Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 31
1
Liver / লিভার কীভাবে কাজ করে?
« on: December 10, 2023, 03:20:57 PM »
মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। কেবল আকারেই বড় নয়, কাজেও সবার চেয়ে এগিয়ে আছে লিভার। ৫০০ ধরনের বেশি কাজ করে শরীরকে সচল রাখে আমাদের লিভার। এত বেশি দায়িত্ব যে অঙ্গের, তার গঠনশৈলীও যথেষ্ট জটিল। মস্তিস্কের পর দ্বিতীয় জটিল অঙ্গ হিসেবে লিভারকে বিবেচনা করা হয়। গ্লুকোজের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন, জটিল ফ্যাট অণু ভেঙে কোলেস্টেরল আর ট্রাইগ্লিসারল তৈরি এবং ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের কাজ করে লিভার। খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরির কাজও করে লিভার। যেমন রক্ত জমাট বাঁধার জন্য ক্লটিং ফ্যাক্টর, যা একপ্রকার প্রোটিন, এরা লিভারেই তৈরি হয়। লিভার পিত্তরস তৈরি করে, যেটা অন্ত্রে ফ্যাট হজমে সাহায্য করে। এ ছাড়া পুরোনো রক্তকোষকে অপসারণ করে লিভার। রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করে, হরমোন যেমন অ্যাড্রেনালিন রিসাইকেল করে লিভার। লিভারই করে অতিপ্রয়োজনীয় ভিটামিন এ, ডি, ই, কে এবং আয়রন ও কপার জমা করে রাখার কাজ।

বড় অরগান, বেশি কাজ, তাই চাহিদাও বেশি। দুই দিক থেকে রক্ত সরবরাহ করতে হয় লিভারের জন্য। অন্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরা খাবার থেকে হজমকৃত পুষ্টি নিয়ে লিভারে আসে। লিভার এভাবে ৭৫ শতাংশ রক্ত সরবরাহ পায়। আর পায় শক্তি উৎপাদনের কাঁচামাল। বাকি রক্ত সরবরাহ করে হেপাটিক ধমনি। রক্তের সঙ্গে লিভারের জন্য অক্সিজেন বয়ে নিয়ে আসে এই ধমনি। লিভার কোষ বা হেপাটোসাইটের মধ্য দিয়ে এই রক্ত প্রবাহিত হয় এবং লিভারের কার্যক্রমে সাহায্য করে। কাজ শেষে হেপাটিক শিরা হয়ে ইনফেরিয়র ভ্যানাক্যাভায় (সবচেয়ে বড় শিরা) রক্ত পৌঁছে যায়।
পিত্তথলি

লিভারের কথা বলতে গেলে পিত্তথলির কথা এসেই পড়ে। লিভারের খুব কাছেই এর অবস্থান। লিভারে তৈরি হওয়া পিত্তরসকে জমা করে রাখাই এর কাজ। পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের একরকম থকথকে তরল, যা ফ্যাট হজম করতে সাহায্য করে। পিত্তথলিতে পাথর তৈরি হওয়া খুব প্রচলিত একটা অসুখ, যদিও খুব মারাত্মক নয়। পিত্তথলির আসলে তেমন কাজ নেই। পিত্তরস তৈরির আসল কাজটা লিভারই করে দেয়। তাই দেখা গেছে, ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের আওতায় যে ৬০ হাজার রোগী পিত্তথলি অপসারণ করেছিল, তাদের ৯০ শতাংশ কোনো সমস্যা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পারছে।

লিভারের মতো এত কাজের একটা অঙ্গ, প্রায়ই আক্রান্ত হয় নানা রকম রোগে। হেপাটাইটিস বা সিরোসিস লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মরণব্যাধি ক্যানসারও লিভারকে ছাড়ে না। অন্য কোনো জায়গার ক্যানসার যখন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন লিভারই আক্রান্ত হয় বেশি। অতিরিক্ত মদপান লিভার ড্যামেজের জন্য দায়ী।


Source:https://www.bigganchinta.com/biology/9p5k824r4v?_gl=1*ga41db*_ga*ODQxNDY5NzQuMTY2MjkzMjUxOQ

2
পবিত্র কোরআনে বাতাসের আরবি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে রিহুন (একবচন) আর ব্যবহার করা হয়েছে রিয়াহুন (বহুবচন)। দুটি শব্দের অর্থই বাতাস। দুটি শব্দের ব্যবহার এ জন্য যে বাতাস শব্দটি কোরআনে যখন একবচনে ব্যবহার হবে তখন সেটি আজাবের অর্থ দেবে আর যখন বহুবচন হিসেবে ব্যবহার হবে তখন সেটি রহমত অর্থ বোঝাবে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে বাতাসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. রহমতের বাতাস ও ২. আজাবের বাতাস।
রহমতের বাতাস চার প্রকার

১. মুবাশশিরাত : বৃষ্টির আগে যে ঠাণ্ডা ও প্রশান্তিময় বাতাস বৃষ্টির আগাম সুসংবাদ জানান দেয় তাকে মুবাশশিরাত বাতাস বলা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আনে তখন আমি এই মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হাঁকিয়ে দিই।

অতঃপর এই মেঘ থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনিভাবে মৃতদের বের করব, যাতে তোমরা চিন্তা করো।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৭)
২. নাশিরাত : সব ধরনের ভারী মেঘকে তার নিজ নিজ স্তরে বহনকারী বাতাসকে নাশিরাত বলা হয়।

কোরআনে এসেছে, ‘তিনি আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ৪৮)
৩. মুরসালাত : তথা প্রেরিত, মহান রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত কল্যাণময় ও প্রশান্তিদায়ক বাতাসকে মুরসালাত বলে।

রাসুল (সা.)-এর দানশীলতার উদাহরণে তাঁকে রিহুল মুলসাল বা প্রেরিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘কল্যাণের জন্য প্রেরিত বায়ুর শপথ।’ (সুরা : মুরসালাত, আয়াত : ১)

৪. জারিয়াত : জারিয়াত বলা হয় ধুলিকণাবিশিষ্ট ঝঞ্ঝাবায়ুকে। আল্লাহ বলেন, ‘কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১)

আজাবের বাতাস চার প্রকার

১. আকিম : যে বাতাসে কোনো কল্যাণ নেই, যা কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর চরম পরিণতি ও ধ্বংস নিয়ে আসে। যেমন আদ সম্প্রদায়ের ওপর এই বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল। আল্লাহ বলেন, ‘এবং নিদর্শন রয়েছে তাদের কাহিনিতে; যখন আমি তাদের ওপর অশুভ বায়ু প্রেরণ করেছিলাম।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৪১)

২. ছরছর : অত্যধিক শৈত্যসম্পন্ন প্রচণ্ড বাতাসকে ‘ছরছর’ বলে। কোরআনের ভাষায়, ‘এবং আদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ুর মাধ্যমে, যা তিনি প্রবাহিত করেছিলেন তাদের ওপর সাত রাত্রি ও আট দিবস পর্যন্ত অবিরাম। আপনি তাদের দেখতেন যে তারা অসার খর্জুর কাণ্ডের মতো ভূপাতিত হয়ে আছে।’ (সুরা : হাকক্বাহ, আয়াত : ৬-৭)

৩. আসিফ : এ বাতাস সমুদ্রে প্রবাহিত হয়ে তার তরঙ্গমালা উত্তাল করে তোলে। যার ফলে জাহাজডুবিসহ অনেক প্রতীক‚ লতা সৃষ্টি হয়ে থাকে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তিনি তোমাদের ভ্রমণ করান স্থল ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হলো। নৌকাগুলোর ওপর এলো তীব্র বাতাস আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর ওপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তখন আল্লাহকে তার ইবাদতে নিস্বার্থ হয়ে ডাকতে লাগল; যদি তুমি আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোলো তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২২)

