটায় সে নিজে তার রুম থেকে বের হয়ে কিচেন রুমে গিয়ে কফি পান করেছে এবং নুডলস রান্না করে খেয়েছে, যদিও সে সাধারণত কফি পান করে না।

তারপর বিষয়টি নিয়ে ইন্টারনেটে কিছুক্ষন ঘাটাঘাটির পর সে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেল। লাবিবার অতীত জীবনের ঘটনা এবং বর্তমান ঘটনা জানার পর তিনি লাবিবাকে জানালেন যে সে "বিচ্ছিন্নতামূলক আত্ম-পরিচয়ের বিকৃতি (Dissociative Identity Disorder)” নামক একটি মানসিক রোগে ভুগছেন। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে কমপক্ষে দুইটি, সম্পূর্ণ পৃথক ব্যক্তিত্বের অস্তিত্ব থাকে এবং ব্যক্তিত্ব দুটির মধ্যে আচরণ বা কাজেরও সম্পূর্ণ পৃথক ভঙ্গি থাকে। ব্যক্তিত্বগুলো বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত হয় এবং ব্যক্তির আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যক্তি যখন একটি ব্যক্তিত্বে অবস্থান করে তখন অন্য ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সে কিছুই মনে করতে পারে না। এমনকি অন্য ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে তার কিছুই জানা থাকে না। সাধারণত ব্যক্তিত্বের ধরন গুলোর  পরিবর্তন স্থায়ী হয় ফলে তার জীবনে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।  প্রত্যেকটি ব্যক্তিত্বের নিজস্ব আচরণের ধারা থাকে এবং স্মৃতি থাকে। এই ব্যক্তিত্বগুলো পরস্পর থেকে আলাদা এমনকি বিপরীতধর্মীও হতে পারে। যেমন-এক ব্যক্তিত্বে  ব্যক্তি যদি ডান হাত প্রধান হয়, অন্য ব্যক্তিত্বে  রূপান্তরিত হলে সে  বাম হাত প্রধান হতে পারে।  এক ব্যক্তিত্বে তার একটি পদার্থে এলার্জি হলে  অন্য ব্যক্তিত্বের তা হয় না। উল্লেখ্য যে, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যক্তিসত্তাগুলোর মধ্যে আচরণের সামঞ্জস্যতা থাকে।
মনঃসমীক্ষণ তত্ত্ব অনুসারে সব ধরনের বিচ্ছিন্নতা মূলক বিকৃতি হলো ব্যাপক অবদমনের ফল। অর্থাৎ ব্যক্তি বিভিন্ন বেদনাদায়ক স্মৃতিকে ভুলে থাকার জন্য অবচেতন মনে সে তার মূল ব্যক্তিত্ব থেকে সড়ে এসে বিভিন্ন নতুন ব্যক্তিত্বের আশ্রয় নেয় বা বিভিন্ন নতুন ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ করার প্রচেষ্টা করে। আচরণবাদীদের ধারণাও অনেকটা মনঃসমীক্ষণ বাদীদের মতই।  তারা মনে করেন বিচ্ছিন্নতামূলক প্রতিক্রিয়া হল, পীড়াদায়ক ঘটনা বা স্মৃতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ব্যক্তির একটি পরিহারমুলক প্রতিক্রিয়া। একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, শিশুরা তীব্র পীড়নমুলুক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা হিসাবে আত্ম-সম্মোহন (Self-hypnosis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতা মূলক প্রতিক্রিয়া অর্থাৎ অন্য একটি নতুন ব্যক্তিত্বের মতো আচরণ করা শিখতে পারে।

মনঃসমীক্ষণ ও আচরণবাদ তত্ত্ব পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে যে, বিচ্ছিন্নতা মূলক মনোবিকৃতির সঙ্গে তীব্র পীড়নের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্য একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, শিশুদের জীবনে পীড়নের প্রধান কারণ হলো শারীরিক শাস্তি এবং যৌন নিপীড়ন। যে সব চিকিৎসক  বিচ্ছিন্নতা মূলক আত্মপরিচয় বিকৃতির চিকিৎসা করেন, তাদের রোগীদের উপর একটি জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৮০% রোগী বলেছিল যে, শৈশবে তারা শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছে, এবং ৭০% বলেছে তারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যৌন নিপীড়ক ছিল তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন।
মনোচিকিৎসক লাবিবাকে আরো জানালেন যে, সঠিক চিকিৎসা পেলে বিচ্ছিন্নতা মূলক আত্ম-পরিচয়ের বিকৃতি নামক মানসিক রোগটি হতে বেশিরভাগ ব্যক্তি  সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেন। তবে যত শীঘ্র চিকিৎসা শুরু করা যাবে রোগী তত দ্রুত  আরোগ্য লাভ করবে। রোগ শুরু হওয়ার পর যত বেশি দিন যাবে, আরোগ্যলাভ কত কঠিন হবে।


লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।





References:
Davison, Gerald C., and John M. Neale. 2001. Abnormal psychology. 8th ed. New York: John Wiley &  Sons, Inc.   
        pp: 177-175
American Psychiatric Association. (2013). Diagnostic and statistical manual of mental disorders: DSM-5™ (5th
        ed.). Arlington, VA: Author. Pp: 291-298
অধ্যাপক নীহাররঞ্জন সরকার,ডাঃ তনুজা সরকার (২০১৩),অস্বাভাবিক মনোবিজ্ঞান : মানসিক ব্যাধির লক্ষণ কারণ ও
            আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, তৃতীয় সংস্করণ ,জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, ঢাকা-১১০০, পৃ: ২৯২-২৯৪


