Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - sumaiya

Pages: [1]
1
আমরা ধার্মিক আমরা নামাজ পড়ি, বোরকা হিজাব, পাঞ্জাবি টুপি ইসলামী শরিয়াত মেনে পোশাক পরিধান করি, ও ভুলে গেছি আমার রোযা রাখি সুযোগ ফেলে বা কেউ চাইলে দান ও করি এখন কথা হচ্ছে তার পর ও কেন এক হাজার জনের মধ্যে ৯৯৯ জন জাহান্নামী হবে, শুধু একজন জান্নাতি যার ভেতরে মহিলারা বেশী জাহান্নাম্‌ পুরুষরা কম। ধনীরা বেশী জাহান্নামী, গরিবরা কম......কেন? কখনও প্রশ্ন জেগেছিল মনে? এই যে আল্লাহ মুলত তার বান্দার কাছ থেকে কি চায়???

১। আল্লাহ অন্তর্যামী তুমি কততুকু আল্লাহ্‌র সাথে সংযুক্ত যা তুমি উপরে উপরে যতয় লেবাস ধরে থাকনা কেন আল্লাহ্‌ তোমার মনের উপর নির্ভর করে তোমার সাজা কিংবা পুরষ্কার প্রদান করবে। এই যেমন যেখানে ইসলামে খুব সহজ ভাবেই বলে দিয়েছে, মানুষের উপর প্রত্যেকটা বিপদ আপদ, পেরেশানি, হয়রানি পরীক্ষা সরূপ আবর্তিত হয়, যা টাকা হারানো থেকে শুরু করে আপন জনের মিত্রু পর্যন্ত সব ই হল আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য ঈমানের পরীক্ষা। কিন্তু আমরা আল্লাহ্‌ কে বিপদে আপতিত হলে কতটুকু স্মরণ করি, মনে মনে আল্লাহ্‌ দরবারে কতবার বলি যে আল্লাহ্‌ আমার এই কষ্ট, পেরেশানি , অসহ্য যন্ত্রণা অবশ্যয় আমার মঙ্গল এর জন্যই দিয়েছো। কতবার বলি??? আপনি এক্ষণই নিজেকে প্রশ্ন করুন, একবার ও কি বলি?? না বলি না। তবে আমি কিন্তু ধার্মিক বলে নিজেকে দাবি করি।
২। যেখানে ইসলামে বলা আছে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে আল্লাহ্‌ জন্যই ভালোবাসো এবং আল্লাহ্‌ জন্য ঘৃণা কর। সেখানে আমরা নিজের স্বার্থে নিজের ভাল লাগে বলেই একজন অন্য জনের সহিত মিশি এবং ভালবাসি। আর নিজের ভেতরেই হিংসা, সন্দেহ, রাগ এসব কে প্রাধন্য দিয়েই ঘৃণা করি।
বর্তমান সমাজের কঠিন আরেক টা ব্যাধি হচ্ছে তেলবাজি করার জন্য তার সাথে আমি অন্তরের অন্তরস্থল থেকে ভালবাসার সম্পর্ক প্রদ্রশন করি কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারে আমি পশুর নাম উল্লেখ করে গালি দিতে ও দুবার ভাবি না।
৩। আমাদের সমাজের আরেক শ্রেণীর মানুষ রয়েছে যারা আল্লাহ্‌ কিছু আইন , নিয়ম কানুন মানে আবার কিছু নিয়ম কানুনের পাল্টা আইন ধার করার। যেমন কিছু দিন আগেই কেউ কেউ আমাকে বলছিলো ইসলামের নারীদের তালাক দিতে না পারার নিয়ম, তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী গ্রহণের নিয়ম, ছেলেদের বহু বিবাহের নিয়ম ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে আমার মেনে নিতে কষ্ট হয়, তাদের উদেশ্য কোরআনে সম্পূর্ণ একটা আয়াত নাজিল হয়েছে.....যার মূল অর্থ হলো "তোমাদের ভেতরে এমন অনেকে আছে যে আমার কিছু আইন বিশ্বাস করে কিছু আইন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে তাদের কাছে এই সু সংবাদ পৌঁছে দাও তাদের জন্য আছে জাহান্নামের উত্তপ্তত আগুন বরাদ্ধ।
৪. আমরা যারা মুখে আর অন্তরে দুই রূপ নিয়ে চলি তারা কি চোগলখোর নয়? অবশ্যয় আল্লাহ তোমার মনের ও বাহিরের সকল ব্যাপারে অবগত।
৫। আরেক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা যে যায় বলে সত্যতা যাচায় না করেই বিশ্বাস করে আর অকারণেই সেই সকল ব্যাপার নিয়ে সবার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলে। তাদের জন্য কোরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে। .....প্রকৃত অর্থে তারায় মূর্খ যারা লোকে যা বলে তায় বিশ্বাস করে,
আমি বলব নামাজ রোযা পর্দা দান ছদকা পাশাপাশি আর ও মৌলিক কিছু জিনিস মেনে চলো দেখবে সব দিক থেকে সবাই উপকৃত হবে
>সন্দেহ পরিহার যা শুননি যা দেখনি তা লোকের মুখে শুনে কিংবা >ধারণার বশীভূত হয়ে কারো সম্পর্কে বিরুপ ধারণা পোষণ করোনা।
>>চিৎকার চেঁচামেচি রাগ ক্রোধ মানুষের কাছে গিয়ে গিয়ে অন্যের সম্পর্কে গিয়ে কুৎসা রটনা করা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো
>সত্যমিথ্যার পার্থক্য বুঝার ক্ষমতা অর্জন করো যার একমাত্র সহজ উপায় হল কোরআন তেলয়াত করতে হবে অর্থ সহকারে।
>জীবনের প্রত্যেক টা স্তরে ধৈর্যশীলতা পরীক্ষা দিতে হবে।
>মূর্খদের এবং কম বুঝা লোকদের সাথে তর্ক থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো...
......... সর্ব অবস্থায় আল্লাহ্‌ প্রতি বিশ্বাস রাখতেইইইই হবে কারন একমাত্র আল্লাহ্‌ই উত্তম পয়সালা কারী।।