৪. কসিফ : এই ধরনের বাতাস অত্যন্ত শক্তিশালী। যাকে সাধারণত আমরা টর্নেডো, সাইক্লোন বা হারিকেন ইত্যাদি বলে চিনে থাকি। কোরআনের ভাষায়, ‘অথবা তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে তিনি তোমাদের আরেকবার সমুদ্রে নিয়ে যাবেন না, অতঃপর তোমাদের জন্য মহা ঝটিকা প্রেরণ করবেন না, অতঃপর অকৃতজ্ঞতার শাস্তিস্বরূপ তোমাদের নিমজ্জিত করবেন না? তখন তোমরা আমার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে সাহায্যকারী কাউকে পাবে না।’ (সুরা : ইসরাঈল, আয়াত : ৬৯)

পরিশেষে আমরা যেকোনো ধরনের বাতাসের সময় রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া পাঠ করব। তা হলো-

‘আল্লহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খইরিহা, ওয়া খয়রি মা ফিহা, ওয়া খয়রি মা উরসিলাত বিহ। ওয়া আঊযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা, ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহ।’

(অর্থ : হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি এ বাতাসের মঙ্গল, এর মধ্যে নিহিত মঙ্গল এবং যে মঙ্গলসহ এটা পাঠানো হয়েছে তা প্রার্থনা করি, আর এর ক্ষতিকর দিক, এর মাঝে নিহিত ক্ষতি এবং যে ক্ষতিসহ এটা পাঠানো হয়েছে তা হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।) (তিরমিজি, হাদিস : : ৩৪৪৯)


Source:https://www.bd-pratidin.com/islam/2023/11/28/943433

3
Hadith / তাওবার গুরুত্ব
« on: November 28, 2023, 12:54:47 PM »
গুনাহের প্রতি আসক্তি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। জেনে হোক, না জেনে হোক, বুঝে হোক, না বুঝে হোক, মানুষ গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা গুনাহ হয়ে গেলে মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করে নেয়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ মাত্রই গুনাহগার (অপরাধী)।

আর গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীরাই উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)
আর মানুষ যখন নিজের ভুল উপলব্ধি করে অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহর কাছে খাঁটি অন্তরে তাওবা করে, তখন মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। তাই গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহর দরবারে সিজদায় পড়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যারা তাওবা করেছে এবং নিজেদের সংশোধন করেছে এবং সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে।

অতএব, এদের তাওবা আমি কবুল করব। আর আমি অধিক তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৬০)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর সীমা লঙ্ঘন করার পর কেউ তাওবা করলে এবং নিজেকে সংশোধন করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩৯)

তাই গুনাহের পাল্লা যতই ভারী হোক না কেন, বান্দাকে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর অনুতপ্ত হবে, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবে—এটাই আল্লাহর বেশি পছন্দ। নবী-রাসুল ছাড়া কোনো বান্দার শতভাগ গুনাহমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। এটা মহান আল্লাহর নিয়ম।

এটাই দুনিয়াবাসীর জন্য পরীক্ষা।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে সত্তার হাতে আমার জীবন, আমি তাঁর কসম করে বলছি, তোমরা যদি পাপ না করতে তবে অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে এমন সম্প্রদায় বানাতেন, যারা পাপ করে ক্ষমা চাইত এবং তিনি তাদের মাফ করে দিতেন।
(মুসলিম,  হাদিস : ৬৮৫৮)

এর মানে এই নয় যে গুনাহর ব্যাপারে আমাদের বেপরোয়া হয়ে পড়তে হবে। ইচ্ছাকৃত গুনাহে লিপ্ত হতে হবে, বরং প্রতিটি মানুষকে গুনাহ থেকে বিরত থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। তবু মানুষ হিসেবে গুনাহ হয়েই যাবে, গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। এটাই মহান আল্লাহর নির্দেশ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তীব্র গতিতে চলো নিজেদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার বিস্তৃতি আসমান ও জমিনের সমান, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৩)

মহান আল্লাহ সবাইকে পাপের পথ ছেড়ে জান্নাতের পথে অগ্রসর হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


Source:https://www.bd-pratidin.com/islam/2023/11/27/943134

4
প্রথমবারের মতো বৃটেনে মানুষের দেহে সোয়াইন ফ্লুর স্ট্রেইন এইচ১এন২ শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভাইরাস শূকরের শরীরে থাকে। বৃটিশ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্সি ইউকেএইচএসএ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজ। তবে এতে বলা হয়নি এই স্ট্রেইন মহামারী পর্যায়ের কিনা। আগের পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইউকেএইচএসএ বলেছে, এর আগে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্থানে মানুষের শরীরে যে সোয়াইন ফ্লু পাওয়া গেছে বৃটেনে শনাক্ত হওয়া স্ট্রেইন তার থেকে আলাদা। কারণ এই ভাইরাস বৃটেনে শূকরের দেহে পাওয়া ভাইরাসের মতোই।

এর আগে ২০০৯ সালে মানুষের মধ্যে সোয়াইন ফ্লু এইচ১এন১ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। একে সাধারণভাবে সোয়াইন ফ্লু হিসেবে তখন নাম দেয়া হয়। তবে বর্তমানে এই ফ্লু মানুষের দেহে মৌসুমের বিভিন্ন সময় দেখা দেয়। বিশ্বজুড়ে মানুষের দেহে এইচ১এন২ স্ট্রেইন পাওয়ার ঘটনা প্রায় ৫০টি। শূকরের শরীরে সোয়াইন ফ্লু ‘এ’ ভাইরাসের বড় সব সাব-টাইপ হলো এইচ১এন১, এইচ১এন২ এবং এইচ৩এন২।

এসব ভাইরাস মাঝে মধ্যে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।

বৃটেনে ইউকেএইচএসএ এবং রয়েল কলেজ অব জিপিএস জাতীয় পর্যায়ে ফ্লু বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি করে। তারই অধীনে মানুষের দেহে প্রথমবার শূকরের দেহের ওই ফ্লুর স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে। যে ব্যক্তির দেহে এই ফ্লু পাওয়া গেছে, তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। তবে নর্থ ইয়র্কশায়ারের ওই ব্যক্তি কখনো শূকরের সংস্পর্শে যাননি। কিভাবে তিনি সংক্রমিত হয়েছেন তা জানা যায়নি। এ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। কিভাবে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হলেন তা ঘনিষ্ঠভাবে ইউকেএইচএসএ মনিটরিং করছে বলে জানিয়েছে। তারা এই ভাইরাসের চরিত্র সম্পর্কে এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তাও জানার চেষ্টা করছে।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে কাশি, হাঁচি, নাক দিয়ে সর্দি ঝরা, গলায় ব্যথা, মাথা ব্যথা, মাংসপেশী ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে শব্দ হওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা ইত্যাদি।

Source:https://dailyinqilab.com/international/news/620128

5
Islam / কুফরি ও শিরক কী?
« on: November 18, 2023, 02:35:28 PM »
ইবনু ফারিস (রা.) থেকে বর্ণিত, ইমান বা বিশ্বাসের বিপরীত অবিশ্বাসকে কুফর বলা হয়। কারণ ‘অবিশ্বাস’ অর্থ সত্যকে আবৃত করা। মিথ্যারোপ করা হলো কুফরি। ইসলামী পরিভাষায় বিশ্বাসের অবিদ্যমানতাই হলো কুফর বা অবিশ্বাস। নবী-রসুলরা তাওহিদের চূড়ান্ত পর্যায়ে মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত করার জন্য দাওয়াত দিয়েছেন এবং তাঁর একত্ববাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কিন্তু অনেকেই এতে অবিশ্বাস স্থাপন করেছে। এটাই হলো কুফরি এবং যুগে যুগে অধিকাংশ কাফেরই এ প্রকারের কুফরে নিপতিত হয়েছে।

আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ওপর এবং ইমানের রুকনগুলোতে বিশ্বাস না থাকাকেই ইসলামের পরিভাষায় কুফর বলে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর নিকট হতে আগত সত্যকে অস্বীকার করে, তার চেয়ে অধিক জালিম আর কে হতে পারে? জাহান্নামই কি কাফেরদের আবাসস্থল নয়?’ (সুরা আনকাবুত-৬৮)।
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন ছাড়া অন্য কাউকে কোনো বিষয়ে তাঁর সমতুল্য বা সমকক্ষ বা তুলনীয় বলে বিশ্বাস করার মাধ্যমে যে কুফরি হয় তাই শিরক। একটি শিরকি কাজ ইমান ও আমল নিষ্ফল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী তোমার কাছে এবং সেসব নবীর কাছেও,- যারা তোমার আগে অতিবাহিত হয়ে গেছে। এ মর্মে ওহি পাঠানো হয়েছে, যদি তুমি আল্লাহতায়ালার সঙ্গে অন্যদের শরিক কর তাহলে অবশ্যই তোমার সব আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের দলে শামিল হবে’ (সুরা জুমার-৬৫)।

কুফর সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্য রয়েছে নিশ্চিত ধ্বংস, তিনি তাদের সব কর্ম বিনষ্ট করে দেবেন’ (সুরা মোহাম্মদ-৮)। সালাত, জাকাত, সিয়াম, ইত্যাদি ফরজ হওয়া অস্বীকার করা, ব্যভিচার, চুরি, হত্যা ইত্যাদির হারাম হওয়া অস্বীকার করা, সালাতের রাকাত, সময়, সিজদা, রুকু ইত্যাদির পদ্ধতির অস্বীকার বা ব্যতিক্রম করা সবই কুফর। তবে অজ্ঞাত কারণে করলে তা ওজর বলে গণ্য হবে। মনে রাখতে হবে ইসলামের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকা, আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অপছন্দ করা, বিরক্তি বা ঘৃণা প্রকাশ করা কুফরের অন্তর্গত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি যখন এমন সব লোককে দেখতে পাও যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে হাসি-বিদ্রুপ করছে তখন তুমি তাদের কাছ থেকে সরে এসো যতক্ষণ না তারা অন্য কথায় মনোনিবেশ করে। যদি কখনো শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে ওখানে বসিয়ে রাখে, তাহলে মনে পড়ার পর তুমি জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গে আর বসে থেক না’ (সুরা আল আনআম-৬৮)। বিশ্বাসগতভাবে আল্লাহর সঙ্গে ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে আল্লাহর অংশীদার বা সমতুল্য বা সমান বানানোকে শিরক বলে। রব হিসেবে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাই হলো শিরক। আল্লাহ সব অন্যায় ক্ষমা করলেও তাঁর সঙ্গে কাউকে শিরক করাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না।

শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা এ বিষয়টি কখনো ক্ষমা করবেন না যে, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করা হবে, এ ছাড়া অন্য সব গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার সঙ্গে কাউকে শরিক করল সে চরমভাবে গোমরাহ হয়ে গেল’ (সুরা নিসা-১১৬)। ‘হে বনী ইসরাইল, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমারও রব, তোমাদেরও রব, অবশ্যই যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করবে, আল্লাহতায়ালা তার ওপর জান্নাত হারাম করে দেবেন আর তার স্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম, এই জালেমদের সেদিন কোনো সাহায্যকারীই থাকবে না’ (সুরা আল মায়েদা-৭২)।

কোরআনের ভাষায় শিরক হলো কাউকে আল্লাহর সঙ্গে সমতুল্য করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তোমরা জেনেশুনে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ বানাবে না’ (সুরা বাকারা-২২)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে কঠিন পাপ কী? তিনি বললেন, সবচেয়ে কঠিন পাপ হলো- তুমি আল্লাহকে কারও সমকক্ষ বানাবে অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’ (বুখারি)। কুফর ও শিরক পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। কাউকে কোনোভাবে বা কোনো বিষয়ে মহান আল্লাহর সমকক্ষ বা তুলনীয় মনে করার অর্থই তাঁর একত্বে অবিশ্বাস বা কুফরি করা। লোক দেখানো ইবাদতকে রসুল (সা.) লুকায়িত শিরক বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আমাদের সমাজে আমরা যা এখন বেশি করি। মানুষকে দেখানোর জন্য মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়, লোক দেখানোর জন্য দান সদাকা, প্রশংসা পাওয়ার জন্য ভালো কাজ করছি যা শিরকের সমতুল্য। কারণ এর ভিতর লুকিয়ে আছে রিয়া। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির জন্য তোমাদের জন্য ভয় পাই তা হলো, ক্ষুদ্রতর শিরক বা শিরকে আসগার। সাহাবিগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রসুল শিরকে আসগার কী? তিনি বললেন, রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদাত। কিয়ামতের দিন যখন মানুষদের তাদের কর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে তখন আল্লাহতায়ালা এদের বলবেন, তোমরা যাদের দেখানোর জন্য এসব করতে (ইবাদত, দান, সদাকা, জনকল্যাণমূলক কাজ ইত্যাদি) তাদের কাছে যাও। দেখ তাদের কাছে তোমাদের পুরস্কার পাও কি না (আহমদ, আল মুসনাদ)।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে কুফর ও শিরক বোঝার তৌফিক দান করুন।


Source:https://www.bd-pratidin.com/islam/2023/11/18/940346

6
সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান। ঈমানের বিপরীত কুফর। ঈমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ঈমান আলো, কুফর অন্ধকার।

ঈমানই জীবন, কুফর মৃত্যুতুল্য। ঈমান সরল পথ, আর কুফর ভ্রষ্টতার পথ। ঈমানের কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এ কালেমার জন্য সৃষ্টিজগতের সৃষ্টি।
এ কালেমার জন্য মানুষ কাফির ও মুমিন—দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ সৌভাগ্যবান—তারা জান্নাতি। আর কেউ হতভাগা—তারা জাহান্নামি।
এ কালেমার বাণী প্রচারের জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমার আগে আমি যত রাসুল প্রেরণ করেছি, তাদের সবার ওপর আমার এই মর্মে নির্দেশ ছিল যে আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ২৫)

‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) মাবুদ (উপাস্য) নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো বস্তু বা সত্তার ইলাহ হওয়ার যোগ্যতা নেই। ইবাদতের একমাত্র উপযুক্ত মহান আল্লাহ।

মহান আল্লাহ পৃথিবীর প্রকৃত মালিক। আকাশ ও পৃথিবী তিনি নিজ ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির ওপর তাঁর একচ্ছত্র মালিকানা, কর্তৃত্ব ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। আর তা অবিভাজ্য ও অংশীদারহীন। সুতরাং তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তিনিই (আল্লাহ) সেই সত্তা, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর ইলাহ (উপাস্য)।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত : ৮৪)

‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র দুই রুকন বা স্তম্ভ। অর্থাৎ এই বাক্যের মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের অর্থ আছে :

১.  ‘না’ সূচক : আর তা হলো, ‘লা-ইলাহা’। ‘লা’ মানে না বা নেই। ‘ইলাহ’ মানে মাবুদ (উপাস্য/ইবাদতের উপযুক্ত)। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই।

প্রত্যেক পূজনীয় বস্তুকে ‘ইলাহ’ বলা হয়। ইমাম রাগেব ইসফাহানি (রহ.) লিখেছেন, কারো কারো মতে, আল্লাহ শব্দের মূল হলো ‘ইলাহ’। আর আরবের লোকেরা ‘ইলাহ’ শব্দ মাবুদ (যার ইবাদত করা হয়) অর্থে ব্যবহার করে। (আল-মুফরাতাদ ফি গারিবিল কোরআন, পৃষ্ঠা ৩১, ইলাহ)

সুতরাং ‘লা-ইলাহা’ মানে ইবাদত ও উপাসনায় আল্লাহর কোনো শরিক নেই। ‘লা-ইলাহা’ অংশীদারত্বের সব প্রকারকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেয়। আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত করা হয়, সবগুলো বর্জন করা অপরিহার্য করে দেয় ‘লা-ইলাহা’। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর এটা এ জন্য যে নিশ্চয়ই আল্লাহই সত্য এবং তার পরিবর্তে তারা যা ডাকে, অবশ্যই তা বাতিল। আর নিশ্চয়ই তিনিই তো সমুচ্চ, সুমহান।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৬২)

