• Welcome to Daffodil International University.
 

News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

আত্মহত্যার কারণ ও ইসলামী বিধান

Started by ashraful.diss, August 06, 2022, 05:53:52 PM

Previous topic - Next topic

ashraful.diss


আত্মহত্যার কারণ ও ইসলামী বিধান

আত্মহত্যা করা মহাপাপ। মানুষ না বুঝে নিজে নিজেকে হত্যা করে থাকে। ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা নিষিদ্ধ, আত্মহত্যাও নিষিদ্ধ। মানুষ নিজের প্রাণের মালিক নিজে ন।

প্রত্যেক প্রাণের মালিক মহান রাব্বুল আলামিন। তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। তিনি সব মানুষের জানের নিরাপত্তা দিয়েছেন। আত্মহত্যা করা মুসা (আ.)-এর যুগে পাপ থেকে তাওবা করার একটি পদ্ধতি ছিল। বনি ইসরাইল যখন গরু পূজা করে শিরকে লিপ্ত হয়েছিল, তখন তাদের তাওবা করার জন্য নিজে নিজেকে হত্যা ও একে অন্যকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে উম্মতে মুহাম্মদির বৈশিষ্ট্য হলো, তারা নিজেকে পাপের তাওবা হিসেবে হত্যা করতে পারবে না।

আত্মহত্যার কারণ ও ধরন

আত্মহত্যার বিভিন্ন কারণ আমরা দেখতে পাই। দৈনন্দিন খবরের কাগজ পড়লেই আত্মহত্যার কারণগুলো চিহ্নিত হয়ে যায়। নিম্নে এ ধরনের কিছু প্রসিদ্ধ কারণ ও ধরন তুলে ধরা হলো—

♦ মানসিক রোগ : মানসিক বিকারগ্রস্ত লোক আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

♦ শারীরিক রোগ : বিভিন্ন রোগের কষ্ট সহ্য করতে না পেরেও মানুষ নিজের জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকে।

♦ অন্যকে হত্যা : অন্যকে হত্যা করে নিজেকে অন্যের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়েও নিজেকে হত্যা করে ফেলে। যেমন—ওমর (রা.)-এর হত্যাকারী করেছিল।

♦ আঘাতের যন্ত্রণা : অনেকে আঘাতের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নিজেকে হত্যা করে ফেলে। যেমন উহুদ যুদ্ধে কাজমান করেছিল।

♦ জুয়া খেলা বা নেশা পান : অনেক সময় জুয়া খেলা বা নেশার কারণে মানুষ নিজেকে হত্যা করে ফেলে।

♦ অভিভাবকের ধমকি ও গালি : অভিভাবকরা যখন কোনো ধমকি ও হুমকি দেয়, তখনো অনেকে না বোঝার কারণে নিজের জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকে।

♦ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঝগড়া : পরস্পর ঝগড়াবিবাদের কারণেও মানুষ আত্মহত্যার পথ গ্রহণ করে থাকে।

প্রেম এবং সম্পর্কে বিচ্ছেদ  : অনেক সময় প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্কে বিচ্ছেদ বা হতাশা থেকেও মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

♦  লজ্জা : অনেক সময় যখন কোনো পাপ করে, তখন লজ্জার কারণে মানুষ নিজের জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

♦ দুনিয়াবি পেরেশানি : বিভিন্ন টেনশন ও পেরেশানির কারণেও নিজের জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অনেকে।

♦  অপমান ও অভিমান : অনেকে অপমান বোধ করে কিংবা অভিমান করে আত্মহত্যা করে।

এভাবে বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন উপায়ে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। কখনো অস্ত্র দিয়ে নিজেকে আঘাত করে, কখনো ফ্যানে বা ছাদে বা অন্য কোনো কিছুর সাথে ফাঁস দিয়ে, বিষপান করে, গাড়ি বা রেলের চাকায় ফেলে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে, ছাদের ওপর থেকে লাফ দিয়ে, আত্মঘাতী বোমা শরীরে বেঁধে হামলা করার মাধ্যমে, গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে ও  ছুরিকাঘাতে  আত্মহত্যা করে।


আত্মহত্যার বিধান

ভুলে আত্মহত্যার শাস্তি হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে যদি আত্মহত্যা করে, তখন তা হারাম ও তার শাস্তি জাহান্নাম। পরকালে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, 'আর যে কেউ স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হবে জাহান্নাম। তন্মধ্যে সে সদা অবস্থান করবে এবং আল্লাহ তার প্রতি ক্রদ্ধ ও তাকে অভিশপ্ত করেন। তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। এ আয়াতে আত্মহত্যার বিষয়ও রয়েছে। ' (সুরা : নিসা, আয়াত : ৯৩)

বাহরুর রায়েকে এসেছে : ফতওয়ায়ে কাজিখানে কিতাবুল ওয়াকফে আছে, দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন নিজেকে হত্যা করেছে, আর দ্বিতীয়জন অন্যকে হত্যা করেছে, তখন যে নিজেকে হত্যা করেছে, তার পাপ বেশি হবে। ' (বাহরুর রায়েক, খণ্ড ২, পৃ. ২১৫)। কেননা অন্যকে হত্যা করলে আপসের মাধ্যমে তাওবা করার সুযোগ থাকে; কিন্তু আত্মহত্যাকারীর জন্য তাওবার কোনো পথ থাকে না।

আত্মহত্যার শাস্তি

আত্মহত্যাকারী নিজেকে যে উপায়ে হত্যা করবে, তাকে সেভাবে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামে লাফ দিতে থাকবে স্থায়ীভাবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ তার হাতে থাকবে, জাহান্নামে সে স্থায়ীভাবে থাকবে। আর যে ব্যক্তি নিজেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করবে, জাহান্নামে সেই ছুরি তার হাতে থাকবে। তা দিয়ে সে তার পেটে আঘাত করবে, তাতে সে স্থায়ীভাবে থাকবে। ' (বুখারি, হাদিস : ৫৭৭৮)

আত্মহত্যাকারী কি স্থায়ী জাহান্নামি?