সামিয়া

2
Islam / সবর পর্ব ১
« on: March 25, 2019, 03:44:54 PM »
আল্লাহ তা’আলা সবরকে এমন এক যন্ত্র দিয়েছেন যা কখনো ব্যর্থ হয় না, এমন তীর বানিয়েছেন যা লক্ষ ভ্রষ্ট হয় না, এমন বিজয়ী সৈনিক বানিয়েছেন যে কখনো পরাজিত হয় না, এমন সুরক্ষিত দূর্গ বানিয়েছেন যা কখনো ধ্বংস হয় না। এই সবর আর বিজয় দুই সহোদরের মতো। মানুষ তার দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ে সবরের মতো এমন কোনো অস্ত্রে সজ্জিত হয় না, যা তার নফস ও শয়তানকে নিশ্চিতভাবে হারিয়ে দেয়। সেই বান্দার কোনো শক্তিই নেই, যার গুণাবলির মধ্যে সবর তথা ধৈর্য নেই। সেই বান্দা বিজয়ও ছিনিয়ে আনতে পারে না যে সবরকারী বা ধৈর্যশীল নয়। তাইতো আল্লাহ তা’আলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদানগণ! ধৈর্য্য ধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পার।’ [সূরা আল ইমরান, আয়াত : ২০০]
এই সবর মুমিনের জন্য তার ভাইয়ের মতো। আপন ভাই অনেক সময় রাগ করে ছেড়ে যায়; কিন্তু বিপদের সময় সে-ই সবার আগে এগিয়ে আসে। এই সবর ঈমানের শাখা স্বরূপ, নালা না থাকলে ঈমানের অস্তিত্বই হুমকির সম্মুখীন হবে। যার ধৈর্য নাই তার ঈমান নাই। সবর ছাড়া যদি ঈমান থাকেও, তবে তা বড় দুর্বল ঈমান। এমন ঈমানদার আল্লাহর ইবাদত করে দ্বিধা ও সংশয়ের সঙ্গে। এদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা সুন্দর বলেছেন,‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর এবাদত করে। যদি সে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়, তবে এবাদতের উপর কায়েম থাকে এবং যদি কোন পরীক্ষায় পড়ে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি।’ [সূরা হাজ্জ,আয়াত : ১১]  এ ব্যক্তি আসলে সবর হারিয়ে শুধু তার দুর্ভাগ্যই কামাই করে যাবে। পক্ষান্তরে যে সবর করে। বিপদে ধৈর্য ধারণ করে সে ভাগ্যবান। পৃথিবীতে যারা সৌভাগ্যবান তারা কিন্তু সবর ও ধৈর্য গুণেই ভাগ্যবান। এরা দুঃসময় এলে ধৈর্য ধরে আর সুসময় এলে আল্লাহ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করে। এভাবে তারা জান্নাতের নেয়ামতের অধিকারী হয়। সত্যিই এরা সৌভাগ্যবান। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী।’ [সূরা আল-হাদীদ,আয়াত : ২১]

সবরের গুরুত্ব
সবর বা ধৈর্য আল্লাহর পরিপূর্ণ মুমিন বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা’আলা যাকে এই গুণ দেন; সেই এই গুণে সুসজ্জিত হয়। আল্লাহ তা’আলা নবী-রাসূল আলাইহিস সালামদের এই বিরল গুণে বিভূষিত করেছিলেন। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা নব্বই জায়গায় সবরের কথা বলেছেন। অতএব ভেবে দেখুন সবর কত গুরুত্বপূর্ণ! আল্লাহ তা’আলা বিভিন্নভাবে সবরের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। নিচে তার কয়েকটি তুলে ধরা হল :

• আল্লাহ তা’আলা তাঁর পবিত্র গ্রন্থে সাবের তথা ধৈর্যশীলদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদেরকে হিসাব ছাড়া প্রতিদান দেবেন বলে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।’ [সূরা আয-যুমার : ১০]

• আল্লাহ তা’আলা বলেছেন তিনি ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন, তাদের জন্য হেদায়েত ও সুস্পষ্ট বিজয় নিয়ে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।’ [সূরা আল-আনফাল : ৪৬]

• আল্লাহ তা’আলা সবর ও ইয়াকিন তথা ধৈর্য ও ঈমানের বদৌলতে মানুষকে নেতৃত্ব দেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘তারা সবর করত বিধায় আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথ প্রদর্শন করত। তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল।’ [সূরা আস-সাজদাহ : ২৪]

• আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন সবরই মানুষের জন্য কল্যাণকর। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি তোমরা সবর কর, তবে তাই সবরকারীদের জন্য উত্তম।’ [সূরা আন-নাহল, আয়াত : ১২৬]

• আল্লাহ তা’আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, কারও সাথে যদি সবর থাকে তাহলে যত বড় শত্রুই হোক তাকে পরাস্ত করতে পারবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছু ক্ষতি করবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তারা যা করে, তা পরিবেষ্টনকারী।’ [আলে-ইমরান, আয়াত : ১২০]

• আল্লাহ তা’আলা বিজয় ও সফলতার জন্য সবর ও তাকওয়া অবলম্বনের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।’[আলে-ইমরান, আয়াত : ২০০ ]

• আল্লাহ তা’আলা ধৈর্যশীলকে ভালোবাসেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে? ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কত নবী ছিল, যার সাথে থেকে অনেক আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছে। তবে আল্লাহর পথে তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে তার জন্য তারা হতোদ্যম হয়নি। আর তারা দুর্বল হয়নি এবং তারা নত হয়নি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ [আলে-ইমরান, আয়াত : ১৪৬]

• আল্লাহ তা’আলা ধৈর্যশীলদের তিনটি বিষয়ে সুসংবাদ দিয়েছেন, যার প্রতিটি পাবার জন্য দুনিয়াবাসী একে অপরের সঙ্গে ইর্ষা করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।’ [সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৫৫-১৫৭]

• ধৈর্যশীলদের জন্য রেখেছেন জান্নাত লাভের কামিয়াবী আর জাহান্নাম থেকে মুক্তির সাফল্য। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমি তাদের ধৈর্যের কারণে আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম; নিশ্চয় তারাই হল সফলকাম।’ [সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত : ১১১]

• আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনের চার চারটি স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নিদর্শনাবলি থেকে ধৈর্যশীল ও শুকরগুযার বান্দারাই উপকৃত হয় এবং এরাই সৌভাগ্যবান বটে। যেমন ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি কি দেখনি যে, নৌযানগুলো আল্লাহর অনুগ্রহে সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তাঁর কিছু নিদর্শন তোমাদের দেখাতে পারেন। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।’ [সূরা লুকমান, আয়াত : ৩১] আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আর আমি মূসাকে আমার আয়াতসমূহ দিয়ে পাঠিয়েছি যে, ‘তুমি তোমার কওমকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে বের করে আন এবং আল্লাহর দিবসসমূহ তাদের স্মরণ করিয়ে দাও।’ নিশ্চয় এতে প্রতিটি ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য রয়েছে অসংখ্য নিদর্শন।’ [সূরা ইবরাহীম, আয়াত : ৫] আরও ইরশাদ করেছেন, ‘কিন্তু তারা বলল, ‘হে আমাদের রব, আমাদের সফরের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিন’। আর তারা নিজদের প্রতি যুলম করল। ফলে আমি তাদেরকে কাহিনী বানালাম এবং তাদেরকে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ [সূরা আস-সাবা, আয়াত : ১৯] অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘তিনি যদি চান বাতাসকে থামিয়ে দিতে পারেন। ফলে জাহাজগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠে গতিহীন হয়ে পড়বে। নিশ্চয় এতে পরম ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।’ [সূরা আশ-শূরা, আয়াত : ৩৩]

