Career Development Centre (CDC) > Academia Lecture Series

একটি সাইকেল, একজন মোস্তফা কামাল এবং মেঘনা গ্রুপের গল্প

<< < (2/3) > >>

Noor E Alam:

পায়ে হেঁটে সাত মাইল দূরের স্কুলে পড়তে যাওয়ার গল্প শুনে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের। তারা এই গল্পের আদ্যপান্ত জানতে চায়। মোস্তফা কামাল বলেন, এসএসসি পাশ করার পর বাবার কাছে আবদার করলাম একটা বাইসাইকেল কিনে দেওয়ার। ভাবলাম, সাইকেল পেলে কলেজে যাওয়া আসার সুবিধে হবে। এতটা পথ আর হাঁটতে হবে না। বাবা ছোটখাটো একটা সরকারি চাকরি করতেন। তার সামর্থে কুলালো না। তিনি সাইকেল কিনে দিতে অপারগ হলেন। আমিও তখন রাগ করে বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে এলাম।ঢাকায় আসার পর মোস্তফা কামাল নেমে পড়েন উদ্যোক্তা হওয়ার এক কঠিন সংগ্রামে। পায়ে হাঁটার পথ তাঁর পিছু ছাড়ল না। তিনি যাত্রাবাড়ির লজিং বাড়ি থেকে চার আনা পয়সা খরচ করে বাসযোগে গুলিস্তান আসতেন। তারপর গুলিস্তান থেকে পায়ে হেঁটে মৌলভীবাজারে হাজী মোহাম্মদ হোসেনের দোকানে পৌঁছতেন এবং সারাদিন কাজ শেষে আবার পায়ে হেঁটে একই পথে ফিরে আসতেন।

সেইসব কষ্টকর দিনের স্মৃতিচারণা করে মোস্তফা কামাল বলেন, সেদিন যদি বাবা বাইসাইকেল কিনে দিতেন, তাহলে হয়ত তার উদ্যোক্তা হওয়া হতো না। একটি বাইসাইকেলের ব্যর্থতা তাঁর জীবনে এনে দিয়েছে অসীম সাফল্য। এখন মেঘনা গ্রুপের পণ্য আনা নেওয়ার জন্য রয়েছে নিজস্ব আড়াই হাজার গাড়ি। আরো রয়েছে প্রায় ১০০টি অভ্যন্তরীণ জাহাজ ও ১২টি আন্তর্জাতিক জাহাজ।


তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার পথে রয়েছে হাজারো কষ্টের গল্প। সেরকমই এক কষ্টের অধ্যায়ের নাম ১৬ কেজি তেলের ক্যান মাথায় করে বহন করা। মোস্তফা কামাল বলেন, তাঁর জন্ম ভারত সীমান্তের কাছাকাছি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সীমানাপ্রাচীর টপকিয়ে ভারতে যেতেন এবং সেখান থেকে ভোজ্য তেলের ক্যান কিনে বাংলাদেশে এনে বিক্রি করতেন। এই পুরোটা পথ, মাইলের পর মাইল ১৬ কেজি ওজনের তেলের ক্যান মাথায় করে বহন করতেন মোস্তফা কামাল। পরে মোস্তফা কামালের মা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে এ কাজ থেকে নিবৃত্ত করেন। কিন্তু রক্তের মধ্যে যার ব্যবসায়ী হওয়ার নেশা, তিনি কেন বসে থাকবেন। ঠিকই ঢাকায় এসে আবার সেই কষ্টকর, দুর্গম পথ বেছে নেন।

Noor E Alam:
উদ্যোক্তা হওয়ার পথে পা বাড়িয়ে দেখলেন, এ পথে বিস্তর কাঁটা। পদে পদে বাধা। ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো পামওয়েল আমদানী করেন। কিন্তু সেই তেলের মান সামান্য খারাপ ছিল, নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি যেটা বুঝতেই পারেননি। ফল হলো ভয়াবহ। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে পারেন না। এভাবে প্রায় দুই বছর ধরে তেলের ড্রামগুলো পড়ে থাকল বন্দরে। মোস্তফা কামাল প্রায় পথে বসে গেলেন।ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ভাবলেন, পরিবহণ ব্যবসায় নামবেন। অনেক ভেবে চিন্তে গুলিস্তান থেকে মিরপুর-১১ নম্বর রুটে একটি ভক্স ওয়াগন গাড়ি নামালেন। কিন্তু বেশিদিন চালাতে পারলেন না। ড্রাইভার, হেলপারদের দৌরাত্মে পরাজিত হয়ে ব্যবসায় লস করলেন। কিন্তু হাল ছাড়ার মানুষ তো তিনি নন। তাই ঝুঁকলেন শিল্প প্রতিষ্ঠার দিকে।
 

১৯৭৬ সালে ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজ। এরপর ১৯৮৯ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন মেঘনা ভেজিটেবল ওয়েল ইন্ডাস্ট্রি। ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন ব্যবসার পরিধি। চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবন, আটা, ময়দা, সুজি থেকে শুরু করে নানা ধরণের খাদ্য পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বিদ্যুৎ প্লান্টসহ ৪০টির বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।