২. ‘হ্যাঁ’ সূচক :  আর তা হলো ‘ইল্লাল্লাহ’। ‘ইল্লা’ মানে ছাড়া, ব্যতীত। ‘ইল্লাল্লাহ’ মানে আল্লাহ ছাড়া (আর কোনো ইলাহ নেই)।

সুতরাং এই কালেমার ‘না’ সূচক ‘লা-ইলাহা’ এবং ‘হ্যাঁ’ সূচক ‘ইল্লাল্লাহ’ দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা দেয়—একমাত্র ইলাহ মহান আল্লাহ।

তাই ‘ইল্লাল্লাহ’ বান্দার ইবাদতকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করে। ইবাদতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহ—তা অপরিহার্য করে দেয়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। তিনি অতি দয়াময়, পরম দয়ালু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৩)

এই পবিত্র কালেমায় যথাযথ বিশ্বাসী হতে হলে সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত কোরআন-হাদিস থেকে গৃহীত।

শর্তগুলো হলো : ১. ‘ইলম’ অর্থাৎ (কালেমার অর্থ ও দাবি) জানা। ২. ‘ইয়াকিন’ তথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। ৩. ‘ইখলাস’ অর্থাৎ একনিষ্ঠ ও বিশুদ্ধ হওয়া। ৪. ‘সিদক’ তথা সত্যায়ন করা। ৫. ‘মাহাব্বাহ’ তথা ভালোবাসা। ৬. ‘ইনকিয়াদ’ তথা নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন করা। ৭. ‘কবুল’ তথা শর্তহীনভাবে গ্রহণ করা।

শর্তগুলোর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

প্রথম শর্ত : এ কালেমার ‘না’ বাচক এবং ‘হ্যাঁ’ বাচক দুটি অংশের অর্থ সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা জরুরি।

দ্বিতীয় শর্ত : ইয়াকিন বা দৃঢ় প্রত্যয়। অর্থাৎ এ কালেমার মাধ্যমে যে কথার স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাতে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ থাকতে পারবে না।

তৃতীয় শর্ত : ইখলাস বা নিষ্ঠা। অর্থাৎ অংশীদারত্বমুক্ত হয়ে বিশুদ্ধচিত্তে কালেমার দাবি মেনে নেওয়া। এই শর্ত ব্যক্তিকে শিরক ও রিয়া থেকে মুক্ত রাখবে।

চতুর্থ শর্ত : এই কালেমা পাঠকারীকে সত্যের পরাকাষ্ঠা হতে হবে। অর্থাৎ একই সঙ্গে মুখে ও অন্তরে এই কালেমায় বিশ্বাসী হতে হবে। এই শর্ত তাকে মুনাফিকি আচরণ থেকে বিরত রাখবে।

পঞ্চম শর্ত : ভালোবাসা। এই কালেমাকে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ, ধারণ ও লালন করতে হবে এবং মনেপ্রাণে ভালোবাসতে হবে।

ষষ্ঠ শর্ত : আনুগত্য করা। এই কালেমার শর্ত ও দাবি হলো, পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ইসলামী শরিয়তের যাবতীয় আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।

সপ্তম শর্ত : আন্তরিকভাবে এ কালেমা কবুল করা। দ্বিনের কোনো কাজ প্রত্যাখ্যান ও বর্জন থেকে নিজেকে বিরত রাখা। (ফাতহুল মাজিদ, শায়খ আবদুর রহমান বিন হাসান, পৃষ্ঠা ৯১)

কোনো কোনো আলেম উল্লিখিত সাতটি শর্তের সঙ্গে অষ্টম শর্ত যোগ করেছেন, আর তা হচ্ছে, তাগুতের সঙ্গে কুফরি করা। অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাগুতের প্রতি কুফরি।

তাগুত হলো, ওই সব বাতিল উপাস্য, আল্লাহকে ছাড়া যাদের উপাসনা করা হয়।

তাগুত শব্দের অর্থ সীমা লঙ্ঘনকারী, দুষ্কৃতির মূল বস্তু, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। শয়তান, কল্পিত উপাস্য, যাবতীয় বিভ্রান্তিকর উপায়-উপকরণ তাগুতের অন্তর্ভুক্ত। [আল-কোরআনুল করিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, টীকা নম্বর : ১৭৭ (অবলম্বনে)]

সুতরাং কালেমা পাঠকারী এগুলো বর্জন করবে—এটাই স্বাভাবিক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘...সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুত অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরে, যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)


Source:https://www.bd-pratidin.com/islam/2023/11/18/940351

7
একবার রাসুল (সা.)–কে এমন একজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি প্রতি নামাজে সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করতেন। রাসুল (সা.) লোকটিকে গিয়ে সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করতে বললেন, কেন তিনি এত ঘন ঘন তিলাওয়াত করেন? লোকটি উত্তরে বলল, ‘কারণ এটি সিরাতুর রহমান। এতে পরম করুণাময়ের বর্ণনা আছে এবং আমি পরম করুণাময়ের বর্ণনা পাঠ করতে ভালোবাসি।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘ফিরে গিয়ে লোকটিকে বলুন, এই সুরার প্রতি ভালোবাসার কারণে আল্লাহ তাঁকে ভালোবাসেন।’ (বুখারি, মুসলিম)

আরেকটি হাদিসে আছে একবার রাসুল (সা.) শুনলেন এক লোক সুরা ইখলাস পড়ছেন। তিনি বললেন, তাঁর জন্য এটা আবশ্যক হয়ে গেছে। কথাটা তিনি তিনবার বললেন। সাহাবিরা তখন জানতে চাইলেন, তিনি কী বলছেন। তিনি বললেন, যে লোকটা তিলাওয়াত করছে, তাঁর জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস জানে এবং নিজেকে এতে সোপর্দ করে, তার জন্য জান্নাত ফরজ হয়ে যায়।

সুরা ইখলাসে তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণার পর আল্লাহর সন্তানসন্ততি আছে বলে যে ভ্রান্ত ধারণা করা হয়, তার প্রতিবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ সব অভাবের অতীত এবং তাঁর কোনো তুলনা নেই। এই সুরায় আল্লাহর অস্তিত্ব ও সত্তার অনুপম বিবরণ রয়েছে।

এটি কোরআনের অন্যতম ছোট সুরা হলেও একে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান বলা হয়ে থাকে। ইখলাস অর্থ গভীর অনুরাগ, একনিষ্ঠতা, নিরেট বিশ্বাস ও খাঁটি আনুগত্য। শিরক থেকে মুক্ত হয়ে তাওহিদ বা এক আল্লাহর ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলা হয়।

 সুরা ইখলাসের অর্থ

বলো, তিনি আল্লাহ অদ্বিতীয়। আল্লাহ সবার নির্ভরস্থল। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

Source:https://www.prothomalo.com/religion/islam/usu02a6p2s

8
সুরা কাফ পবিত্র কোরআনের ৫০তম সুরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এই সুরার প্রথম সংক্ষিপ্ত অক্ষর কাফ। অবিশ্বাসীদের যে বলে পার্থিব জীবনই শেষ, পুনরুত্থান বলে কিছু নেই, এই সুরায় তার প্রতিবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ লক্ষ্য করতে বলেছেন কীভাবে নিথর মাটি কীভাবে আবার জীবনীশক্তিতে ভরে ওঠে এবং নুহ (আ.)–এর সম্প্রদায়, সামুদ সম্প্রদায়, আদ জাতি, ফেরাউন ও লুত সম্প্রদায় এক আল্লাহকে অস্বীকার করার কারণে কীভাবে বিলুপ্ত হয়েছে।

আল্লাহ ভালোবেসে মানুষকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহ মানুষের কাছে ধনদৌলত চান না। তিনি চান মানুষের আনুগত্য ও ইবাদত। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ও নবীর নির্দেশনা মেনে জীবনযাপনের। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধু আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)

আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত পথ ও মতে জীবন পরিচালনা করাই ইবাদত। আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন, মানুষ তা থেকে বিরত থাকবে। নামাজ পড়বে। রোজা রাখবে। সামর্থ্যবান হলে জাকাত ও হজ আদায় করবে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের হক আদায় করবে। সঠিকভাবে উত্তরাধিকার বণ্টন করবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার, খুন, ধোঁকা, প্রতারণা, জুলুম, নির্যাতন, মিথ্যা ও গিবত ইত্যাদি মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবে।