13
Psychological Support / Self Acceptance
« on: July 13, 2021, 11:26:23 AM »
নেতিবাচক মূল্যায়নে প্রভাব পরেনা যেন মনে!

তুমি আসলেই ভাল মানুষ না, তোমাকে দিয়ে কিছুই  হবে না, তুমি এই কাজ করতে পারবে না এর চেয়ে  বরং অন্য কিছু কর, এটা তোমার দ্বারা সম্ভব না, তোমার ভবিষ্যৎ খুব খারাপ দেখতে পাচ্ছি, তুমি এমন হলে কেন?  এধরণের নেতিবাচক কথার সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত।

বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য আমাদের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। তখন আমরা মনের অজান্তেই এসব নেতিবাচক মন্তব্যগুলো  বিশ্বাস করি এবং এর প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকি। আমরা হয়তো এসব মন্তব্যের সাথে নিজেদেরকে কখনোই মিলিয়ে দেখি না যে, আসলেই কি আমি তাই? যেমন: কেউ আমাদেরকে  অপবাদ দিলে আমরা কষ্ট পাই। আমরা কষ্ট পাব কেন? অন্যের মিথ্যা অপবাদের জন্য আমাদের তো কষ্ট পাওয়ার কথা না! যেখানে সে মিথ্যাচার করছে! আমরা কষ্ট পাই কারণ আমরা বিষয়টি বিশ্বাস করি তাই। আবার তখন সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা হয়তো কোন প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমান করার চেষ্টা করি যে আমরা এমন না।
 
ছোটবেলা থেকেই আমাদের পরিবার থেকে বা আমাদের সমাজ থেকে বিভিন্ন নেতিবাচক কথা শুনতে শুনতে আমাদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। তারপর আস্তে আস্তে আমাদের নিজেদের সক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস, নিজের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা এবং  আত্মবিশ্বাস কমে যেতে থাকে। যার ফলে তৈরি হয় নিজের প্রতি  বিভিন্ন নেতিবাচক ধারণা। যেমন আমি তো ভালো স্টুডেন্ট না, আমার দ্বারা কোন কিছু সম্ভব না,আমি তো পারি না,আমি অন্যদের মত না, আমার সক্ষমতা কম, আমি কালো, আমি বেটে, আমি শুকনো, আমি অসুন্দর, অন্যের কাছে আমার গুরুত্ব নেই, সবাই আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে ইত্যাদি। যখন আমাদের মধ্যে এ ধরনের নেতিবাচক বিশ্বাস তৈরি হয় তখন আমরা অন্যের সমালোচনা বা আচরণ দ্বারা খুব বেশি প্রভাবিত হয়ে থাকি। আবার আমরা যদি আমাদেরকে নেতিবাচক ভাবে মূল্যায়ন করি তাহলে তা আমাদের আচরণে ফুটে ওঠে যা আমাদেরকে অন্যদের দ্বারা নেতিবাচকভাবে মূল্যায়নের  সুযোগ করে দেয়।

তাই প্রথমে আমরা আমাদের রিসোর্স সম্পর্কে সচেতন হবো। এর একটি লিস্ট করে নিজেকে অবগত করবো যে, যেকোন সময় আমি এই রিসোর্সগুলো আমার কাজে লাগাতে পারি। রিসোর্স বলতে আমাদের  নিজেদের সক্ষমতা, আমাদের ভালো কোন গুণাবলী, আমাদের দক্ষতা ইত্যাদি । এছাড়া রয়েছে আমাদের পরিচিত অনেকেই যাদের মধ্যে কেউ আমাকে পরিশ্রম দিয়ে সাহায্য করতে পারে, কেউ আমাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে পারে, কেউ আমাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারে, কেউ আমাকে কোন জিনিস দিয়ে সাহায্য করতে পারে, কোন নেতিবাচক আবেগের সময় কেউ আমার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকতে পারে, আবার কেউ আমাকে সু-পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে পারে, তারাও আমার রিসোর্স।

আমার রিসোর্স সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি, আমি আমাকেই কোন প্রকার শর্ত ছাড়া গ্রহণ করতে পারি অর্থাৎ আমি স্বীকৃতি দিতে পারি, আমি ঠিক আমার মতোই, আমি ঠিক আমার আঙুলের ছাপের মতো অনন্য। কোন প্রকার নেতিবাচক  মূল্যায়ন ছাড়াই আমি আমাকে ভালোবাসতে পারি। আমি যেমন, ঠিক সেভাবেই যেন আমাকে গ্রহণ করতে পারি। অন্যের কাছ থেকে নেতিবাচক মূল্যায়ন আসবেই, তাদের মুখ বন্ধ করার ক্ষমতা আমার নেই । আমার ক্ষমতা আছে, আমি তাদের কথা গ্রহণ করবো কি করবোনা তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমি নিজের প্রতি এবং অন্যের প্রতি সদয় এবং ন্যায়নিষ্ঠ থাকতে পারি। আমি আমার ভুলের স্বীকৃতি দিতে পারি। আমি আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারি। আর যদি কোন নেতিবাচক কিছু আমার মধ্যে থেকেই থাকে তাহলে তা আমি আমার “উন্নয়নের ক্ষেত্র” (Areas of Improvement) হিসাবে দেখতে পারি।

লেখক: মোঃ আবু তারেক, সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।



Reference:
Corey, G., 2009. Theory and Practice of Counselling and Psychotherapy. 8th ed. United States of   
        America: Brooks/Cole Cengage Learning, chapter-7


[/size]

Pages: [1]