News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

যে যে কারণে শিয়া ও সুন্নির মধ্যে এতো বিরোধ

Started by Badshah Mamun, May 29, 2022, 01:03:10 PM

Previous topic - Next topic

Badshah Mamun

যে যে কারণে শিয়া ও সুন্নির
মধ্যে এতো বিরোধ:
পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বর্ণনাগুলোর
ব্যখ্যা নিয়ে মতভেদের কারণেই
মুসলমানদের মধ্যে নানা মাজহাব বা
মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে। এটি সব ধর্মের
মধ্যেই দেখা যায়। এ জাতীয় মতভেদ
কেবল তর্ক বা মত-বিনিময়ের পর্যায়ে
সীমিত থাকলেই তা স্বাভাবিক বলে
বিবেচিত হয়। কিন্তু এ নিয়ে সহিংসতা ও
দাঙ্গা-হাঙ্গামা সব পক্ষের জন্যই
ক্ষতিকর বলে এ ব্যাপারে মুসলমানদের
সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, পবিত্র
কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা সবাই
মিলে আল্লাহর রশি বা রজ্জুকে আঁকড়ে
ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।
আসলে শিয়া ও
সুন্নি মুসলমানদের
মধ্যে কিছু কিছু
বিষয়ে মতভেদ
থাকলেও অনেক
মৌলিক বিষয়েই
রয়েছে মতের মিল।
যেমন, উভয়
মাজহাবই এক
আল্লাহ, অভিন্ন
ধর্মগ্রন্থ তথা
পবিত্র কুরআন এবং
বিশ্বনবী হযরত
মুহাম্মাদ (সা.)-কে
সর্বশেষ নবী হিসেবে মানেন। উভয়
মাজহাবই পরকালের প্রতি তথা পুনরুত্থান
ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস,
নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত ও নারীদের
পর্দা করা ফরজ হওয়ার বিষয়সহ আরো
অনেক বিষয়েই একমত। এইসব বিষয়ের
খুঁটিনাটি দিকে কিছু মতভেদ রয়েছে যা
সুন্নি ভাইদের চার মাজহাবের মধ্যেও
রয়েছে।
তবে শিয়া ও সুন্নি মাজহাবের মধ্যে
মতবিরোধের একটা দিক হলো- বিশ্বনবী
(সা.)'র পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত তথা
খলিফা বা প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে।
সুন্নি ভাইয়েরা মনে করেন এ বিষয়টি
আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল মুসলমানদের
ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন এবং সাহাবাগণ
নির্বাচন পদ্ধতিতে খলিফা নির্বাচন
করেছেন।
অন্যদিকে শিয়া মুসলমানরা মনে করেন,
বিশ্বনবী (সা.)'র স্থলাভিষিক্ত তথা
খলিফা বা প্রতিনিধি নিয়োগের
বিষয়টি মহান আল্লাহই নির্ধারণ করেন ও
তা রাসূল (সা.)-কে জানিয়ে দেন। আর
এরই ভিত্তিতে হযরত আলী (আ.) এবং
এরপর তাঁর বংশধরগণ ছিলেন মুসলমানদের
প্রকৃত খলিফা।
তবে শিয়াদের সম্পর্কে একটি মারাত্মক
মিথ্যা অভিযোগ তথা অপবাদ হলো
তারা বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী
বা শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করেন না।
বরং শিয়া মুসলমানরাও সুন্নি ভাইদের
মতই মনে করেন যে, বিশ্বনবী (সা.)'র পর
আর কোনো নবী আসবেন না এবং যারাই
এ বিশ্বাস পোষণ করবে না তারা
মুসলমান হিসেবে স্বীকৃত হবে না।
আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.)'র ভাষণ ও
বক্তৃতামালার সংস্করণ 'নাহজুল
বালাগ্বা' শিয়াদের জন্য শীর্ষস্থানীয়
প্রামাণ্য বই। আল্লাহ ও বিশ্বনবী (সা.)'র
বাণীর পরই এ বইকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব
দেন তারা। আবার সুন্নি মুসলমানের
কাছেও এটি একটি নির্ভরযোগ্য
প্রামাণ্য বই। এ বইয়ে স্বয়ং আলী (আ.)
থেকে বার বার বলা হয়েছে যে রাসূল