3
প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ  জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গ্লোবাল ক্লাসরুম ইন্টারন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনস প্রোগ্রাম বা জিসিআইমুন। এটি মূলত: জাতিসংঘের অধীনে একটি শিক্ষা বিষয়ক ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম। বাংলাদেশ থেকে এই প্রথম জিসিআইমুনে মিড-লেভেল স্কুল থেকে অংশগ্রহন করবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী স্বস্তিকা গার্গী চক্রবর্তী।
‘জাতিসংঘে যাচ্ছ। কেমন লাগছে?’ উচ্ছ্বসিত গার্গী বলেন, ‘আমি খুব খুশি। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে আমেরিকায় যাচ্ছি। এটা আমার কাছে বিরাট অর্জন। সম্মানের বিষয়। আশা করছি ভালো কিছুই হবে।’
সুপ্রিয় কুমার চক্রবর্তী এবং অনূসুয়া চক্রবর্তীর একমাত্র মেয়ে স্বস্তিকা গার্গী পড়ছে গ্রেড ফাইভে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইংলিশ মিডিয়াম সেকশনে।

জাতিসংঘের ১৫তম এই সম্মেলনে বিশ্বের ২৮টি দেশের ৫০ হাজার হাইস্কুল এবং ২৫০ প্রাইমারি স্কুল থেকে প্রায় ৪ হাজার তরুণ নেতা জিসিআইমুনে অংশগহন করার দুর্লভ সুযোগ পেয়েছেন। তারা একে অপরের কাছে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরবেন।

২৮ মার্চ তারুণ্যের শক্তি নিয়ে পৃথিবী বদলানের প্রত্যয়ে  তরুণরা হাজির হবেন বিশ্বে ব্যাপক সুনাম অর্জন করা এ শিক্ষা সম্মেলনে। আমেরিকার নিউইয়র্কে প্রতিবছর দু‘বার এ প্রোগ্রামের আয়োজন করে জাতিসংঘ। 
গার্গী বলেন, ‘এই শিক্ষা সম্মেলনের সবকিছুতেই জাতিসংঘ সম্মেলনের মতো কায়দাকানুন। যা আমার ক্যারিয়ার গড়তে দারুন কাজে দেবে বলে বিশ্বাস করি। কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা, নিজের দেশের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা, বিতর্ক করা...সবই এখানে করতে হবে। এসবের মধ্য দিয়েই আমার ভবিষ্যতে রাষ্ট্রদূত (Ambassador ) হওয়ার যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। এটা আমার স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়তে অনেকখানি সহায়তা করবে।’
 
সম্মেলনে গার্গী তার জন্য নির্ধারিত ক্যারিবীয় সাগরের হিস্পানিওলা দ্বীপের পশ্চিমে এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ে গঠিত রাষ্ঠ্র হাইতি’র হয়ে কথা বলবেন। দেশটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনায় মিলিত হবেন তিনি। আর এ জন্য তাকে প্রচুর পড়তে হয়েছে। হাইতির সমাজব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, বিদেশনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি- সব বিষয়েই জানতে হয়েছে।

কী হয় এই সম্মেলনে ?
[/b]

গ্লোবাল ক্লাসরুম ইন্টারন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনস প্রোগ্রাম বা জিসিআইমুন এ অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মশালায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন। এতে রয়েছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং মতবিনিময় সভা। যেসব দেশে শিশু কিশোররা খাদ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা, শিক্ষা, নাগরিক অধিকার, বাক-স্বাধিনতা, চলাচলে সুবিধাসহ রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মূলত: তাদের কথা তুলে ধরার প্লাটফরম এই সম্মেলন।

এতে উন্নত দেশের শিক্ষার্থীরা অনুন্নত দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, নিজ দেশের সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরা ছাড়াও ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং তথ্য বিনিময় করেন। তুলে ধরেন একটি দেশকে কিভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া যায় সে বিষয়ে নিজস্ব মতামত। অনুন্নত দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে তাদের এই অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন সেই লক্ষ্যেই মূলত: এই সম্মেলনের আয়োজন।

এই সম্মেলনের মাধ্যমেই জাতিসংঘ ঘোষণা করে একটি রাষ্ট্রের ভবিষৎ প্রতীকী রাষ্ট্রদূত। একটি দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে করণীয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের লিখিত আকারে তুলে ধরতে বলা হয়। নির্বাচকরা তথ্যসমৃদ্ধ এবং বাস্তবসম্মত রচনাকে ‘বেস্ট ডেলিগেট পেপার’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষনা করেন।

মূল্যবান প্রস্তাবনা এবং ডেলিগেশন পেপার জমা দেয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে আন্তর্জাতিক এই শিক্ষা সম্মেলনের।

এদিকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী স্বস্তিকা গার্গী হাইতির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কৃষি, শিক্ষা ও চিকিৎসা বিষয়ে বিতর্ক, আলোচনা এবং বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে উঠতে করণীয় বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরবেন।

গার্গী পড়াশোনার পাশাপাশি নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্কুলের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে কৃতিত্ত্বের সাক্ষর রেখেছেন। স্কুলভিত্তিক ‘ডেটল হাত ধোয়া প্রোগ্রাম’ প্রচারণার স্বেচ্ছাসেবক, টার্কিশ হোপ ইন্টরন্যাশনাল স্কুল এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ৬ষ্ট আন্ত:স্কুল অলিম্পিয়াড এ অংশগ্রহন, ২০১৭ সালের রেপ্লিক্স আর্ট প্রতিযোগিতায় ১ম পুরুষ্কার, ব্রিটিশ কাউন্সিলের বই পড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন, ডিআইএস কর্তৃক স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জন, আর্কন আর্ট কন্টেস্ট এ বিশেষ পুরুষ্কার, বার্ষিক বানান ও কুইজ প্রতিযোগিতায় ২য় পুরুষ্কার, ঐকতান কর্তৃক আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফ্লাগ ড্রয়িং প্রতিয়োগিতায় অংশগ্রহনসহ স্বস্তিকা গার্গীর পুরুষ্কারের ঝুলিতে জমা পড়েছে প্রায় ২৫টি সনদ ও ক্রেস্ট। এছাড়া ২০১৭ সালে বাংলা অলিম্পিয়াডে কবিতা আবৃত্তিতে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন তিনি।

এর আগে স্বস্তিকা গার্গীর ভাই অর্ণব চক্রবর্তীও ২০১৪ সালে এই শিক্ষা সম্মেলনে অংশগ্রহন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ
Source: http://gg.gg/dhbcb