Noor E Alam:
 দেশের প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা
বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি উদ্যেগে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছেন মোস্তফা কামাল। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতিমধ্যে পাঁচটি ইন্ডাস্ট্রি পণ্য উৎপাদন শুরু করেছে। দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পণ্য। এ মুহূর্তে বিশ্বের ১১টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে মেঘনার ব্র্যান্ড ‘ফ্রেস’ পণ্য।

নিজস্ব বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের রয়েছে নিজস্ব বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট। এই প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে নিজের কারখানার প্রয়োজন মিটিয়ে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করে মেঘনা গ্রুপের পাওয়ার প্ল্যান্ট।

মোস্তফা কামালের সামাজিক দায়বদ্ধতা
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে কখনোই ভুলে থাকেন না মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, কুমিল্লায় নিজের এলাকায় গরীব-দুঃখী মানুষেদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, আর্থিক সহযোগিতাসহ নানা ধরনের মানবহিতৈষী কাজ করতেন। একদিন মোস্তফা কামালের বাবা বললেন, মানুষকে শিক্ষিত করার কাজে তোমার কিছু অর্থ ব্যয় করো। বাবার কথাকে শিরোধার্য মেনে নিয়ে তিনি শিক্ষা প্রসারে কাজ শুরু করেন। কুমিল্লার নিজ এলাকায় বাবার নামে কলেজ, মায়ের নামে মাদ্রাসাসহ বেশ কিয়েকটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

Noor E Alam:

কাজ করার ইচ্ছাই প্রধান উল্লেখ করে দেশ বরেণ্য এই উদ্যোক্তা বলেন, উদ্যোক্তা হতে হলে প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকতে হবে। ইচ্ছার ওপর ভর করে সাহসিকতার সঙ্গে ঝুঁকি নিতে হবে। ব্যর্থ হবার ভয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকলে কখনো সফল হওয়া  যাবে না। নিজেই নিজের শিক্ষক হতে হবে এবং নিজেকে গাইড করতে হবে। এসময় তিনি উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে তিনটি পরামর্শ দিয়ে বলেন, কথা দিয়ে কথা রাখা, সততা এবং মানুষকে সম্মান করতে জানলে সফলতা আপনি আপনি চলে আসে। এ তিনটি জিনিসই তাঁকে ব্যবসায়ী হিসেবে সফল করেছে বলে মনে করেন মোস্তফা কামাল।

দেশপ্রেম ধারণ করো
তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এই দেশটা তোমার, একে গড়ে তোলার দায়িত্বও তোমার। বেঁচে থাকার জন্য ক্যারিয়ার হিসেবে যে পেশাতেই থাকো না কেন, দেশের জন্য কিছু করো। বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানের চেয়ে উন্নত দেশে পরিণত হবে। এজন্য নিজের ইচ্ছাশক্তি, মেধা ও পরিশ্রমকে ব্যবহার করতে তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান এই সফল শিল্পোদ্যোক্তা।

কলা গাছ নয়, তালগাছ হও
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, কলাগাছ খুব দ্রুত বড় হয়, আবার খুব সামান্য ঝড়েই উপড়ে যায়। বিপরীতে তালগাছ খুব ধীরে ধীরে বড় হয় কিন্তু শত ঝড় ঝাপ্টাতেও পড়ে যায় না। অতএব তালগাছ হও, কলা গাছ হয়ো না।

ভবিষ্যতের ভাবনা এখনই ভাবো
ভবিষ্যতের ভাবনা এখনই ভাবতে পারাই উদ্যোক্তার হওয়ার প্রধান শর্ত বলে মনে করেন মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আগামীকাল কী হবে, কী প্রয়োজনীয়তা মানুষ অনুভব করবে, কী সমস্যার মুখোমুখি হবে সেসব এখনই ভাবো। তারপর সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নাও। উদ্যোক্তা হওয়ার এটাই একমাত্র শর্ত। উদ্যোক্তাদের অন্তর্দৃষ্টি থাকতে হয় এবং ভবিষ্যৎ দেখতে পারার যোগ্যতা থাকতে হয়। তা না হলে উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন।

বিনয়ী হও, নিচে তাকাও
মোস্তফা কামাল বলেন, অহংকারী হয়ো না, উদ্ধত হয়ো না। বিনীয়ী হও। মানুষকে সম্মান করতে শেখো। আর দৃষ্টিটাকে সব সময় নত রাখ, নিচের দিকে তাকাও। তোমার চেয়েও যারা নিম্নবর্তী তাদের দুঃখ-বেদনা অনুভর করার চেষ্টা করো। তাহলে জীবনে সফলতা আসবে দ্রুত। বাবার সম্পর্কে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে এই প্রসঙ্গের অবতারণা করেন মোস্তফা কামালের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও মেঘনা গ্রুপের পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা। তিনি বলেন, বাবা আমাদেরকে সব সময় বলতেন, নিচের দিকে তাকাবা। তিনি আমাদেরকে কখনোই প্রাচুর্য়ের মধ্যে বড় করেননি। অত্যন্ত সাধারণভাবে বড় হয়েছি আমরা। বাবা যে এত বড় মাপের একজন মানুষ, সেটা কখনোই বুঝতে দেননি। নিজের দম্ভ বা অহংকার প্রকাশ পায় এমন কোনো কথা বা কাজ তিনি কখনোই করেন না, আমাদেরকেও করতে দেন না।

