ভিনন্দন তামিম, অভিনন্দন বাংলাদেশ!

Author Topic: ভিনন্দন তামিম, অভিনন্দন বাংলাদেশ!  (Read 84 times)

Offline Md. Alamgir Hossan

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 928
  • Test
    • View Profile
দারুণ উপভোগ করলাম বাংলাদেশের ব্যাটিং। প্রত্যাশার চেয়েও সাবলীল ছিলেন ব্যাটসম্যানরা, বিশেষ করে তামিম ও সাব্বির। কাল আমাদের এই দুই ব্যাটসম্যান দেখিয়ে দিলেন ফর্মে থাকলে তাঁরা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। আশা করছি, এই ফর্ম তাঁরা সুপার টেনেও ধরে রাখবেন।
দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিটি করার জন্য তামিমকে অভিনন্দন। আগাগোড়াই দারুণ ছন্দময় ছিলেন তিনি। অসম্ভব প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। মনে হচ্ছিল, বিশেষ কিছু করতেই বুঝি তিনি মাঠে নেমেছেন। সাব্বিরের কথাও আলাদাভাবেই বলতে হয়, স্ট্রাইক বদল করে পুরোটা সময় তিনি রানের চাকা সচল রাখলেন। সাব্বিরের এই ব্যাটিং উল্টো দিকে তামিমকেও বড় শট খেলতে সাহসী করে তুলেছিল।
সৌম্যর প্রতি আমি সহানুভূতিশীল। খারাপ লাগছে, দেশের ক্রিকেটের এই সম্পদ হঠাৎ করেই কেমন যেন নিষ্প্রভ হয়ে গেল। আমার মনে হয় তাঁর ব্যাট-সুইং, ব্যাক লিফট দুই জায়গাতেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ব্যাটিংয়ের সময় ওঁর চেহারা দেখেই মনে হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানিতে। অনেক সময় বিশ্রাম এই আত্মবিশ্বাস ফেরাতে ভূমিকা রাখে। আমার মনে হয়, সৌম্যর ওপর চাপ তৈরি না করে ওঁকে দু-একটি ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া উচিত। এতে ওঁর জন্যই ভালো হবে। তবে আমি নিশ্চিত—সৌম্য ফিরবেন, বড় কিছু করেই ফিরবেন। এটা সময়ের ব্যাপার।
সুপার টেনে সৌম্যকে বিশ্রাম দিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনকে ওপেনিংয়ে নিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি। মিঠুনকে সাত নম্বরে খেলানোটা আমার ভালো লাগছে না। এশিয়া কাপে ওঁকে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলানো হয়েছে। এখানে যদি ওঁকে সাত নম্বরে খেলানো হয়, সেটা একটু অন্যায়ই হয়।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওমানের স্পিন-নির্ভরতা আমাকে অবাক করেছে। ওরা চেষ্টা করেছে, কিন্তু টার্নগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছে একটি সহযোগী দেশের সঙ্গে টেস্ট খেলুড়ে দেশের পার্থক্য। যদিও ইনিংসের শুরুতে ওমান ভালো বোলিং করেছে। বাঁহাতি পেসার বিলাল খানের বোলিং দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ।
আমাদের ব্যাটসম্যানদের রিভার্স সুইপ খেলার প্রবণতাটা আমাকে ভাবাচ্ছে। এটা কমানো দরকার। সৌম্য রিভার্স সুইপ করে কয়েকটি বল নষ্ট করেছেন, এর বদলে তিনি যদি সাধারণ সুইপ খেলতেন, সেটা ওঁর নিজের ব্যাটিংয়ের জন্যও ভালো হতো। সাব্বিরের মধ্যেও এই প্রবণতা আছে। সুপার টেনে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রিভার্স সুইপের কারণে মূল্য দিতে হতে পারে।
দলে চতুর্থ সিমার হিসেবে দলে আবু হায়দারের অন্তর্ভুক্তি মন্দ ছিল না। সুপার টেনের আগে ওঁকে পরখ করে দেখা গেল। তবে ওঁর বোলিং নিয়ে একটু চিন্তার কারণ আছে। কাল দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তাঁর বোলিং কিন্তু নিয়ন্ত্রিত ছিল না। লেগের দিকে বল করার প্রবণতা দেখলাম। এটা শুধরে নিতে হবে। সুপার টেনের প্রতিপক্ষগুলো যে এই বোলিংকে কোনো দয়া দেখাবে না, সেটা বলাই বাহুল্য।
প্রথম পর্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে তৃপ্তির জায়গা অনেক। হল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ রেখেছে। আমাদের ব্যাটিংয়েও প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা ছিল। এটা ভালো লেগেছে।
সুপার টেনে বাংলাদেশ দলের জন্য শুভ কামনা।