4
কেন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নোংরামি আমাদের। নাস্তিক মানে "আমি কোন ঈশ্বর এ বিশ্বাসী নয়" কিন্তু ২০১৯ এ এসে এই মিনিং টাই পরিবর্তিত হয়ে নাস্তিক মানে দাঁড়িয়েছে "আমি ইসলাম বিদ্বেষী" আল্লাহ্‌ অবমানোনাকারি  ।
একটা ব্যাপার খুব ভাবায়......আমাদের কালাম আমাদের রাসুল আমাদের আইন আমাদের সৃষ্টিকর্তা ন্যায় প্রত্যেক ধর্মে তাদের কিছু নিজস্বতা থাকে, কই কখনো তো তাদের সেই নিজস্ব স্বত্বা প্রতি আমরা অসম্মান প্রকাশ করি না।
কিছুদিন আগে একটা ভিডিও দেখে খুব কষ্ট ফেলাম তাদের মনুষ্যত্ববোধ ও রুচিবোধের হীনতা দেখে। কোরআনের পাতা ছিঁড়ে পায়ের নীচে ফেলে যাচ্ছে তাই ভাবে কোরআন অবমাননা করছিল।
আমদের রাসুল কে নিয়ে নগ্ন ছবি অশ্লিল আলাপচারিতা বাজে মন্তব্য যেন একটা ফ্যাশন হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
কেন ইসলাম নিয়ে মানুষের এত গবেষণায় নামতে হয়?
কই অন্য ধর্ম নিয়ে তো তোমাদের কোন আলোচনা সমালোচনায় লিপ্ত হতে দেখা যায় না।
সব প্রশ্নের একটায় জবাব ঘুরে ফিরে এসে ভিড়ে তা হল ইসলাম সত্য এবং সুন্দর তাই তোমাদের এত হিংসা এত চিন্তা এই ভেবে কেন তোমরা আমাদের মত নও তাই কি আমাদের ক্রিটিসাইস করে মনের স্বাদ মিটিয়ে নিচ্ছ?
আমাদের ধর্মের একটায় সূত্র  এক আল্লাহ্‌র সকল আইন বিশ্বাস আর আল্লাহ্‌ একটা মাত্র আইন দুনিয়াতে যা আমাদের পরস্পরের জন্য ক্ষতিকর এমন সকল কাজ থেকে বিরত থাকা।
প্রত্যেক ধর্ম মানুষের তৈরি এটা সত্য কিন্তু আমরা মানুষ যার তৈরি তার প্রতি অনুগত থাকার নামই হল ইসলাম।
[/color]
[/color][/size][/font]

5
Professor Ved Prakash, Honorable Chancellor, KIIT University in presence of Prof. Ganeshi Lal, Hon'ble Governor of Odisha hands over the certificate of Honorary Doctorate to Dr. Md. Sabur Khan, Founder, and Chairman, Daffodil International University (DIU) at the  14th convocation of KIIT University.

In recognition of his vision to digital transformation of society, skill management to imbibe the spirit of entrepreneurship in every youth, and social contribution to destitute children through Daffodil Institute of Social Sciences (DISS) in association with Kalinga Institute of Social Sciences(KISS), Bhubaneswar, India, the Management of KIIT University unanimously resolved to confer the Degree of Doctor of Letters (HonorisCausa) upon Dr. Md. Sabur Khan, Founder, and Chairman, Daffodil International University (DIU), Bangladesh on 10th November 2018 on 14th Annual Convocation of KIIT University.
 
The degree was awarded by Professor Ved Prakash, Honorable Chancellor, KIIT University in presence of Prof. Ganeshi Lal, Hon'ble Governor of Odisha and the Top Management of KIIT University. The degree certificate was signed by the Prof. Hrushikesha Mohanty, Vice-Chancellor and Prof. Sasmita Samanta, Registrar of the University; a citation signed by Dr. Achyuta Samanta, the Founder, KIIT was recited on the occasion dedicating Dr. Khan. Dr. Khan was given the cordial reception as per the KIIT tradition.
 
Dr. Khan accepted public felicitation from and on behalf of the People of the State followed by his reciprocal speech. This ceremony was graced by Hon'ble Governor of Odisha as the Chief Guest and Hon'ble Minister, Hon'ble Member of Parliament (Bhubaneswar) and Hon'ble Mayor, Bhubaneswar as the Guests of Honor. Over 600 elite group people from all walks of lives joined the programme.

 :)Motivational speech by Dr. Khan in front of more than 54000 students in total took place, where KISS University Campus Felicitation in front of 27000 KIIT students, followed by his motivational speech to the 27,000 indigenous children of KISS were held.
 
With a view to making a self-employed and self-dependable generation, Mr. Khan aims to create more job opportunities; his innovative initiatives like the business incubator, startup, venture capital, Department of Entrepreneurship at the university level, are notable to promote entrepreneurship. He has been a visiting professor at some foreign universities, including Malaysia, Indonesia, India, and Kirgizstan. He has been awarded some fellowship and an honorary doctorate. As the resource person, he has delivered many public lectures, corporate and motivational talks, interviews and talk shows in media since the beginning of his significant career of more than 28 years. He has published some books on entrepreneurship in two languages and is conducting classes in different universities on entrepreneurship development. He has been involved with social welfare through Daffodil Foundation and DISS.