Noor E Alam:

বাবাকে কী অপরিসীম শ্রদ্ধা করেন মোস্তফা কামালের সন্তানেরা, তার কিছুটা প্রমাণ পাওয়া গেল সেদিনের ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া লেকচার সিরিজ অনুষ্ঠানে। বাবার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে অভূতপূর্ব এক ঘটনা ঘটালেন মোস্তফা কামালের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও মেঘনা গ্রুপের পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা। মঞ্চে পোডিয়ামের সামনে দাঁড়ানো বাবাকে বললেন, ‘আমার মোবাইলে একটু কল দাও তো, আব্বু।’ মেয়ের এমন অাকস্মিক আহ্বানে হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ থাকিয়ে থাকেন মোস্তফা কামাল। তারপর নিজের মোবাইল থেকে মেয়ের মোবাইলে সংযোগ দিলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের ফোনে ফায়ার এলার্মের মতো সংকেত বেজে উঠল! এরপর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তাহমিনা মোস্তফা বলেন, তিনি যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, বাবার ফোন কল মিস করার সাধ্য তার নেই। বাবা তাঁর জীবনের সব থেকে জরুরি মানুষ। তাই নিজের মোবইল ফোনে বাবার নম্বরটা ইমার্জেন্সি রিংটোন দিয়ে সেভ করে রেখেছেন।বাবার প্রতি মেয়ের এই বিরল সম্মান প্রদর্শন দেখে মুহূর্মুহ করতালিতে ফেটে পড়ে পুরো মিলনায়তন।

মোস্তফা কামাল সম্পর্কে তাহমিনা মোস্তফা আরো বলেন, বাবাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আমাদেরকে বড় করেছেন। সেই ছোটবেলায় নিয়মগুলো অসহ্য মনে হলেও এখন বুঝতে পারি ওই নিয়মগুলো আমার জীবনে সফলতা এনে দিয়েছে।

তাহমিনা মোস্তফা বলেন, বাবা যেকোনো পরিস্থিতে স্বাভাবিক থাকেন। কোনো কিছুতেই বিচলিত হন না। এই বিরল গুণ আয়ত্ত্ব করা খুবই কঠিন। বাবার এই বিরল গুণ তিনি আয়ত্ত্বে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান।

বাবা সব সময় বলেন ‘কমিটমেন্ট রক্ষা করো’
শুধু বড় মেয়েই বাবাকে মূল্যায়ন করবেন, আর ছোট মেয়ে চুপচাপ বসে থাকবেন তা তো হয় না! তাই মাইক্রোফোন হাতে তুলে নেন মোস্তফা কামালের দ্বিতীয় কন্যা ও মেঘনা গ্রুপের অন্যতম পরিচালক তানজিমা মোস্তফা। আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, বাবার উপদেশ, পরামর্শ তিনি সব সময় মেনে চলেন। তাঁর ভাষায়, ‘বোস্টনের বেবসন কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে যখন মেঘনা গ্রুপে যোগ দিলাম তখন বাবা বললেন, বইয়ের পড়াশোনা আর বাস্তবজীবন কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। জীবনে এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা তুমি বইয়ের পাতায় কখনোই পাবে না। এই উপদেশ আমি সব সময় মনে রাখি।’

বাবা মোস্তফা কামালের আরো একটি উপদেশ শিক্ষার্থীদের সামনে উল্লেখ করেন তানজিমা মোস্তফা। তিনি বলেন, বাবার আরো একটি উপদেশ আমি সবসময় মনে রাখি। সেটা হচ্ছে, ‘কথা দিয়ে কথা রাখবা। কোম্পানির ক্ষতি হলেও কমিটমেন্ট রক্ষা করবা। এটাই সফল হওয়ার একমাত্র চাবি।’ সাড়ে আট বছরের কর্মজীবনে একবারের জন্যও তিনি বাবার এই উপদেশ ভোলেননি বলে জানান তানজিমা মোস্তফা।

‘বাবার কাছ থেকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটা নিয়েছি সেটা হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম। বাবা এখনো আঠারো ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ছুটির দিনগুলোতে বাবাকে যদি কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা বলি, তখন বাবা বলেন কাজ ছাড়া থাকলে নাকি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তাই সব সময় কাজ নিয়েই থাকেন।’ এভাবেই বাবাকে মূল্যায়ন করলেন মোস্তফা কামালের দ্বিতীয় মেয়ে তানজিমা মোস্তফা।

Navigation

[0] Message Index

[#] Next page

[*] Previous page

Go to full version