Source: https://www.prothomalo.com/religion/islam/8mxktb8z7j

9
রিজিক নির্ধারিত থাকার পরও যেমন কিছু কাজ বা আমলের মাধ্যমে এটি বাড়ানো সম্ভব; তেমনই কিছু কাজ ও কারণে রিজিক ক্ষতিগ্রস্তও হয়। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি বলো! নিশ্চয় আমার রব যাকে ইচ্ছা তার রিজিক সম্প্রসারিত করে দেন আর যাকে ইচ্ছা তার রিজিক সংকুচিত করে দেন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৬)

পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকে জানা যায়, বেশ কিছু কাজে মানুষের রিজিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় অর্থাৎ রিজিকে বারাকাহ কমে যায়। কাজগুলো হলো:

 ১. পাপকাজে লিপ্ত হওয়া

যেসব কাজে মানুষের রিজিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়; তার মধ্যে অন্যতম হলো গুনাহ বা পাপাচারে লিপ্ত থাকা। সাওবান (রা.)–র বিবরণে আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সৎকর্ম মানুষের আয়ুষ্কাল বাড়াতে পারে এবং দোয়া মানুষের তাকদির রদ (পরিবর্তন) করতে পারে। আর মানুষ তার পাপ কাজের কারণে প্রাপ্য রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,০২২)

২. কৃতজ্ঞতা আদায় না করা

মানুষ যখন প্রাপ্ত নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করে না, তখন তার থেকে সে নিয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হয় আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানবজীবন এবং কমে যায় রিজিক। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে মনে রেখো, আমার শাস্তি বড়ই কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)

৩. মিথ্যা কসম খাওয়া ও ধোঁকা দেওয়া

মিথ্যা কসম খাওয়া এবং মানুষকে ধোঁকা দিলে আয়-উপার্জনের বরকত চলে যায়। আর বরকত চলে যাওয়া মানে রিজিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বেচাকেনা করার সময় তোমরা অধিক কসম করা থেকে সাবধান থেকো। কারণ, মিথ্যা কসমের দ্বারা বিক্রি বেশি হয়, কিন্তু বরকত ধ্বংস হয়ে যায়।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,৬০৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা কিংবা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে। যদি তারা সত্য বলে এবং পণ্যের প্রকৃত অবস্থা ব্যক্ত করে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে। আর যদি মিথ্যা বলে এবং পণ্যের দোষ গোপন করে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত ধ্বংস হয়ে যাবে।’ (বুখারি, হাদিস: ২,০৭৯)

৪. সুদের কারবার করা

সুদের মাধ্যমে ব্যবসা বৃদ্ধি হয়, আপাতদৃষ্টে এমনটা মনে হলেও সুদের কারবারের দ্বারা ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করে দেন এবং সাদাকাকে বর্ধিত করে দেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৬)

৫. জাকাত না দেওয়া

জাকাত ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ বা মৌলিক বিধান। জাকাতের বিধান প্রণয়ন করে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে ভারসাম্য ঠিক রেখেছে ইসলাম। সঠিকভাবে জাকাতের বিধান আদায় না করলে রিজিকের বরকত উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং এতে রিজিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো জাতি জাকাত আদায় করা বন্ধ করে দেয়; আসমান থেকে তখন বৃষ্টিবর্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পৃথিবীর বুকে যদি কোনো চতুষ্পদ জন্তু না থাকত, তাহলে আর কখনো বৃষ্টি হতো না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,০১৯)

৬. হারাম উপার্জন

হারাম উপার্জনে রিজিকের বরকত কমা প্রসঙ্গে আল্লাহ–তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৬৮) স্রষ্টার ঐশী নির্দেশ অমান্য করে হারাম উপায়ে উপার্জন করলে রিজিকে বরকত কমে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হালাল ও বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করে, তাকে বরকত দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি হারাম ও অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন করে, সে এমন ব্যক্তির মতো—আহার করেও তৃপ্ত হয় না (অর্থাৎ সে যতই ভক্ষণ করুক না কেন; তার ক্ষুধা নিবারণ হয় না)।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,০৫২)


Source:https://www.prothomalo.com/religion/islam/fovpy68g1p

10
এই ঘটনা বিশ্বে হজরত ঈসা (আ.)-এর আগমনেরও আগের। সিরিয়ার আন্তাকিয়ার শহরতলিতে বাস করতেন একজন কাঠমিস্ত্রি। তার নাম হাবিব ইবনে ইসমাইল। ইসলামের ইতিহাসে তিনি হাবিব নাজ্জার, অর্থাৎ কাঠমিস্ত্রি হাবিব নামে পরিচিত। আন্তাকিয়া ছিল ওই সময়ের এক জনপদ। আন্তাকিয়ার লোকজন ছিল পৌত্তলিক। হাবিবও ছিলেন কুষ্ঠরোগী। রোগমুক্তির আশায় তিনি নানা প্রতিমার উপাসনা করতেন।

আল্লাহ ওই সম্প্রদায়কে সতর্ক করার বাসনা করলেন। প্রথমে তিনি তাদের কাছে দুজন  আল্লাহ্‌ প্রেরিত বার্তাবাহী ব্যক্তিত্ব  (রাসুল) পাঠালেন। দ্বীনের দাওয়াত দিতে তাঁরা আন্তাকিয়া শহরে গেলেন। সেখানে তাঁদের দেখা হলো হাবিবের সঙ্গে। তাঁরা তাকে মূর্তিপূজা ত্যাগ করে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দাওয়াত দিলেন।

হাবিব বললেন, আপনাদের দাবি যে সত্য, তার কি কোনো প্রমাণ আছে?
তাঁরা বললেন, আছে।
হাবিব তাঁর কুষ্ঠরোগের কথা উল্লেখ করে বললেন, ‘আপনারা কি আমার এ ব্যাধি দূর করে দিতে পারবেন?’
তাঁরা বললেন, ‘হ্যাঁ! আমরা আমাদের রবের কাছে দোয়া করব। তিনি তোমাকে রোগমুক্ত করবেন।’
হাবিব এ কথা শুনে অবাক হয়ে বললেন, ‘আমি সারা জীবন দেব-দেবীর প্রার্থনা করলাম। কিন্তু কোনো উপকার পেলাম না। অথচ আপনাদের রব কীভাবে আমার কঠিন অবস্থা পাল্টে দেবেন?’
রাসুলদের দোয়ায় আল্লাহ হাবিবকে সুস্থ করলেন। তাঁর ঈমান দৃঢ় হলো।

আল্লাহর এই দুই প্রতিনিধি আন্তাকিয়াবাসীদের সঠিক পথের দাওয়াত দিতে থাকলেন। কিন্তু তারা তাঁদের দুজনকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দিল। তাঁদের শক্তি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আল্লাহ আরেকজন রাসুল পাঠালেন। কিন্তু তাঁদের উপদেশের জবাবে জনপদবাসীরা তাঁদের মিথ্যুক বলেই অপবাদ দিতে থাকল।

কোরআনে আছে, ‘ওরা বলল, তোমরা তো আমাদেরই মতো মানুষ। করুণাময় আসলে কিছুই অবতীর্ণ করেননি। তোমরা কেবলই মিথ্যা বলছ।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত: ১৫)

তাদের রূঢ় কথাবার্তা শুনে কষ্ট পেলেও প্রতিনিধিরা দ্বীনের দাওয়াত চালিয়েই গেলেন। তাঁরা বললেন, ‘আমাদের প্রতিপালকের শপথ, আমরা অবশ্যই তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি, স্পষ্টভাবে প্রচার করাই আমাদের দায়িত্ব।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত: ১৬-১৭)