6
Inspiration / সম্পদ সফলতা ভালবাসা
« on: August 02, 2017, 01:41:28 PM »
এক মহিলা তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখলো উঠানের সামনে তিনজন বৃদ্ধ ব্যক্তি বসে আছেন।তিনি তাদের কাউকেই চিনতে পারলেন না। তাই বললেন, ‘আমি আপনাদের কাউকেই চিনতে পারলাম না,কিন্তু আপনারা হয়তো ক্ষুধার্ত। আপনারা ভেতরে আসুন,আমি আপনাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করছি...‘
তারা জিজ্ঞেস করলেন ‘ বাড়ির কর্তা কি আছেন?’ মহিলা বললেন,’না’। ‘তিনি বাইরে গেছেন।’
‘তাহলে আমরা আসতে পারবো না।‘
সন্ধ্যায় যখন বাড়ির কর্তা ঘরে ফিরে সব শুনলেন তখন তিনি বললেন,'যাও তাদের বলো যে আমি ফিরেছি এবং তাদের ঘরে আসার জন্যে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি।‘
মহিলা বাইরে গেলেন এবং তাদের ভেতরে আসতে বললেন।কিন্তু তারা বললো,‘আমরা এভাবে যেতে পারি না।'
মহিলা জিজ্ঞেস করলেন,’ কিন্তু কেন? আবার কি সমস্যা?’
বৃদ্ধ লোকেদের মধ্যে একজন বললেন,’আমাদের মধ্যে একজনের নাম সম্পদ।‘ আরেকজনের দিকে নির্দেশ করে বললেন,’তার নাম সাফল্য এবং আমি ভালবাসা।এখন আপনি ভেতরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিন আমাদের কাকে আপনি ভেতরে ঢুকতে দেবেন।'
মহিলা যখন ভেতরে গিয়ে সব খুলে বললেন তখন তার স্বামী অত্যন্ত খুশি হয়ে গেলেন এবং বললেন,'আসাধারন! চল আমরা সম্পদকে ডাকি,তাহলে আমরা ধনী হয়ে যাব!'
তার স্ত্রী এতে সম্মতি দিলেন না,’নাহ,আমার মনে হয় আমাদের সাফল্যকেই ডাকা উচিত।' তাদের মেয়ে ঘরের অন্য প্রান্তে বসে সব শুনছিলো। সে বলে উঠলো,'তোমাদের কি মনে হয় না আমাদের ভালবাসাকেই ডাকা উচিত? তাহলে আমাদের ঘর ভালবাসায় পূর্ন হয়ে উঠবে।'
লোকটি বললো,‘ঠিক আছে আমরা তাহলে আমাদের মেয়ের কথাই শুনবো, তুমি বাইরে যাও এবং ভালবাসাকেই আমাদের অতিথি হিসেবে ডেকে নিয়ে এসো।‘
মহিলাটি বাইরে গেলেন এবং বললেন’আপনাদের মধ্যে ভালবাসা কার নাম? অনুগ্রহ করে তিনি ভেতরে আসুন,আপনিই আমাদের অতিথি।' ভালবাসা নামের বৃদ্ধ উঠে দাড়ালেন এবং বাড়ির দিকে হাটতে শুরু করলেন,বাকী দুজনও উঠে দাড়ালেন এবং তাকে অনুসরন করতে লাগলেন।
মহিলাটি এতে ভীষন অবাক হয়ে গেলেন এবং বললেন, 'আমিতো শুধু ভালবাসা নামের বৃদ্ধকে ভেতরে আসার আমন্ত্রন জানিয়েছি,আপনারা কেন তার সাথে আসছেন?’
বৃদ্ধ লোকেরা বললো,'আপনি যদি সম্পদ আর সাফল্যকে আমন্ত্রন করতেন তবে আমাদের বাকী দুজন বাইরেই থাকতাম,কিন্তু আপনি যেহেতু ভালবাসাকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন,সে যেখানে যায়,আমরা দুইজনও সেখানেই যাই।
যেখানেই ভালবাসা থাকে,সেখানেই সম্পদ ও সাফল্যও থাকে।

8
একজন ছাত্রের গুন বিচার করা হবে নানাবিধ প্রতিভা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল দিয়ে নয়। বছরের পর বছর মাসের পর মাস পড়ানোর পর লাখে লাখে বেকার তৈরি হচ্ছে স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

আমার দেখা মতে স্কুল কলেজ ফাঁকি দেওয়া ছেলে গুলোয় আজ স্বাবলম্বী কোন না কোন ভাবে তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মের সংস্থান করেছে তার সাথে আরো দশ জনের কর্মের ব্যাবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে।

আমি বিশ্বাস করি সাটিফিকেট এ ফলাফল যায় হউক তার বেসিক যদি ভাল থাকে তবে সেই ছাত্র সুযোগ পেতে হবে না সে নিজেই সুযোগ তৈরি করে নিবে তার নিজের জন্য।

মুখস্থ করে ভাল ফলাফল করা যায় কিন্তু প্রতিভা তৈরি করা যায় না।

স্কুল এর দিক থেকে যদি বলি

১। পি এস সি, জে এস সি , এস এস সি , এ লেভেল ,  ও লেভেল এই পরীক্ষা গুলো আমদের স্কু্লের এর প্রধান উদ্দেশ্য, উদাহরন সরূপ বলি
পি এস সি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ক্লাস ফাইভে,  তাহলে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফোর পর্যন্ত আমরা একাডেমিক পড়া লেখার পাশা পাশি  অন্য বিষয় গুলোর দিকে জোর দিতে পারি একি ভাবে ক্লাস এইট ও টেন এ বছর গুলো আমরা একাডেমিক পড়া শোনায় জোর দিয়ে বাকি বছর গুলো তে আমরা তাদের অন্য প্রতিভা বা আগ্রহর বিষয় গুলোতে জোর দিয়ে এবং ঘষামাজা করে তাদের কে তৈরি করে দিতে পারি।

স্কুল এ ১০ বছর এই সময়টা হল কাদামাটি ঠিক যেই আকার দিতে চাইবো ঠিক সেই  আকার এ তাদের আমরা দিতে পারব।


 কলেজ এর দিক থেকে বলি যদি

১। এস এস সি তে একজন ছাত্র কি ফলাফল করেছে এ দিক থেকে তার মান বিচার না করে বরং সে স্কুল থেকে  মূলত কতটুকু শিখে এসেছে তার উপর লক্ষ্য করুন। কিছু প্রতিভা আছে ঈশ্বর প্রদত্ত যেমন কেউ ভালো নাচে, কেউ ভালো গা্‌য়, কেউ ভালো খেলে, কেউ আঁকতে পারে ভালো,কেউ কেউ ভালো লিখা লিখিতে, কেউ গয়েন্দাগিরিতে, কেউ কেউ আছে পড়ালেখায় মনযোগ কম কিন্তু ব্যাবসায় দিকে খুবই আগ্রহী এই ছাত্র গুলোর সাথে  ওরা যেমন হতে চায় তাদের সাথে ঠিক তেমনি করে ট্রিট করতে পারলে বের করে নিয়ে আসতে পারবো নিদ্রায়িত প্রতিভা। একজন ছাত্র কে আমি জি পি এ ৫ দিতে পারলাম না কিন্তু তাকে নুন্যতম একটা জি পি এ দিয়ে তাকে আমি সমাজে একটি মূল্যবান প্রোডাক্ট হিসেবে তৈরি করে দিতে পারলে তাতেই একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সার্থকতা।

২। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানে শুধু পুথিগত শিক্ষা কেন্দ্র এই ধারনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানে নৈতিকতা, মানবিকতা , সাহসিকতা সব কিছুরই শিক্ষাক্রেন্দ্র।

বিশ্ববিদ্যালয় দিক যদি চিন্তা করি

১। বড় বড় মনীষীদের বড় বড় মাপের বই পড়ে যখন ডিগ্রি শেষ করে ইন্টারভিউতে বসি ওই বোর্ডের সদস্যরা যে প্রশ্ন গুলো করে থাকে তার সাথে ৪ বছর পড়ে যাওয়া বিদ্যার সাথে কোনো সংযোগ খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে যদি রেফার থাকে মিলে যায় চাকরি, না থাকলে বেকার বসে থাকতে হয়। এখন কথা হল তাহলে আমরা কি শিখলাম এবং আমদের এর ৪ বছর এর ডিগ্রি কি শিক্ষালো আমাদের? এটা অতিক্রম করা সম্ভব যদি কিনা আমরা ছেলেমেয়েদের পুঁথিগত বিদ্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারি এবং বিভিন্ন ছোট বড় প্রতিষ্ঠানে যদি এদের টানা এক বছর বা বেশ কয়েক মাসের জন্য কাজ করাতে পাঠানো যায় এদের পারপরমেন্সের উপর ভিত্তি করে মার্কিং এবং রেজাল্ট। তাতে ওদের রিয়েল অভিজ্ঞতা ও হল আর অভিজ্ঞতাহীন এই কথা টা ও ঘুচলো। এবং কোম্পানি গুলো বেতন দেওয়া ছাড়ায় সার্ভিস পেলো।
 