(সা.) ছিলেন সর্বশেষ নবী। তাই শিয়ারা
রাসূল (সা.)-কে নবী ও রাসূল বলে মানেন
না- এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং
ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে প্রচারিত
একটি অপবাদ।
শিয়া মুসলমানরা যে কোনো সমাবেশে
কিংবা একা থাকলেও বিশ্বনবী (সা.)'র
পবিত্র নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে দরুদ
পাঠ করে সম্মান প্রদর্শন করেন তাঁকে ও
এমনকি তাঁর আহলে বাইতকেও।
এ ছাড়াও শিয়া মুসলমানরা বিশ্বনবী
(সা.)'র নবুওত প্রাপ্তির দিবসকে উৎসব
হিসেবে পালন করে থাকেন।
শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে কোনো
কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তারা যুগ
যুগ ধরে পরস্পরের সঙ্গে শান্তিতে
বসবাস করে এসেছে। তাদের মধ্যে
বড়জোর জ্ঞানগত তর্ক-বিতর্ক বা যুক্তি
বিনিময় হতো। আসলে ইসলামের শত্রুরাই
মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির জন্য
শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে সহিংস দাঙ্গা
বাধানোর জন্য সুন্নি নামধারী একদল
ওয়াহাবিকে উস্কে দিয়েছে সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে। এই ওয়াহাবিদের দৃষ্টিতে
সুন্নিদের চার মাজহাবের তিন
মাজহাবের ইমামগণ এবং তাদের
অনুসারীরাও কাফির ও হত্যার যোগ্য!
আপনারা হয়তো জানেন যে ভারত বর্ষে
মোঘল শাসকদের অনেকেই ছিলেন শিয়া
মুসলমান। নবাব সিরাজউদদৌলাও ছিলেন
শিয়া মুসলমান। দানবীর ও ভারত বর্ষে
মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের
জন্য সবচেয়ে বেশি সম্পদ ওয়াকফকারী
মহান ব্যক্তিত্ব হাজি মুহাম্মাদ মুহসিন
ছিলেন একজন শিয়া মুসলমান। ভারতবর্ষ
ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে
শিয়া ও সুন্নি মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে
সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনসহ
উপনিবেশবাদী কাফির শক্তিগুলোর
বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
বর্তমান যুগে ইহুদিবাদী ইসরাইলের
অপরাধযজ্ঞ থেকে মুসলমানদের দৃষ্টি
আড়াল করতে এবং মুসলমানদের মধ্যে
অনৈক্য ও বিভেদ উস্কে দিয়ে তাদেরকে
সহজেই শোষণ করার জন্য দেশে দেশে
শিয়া-সুন্নি বিভেদ উস্কে দেয়ার চেষ্টা
করছে সাম্রাজ্যবাদীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক ও সিরিয়ায় এ
ধরনের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে
আলকায়দা বা আইএসআইএল-এর ওয়াহাবি
সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে। কিন্তু এই দুই
দেশের শিয়া ও সুন্নি আলেমগণ
ঐক্যবদ্ধভাবে ওয়াহাবি ও বিজাতীয়
শক্তিকে মোকাবেলার আহ্বান
জানানোর পর সন্ত্রাসীরা শিয়া ও
সুন্নি মুসলমানদের সম্মিলিত শক্তির
কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান রূপকার
ইমাম খোমেনী (র.)ও বলেছেন, যারা
মুসলমানদের মধ্যে শিয়া-সুন্নির নামে
অনৈক্য সৃষ্টি করে তারা শিয়াও নয়,
সুন্নিও নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদীদের
দালাল।
সূত্র: রেডিও তেহরান

Md. Abdullah-Al-Mamun (Badshah)
Senior Assistant Director
Daffodil International University
01811-458850
cmoffice@daffodilvarsity.edu.bd
www.daffodilvarsity.edu.bd

www.fb.com/badshahmamun.ju
www.linkedin.com/in/badshahmamun
www.twitter.com/badshahmamun