তবু আন্তাকিয়াবাসীরা তাঁদের কথা অমান্য করে চলল। তাদের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ আন্তাকিয়া শহরে দুর্ভিক্ষ দিলেন। আল্লাহর সতর্কতা সঙ্কেত তারা মোটেই বুঝতে পারল না, বরং রাসুলদের তারা বলল, ‘আমরা তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি। যদি তোমরা বিরত না হও, তোমাদেরকে অবশ্যই আমরা পাথর মেরে হত্যা করব ও নিদারুণ শাস্তি দেব।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত: ১৮)

এক সময় তারা রাসুলদের হত্যা করার কথা ভাবল। এই চক্রান্তের খবর শুনতেই হাবিব নাজ্জার তাদের কাছে ছুটে এলেন। তার সম্প্রদায়ের লোকদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেন। অথচ তারা তাঁর কথায় মোটেই কান দিল না। কোরআনে আছে, ‘তারা বলল, এ কি এজন্য যে, আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি? তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই, আসলে তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত: ১৯)

কোরআনে আরও আছে ‘শহরের এক প্রান্ত থেকে একজন ছুটে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! রাসুলের অনুসরণ করো, অনুসরণ করো তাদের যারা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চায় না, আর যারা সৎপথ পেয়েছে।যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন ও যার কাছে তোমরা ফিরে যাবে, আমি তাঁর উপাসনা করব না কেন? আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য উপাস্য গ্রহণ করব? করুণাময় আল্লাহ্ আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে, ওদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না; আর ওরা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না। এমন করলে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পড়ব। আমি তোমাদের প্রতিপালকের ওপর বিশ্বাস রাখি, তাই তোমরা আমার কথা শোনো।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত: ২০–২৫)

এলাকাবাসী হাবিবের কথা তো শুনলই না। উল্টো তাঁর ওপর চড়াও হয়ে পাথর ছুড়তে ছুড়তে তাঁকে হত্যা করে ফেলল।

আল কোরআনে আছে, ‘শহীদ হওয়ার পরে তাঁকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলে উঠল, হায়, আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারত, কী কারণে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন ও সম্মানিত করেছেন!’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত: ২৬–২৭)

কোরআনে আরও আছে, ‘আমি তাঁর (মৃত্যুর) পর তাঁর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আকাশ থেকে কোনো বাহিনী প্রেরণ করিনি, আর তার প্রয়োজনও ছিল না। কেবল এক মহাগর্জন হলো। ফলে ওরা নিষ্প্রাণ, নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আমার দাসদের জন্য দুঃখ হয়, ওদের কাছে যখনই কোনো রসূল এসেছে তখনই ওরা তাকে ঠাট্টাবিদ্রূপ করেছে। ওরা কি লক্ষ করে না, ওদের আগে কত মানবগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করেছি যারা আর ওদের মধ্যে ফিরে আসবে না? আর ওদের সকলকে তো আমার কাছে একত্র করা হবে।

‘ওদের জন্য একটা নিদর্শন মৃত ধরিত্রী, যা আমি পুনর্জীবিত করি ও যার থেকে আমি শস্য উৎপন্ন করি—যা ওরা খায়। তার মধ্যে আমি সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙুরের বাগান এবং বইয়ে দিই ঝরনা, যাতে ওরা এর ফলমূল খেতে পারে—যা ওদের হাতের সৃষ্টি নয় । তবু ওরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না? পবিত্র-মহান তিনি যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং ওরা যাদের জানে না তাদের প্রত্যেককে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত: ২৮–৩৬)

Source:https://www.prothomalo.com/religion/islam/lccwxljwhz

11
হজরত আবু যার (রা.)–এর বরাতে একটি হাদিসে বলা হয়েছে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে বর্ণনা করেন যে, ‘তিনি বলেছেন, আমি মক্কায় থাকা অবস্থায় আমার ঘরের ছাদ খুলে দেওয়া হলো। তারপর জিবরাইল (আ.) এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা জমজমের পানি দিয়ে ধুলেন। এরপর হিকমত ও ইমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র নিয়ে এসে আমার বুকের মধ্যে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে চললেন।

 ‘পরে যখন দুনিয়ার আকাশে আসলাম জিবরাইল (আ.) আসমানের রক্ষককে বললেন, দরজা খোলো। আসমানের রক্ষক বললেন, আপনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, আমি জিবরাইল (আ.)। (আকাশের রক্ষক) বললেন, আপনার সঙ্গে কি কেউ রয়েছেন? জিবরাইল (আ.) বললেন, হ্যাঁ, মুহাম্মদ (সা.) রয়েছেন। রক্ষক তখন বললেন, তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরাইল (আ.) বললেন, হ্যাঁ।
আরও পড়ুন

এরপর যখন আমাদের জন্য দুনিয়ার আসমান খুলে দেওয়া হলো, আর আমরা দুনিয়ার আসমানে প্রবেশ করলাম, তখন দেখি সেখানে একজন বসে আছেন যাঁর ডানে এবং বাঁয়ে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি রয়েছে। তিনি ডানদিকে তাকালে হেসে উঠছেন, আর বাঁয়ে তাকালে কাঁদছেন। তিনি বললেন, স্বাগত, হে সৎ নবী ও সৎ সন্তান। আমি জিবরাইল (আ.) কে প্রশ্ন করলাম, এই ব্যক্তিটি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি আদম (আ.)। তাঁর ডানে-বাঁয়ে রয়েছে তাঁর সন্তানদের রুহ। ডান দিকের লোকেরা জান্নাতি, বাঁ দিকের লোকেরা জাহান্নামি। তাই ডানে তাকালে তিনি হাসছেন, বাঁয়ে তাকালে কাঁদছেন।

  এরপর জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। তারপর এর রক্ষককে বললেন, দরজা খোলো। তখন এই রক্ষক প্রথম রক্ষকের মতোই প্রশ্ন করলেন। পরে দরজা খুলে দেওয়া হলো।’
আরও পড়ুন

আনাস (রা.) বলেন, ‘আবু যার (রা.) উল্লেখ করেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) আসমানগুলোতে আদম (আ.), ইদ্রিস (আ.), মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইব্রাহিম (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান। তবে আবু যার (রা.) সেসব স্থান সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। শুধু এটুকু উল্লেখ করেছেন যে তিনি আদম (আ.)-কে দুনিয়ার আকাশে ও ইব্রাহিম (আ.)-কে ষষ্ঠ আকাশে পেয়েছিলেন।’

আনাস (রা.) বলেন, ‘জিবরাইল (আ.) যখন মহানবী (সা.)-কে নিয়ে ইদ্রিস (আ.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ইদ্রিস (আ.) বলেন, বাহ্, ও ভাই, ও পুণ্যবান নবী। আমি (রাসুলুল্লাহ) বললাম, তিনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন ইনি হচ্ছেন ইদ্রিস (আ.)।

এরপর আমি মুসা (আ.)-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, বাহ্, হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললাম, ইনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি মুসা (আ.)।
আরও পড়ুন

অতঃপর আমি ঈসা (আ.)-কে অতিক্রম করার সময় তিনি বললেন, বাহ্, হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি প্রশ্ন করলাম, তিনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, তিনি ঈসা (আ.)। তারপর আমি ইব্রাহিম (আ.)-কে পেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, বাহ্, হে পুণ্যবান নবী ও পুণ্যবান সন্তান। আমি বললাম, ইনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি ইব্রাহিম (আ.)।’

ইবনে শিহাব বলেন, ইবনে হায্ম (রহ.) আমাকে বলেছেন যে ইবনে আব্বাস ও আবু হাব্বা আল-আনসারী উভয়েই বলতেন, ‘নবী (সা.) বলেছেন, এরপর আমাকে আরও ওপরে নিয়ে যাওয়া হলো। এমন একটি সমতল স্থানে নেওয়া হলো যেখানে আমি লেখার শব্দ শুনতে পেলাম।’