২। রেজাল্ট ভালো হলেই সে ভালো শিক্ষক এই ধারনা থেকে বের হয়ে আসতে হবেই আমাদের কারন , যে যত ভালো শেখায় সেই তত ভালো শিক্ষক। যারা বিভিন্ন কোম্পানি চাকুরীরত আছে তাদের কে যদি শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীরা পায় তারা শেখাতে পারবে বর্তমান যুগের সাথে তালমিলিয়ে শিক্ষা ।

রেজাল্ট হল  যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বড়  লক্ষ্য কিন্তু মুল  লক্ষ্য নয়। এটা মানতে হবে এবং মানাতে হবে।

কোনো শিক্ষক কে পরিবর্তন করানো সম্ভব না যদি না তারা নিজ থেকে পরিবর্তন হতে চায়। তাহলে কি করার আমাদের? আমাদের যা করতে হবে তা  হলো শিক্ষা পদ্বতি পরিবর্তন করতে হবে ।

সুমাইয়া হায়দার সামিয়া

9
                                                                গুগল চশমার নবজন্মের পেছনে ঢাকার কোম্পানি


রোগীর দিকে তাকিয়ে তাকে জিজ্ঞেস না করেই চিকিৎসক জেনে যাচ্ছেন তার রোগবালাইয়ের অতীত ইতিহাস। জানছেন রোগীর সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল—রক্তচাপ, রক্তে চিনির পরিমাণ, রোগী এর আগে কী কী ওষুধ খেয়েছে ইত্যাদি। এ তথ্য ভেসে উঠছে চিকিৎসকের চোখে লাগানো এক বিশেষ ধরনের চশমার কাচে। চশমাটির নাম গুগল-গ্লাস।
এ এক অভিনব সেবা। বলা হচ্ছে, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার চেহারা পাল্টে দিতে শুরু করেছে এই সেবা। আর এর পেছনে বুদ্ধি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে অগমেডিক্স নামে যে কোম্পানি, সেটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইয়ান শাকিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান। বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানটির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আছে। তা ছাড়া এই প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নের কাজটি হয়েছে ঢাকায়। আর একে ঘিরে ভবিষ্যতে যে কর্মযজ্ঞের আয়োজন চলছে, সেটির প্রধান কেন্দ্র হতে যাচ্ছে ঢাকা। এ জন্য কোম্পানিটিতে নতুন বিপুল পরিমাণ অর্থ লগ্নি করতে শুরু করেছে সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারীরা। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৯২ লাখ ডলার অর্থ লগ্নি করেছে ডিসিএম ভেঞ্চারস নামে একটি বড় মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে শিগগিরই সাত হাজার তরুণ দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ গড়ে তুলবে এই কোম্পানি।
শুরুতে এর সেবাগ্রহীতারা হচ্ছেন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক। তবে যেসব দেশে রোগীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার অনলাইনে সংরক্ষণ ও শেয়ার করা হয়, সেসব দেশে শিগগিরই এই সেবা ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
গুগল-গ্লাস হলো টেক-জায়ান্ট গুগলের তৈরি করা একটি স্মার্ট চশমা, যার ভেতর দিয়ে তাকালে বাইরের দৃশ্যের পাশাপাশি দরকারি নানা রকম তথ্য ভেসে ওঠে কাচের পর্দায়। চশমাটি ইন্টারনেট বা ক্লাউডের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য দেয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব
প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলোয় রোগীদের সব মেডিকেল তথ্য রাখা হচ্ছে কম্পিউটারে, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডে (ইএইচআর)। কিন্তু দেখা যায়, রোগী দেখার সময় একটা বড় অংশজুড়ে চিকিৎসককে ব্যস্ত থাকতে হয় কম্পিউটার ঘাঁটাঘাঁটিতে। আগের রেকর্ড দেখা, ডিজিটাল ডেটা দেখা, পরীক্ষণের ফলাফল দেখা এবং নতুন তথ্য-উপাত্ত ভুক্তি দেওয়ায় নেহাত কম সময় যায় না। আমেরিকার মতো যেসব দেশে স্বাস্থ্য উপাত্ত রাখা বাধ্যতামূলক, সেখানে রোগী দেখার সময়ের ২৫ শতাংশই চলে যায় কম্পিউটারে।
এর একটি চৌকস সমাধান নিয়ে এসেছে অগমেডিক্স। চিকিৎসকদের সামনে থেকে কম্পিউটার সরিয়ে ফেলেছে তারা। গুগল-গ্লাসকে ভিত্তি করে একটি নতুন সেবা অ্যাপ্লিকেশন (সফটওয়্যার) বানিয়েছে তারা।
গুগল-গ্লাস নামক বিশেষ চশমাটি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে রোগীকে পরীক্ষা করার সময় চিকিৎসক দূরদেশে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা তাঁর ‘লিপিকারের’ (স্ক্রাইবার) সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। লিপিকারের কম্পিউটার যুক্ত থাকে রোগীর তথ্যভান্ডারের সঙ্গে। একজন লিপিকার রোগীর যাবতীয় রেকর্ডই কেবল দেখছেন না, বরং তা তৎক্ষণাৎ (রিয়েল টাইম) তাঁর চিকিৎসককে জানিয়ে দিতে পারছেন। তথ্যগুলো ভেসে উঠছে রোগীকে পরীক্ষায় ব্যস্ত চিকিৎসকের চশমার পর্দায়। আবার চিকিৎসক রোগী দেখে যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেগুলো তিনি মুখে বলামাত্র ওই চশমার মধ্য দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে লিপিকারের কাছে। লিপিকার চার্ট-নোট (রোগীসংক্রান্ত) লিপিবদ্ধ করছেন। চশমাটি এখানে একটি দ্বিমুখী যোগাযোগের মাধ্যম। এ কারণে এটি প্রচলিত মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে।
আমেরিকার প্রথম সারির দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ‘এর মাধ্যমে একজন চিকিৎসক একই সময়ে আগের চেয়ে বেশি রোগী দেখতে পারেন। তাঁর দৈনিক দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় বাঁচে। সবচেয়ে বড় কথা, চিকিৎসকেরা রোগী দেখার মূল কাজে তাঁর পুরো সময় ব্যয় করতে পারছেন।’
যেভাবে বাংলাদেশ যুক্ত
যাঁদের হাতে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে, সেই অগমেডিক্সের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতার একজন ইয়ান শাকিল। তাঁর বাবা কাজী শাকিল হলেন ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিনের ভাই এবং মা দিয়ানে মেলোন একজন আমেরিকান। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর ইয়ান শাকিল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পর ২০১২ সালে পেলু ট্র্যান নামে আরেক আমেরিকান তরুণের সঙ্গে মিলে শাকিল প্রতিষ্ঠা করেন স্টার্টআপ কোম্পানি অগমেডিক্স।
আমেরিকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও বাবার কারণে ছোটবেলা থেকে নিয়মিত বাংলাদেশে এসেছেন শাকিল। বাংলাদেশের সঙ্গে নাড়ির টানের কারণে এ দেশের তরুণদের কাজে লাগানোর চিন্তাও এসেছে। তাই গুগল চশমার সঙ্গে যুক্ত এই অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজটি তিনি শুরু করেন ঢাকাতেই এবং নিবন্ধন করেন অগমেডিক্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড নামের সম্পূর্ণ বাংলাদেশি একটি প্রতিষ্ঠান, যার মালিকানা শতভাগ সিলিকন ভ্যালির অগমেডিক্সের। বর্তমানে গুগল-গ্লাসের চিকিৎসকদের জন্য এই লিপিসেবাটি দেওয়া হয় ভারত, ডমিনিকান রিপাবলিক, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে। এরই মধ্যে আমেরিকার সহস্রাধিক চিকিৎসক এই সেবা ব্যবহার করছেন মাসে দেড় থেকে চার হাজার ডলারের বিনিময়ে।
ঢাকায় অগমেডিক্স
৪ ডিসেম্বর শাকিলের সঙ্গে কথা বলার জন্য হাজির হলাম ঢাকার পান্থপথের অগমেডিক্স কার্যালয়ে। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অগমেডিক্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদুল হক। শাকিল বললেন, সিলিকন ভ্যালিতে তাঁদের অফিস থাকলেও গুগল চশমার এই অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মূল কাজটি হয়েছে ঢাকাতেই এবং এটির বিকাশের কাজও এখানে হচ্ছে।
বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও প্রোগ্রামারদের প্রশংসা করে শাকিল বলেন, ‘এঁদের অনেকেই গুগল-ফেসবুক বা এ রকম বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহজে যুক্ত হতে পারেন। কিন্তু আমরা কৃতজ্ঞ যে তাঁরা আমাদের মতো স্টার্টআপের সঙ্গে কাজ করছেন। আমরাও তাঁদের অনেককে কোম্পানির শেয়ার দিচ্ছি।’
অগমেডিক্সের ঢাকার সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা যে কাজটি করেছেন, বাণিজ্য বিষয়ক আমেরিকান বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফাস্ট কোম্পানির ভাষায় সেটি হলো ‘গুগল-গ্লাসকে দ্বিতীয় জীবন দেওয়া।’ আর এই উদ্ভাবনী কাজের জন্য ফাস্ট কোম্পানি ২০১৬ সালে অগমেডিক্সকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সবচেয়ে উদ্ভাবনী কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

অগমেডিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইয়ান শাকিল। ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক এই স্টার্টআপ কোম্পানি
বাংলাদেশে এই কার্যক্রম চালানোর ইচ্ছে তাঁর কেন হলো, এই প্রশ্নের জবাবে হেসে দিয়ে শাকিল তাঁর পিতৃপরিচয় তুলে ধরেন। তারপর বাংলাদেশের এক বিরাট যুবসম্প্রদায়ের কথা তুলে ধরে বলেন, ঠিকমতো পরিচর্যা করতে পারলে এঁদের বিশ্বমানের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা মোটেই কঠিন নয়। এ জন্য শাকিল তরুণদের ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেন।
অগমেডিক্সে বিনিয়োগ
৮ ডিসেম্বর নতুন করে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার (১৯২ কোটি টাকা) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে এই কোম্পানি। নতুনভাবে অগমেডিক্সে বিনিয়োগ করেছে মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন ভেঞ্চার ও অরবিমেড। এই কোম্পানিগুলো আমেরিকায় চিকিৎসা খাতে প্রথম সারির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। এর আগে রেডমাইল প্রুপ, ডিসিএম ভেঞ্চার, এমারজেন্স ক্যাপিটালসহ আমেরিকার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক প্রায় ছয় কোটি ডলার (প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করেছে অগমেডিক্সে। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে যে সম্ভাবনা ইয়ান দেখেন, তার প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল ডিসিএম ভেঞ্চার কোম্পানির অংশীদার পেটে মোরানের কথায়। ডিসিএম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।
ইয়ান শাকিলএই প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো এক বার্তা পেটে মোরান জানালেন, ১৯৯০ সালের দিকে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা চীনের ইন্টারনেট উদ্যোক্তাদের মধ্যে যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা দেখেছিলেন, ঠিক তেমনটি এখন বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে দেখছেন তাঁরা। তিনি বলেছেন, ‘১৯৯৯ সালের দিকে আমরা চীনের ইন্টারনেট উদ্যোক্তাদের পেছনে বিনিয়োগ করেছি এবং তাঁরা অনেকেই এখনকার শীর্ষ কোম্পানিগুলো গঠন করেছেন। আমরা এখন সমমাত্রায় উদ্দীপ্ত যে অগমেডিক্সের মতো কোম্পানির পেছনে আমরা বিনিয়োগ করছি, যারা কার্যত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী, ক্রমাগত শক্তিশালী হওয়া শিক্ষাব্যবস্থা, সংহত তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান—এসবই বাংলাদেশকে নব্বইয়ের দশকের তথ্যপ্রযুক্তিতে চীনের সমান্তরাল অবস্থানকেই তুলে ধরছে। আর সে জন্য আমরা মনে করছি এশিয়ায় বিনিয়োগের এক সম্ভাবনাময় দেশ হলো বাংলাদেশ।’
নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কেবল বাংলাদেশে তাদের সেবার পরিধি পাঁচ থেকে সাত হাজার জনে উন্নীত করতে চান ইয়ান। ঢাকায় অগমেডিক্স কর্মকর্তা আহমেদুল হক বললেন, এরই মধ্যে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বাংলাদেশি তরুণদের স্ক্রাইবসেবায় দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিচ্ছে। শাকিল বললেন, বিশ্বের জন্য বাংলাদেশ থেকে স্ক্রাইবসেবা দেওয়ার কাজটার সবটুকু তাঁরা একা করতে চান না। এ জন্য অংশীদারদেরও তিনি সঙ্গে নেবেন। অগমেডিক্সের ক্লাউড ও সিস্টেম ব্যবহার করে বাংলাদেশি অন্য কোম্পানিও এই সেবা চালু করতে পারবে।
ইয়ান শাকিলের ইচ্ছা বছর খানেকের মধ্যে বাংলাদেশে তাঁর কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের একটি সভা ঢাকায় আয়োজন করা, যেখানে সিলিকন ভ্যালির বনেদি বিনিযোগকারীরা উপস্থিত থাকবেন। তাঁর ধারণা, অবকাঠামোগত সুবিধার চেয়ে বাংলাদেশের তরুণদের স্বীকৃত মেধার কথা ঠিকমতো তুলে ধরা উচিত। তাতে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নব্বইয়ের দশকের চীনের মতো বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারবে।