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশ্বাস হলো, যারা ইমান নিয়ে দুনিয়া থেকে যাবে, তারা স্থায়ী জাহান্নামি হবে না। যে হাদিসে আত্মহত্যাকারীর জন্য স্থায়ী জাহান্নামের কথা রয়েছে, তার ব্যাখ্যা হলো—তা ওই লোকের জন্য, যে তাকে হালাল মনে করেছে। তখন তো সে কাফির হয়ে যাবে। তাই আত্মহত্যাকারীকে যত দিন ইচ্ছা আল্লাহ শাস্তি দিয়ে পরে ইমানের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

আত্মহত্যাকারীর জানাজা ও দাফন

যারা আত্মহত্যা করবে, তাদের জানাজা পড়া যাবে। তবে সম্ভ্রান্ত লোক ও আলিমরা তাতে শরিক না হওয়া উত্তম। প্রখ্যাত তাবেয়ি ইবরাহিম নখয়ি বলেন, 'যারা আত্মহত্যা করবে, তাদের জন্য জানাজা পড়া যাবে। তেমনি জেনার কারণে বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে যেসব নারী মারা যাবে, তাদেরও জানাজা পড়া যাবে। একইভাবে যে ব্যক্তি মদ পানের কারণে মারা যাবে, তারও জানাজা পড়া যাবে। ' (ইবন আবি শায়বা, হাদিস : ১১৯৮৪)

অন্য হাদিসে এসেছে : জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবী (সা.)-এর দরবারে এক লোককে হাজির করা হয়, তীরের ফলা দ্বারা যে নিজেকে হত্যা করেছে। তখন তিনি তার ওপর নামাজ পড়েননি। ' (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৮) তাই আমির, আলিম ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা ওই ব্যক্তির জানাজায় শরিক হবেন না।

অনশন ও ধর্মঘট

কোনো কারণে না খেয়ে মারা যাওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। আমাদের দেশে অনেকে দাবি আদায়ের জন্য না খেয়ে অবস্থান করে। এটি ইসলাম সমর্থিত নয়।

'মুহিতে বুরহানি' নামক কিতাবে এসেছে : 'যে ব্যক্তি খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকল, ফলে মরে গেল, তখন তার জন্য জাহান্নামে প্রবেশ ওয়াজিব হয়ে যাবে। কেননা সে নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করল। এটি ওই ব্যক্তির মতো, যে ছুরিকাঘাতে নিজেকে হত্যা করেছে। (আল মুহিতুল বুরহানি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৫৭)

কারো নির্দেশে আত্মহত্যা করার হুকুম

কারো নির্দেশেও আত্মহত্যা করা হারাম। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) একটি দল কোনো এক স্থানে পাঠালেন। তাদের আমির বানালেন এক ব্যক্তিকে। সে আগুন জ্বালাল আর বলল, তোমরা তাতে প্রবেশ করো, তখন তারা তাতে প্রবেশ করতে চাইল। আরেক দল বলল, আমরা আগুন থেকেই পালিয়ে এলাম। তখন তারা নবী (সা.)-কে এই সংবাদ দিলেন। তিনি যারা তা ইচ্ছা করেছে, তাদের বললেন, তারা যদি তাতে প্রবেশ করত, তারা তাতে কিয়ামত পর্যন্ত থাকত, আর অন্য দলকে বললেন, পাপকাজে কারো আনুগত্য নেই। নিশ্চয়ই আনুগত্য কল্যাণের কাজে। ' (বুখারি, হাদিস : ৭২৫৭) এ থেকে বোঝা যায়, আত্মহত্যা যেহেতু পাপ, তাই তাতে কারো আনুগত্য করা যাবে না।

আত্মহত্যায় সহযোগিতা ও প্ররোচনাও  হারাম

আত্মহত্যার জন্য কোন প্রকারেই সহযোগিতা করা যাবে না। কেউ যদি করে, তা বৈধ হবে না। যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে, তুমি নিজেকে হত্যা করো নতুবা আমি তোমাকে হত্যা করব, তখনো সে নিজেকে হত্যা করতে পারবে না। নতুবা সে আত্মহত্যাকারী ও পাপী হবে।

পরিশেষে বলা যায়, আত্মহত্যা পরকালে জাহান্নামের কারণ। অন্যকে হত্যা করার চেয়ে নিজেকে হত্যা করার শাস্তি বেশি। তাই ইসলামে আত্মহত্যার কোনো পথ নেই।

চলবে............

Hafez Maulana Mufti. Mohammad Ashraful Islam
Sr. Ethics Education Teacher
Daffodil Institute of Social Sciences - DISS