 ইবনে হায্ম ও আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেছেন যে ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তারপর আল্লাহ আমার উম্মতের ওপর ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিলেন। আমি সেটা নিয়ে ফিরে আসি। মুসা (আ.)-কে পার হওয়ার সময় তিনি বললেন, আল্লাহ আপনার উম্মতের ওপর কী ফরজ করেছেন? আমি বললাম, ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। তিনি বললেন, আপনি আপনার পালনকর্তার কাছে ফিরে যান, আপনার উম্মত তো এতটা পালন করতে পারবে না। আমি তখন ফিরে গেলাম। আল্লাহ তাআলা কিছুটা কমিয়ে দিলেন। আমি মুসা (আ.)-কে পার হওয়ার সময় বললাম, কিছুটা অংশ (আল্লাহ) কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আপনি আবার আপনার রবের কাছে ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মত এটুকুও আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম।
আরও পড়ুন

তখন আরও কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়া হলো। আবারও মুসা (আ.)-এর কাছে গেলাম। এবারও তিনি বললেন, আপনি আবার আপনার প্রতিপালকের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে পারবে না। তখন আমি আবার গেলাম। তখন আল্লাহ বললেন, এই পাঁচটিই (পূণ্যের হিসাবে) ৫০ (বলে গণ্য হবে)। আমার কথার কোনো রদবদল হয় না। আমি আবার মুসা (আ.)-এর কাছে গেলে তিনি আমাকে আবারও বললেন, আপনার প্রতিপালকের কাছে আরেকবার যান। আমি বললাম, আরেকবার আমার প্রতিপালকের কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। তখন জিবরাইল (আ.) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। সে সময় সেটি নানা রঙে রঞ্জিত ছিল। আমি এর তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত ছিলাম না।’ সহিহ বুখারি ৩৪৯

Source:https://www.prothomalo.com/religion/islam/2ftr7yvy4f

12
Hadith / দোয়া ইউনুস যেভাবে এল
« on: November 17, 2023, 10:32:35 AM »
হজরত ইউনুস (আ.) ছিলেন একজন নবী। সুরা ইউনুস নামে পবিত্র কোরআনে স্বতন্ত্র একটি সুরা আছে। এই সুরায় তওহিদের প্রমাণ ও অংশীবাদের প্রতিবাদ রয়েছে। সুরাটিতে অবিশ্বাসীদের সম্বোধন করে তওহিদ, ওহি, নবুয়ত ও পরকালের সত্যতা ঘোষণা করা হয়েছে।

সুরা ইউনুস ছাড়াও কোরআনে আরও ছয়টি সুরায় হজরত ইউনুস (আ.) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। দুজন নবী মায়ের নামে পরিচিত হয়েছেন। একজন হজরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.), অন্যজন হজরত ইউনুস ইবনে মাত্তা (আ.)। মাত্তা হজরত ইউনুস (আ.)-এর মায়ের নাম। মায়ের নামেই তাঁকে ইউনুস ইবনে মাত্তা বলা হয়। কোরআনে তাঁকে তিনটি নামে উল্লেখ করা হয়েছে—ইউনুস, জুননুন ও সাহিবুল হুত। জুননুন ও সাহিবুল হুতের অর্থ মাছওয়ালা। মাছ–সংশ্লিষ্ট ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তাঁকে এ নামে ডাকা হয়েছে।
আরও পড়ুন

হজরত ইউনুস (আ.)-কে বর্তমান ইরাকের মসুল নগরীর কাছাকাছি নিনাওয়া জনপদে নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। সুরা সাফফাতের ১৪৭ আয়াতে এ নিয়ে আলোচনা আছে। তিনি মসুলবাসীকে আল্লাহর পথে ডাকলেন। আখিরাতের বিষয়ে সতর্ক করলেন। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁর কথা শোনেনি। নবী ইউনুস (আ.) তাদের ইমান নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লেন।

তিন দিনের মধ্যে আল্লাহর আজাব তাদের ওপর নিপতিত হচ্ছে ঘোষণা দিয়ে তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে গেলেন। কিন্তু এলাকা ছাড়ার ব্যাপারে তিনি আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা করেননি। আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা না করে তাঁর নিজে নিজে বের হয়ে যাওয়াটা আল্লাহর পছন্দ হয়নি। এ ধরনের বিচ্যুতিতে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

হজরত ইউনুস (আ.) এলাকা ছাড়ার পর লোকজন ভয় পেয়ে গেল যে এবার নিশ্চিত আল্লাহর আজাব চলে আসবে। তারা লোকালয় ছেড়ে বনবাদাড়ের দিকে চলে গেল। গবাদিপশু ও শিশুদেরও সঙ্গে নিল। সেখানে সবাই আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও ক্ষমা প্রার্থনা করল। তাদের তওবার কারণে আল্লাহ তাদের ওপর থেকে আজাব সরিয়ে নেন।
আরও পড়ুন

এলাকা ছাড়ার পর হজরত ইউনুস (আ.) ভাবলেন, তার সম্প্রদায় হয়তো আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি কল্পনাও করেননি যে তারা তওবা করে আল্লাহর প্রতি ইমান নিয়ে আসবে। তিনি যখন জানতে পারলেন, তারা সবাই ইমান নিয়ে এসেছে, একদিকে তিনি অবাক হলেন, অন্যদিকে ভীত হয়ে পড়লেন। তিনি তাদের বলেছিলেন, তিন দিনের মধ্যে আল্লাহর আজাব আসবে, কিন্তু সেই আজাব সরে গেছে। তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে হত্যা করতে পারে। সে সময়ে মিথ্যা বলার শাস্তি ছিল হত্যা। এ আশঙ্কায় তিনি দেশে না ফিরে দূর দেশে যাওয়ার জন্য মানুষবোঝাই একটি নৌকায় চড়ে বসলেন। নৌকা মাঝনদীতে পৌঁছামাত্র প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো। প্রবল ঢেউয়ে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলো। অবস্থা বেগতিক দেখে মাঝি বললেন, মালিকের অবাধ্য হয়ে এই নৌকায় কেউ উঠেছে। এমন কেউ থেকে থাকলে তাকে নদীতে ফেলে দিতে হবে। না হলে অন্য যাত্রীরা এই বিপদ থেকে রক্ষা পাবে না।

যাত্রীদের মধ্যে লটারি করা হলো। তিনবার লটারি করা হলে প্রতিবারই হজরত ইউনুস (আ.)-এর নাম এল। হজরত ইউনুস (আ.) তখন নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। একটি বিশালদেহী মাছ এসে তাঁকে গিলে ফেলল। মাছটির প্রতি আল্লাহর নির্দেশ ছিল, হজরত ইউনুস (আ.)-এর যেন কোনো ক্ষতি না হয়।
আরও পড়ুন

মাছের পেটে গিয়ে হজরত ইউনুস (আ.) একটি দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইলেন। ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। সেটিই দোয়া ইউনুস নামে পরিচিত। তিনি বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭ ) অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র মহান, আমি তো সীমালঙ্ঘনকারী।’

এই দোয়ার ফলে মাছের পেট থেকে আল্লাহ তাঁকে মুক্তি দেন। কোরআনে আছে, ‘সে যদি আল্লাহর মহিমা আবৃত্তি না করত, তাহলে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে মাছের পেটে থাকতে হতো।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১৪৩-১৪৪)

কিছুদিন পর মাছটি হজরত ইউনুস (আ.)-কে নদীতীরে উগড়ে ফেলে দিল। আল্লাহ সেখানে তাঁর শারীরিক প্রশান্তির জন্য একটি লতাবিশিষ্ট গাছ উদ্‌গত করে দেন। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তারপর ইউনুসকে আমি তৃণহীন প্রান্তরে ফেলে দিলাম, তখন সে অসুস্থ ছিল। পরে তাকে ছায়া দেওয়ার জন্য আমি একটি লাউগাছ গজালাম।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১৪৫-১৪৬)

যেকোনো বিপদে পড়লে আল্লাহর সাহায্য ও আশ্রয় কামনা করতে হয়।

হজরত সাদ (রা.)-এর বরাতে একটি হাদিস পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুননুন ইউনুস (আ.) মাছের পেটে দোয়া করেছিলেন, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। কোনো মুসলমান যখনই এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করে থাকেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