Link:- http://gg.gg/4bo1k

10
ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটির ৫ চমক
 
এ বছর ছিল ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটির (ভিআর) জন্য দারুণ আলোচিত বছর। প্রধান প্রধান প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাশ্রয়ী দামে ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি হেডসেট তৈরি করে বাজারে ছেড়েছে।

প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনার উদ্যোগকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি বা অনুভবের বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলে। ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি হচ্ছে কম্পিউটারনিয়ন্ত্রিত সিস্টেম, যাতে মডেলিং ও অনুকরণবিদ্যা প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন বা উপলব্ধি করতে পারে। ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটিতে অনুসৃত পরিবেশ হুবহু বাস্তব পৃথিবীর মতো হতে পারে।

ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটির হেডসেট তৈরিতে ফেসবুক, গুগল ও সনির মতো বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। এ ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যারের বাজারে শুধু শীর্ষে যাওয়ায় লক্ষ্য নয়, বরং প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন সফটওয়্যার ও প্ল্যাটফর্মে আগে থেকেই এগিয়ে থাকার জন্য ভিআর নিয়ে কাজ করছে।

ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি নিয়ে আন্তর্জাতিক একটি জোট গঠন করেছে বিশ্বের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এসারের স্টারব্রিজ, ফেসবুকের অকুলাস, এইচটিসি ভাইভ, স্যামসাং ও সনি ইন্টারঅ্যাকটিভ মিলে ‘গ্লোবাল ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি অ্যাসোসিয়েশন’ (জিভিআরএ) নামের একটি অলাভজনক সংস্থা গড়েছে। এই সংগঠন ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সব ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি নির্মাতা ও গ্রাহককে এক জায়গায় আনতে কাজ করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০১৭ সালে আরও উন্নত ভিআর প্রযুক্তি হাতে পাবেন গ্রাহকেরা। জানুয়ারিতে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠেয় কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শোতে দেখা যাবে ভিআরের নানা উন্নত সংস্করণ। তার আগে চলুন দেখে আসি এ বছরের আলোচিত ৫ ভিআর হেডসেট।

গুগলের ডেড্রিম ভিউগুগল ডেড্রিম ভিউ: এ বছরের অক্টোবরে পিক্সেল ও পিক্সেল এক্সএল নামে স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ে গুগল। ওই ফোনের সঙ্গে ভিআর হেডসেটের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ডেড্রিম ভিউ নামের গুগলের এই মডেল ডেড্রিম প্ল্যাটফর্ম ও ভিআর প্রযুক্তির জন্য উন্মুক্ত করে গুগল। এর দাম ৭৯ মার্কিন ডলার। গুগলের নতুন স্মার্টফোন এই হেডসেটের সামনে রাখলে তা এনএফসি প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে। এটি সেট করা সহজ। কম খরচে ভিআর অভিজ্ঞতা দিতে এই হেডসেট বাজারে এনেছে গুগল। এখন ডেড্রিম ভিউয়ের জন্য কিছু অ্যাপ ও গেম রয়েছে। এর মধ্যে ইউটিউব, হুলু, হোম রান ডার্বি ডেড্রিম সফটওয়্যারে চালানো যায়।

সনি প্লেস্টেশন ভিআরপ্লেস্টেশন ভিআর: এ বছরে ভিআরের দুনিয়ায় অন্যতম আকর্ষণ ছিল সনির এই প্লেস্টেশন ভিআর। এটি প্লেস্টেশন ফোর সমর্থন করে। এর দাম ৩৯৯ মার্কিন ডলার। পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা পেতে এই ভিআরের পাশাপাশি প্লেস্টেশন ফোর ও মোশন ট্র্যাকিং কন্ট্রোলার প্রয়োজন হবে। আগামী বছর এই ভিআরের জন্য বেশ কিছু কনটেন্ট ও গেম উন্মুক্ত করবে সনি।

স্যামসাং গিয়ার ভিআরস্যামসাং গিয়ার ভিআর: ফেসবুকের অকুলাসের সঙ্গে মিলে ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটির দুনিয়ায় ২০১৫ সালের নভেম্বরে গিয়ার ভিআর নামে হেডসেট আনে স্যামসাং। গ্যালাক্সি নোট ৫, গ্যালাক্সি এস ৬, ৬ এজ, ৬ এজ প্লাস, এস ৭, এস ৭এজ সমর্থন করে এই হেডসেট। আগামী বছর নতুন স্মার্টফোন গ্যালাক্সি এস ৮-এর পাশাপাশি নতুন মডেলের গিয়ার ভিআর আনতে পারে স্যামসাং। গিয়ার ভিআরের দাম ৯৯ মার্কিন ডলার।

অকুলাস রিফটঅকুলাস রিফট: ভিআরের দুনিয়ায় শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ শুরু করেছিল অকুলাস। তবে ২০১৬ সালের মার্চ মাসের আগ পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে কোনো পণ্য আনেনি প্রতিষ্ঠানটি। হাতে নড়াচড়া শনাক্ত করতে ফেসবুকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি অকুলাস টাচ কন্ট্রোলার উন্মুক্ত করেছে। ৫৯৯ মার্কিন ডলার দামের এ পণ্য চালাতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উইন্ডোজ পিসি দরকার পড়ে।

এইচটিসি ভাইভএইচটিসি ভাইভ: এইচটিসির মোবাইল ফোন ব্যবসা ধুঁকলেও এর ভিআর ব্যবসা ঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ভাইভ উন্মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। রিফটের মতোই এতে তারহীন হাতে ধরা কন্ট্রোলার রয়েছে। এ ছাড়া এটি ভালভের গেমিং হার্ডওয়্যার সমর্থন করে। তবে এতে শক্তিশালী পিসি সেটআপের দরকার পড়ে। এই হেডসেটে ভাইভ ফোন সার্ভিস নামের একটি ফিচার আছে, যাতে হেডসেট না খুলেই কল ও বার্তা আদান-প্রদান করা যায়.




source: www.prothom-alo.com/technology/article/1047603/ভার্চ্যুয়াল-রিয়্যালিটির-৫-চমক

Pages: [1]