Source:https://www.prothomalo.com/religion/islam/e4342bfgtw

13
মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস। এটি পবিত্রতার চাদরে ঢাকা মাস। সৃষ্টি জগতের অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে এ মাসে। সবারই জানা, আরব ভূখণ্ডে সভ্যতার বিস্তার ঘটে কয়েক হাজার বছর আগে। তারপরও ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরবে সমষ্টিগতভাবে কোনো তারিখ বা সন গণনা করা হতো না। সে সময় আরবরা প্রসিদ্ধ ঘটনা অবলম্বনে বছর, মাস গণনা করত।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর বংশধররা রাজা নমরুদ কর্তৃক তাঁর আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ঘটনা অবলম্বন করে সাল গণনা করত। কাবাঘর নির্মাণের পর এ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাল নির্ধারণ হয়। পরে হস্তিবর্ষকে কেন্দ্র করে সময় গণনা শুরু হয়। হিজরি সনের শুরু রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের সময়। হিজরি সন কবে চালু হয় তা নিয়ে অবশ্য মতভিন্নতা আছে। একটি মত হলো-রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় আগমন করেন রবিউল আউয়ালে। ওই সময় তারিখ গণনা শুরু হয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই তারিখ গণনার নির্দেশ দেন।
ইমাম জুহরির এমন একটি বর্ণনা মুহাদ্দিস হাকিম তার ইকলিল নামের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভাষ্য হলো-দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফত আমলে হিজরি সনের তারিখ গণনা শুরু হয়। একদা হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) হজরত ওমর (রা.)-কে পত্র লিখে বলেন, ‘আপনার নির্দেশগুলো আমাদের কাছে এসে পৌঁছলেও এতে তারিখ উল্লেখ নেই।’

হজরত ওমর (রা.) ১৭ হিজরিতে তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরামের সহযোগিতা চান। এ সম্পর্কে আয়োজিত সভায় সাহাবায়ে কিরামের কেউ কেউ নবুয়তের সূচনা থেকে তারিখ গণনার প্রস্তাব দেন। কেউ প্রস্তাব দেন হিজরত থেকে আবার কেউ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের দিন থেকে। সাহাবায়ে কিরামের এসব প্রস্তাব শোনার পর হজরত ওমর (রা.) হিজরতের দিন থেকে হিজরি তারিখ গণনার পক্ষে বলেন।

তিনি যুক্তি দেখান, হিজরতের মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সূচিত হয়। সাহাবায়ে কিরাম এ প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেন। হিজরতের সময়কে হিজরি সন গণনার সূচনাকাল ধরা হলেও মহররমকে প্রথম মাস হিসেবে ধরা হয়। কারণ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়ালে হিজরত করলেও মক্কা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মহররমে। মহররমকে হিজরি সনের প্রথম মাস নির্ধারণের পেছনে আল কোরআনের একটি নির্দেশনা গুরুত্ব পেয়েছে।

আল কোরআনে চারটি মাসকে সম্মানিত বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ চারটি মাস হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। মহররমে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের ইচ্ছা ঘোষণা করায় এবং এ চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম হওয়ায় তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

হিজরি ১৪৪৫ হাজির হয়েছে মুমিনদের মাঝে। নতুন সনে পুরনো বছরের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাকওয়ার ভিত্তিতে জীবন গড়ার শপথ নিতে হবে নতুন হিজরি বছরে। আল্লাহ আমাদের সবার জীবনকে নতুন বছরে আগের চেয়ে আরও সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার তৌফিক দিন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

14
হ্যাকাররা সাধারণত ফোনে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে রোজগারের উপায় খুঁজে নেন। এই কারণে ফোন হ্যাক হওয়ার কারণে বারবার ফোনে বিজ্ঞাপন দেখায়। এমনকি নোটিফিকেশনে অথবা ফুল স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় অনেক সময়। কীভাবে বুঝবেন আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে! বিস্তারিত এই ফিচারে...

♦ স্মার্টফোনে আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টিম্যালওয়্যার স্ক্যানার ডাউনলোড করুন। আর ইতোমধ্যে ডাউনলোড করা থাকলে, তা আপডেট করুন। ম্যালওয়্যার বা অন্যান্য সফটওয়্যারকে ফোন থেকে বের করে দেয় এই ধরনের অ্যান্টিভাইরাস।
♦ নজর রাখুন আপনার স্মার্টফোনের দিকে। কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ হলে সাবধান হোন। যেমন-অ্যাপগুলো নিজে থেকেই চলছে, অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ হচ্ছে, প্রচুর পরিমাণে নেটওয়ার্ক ডাটা ব্যবহার হয়ে যাচ্ছে, অডিও রেকর্ডিং, অজানা মেসেজ ইত্যাদি আসে। এ ধরনের কোনো কার্যকলাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ফোন হ্যাক হওয়া।

♦ অ্যাপ বা ভার্সন চেক করুন। যদি ফোনে হঠাৎই কোনো অ্যাপ ডাউনলোড হয়ে আছে, তাহলে হতে পারে ফোনটি হ্যাক হয়েছে। আপনি ডাউনলোড করেননি এমন অ্যাপ যদি ফোনে থাকে, তবে দেখার সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ফোন থেকে মুছে ফেলুন।

♦ পুরনো ও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার করবেন না। ফোন থেকে সেগুলো সরিয়ে ফেলুন। যদি সেগুলো ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপডেট দিন।

♦ অনেক সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এটিকে আমরা তেমন কিছু না ভেবেই এড়িয়ে যাই। তবে এটি একেবারেই করবেন না। ফোন হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই গরম হয়ে যাওয়া হ্যাক হওয়ার লক্ষণ।

 Source:https://www.bd-pratidin.com/tech-world/2023/11/16/939811

15
 যে কাজ করলে চ্যাটজিপিটি দেবে ২১ লাখ টাকা

    তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি
এখন চ্যাটজিপিটি থেকে আয় করতে পারবেন খুব সহজে। চ্যাটজিপির নির্মাতা নিজেই দিয়েছেন এই ঘোষণা। এজন্য আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো-চ্যাটজিপিটির বাগ খুঁজে বের করতে হবে। তাহলেই মিলবে ২১ লাখ টাকা।

বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বে চ্যাতজিপিটি সবচেয়ে আলোচিত এক নাম। নতুন এই চ্যাটবট ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে প্রযুক্তি সাইটগুলোর। সেই সঙ্গে চাকরি হারাতে বসেছেন হাজার হাজার পেশার মানুষ। তবে এবার চ্যাটজিপিটিই আয়ের ব্যবস্থা করলো ব্যবহারকারীদের।

বিজ্ঞাপন

চ্যাটজিপিটি চ্যাটবট প্রস্তুতকারী সংস্থা ওপেনএআই জানিয়েছে, এআই সিস্টেমে কোনো দুর্বলতা বা সমস্যার বিষয়ে রিপোর্ট করলেই ব্যবহারকারীদের ২০ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ লাখ ২৭ হাজার টাকা দেবে কোম্পানি। ওপেনএআই ‘বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে এই টাকা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি করছে চ্যাটজিপিটি!

বিজ্ঞাপন

কোম্পানি বলছে, বাগ পিছু ২০ হাজার ডলার পাবেন প্রাপক। তবে সেটি নির্ভর করবে বাগের বা সমস্যার গুরুত্ব কতটুকু তার উপর। চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক স্যাম অল্টম্যান নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।

মূলত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রায়শই বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম ব্যবহার করে প্রোগ্রামার ও এথিক্যাল হ্যাকারদের তাদের সফটওয়্যার সিস্টেমে বাগ রিপোর্ট করতে উৎসাহিত করে। বাগ বাউন্টি প্ল্যাটফর্ম বাগক্রাউডের বিবরণ বলছে, ওপেনএআই গবেষকদের চ্যাটজিপিটির নির্দিষ্ট কার্যকারিতা ও ওপেনএআই সিস্টেমগুলো কীভাবে যোগাযোগ করে ও এতে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সঙ্গে ডেটা শেয়ার তথা তার কাঠামো পর্যালোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Pages: [1] 2 3 ... 31